আমার বাড়ির কাছে আরশিনগর

ইন্দ্রনীল মজুমদার

 

কী এক অনিবার্য ছকে বাঁধা পড়ে আছি! যা শিখেছি, যা শেখাচ্ছি সেইসব ভুলভাল এখন তাড়া করে! শেখা ভাষার মোহিনী আড়াল শুধু বলে, ঢেকে রাখো, সুসভ্য হও। কলকাতা সত্য, জগত মিথ্যা। লোকাল ট্রেনের যাত্রীদেরও মনে হয় খুব অচেনা। তাঁদের ভাষা, তাঁদের পথ, তাঁদের পালাপার্বণও।

কিন্তু এ মোহ আবরণ যদি খসে পড়ে? যদি ঢুকে পড়ি মানভূম, বরাভূম, মল্লভূমে? এ তো অন্য বাঙলা, অচেনা বাঙালি। খৃষ্টজন্মেরও ছ’শো বছর আগে এরাই জৈন ধর্মগুরু বর্ধমান মহাবীরের পিছনে কুকুর লেলিয়ে দিয়েছিল। সেই আদি আর্য অনুপ্রবেশের আগে তাদের বিশাল মন্দির দেউল ছিল না। ছিল গাছের নীচে ঠাকুরের স্থান (থান), নদীতীরের পাথরখন্ড, ছলনের(মানতের) ঘোড়া বা পুতুল রাখার বৃক্ষতল আর মানতের সুতোবাঁধার ডালপালা। তাদের ছিল ধর্মঠাকুর, মনসা, বিষাইচন্ডী, বনভৈরবী, রঙ্কিণী, জাহেরএরা, বোড়াম আর সিঙবোঙা। পুরুলিয়া মানভূমের বিস্তীর্ণ পাথর, পাহাড় আর নদী-আঁকা চিত্রপটে নতুন এক যুগ তৈরি হয়েছিল মহাবীর আসারও অনেক পরে। খৃষ্টীয় ৮ম/৯ম শতক থেকে বাঙলার খনিজ প্রাচুর্যের টানে ও বন্দরপথ ধরে রপ্তানির খোঁজে জৈনশ্রেষ্ঠীদের অবিরল প্রবেশ শুরু। তার সঙ্গেই এল প্রায় হাজার বছরব্যাপী দেউলস্থাপত্য, বিগ্রহনির্মাণ ও ভাস্কর্যের অবিশ্বাস্য স্বর্ণযুগ। চলল চৈতন্যদেবের আবির্ভাবেরও পরবর্তী সময় পর্যন্ত। কুমারী, দামোদর, সুবর্ণরেখার অববাহিকা ধরে গড়ে ওঠা জৈন মঠ, আশ্রম, দেউল, চৈত্য আর ভাস্কর্যের কর্মশালাগুলি হাজার বছর ধরে ঐ গহনঘন প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়েছিল পরপর বৌদ্ধ উত্থান পতন, শৈব ও শাক্ত অভিযান কিছুটা আত্মস্থ করেই। কিন্তু মহাকাল তার বিনাশও ঘটিয়ে চলেছে। সমাপ্তি হয়ত একালের হাতে। দামোদর ভ্যালি প্রকল্পে ডুবিয়ে দেওয়া হল তেলকুপি ক্ষেত্র আর তার অগনিত দেউল, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য । পাকবিড়রা আর বুধপুরের ছড়িয়ে থাকা শিল্পকীর্তির অবশিষ্টটুকু অসংরক্ষিত। এন্টিক চোরাচালানের এ এক স্বর্গরাজ্য। দেউলঘাটার ৬০ ফিট উঁচু ইটের আশ্চর্য অলংকরণের দেউলটি ভেঙে পড়ল ২০০২ সালে।তার কোনও খবর কেউ জানল না, কোনও ডকুমেন্টেশানও হয়নি বলে শুনেছি। পুরুলিয়ার মানবাজার, পুঞ্চা অঞ্চল শুধু নয়, গোটা জেলাই এক খোলামেলা সংগ্রহশালা। পথেপ্রান্তরে, নদীতীরে, গাছতলায়, ধর্মঠাকুর বা বাসন্তী দেবীর থানে, পায়ের নীচে স্তূপীকৃত ছলনের হাতিঘোড়া আর কপালে সিঁদুর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আভরণ-আবরণহীন অপরূপ জৈন তীর্থঙ্করমূর্তি। পিছনের কালো পাথরের চালচিত্রে খোদিত তীর্থঙ্করের সারি, শাসনদেবী। ধর্মমন্দিরের দালানে জড়ো করা বিগ্রহের টরসো, কালো পাথরের অলংকৃত প্রমাণাকৃতি ভাস্কর্যের বেদীমূলটুকু আর তার নীচেই একরাশ মানতের মাটির ছোটছোট ঘোড়া। ধর্মন্দিরের উঠোনে পড়ে থাকা পাথরের বড় বেদীর চারকোনে চারটি সুন্দর দু’ফুটের অর্ঘমন্দির, তারই মাঝখানে কোনও দেউলশীর্ষের খসে পড়া পদ্মের মত পাথরের আমলক। গ্রামের বাচ্চারা সেই চাতালেই ছক কেটে এক্কাদোক্কা খেলছে। এই সব বিগ্রহের নাম পাল্টে গেছে। কোথাও মনসা, কোথাও খ্যাঁদারাণী, কোথাও কালভৈরব। মনে হয় অনাদি অতীতের বাঙলার কৌম ধর্মসংষ্কৃতির ফল্গুধারা সব ব্রাহ্মণ্যবিলাস আত্মস্থ করেই দেখিয়ে দিচ্ছে সবকিছু নিয়েই গড়ে ওঠে একটি ভাষা, একটি ধর্ম, একটি সংষ্কৃতি। পুরুলিয়া, বৃহত্তর মানভূম শিখিয়ে দেয় সব নিয়েই পাশাপাশি বাঁচা যায়। আর্য দেবদেবী, জৈন বিশ্বাস, শৈবতন্ত্র সব একাকার শিবের গাজন, ধর্মঠাকুর, ভাদু আর টুসু গানে, মনসাপুজোয়, লোকাচারে, মেটেসিঁদুরে, ফুলে। সাম্প্রদায়িকতা কী সে ব্যাখ্যার দায় শহরের। কয়েকটি প্রত্নক্ষেত্র, দেবদেউল (ওড়িশারীতির প্রাচীন পাথরের রেখদেউল) একটু ঘুরে দেখা যাক। নিম্ন রাঢ় অষ্ণল বা গাঙ্গেয় উপত্যকার শিল্পস্থাপত্যের তুলনায় এগুলি কম আলোচিত হয়েছে। তবে স্থানীয় গবেষক ও তরুণেরা রেখে যাচ্ছেন অবিরল পরিশ্রম, অনুসন্ধান আর অমূল্য গবেষণার দলিল। সেইসব প্রবীণ গবেষক ও সংরক্ষণকারীদের প্রনাম জানাই।

পুঞ্চা থানার বিখ্যাত প্রত্নক্ষেত্র (আনুমানিক নবম শতক) পাকবিড়রা। অগ্রগণ্য প্রত্নপর্যবেক্ষক জে ডি বেগলার সাহেব এখানে দেড়শ বছর আগে ২১টি মন্দির, অগণিত মূর্তি ও স্থাপত্যের ভগ্ন অংশ ছড়ানো এক বিস্তৃত সাধনক্ষেত্র দেখেছিলেন। তিনি অনুমান করেছিলেন এখানে পাথরের ভাস্কর্য খোদাইয়ের একটি কর্মশালা ছিল। মনে হয় এখানে ২৪ তীর্থঙ্করের ২৪টি মন্দির ছিল। এখন মাত্র তিনটি ছোট পুনর্নির্মিত মন্দির আছে। ছড়িয়ে থাকা নিদর্শন সবই প্রায় চুরি হয়েছে। যতটুকু বাকি ছিল সেগুলি একটি পাকা ঘরে স্থানান্তরিত। সেখানে আছে নিটোল অর্ঘমন্দির চারটি, কয়েকটি অপরূপ দণ্ডায়মান তীর্থঙ্কর মূর্তি, দু’টি দ্বিখন্ডিত ৬ ফিটের মূর্তি, আর একটি ৪/৩ ফিট আশ্চর্য তীর্থঙ্করপট। এগুলি বাইরের খোলা জায়গা থেকে তুলে রাখা হয়েছে সাজিয়ে। তবুও বাইরে পড়ে আছে একাধিক নিটোল পূর্ণকলস, খসে পড়া মন্দিরশীর্ষের আমলক। মন্দির দু’টির মধ্যে থেকে বিগ্রহদু’টি মনে হয় ভিতরে রাখা হয়েছে। তৃতীয় মন্দিরটির মধ্যে আছেন সাড়ে চারফিটের তীর্থঙ্করমূর্তি, মুগ্ধ করা কায়োৎসর্গ মুদ্রায়। তাঁর মাথায়, পায়ের দশ আঙুলে, প্রসারিত মুদ্রায় সিঁদুরের টিপে তাঁর দীপ্তি দ্বিগুণ হয়েছে। বোঝা যায় এই মূর্তি পূজিত হন নিয়মিত হয়ত কোনও হিন্দু বিগ্রহ নামে। চত্বরটি এখন পরিষ্কার করে পাঁচিল, গেট ও পঞ্চায়েতের উদ্যোগে পরিচিতি ফলক বসানো হয়েছে। পুরাতত্ত্ব বিভাগের কোনও নির্দেশনামা নেই। মূল গেট দিয়ে ঢুকেই চোখ স্থির হবে ডানদিকে গাছের নীচে বেদীতে আকাশ ছুঁয়ে কায়োৎসর্গ মুদ্রায় দাঁড়িয়ে আছেন কষ্টিপাথরের অপরূপ শীতলনাথের ৮ ফিট উঁচু মূর্তি। হিন্দুমতে তাঁর নাম কালভৈরব, তাঁর নামেই পরিচিতি কালভৈরবথান। স্থানীয়রা জানেন ভরম (বোড়াম?) দেব। এঁকে দেখার জন্যই বারবার আসতে হয়। ভাস্কর্য সুষমায় এটি যে কোনও আন্তর্জাতিক মিউজিয়ামের গর্ব হতে পারে। তাঁরও পদতলে সিঁদুর বেলপাতা। নীচে তাঁর বাঁদিকেই অধিষ্ঠিতা তাঁর শাসনদেবী সিংহবাহিনী অম্বিকা, চার ফিট উচ্চতার। তিনি হিন্দুদের কাছে দেবী দুর্গার অপরনাম। পূজা পান মুকুটমণিপুরে, কালনায় এই নামে। সে মূর্তিতেই চলে নিয়মিত দ্বৈতপুজা। ঢাকা পড়ে আছেন সিঁদুরচর্চায়। এই হলেন পাকবিড়রার ভৈরব তীর্থঙ্কর শীতলনাথ, অম্বিকা বা চণ্ডী।

পাকবিড়রার তীর্থঙ্কর মূর্তি


পাকবিড়রার সমকালীন বা প্রাচীনতর কালের চিহ্ন পাড়া গ্রামের মন্দিরক্ষেত্র। এখানে প্রাচীনতম ভগ্ন পাথরের দেউলটির স্থানীয় নাম লক্ষীমন্দির। পঞ্চায়েতের পথনির্দেশও তাই। বিগ্রহহীন। তার ডানদিকেই ভগ্নশীর্ষ, আশ্চর্য পঙ্খের কাজে অলংকৃত প্রায় ৪০ ফিট উঁচু ইটের দেউল। ভিতরে পাথরের নতুন বেদীতে সর্বাঙ্গ সিঁদুরে ঢাকা দেবীমূর্তি। কে তিনি জানা যায় না। স্থানীয় পরিচিতি উদয়চন্ডী নামে। গ্রামের ভিতরে একটি ভগ্নস্তুপের পাশে পড়ে আছে প্রায় ১০ ফিট লম্বা একটি থাম। লোকেরা বলেন সেটি কৌমদেবী রঙ্কিণীর ঢেঁকির পায়া! এই হলো আত্মীকরণ!

আনাইজামবাদ

পুরুলিয়া কাছেই একটি গ্রাম আনাইজামবাদ। পোশাকি নাম মহাদেববেড়্যা। গ্রামে জৈন সরাক সম্প্রদায়ের বাস। হিন্দুরাও আছেন। জৈন শ্রমণদের একটি দল পরিচিত ছিলেন শ্রবক বলে। তাঁদের উত্তরসূরি এই কয়েক ঘর সরাক যাঁরা মনে করেন তাঁদের আদিবাস ছিল পরেশনাথ পাহাড়ে আদি জৈন উপাসনাক্ষেত্রে। এই গ্রামেও মনে হয় এক জৈন উপাসনাক্ষেত্র ছিল। তার চিহ্ন বা দেবদেউলের ভগ্নস্তূপ আগে নাকি এখানে ছিল। এই শ্রবকেরাই এখানে গড়েছেন এই জেলার একমাত্র সক্রিয় ও বৃহৎ জৈনমন্দির। সরক পূজারি সংলগ্ন আবাসে থাকেন। পরিধান হিন্দু ব্রাহ্মণ পূজারির মত। তিনি হিন্দিও জানেন। মন্দিরের ভিতরে দেওয়ালে গাঁথা আদিনাথের ধ্যানমালা হিন্দিতেই। মিলিতভাবে সকলে সেটি আবৃত্তি করেন হিন্দিতেই। সুদূর এক গ্রামে তপোবনের মত এক আশ্রমে জৈন স্তোত্রপাঠ চলছে সুগন্ধি দীপে স্বল্প আলোয় উজ্বল জৈন বিগ্রহগুলির সামনে- এটা ভাবতেই ভাল লাগে। শুধু তাই নয়। ঐ একই প্রাঙ্গনে পাশাপাশি রয়েছে একটি করে দুর্গামন্দির, শিবমন্দির ও হরিমন্দির। প্রতিটিতেই পূজার্চনা হয়। এই সহাবস্থান মুগ্ধ করে। জৈন মন্দিরটির ভিতরে প্রতিষ্ঠিত আছেন বিগ্রহরূপে অনিন্দ্যসুন্দর পরেশনাথ (৪ ফিট), ঋষভনাথ, চন্দ্রপ্রভ ও কুমভনাথ। প্রতিদিন সেগুলি মার্জনা করা হয়। সেই বড় বড় প্রদীপের আলোয় আলোকিত জনহীন প্রশস্ত ঘরে কায়োৎসর্গ মুদ্রায় দাঁড়িয়ে থাকা বিগ্রহগুলির শরীর বেয়ে অলৌকিক আলো যখন পিছলে পড়ছিল তখন প্রণত হওয়া ছাড়া অন্য কিছু চিন্তায় আসে না। শ্রেষ্ঠতম ভাস্কর্য বোধহয় এইভাবেই দেখা উচিত, গ্যালারিতে নয়।

দেউলঘাটা

দেউলঘাটা আর এক বিস্ময়ে হতবাক করা দেবক্ষেত্র। তিনটি বিশাল ইটের দেউলের মধ্যে, তৃতীয় ও বৃহত্তম দেউলমন্দিরটি ভেঙে পড়ার পর যে দু’টি হাজার বছর আগের ইটের দেউল দাঁড়িয়ে আছে সে দু’টির ঐশ্বর্যময় রূপ বর্ণনার বাইরে।কয়েকটি সমসাময়িক (নবম শতক) পাথরের জৈনদেউলের অবশিষ্ট ভিতের ওপরেই গড়ে উঠেছে বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির। জায়গাটিরও পরিচিতি সিদ্ধেশ্বরধাম নামে। পৌষ সংক্রান্তিতে এই কাঁসাইতীরে জমজমাট মেলা বসে। সেটি টুসুর মেলা। চাতাল চাটানে ছড়িয়ে পড়া খোলা চুলের মতো কংসাবতীর ধারা আর বিক্ষিপ্ত জলকুণ্ডে সালংকারা টুসুর বর্ণময় ডোলির ভাসান ও টুসুর গানে সেদিন দেউলঘাটা ফিরে পায় তার অনার্য কৌমার্য। আবার হোলির পরে বারুণী মেলায় পলাশের রঙ মন্দিরের পায়ে পুজো ছড়িয়ে দেয়। এখন আবার পলাশ উৎসব বেশ ফ্যাশনেবল্ হয়েছে। Stucco অলংকরণের দৈবী ঐশ্বর্যের যতটুকু এখনও এই বারোশ বছরের পুরানো, ৫৫ ফিট উঁচু মন্দিরের বুকে মাথায় লেগে আছে মনুষ্যজীবন ধন্য করার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট। নিম্নরাঢ় অঞ্চলের টেরাকোটা মন্দির স্থাপত্যের থেকে সে দু’টি স্বতন্ত্র। বাঙলায় ওড়িষ্যারীতির নাগরশৈলীর রেখদেউলের যে অল্পক’টি উদাহরণ এখনও দাঁড়িয়ে আছে দেউলঘাটার দেউল তাদের অন্যতম। বৃহত্তমটি ধসে পড়ার কথা আগেই বলেছি। দেউলের একপাশে পরপর ছোট ছোট তিনটি ঘরের একটিতে রাখা আছে পালযুগের অপরূপ দুর্গা- ৫ ফিট উঁচু, ডান পা মহিষাসুরের কাঁধে, দশায়ুধধারিণী। এই দেবীমূর্তি বাঙলার প্রস্তর ভাষ্কর্যের বিরলতম সৌন্দর্যের নমুনা। তাঁর পূজা করা হয়, তাই কিছুটা সিঁদুরলিপ্ত। পাশের ঘরেই আছেন পরপর গনেশ ও চতুর্ভূজা দেবীমূর্তি ।এটিও অসামান্য সৌন্দর্যের প্রকাশ। কেউ এটাকে দেবী জাহ্ণবী বলেছেন। দেউলঘাটা শুধু দেউলক্ষেত্র নয়। এসবের থেকে একটু পাশেই আছে কালীমন্দির ও তন্ত্রাসন- ত্রিকোণাকৃতি। আছেন সেবিকা যাঁকে স্থানীয়রা ভৈরবী মা বলেন। তাঁরা বলেন এটি বৈদিকযুগের শৈবক্ষেত্র !

ইতিহাস ঠিক লেখা হয়ে আছে এবং লেখা হয়ে চলেছে অবিরত। আমরা শুধু নিজেদের পছন্দমতো ইতিহাস নির্মাণ করাকে শিক্ষা মনে করি। যে ইতিহাস অদূরে দাঁড়িয়ে আছে, ঘরের কাছে যে আরশিনগর তার কাছে যেতে যে অনেক বাধা!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*