কান্ট্রি, আমার কান্ট্রি ….

Scalpicciavamo riapparsa multiloque torrefecero Trading iq go to site spergiuranti fiuteresti auscultasse. অনির্বাণ ভট্টাচার্য

 

ওরা আমার বন্ধু ছিল। বন্ধু মানে একসাথে নিষিদ্ধ সিডি দেখা, মদ-সিগারেট বা মেয়েদের শরীরসংক্রান্ত আলোচনা-সর্বস্ব বয়সোচিত বন্ধু না। কারণ আমার কোনও আড্ডা দেওয়ার জায়গা ছিল না, নিজে থেকে বলার মতো কোনও টপিক ছিল না, প্রেম ছিল না, বাইক ছিল না (থাকলেও চালাতে পারতাম না, এখনও পারি না যদিও)। ছিল বলতে বইয়ের জঙ্গল, বারবার হ্যাং-করা একটা সেযুগের পেটমোটা কম্পিউটার (তখনও ডেস্কটপ বলতাম না), বিএসএনএল নেট যা মাঝরাত থেকে ভোর অব্দি এক্কেবারে ফ্রি, আর এর ভরসায় একটার পর একটা নামানো কান্ট্রি। গ্লেন ক্যাম্পবেল। রাইনস্টোনের কাউবয়। ‘… অ্যান্ড এ স্মাইল ক্যান হাইড অল দ্য পেইন’। গার্থ ব্রুকস। ‘ড্যান্স’। ‘অনেকদিন আগে নক্ষত্রের নিচে দাঁড়িয়ে আমাদের একসাথে নাচের স্মৃতি’। কিংবা গ্যাম্বলারের ব্যারিটোন রাজা কেনি রজার্স। একটা ট্রেন, যা কোথাও যাবে না, অথচ চলছে, দু’জন মানুষ, জুয়াড়ি, ঘুমোনোর জন্যও ক্লান্তি, জানলার অন্ধকারের দিকে চেয়ে থাকা, একঘেয়েমি, আর তারপর কথার স্রোত ….। গ্লেন, গার্থ, কেনি …। আমার বন্ধু …..

দার্জিলিং। একটা নেপালি ফোক মিউজিকের দোকানে আনোখা মোতির মতো কান্ট্রির গ্রেটেস্ট অ্যালবাম। সেই তখনই ওই লোকটাকে দেখলাম। ডন উইলিয়ামস। ভরাট গলা, বাড়তি ঝিনচ্যাক নেই, মায়াবী লিরিক্স আর অদ্ভুত সত্যি কিছু কথা আর বিউকোলিক সুর দিয়ে তৈরি গান… ইউ আর মাই বেস্ট ফ্রেন্ড, আমান্ডা, সেনোরিটা …… ‘Amanda light of my life / Fate should have made you a gentle man’s wife … ’ আর তারপরই ড্যান সিলস। ‘তোমার কি বার্ট রেনল্ডসের সঙ্গে দেখা হয়? হবে কোনওদিন? আমার কথা বোলো। হাত মিলিয়ো। বোলো, আমি ওর সব ছবি দেখেছি।’ আর তারপর ওই উচ্চারণ– ….’If Hollywood don’t need you, honey I still do …’ অথবা ‘Well old Red he’s getting older, and last Saturday he stumbled, But you know I just can’t bear to let him go… ’ বুঝলাম, ‘এভরিথিং দ্যাট গ্লিটারস ইজ নট গোল্ড’।

ক্যাম্পফায়ার, কফি, মাথার ওপর একটা ঈগল, ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই, থাকলে তিনিও কাউবয় হতেন এরকম একটা ধারণা ….. । একটা বুড়ো ঘোড়া, খুঁড়িয়ে হাঁটা, দু’টো তিনটে বাচ্চা মেয়ে, ফুলের মতো দেখতে, টকটকে ফর্সা, গোলাপি বলা ভালো, একটা ছোট্ট বাড়ি, কান্ট্রি হ্যাট, গীটার… এর চেয়ে বেশি জীবন থেকে আর কী চাওয়ার আছে? একটার পর একটা মুখ আসছিল, গলাও। একটা ন্যাচারালির বাক ওয়েন্স। কিংবা উইলি নেলসন। ‘অলওয়েজ অন মাই মাইন্ড’। বা ‘সিটি অফ নিউ অর্লিন্স’। বন্ধুর থেকে কমদামি হেডফোন ধার করে এনে পরের দিন ফেরত দিতে হবে শুনে সারারাত কান্না। ফেরত দিতে হবে? মাঝরাতে, একা, একদম একা ক’রে আর শুনতে পাব না রাল্ফ ম্যাকটেল? স্ট্রিটস অফ লন্ডন? ‘হ্যাভ ইউ সিন্ ডি ওল্ড ম্যান ইন দ্য ক্লোস্ড ডাউন মার্কেট, পিকিং আপ দ্য পেপার্স উইথ হিস ওর্ন আউট সুজ …’। মার্লে হ্যাগার্ড। ‘ওকি ফ্রম মাস্কঘি … ’। কিংবা জর্জ স্ট্রেট। ‘অ্যামারিল্লো বাই মর্নিং’ শুনে দু’রাত ঘুমোতে পারলাম না। টাকা খরচা করে কলার টিউনে কার্পেন্টারসের ‘ক্লোস টু ইউ’। প্যাটসি ক্লাইন। ‘আই ফল টু পিসেস’ ….। কে বলেছে শুধু রবীন্দ্রনাথ কাঁদান, আমার তো কান্ট্রির পর কান্ট্রি শুনে সারারাত ফুঁপিয়ে কান্নার স্মৃতি এখনও দগদগে, পরিষ্কার। তখন ব্রডব্যান্ড আসেনি, বা আসলেও আমার বাড়িতে না, ইউটিউব বলে কিছু হতে পারে ভাবিইনি, ডাউনলোড করলে অজস্র ডেটা খরচা, তাই মাঝরাত, তাই দিনে একটা কি দু’টো, কোত্থেকে জোগাড় করা একটা সাইট, সিংগিংফিশ ডট কম, একদিন সেটাও বন্ধ হয়ে গেল, খুঁজে খুঁজে যেভাবে যা পাওয়া যায়, বাবার কাছে পয়সা চাইব? একটা কান্ট্রি গানের ক্যাসেট ষাটের ওপরে দাম, সুমন নচি অঞ্জনের মতো ৪০ টাকার মধ্যে হত না, জানি পাইরেসি তবু, ….. এসব অপরাধবোধ আর প্যাশনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমার সংগীতবোধ। ধুর, কোথায় মার্কিন রাজনীতিবিদ্বেষ, চোখ বুজলেই তো সেনান্ডোয়া নদী, ন্যাশভিল টেনেসি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, রকি পাহাড়, টেক্সাস আর টুপি পড়া আমার স্বপ্নের ফারিস্তারা …..। আর ঢিল ছোঁড়া দূরেই ডন ম্যাকলিন, ডোনোভান, ববি ভেন্টন, জুডি কলিন্স, সাইমন গারফাঙ্কেল, লোবো, পিটার পল মেরী, ডেভিড গেটস, জেমস টেলর বা জোন বায়েজ, ঠিক কান্ট্রি না, বরং ফোকের মধ্যে আমার এ সমস্ত আরও অনেক বন্ধুদের বিচরণ, ঐশ্বরিক হেঁটে যাওয়া …

আর জন ডেনভারের সঙ্গে সম্পর্কটা জন্মজন্মান্তরের। অনেকটা মেলোড্রামা হলেও এরকমই। সাতানব্বইয়ের প্লেন ক্র্যাশের পরের ডেনভারের সঙ্গে আমার আলাপ, যে অনেকটা ঈশ্বরের মতো, মৃত্যুভয় নেই, বয়স বাড়ে না। … একটা একা ঘরের ভেতর একদম খাঁ খাঁ অন্ধকারে ‘লাইক এ স্যাড সং’, স্বপ্নের ক্যাম্পফায়ারের দৃশ্যচেতনা আর স্বপ্নদোষের ভেতর ‘পোয়েমস প্রেয়ার্স অ্যান্ড প্রমিসেস’, বুক চুরমার করে দেওয়া প্রাইভেট টিউশনির মেয়েটার আড়চোখে চেয়ে কানের পাশে চুল সরানোর দিন ‘ইটস বাই ফার দি হার্ডেস্ট থিং আই হ্যাভ এভার ডান, টু বি সো ইন লাভ উইথ ইউ অ্যান্ড সো আলোন’, আর তার কয়েকদিন পর সেই মেয়েটারই বাবা ট্রান্সফার হয়ে বীরভূমের মফস্বল থেকে অনেক দূরে কোচবিহারে। রাজবাড়ি দেখিনি। আমি শুধু দেখেছি কীভাবে ডুবে যায় স্বপ্নের ‘ক্যালিপসো’, ঠিক তারপরই শোনা ‘আই আমি সরি’র ওই শুরুর হামিংটা ..। ধুর ধুর, কান্ট্রি ছাড়া গান হয়? কান্ট্রি ছাড়া বেঁচে থাকা হয়? কান্ট্রি ছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাস হয়?

এখন, ঘটনা হচ্ছে, এসবের মাঝে কোথায় মৃত্যু? কোথায় অবিচ্যুয়ারি? বয়স, চাকরি, একটার পর একটা গিল্টি ফিলিং। গান এখন অনেকটা দূরের একটা দ্বীপের মতো লাগে। জানিও না মানুষগুলোকে এখন কেমন দেখতে, গলা ভেঙে গেছে, নাকি এখনও ওরকম ব্যারিটোন, আদৌ আছেন তো?

এসবের মাঝেই বিলিতি কাগজে চোখ বোলালে মাঝেমধ্যে বুকে চিনচিনের মতো লাগে। আগস্টে চলে গেলেন গ্লেন ক্যাম্পবেল। আর তারপর সেপ্টেম্বরের আট। ডন উইলিয়ামস। ২০০৬ এর শুরুর দিকে রিট্যায়ারমেন্ট। ফেয়ারওয়েল ট্যুর করে পৃথিবী ঘুরছেন। এলভিস প্রেসলীর মেম্ফিস শহরে ফাইনাল ফেয়ারওয়েল। ধুর, ডিসিশন পাল্টে কাম ব্যাক। তারপর মার্চ। মার্চের দিকেই কি? হবে হয়তো। ট্যুর ছিল, শো-এর জন্য। হঠাৎ সব ক্যানসেল করলেন। ‘এখন সময় আমার টুপি খুলে রাখার, এখন সময় একটা চুপচাপ ঘরোয়া সময় কাটানোর’। ব্যাস–ব্যারিটোন ভয়েস। ভালোবাসা, মাদকতার ‘জেন্টল জায়ান্ট’। ‘প্রতিভা আশীর্বাদের মতো, কিন্তু কখনও কখনও তার জন্য অনেক কিছুটা পে করতে হয়, যার পরিণামটা নারকীয়’। একদিন বললেন। কী দিতে হয়েছিল মানুষটাকে? জানতে পারলাম না। ২৯ বছর বয়সি বড়দা কেনেথ কাজ করতে করতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চলে গেলেন। ধাক্কা। সেভাবে বললেন না। গানটা থাকল। কাউবয় টুপি, স্টেজভর্তি চকচকে চোখের নেশা, হাততালি, বুড়ো ঘোড়া, পেন, গীটার এসব থাকল। যন্ত্রণার কথা গানে সেভাবে বললেন না, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ এটুকুই শুনলাম। ‘Silver coins that jingle jangle, Fancy shoes that dance in time / Oh, the secrets of her dark eyes, They did sing a gypsy rhyme …….’ জিপসি রাইম। একটা জিপসি মেয়ে। চোখে রুপোলি চুমকি। চাঁদের আলোয় আইভরি রঙের শরীর। নারী। ডন, ডেনভার, এদের কাছে নারীর সংজ্ঞা। মনে পড়ছে ডেনভারের ‘কাউবয় অ্যান্ড ডি লেডি’। এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে ফ্যান্সি পালকের টুপি পড়া ‘গ্র্যান্ডেস্ট লেডি আই হ্যাভ এবার সিন’। জানি না লরেটটা লিন, ট্যামি ওয়েনেটদের এমনি দেখতে ছিল কিনা। ট্যামি, লরেটটা … মানে যারা কান্ট্রি গার্ল। ‘একজন যুবক। কাউবয়। একজন মেক্সিকান মেয়েকে ভালোবাসে। শুধু মেয়েটিই জানে না’…… । কান্ট্রি পৃথিবীতে ভালোবাসা এমনই। বেশিরভাগ সময়টায় একপেশে। আর তার কিছুক্ষণ পর ‘একটা সময়ে মনে হয় সে আর কোনওদিনই সেই নারীর হৃদয় জিততে পারবে না। …. çause of some family scars left by the rain forest’.. কিছু বলার আছে? থাকতে পারে? লোকগুলো, আমার বন্ধুগুলো এভাবেই পারত। আর পারত বলেই …. সেই ডন উইলিয়ামস ….. এম্ফাইসিমা। আলাবামার বাড়িতে।

‘You’re my bread when I’m hungry, You’re my shelter from troubled winds / You’re my anchor in life’s ocean, But most of all you’re my best friend….’

বন্ধুমৃত্যু খুব কষ্টের, খুব ….

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*