বিপ্লব চৌধুরীর কবিতা

বৃষ্টির দিনে

 

তোমার, আমার প্রিয় বৃষ্টি এল আজ। জলের গভীর থেকে সাড়া দিয়ে একটি মাছ জানালো অনুরোধ; আমার সাঁতারটুকু কেড়ে নিয়ো না তোমরা। তুমি সম্মতি দিলে, আমি সম্মত হলাম। ছাতা খুলে উড়িয়ে দিলাম হাওয়ায়। শিকড়ের সমস্ত বাঁধন ছিঁড়ে যেন আজ মুক্ত হয়ে যাবে, বাতাসের তোলপাড়ে এরকমই ফুলেফেঁপে উঠেছিল রাস্তার পাশের সব গাছ। উত্তাল সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তুমি বৃষ্টি হয়ে উঠলে, আর ওই বৃষ্টিধারার ছোটো একটা বিন্দু হয়ে আমি এই কবিতা লিখলাম

 

আয়ু

 

আগেও ছিলে না, আর পরেও হয়তো থাকবে না, সংশয়ী মন এই কথা বলে। ‘পিউ কাঁহা’ পাখি ডাকে গাছে। তুমি চলে যাবে একদিন? যেরকম চলে গেছে এবারের শীত? অশোকেশিমুলেপলাশে ঝলমল করে উঠেছে উজ্জ্বল! তবু ঝরাপাতাদের কথা ভাবি আমি। কবেকার কঠিন হাতের আকুল আঙুল দিয়ে চেপে ধরি আজকের নরম-কোমল হাত। দেখি, দেবদারু গাছটাতে জন্মেছে নতুন সবুজ সব পাতা। যে নবীনা, ওরা সব তোমার মতন। আর আমি ঝরাপাতাদের দলে। একদিন মরে যাব, আমি জানি তো ঈশ্বর, তবু প্রার্থনা করি, যত পারো দীর্ঘ করো পৃথিবীর আয়ু…

 

গোধূলি

 

গোধূলির আলোয় আমি মুখ দেখব তোমার। গ্রীষ্ম-বিকেলের পড়ন্ত রোদে ঈষৎ ঘাম জমবে কপালে। রুমালের যত্ন দিয়ে মুছে দেবে আমার হাত। তোমাকে বুকের মধ্যে আগলে রাখা, আর পাখির মতো উড়িয়ে দেওয়া। আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এইসব কাজের কথাই ভেবে চলি আমি, সেইসব ভোরে তুমি ওঠো না ঘুমের থেকে। তোমাকে দেখা যায় বিকেলের দিকে

 

বিভা

 

উদ্‌বিগ্ন হৃদয় যেদিন নিকোনো মাটির দাওয়ায় শীতল মাদুরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়বে, আমি সেই দিন হব শান্ত। তুমি কোলে তুলে নিয়ো লোহার তৈরি এই মাথা। তাকিয়ে মনের দিকে, দ্যাখো, কোনো স্বপ্ন দেখছে কিনা সে। তুমি মুঠো করে ধরো সেই উদাসী হাওয়া। বাতাসে কাঁপুক বাঁশগাছ আমগাছের পাতা। আমার ঘুমন্ত মুখের দিকে সর্বদা তাকিয়ে থাকুক তোমার জাগ্রত দু’টি চোখ। 

 

 

ছবিঋণ – ইন্টারনেট

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*