বোড়ো গল্পের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ: একটি পর্যালোচনা

রীতা বোড়ো

 

বোড়ো সাহিত্যজগতে  কবি-গল্পকার-ঔপন্যাসিক- অনুবাদক রীতা বোড়ো একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নাম । জন্ম অসমের ওদালগুড়ি জেলার টংলায়। ডবল এম এ (অসমিয়া ও বোড়ো সাহিত্য)। অসমিয়া নাটকে বোড়ো নারী চরিত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন। বর্তমানে টংলা মহাবিদ্যালয়ে বোড়ো বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ৩ টি উপন্যাস, ২ টি কাব্যগ্রন্থ, ১ টি গল্পগ্রন্থ। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। অনুবাদক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। রীতা বোড়ো ২০০৮ সাল থেকে পাঁচ বছর সাহিত্য অকাদেমির বোড়ো এডভাইসরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ” জিউলি” নামে একটি সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা করে চলেছেন।

 

 

বিশিষ্ট সমালোচক মনোরঞ্জন লাহরির মতে, ঈশান মুসাহারি রচিত ‘আবারি’ গল্পটি হল বোড়ো সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। গল্পটি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে প্রমোদচন্দ্র ব্রহ্মের সম্পাদনা করা ‘হাতরখি হালা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আবারি নামের একটি মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমস্যা গল্পটির মূল কাহিনি। আবারি খোঁড়া ছিল। আর এটাই ছিল তার বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। খোঁড়া পা শেষ পর্যন্ত অবশ্য তার বিয়ের প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ একদিন সে নিজেই ঘর থেকে বের হয়ে একটি ছেলের সঙ্গে বিবাহপাশে আবদ্ধ হয়েছিল।

এখানে উল্লেখের প্রয়োজন যে, আবারি গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার প্রায় এক দশক পূর্বেই সতীশ চন্দ্র বসুমাতারি ‘রন্দাগি ফাগ্নি’ ছদ্মনামে ‘বিবার’ পত্রিকায় একখানি গল্প লিখেছিলেন। তবে ছোটগল্পের বৈশিষ্টগুলি এতে খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছিলেন সমালোচকরা। ‘হাতরখি হালা’র পর একে একে ‘অখাফর’, ‘আলারি’, ‘মুশ্রি’, ‘সানশ্রি’, ‘নায়ক’ পত্রিকাগুলি প্রকাশিত হতে থাকে। এই পত্রিকাগুলিতে জীতেন ব্রহ্ম, সতীশচন্দ্র বসুমাতারি, নারায়ণ ব্রহ্ম, মনোরঞ্জন লাহরি, রথীকান্ত বোড়ো, জগদীশ ব্রহ্ম প্রমুখ গল্পকারের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রকৃতপক্ষে সত্তরের দশকেই বোড়ো গল্পের বিকাশ ঘটেছিল। গল্পের প্লট, রচনা-কৌশল, শব্দ-ব্যবহার, চরিত্রচিত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সত্তরের গল্পকারেরা সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৭০ সালে সমর ব্রহ্ম চৌধুরীর সম্পাদনা করা ‘বৈরাথি’ পত্রিকায় বেশ কয়েকটি গল্প প্রকাশিত হয়েছিল, যেমন নীলকমল ব্রহ্মের ‘বেহের’ (চোরাবালি) ও ‘গোসোনি আখল মেগননি মহর’ (মনের চরিত্র, চোখের রূপ), হরেশ্বর বসুমাতারির ‘গোরোবনায়’ (মিলন) ইত্যাদি। এছাড়াও কোকরাঝাড় কলেজ থেকে প্রকাশিত ‘অনজিমা’ পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যায় নীলকমল ব্রহ্মের ‘অরইনো’ (এমনি এমনি), হরেশ্বর বসুমতারির ‘অনারিনি লামায়াও’ (অনারির পথে), ‘দোবই লাংনায় সান’ (অস্তমিত সূর্য), প্রমীলা ব্রহ্মের ‘ফৈমাল’ (নিস্ফল) ইত্যাদি গল্প প্রকাশিত হয়।

১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত চিত্তরঞ্জন মুসাহারির মাত্র তিনটি গল্প থাকা ‘ফৈমাল মিজিং’ (নিস্ফল আশা) গ্রন্থটি হচ্ছে বোড়ো সাহিত্যের প্রথম গল্পগ্রন্থ। সংকলনে গল্প তিনটি হল ‘গোমানায় ডায়রি’ (হারানো ডায়রি), ‘ফাংনই নালেংখর বিফাং’ (দু’টি নারকেল গাছ), ও ‘ফৈমাল মিজিং’। এই গল্পগুলোতে প্রধানত সামাজিক চিত্রই স্থান পেয়েছে। চিত্তরঞ্জন মুশাহারির গল্প সম্বন্ধে রাখাও বসুমতারি বলেছেন যে, চিত্তরঞ্জনের গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো বোড়ো সমাজ থেকে নেওয়া এবং ‘গোমানায় ডায়রি’ ছাড়া অন্য গল্পগুলোতে বোড়ো গ্রামের প্রতিচ্ছবিই প্রতিফলিত হয়েছে। (দ্র: ‘থুনলাই বিজিরনায়’; রাখাও বসুমতারি; প্র. ৮৯)। আবার রাখাও বসুমতারির মন্তব্যকে নাকচ করে ডঃ অনিল বোড়ো বলেছেন, চিত্তরঞ্জনের বেশিরভাগ গল্প ও গল্পের বিষয় বোড়ো জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। (দ্র: গোদান বর থুনলাই; ডঃ অনিল বোড়ো; পৃ. ৪৭)।

চিত্তরঞ্জন মুসাহারির দ্বিতীয় ছোটোগল্পের সংকলন ‘থালিম’ (তালিম) প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর রচিত গল্পের কৌশল ও চরিত্র-নির্মাণ অনন্য। তবে তাঁর অধিকাংশ গল্পে বোড়ো জাতির সমাজজীবনই শুধু ঘুরে ফিরে আসে।

সর্বাধিক ছোটোগল্প লিখে বোড়ো গল্পের জগতে ইতিহাস গড়েছেন যিনি, তিনি হলেন নীলকমল ব্রহ্ম। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ হল – ‘সিলিংখার’ (নিঃশেষিত, ১৯৮৪), ‘সিরিনায় মান্দার’ (ঝরে পড়া মাদার ফুল, ১৯৮৫), ‘হাগ্রা গুদুনি মই’ (জঙ্গলের হরিণ), ‘মেম দাইদই’ (মেম ডিম, ১৯৯৫)। তাঁর অধিকাংশ গল্প আশির থেকে নব্বই দশকের মধ্যে লেখা। তাঁর গল্পে কৃষিকেন্দ্রিক জীবন থেকে আরম্ভ করে নগরজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর গল্পে শিক্ষিত পতি-পত্নীর মধ্যে সৃষ্টি হওয়া নানারকম সমস্যা, শারীরিক সুখ দিতে অক্ষম পতিকে স্ত্রী পরিত্যাগ করা ইত্যাদি আধুনিক সমাজের জটিল সমস্যাগুলি উঠে এসেছে। ‘সিরিনায় মান্দার’ ‘বিবার’ প্রভৃতি গল্পে এই ধরনের সমস্যাগুলি প্রতিফলিত হয়েছে। ‘লামানি জুলিয়েট’ (রাস্তার জুলিয়েট) গল্পটিতে কলেজে পড়া দু’জন ছাত্রীর উচ্ছৃঙ্খল চরিত্রের চিত্র অঙ্কন করেছেন গল্পকার। ‘মোদোই আরো গোলোমোদই’ (অশ্রু ও ঘাম) নামের গল্পটির বিষয়বস্তু হচ্ছে এক গৃহভৃত্য বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে করতে কীভাবে শেষ পর্যন্ত বৃহৎ শিল্প উদ্যোগ গড়ে তুলতে সক্ষম হল।

নীলকমল ব্রহ্মের পর বোড়ো গল্পের জগতে একজন সফল গল্পকার হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছেন মনোরঞ্জন লাহরি। তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সলো বিদাং’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে। ‘কান্দি’, ‘সাংগ্রেমা’ (জোনাকি) প্রভৃতি এই সংকলনের শ্রেষ্ঠ গল্প। ১৯৮৫ সালে মনোরঞ্জন লাহরির দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘সলনি সলো’ (গল্পের গল্প) প্রকাশ পায়। মনোরঞ্জন একজন সমাজসচেতন গল্পকারই নন, তিনি একজন সফল কবি ঔপন্যাসিকও। তাঁর অধিকাংশ গল্পে সমাজজীবনের বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে। সমাজের অন্যায়-অত্যাচার, দারিদ্র‍্য এবং গ্রাম্যজীবনের পরিচিত ঘটনাবলিই তাঁর গল্পের মূল বিষয়বস্তু।

 

বিশ শতকের আশির দশকে গল্পের জগতে আসা গল্পকারদের অন্যতম হলেন কুমার ব্রহ্ম। তাঁর গল্পগ্রন্থ দু’টি হল ‘দুমফাউনি ফিথা’ (দুমফাউয়ের পিঠা, ২০০১) ও ‘মৈদের মুহুনি’ (হাতিধরার জাদু, ২০০৭)। তাঁর গল্পগুলিতে ভিড় করে এসেছে গ্রামীণ জীবনের ছোটখাটো নানান ঘটনা। তবে তাঁর গল্পে চরিত্রচিত্রণের দিকটি একটু দুর্বল। ‘দুমফাউনি ফিথা’ গল্পটি প্রধানত নারী সবলীকরণের উদ্দেশ্যে লেখা। গল্পটির মধ্যে দিয়ে তিনি একথাটিই তুলে ধরতে চেয়েছেন যে, নিজের ভাষা-সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। গল্পের নায়িকা দুমফাউ কেটলি পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়। অতি সামান্য উপার্জন করেও কিন্তু সে বোড়ো ভাষা-আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য নির্দ্বিধায় পাঁচ হাজার টাকা দান করে।

আশির দশকের আর একজন উল্লেখযোগ্য গল্পকার হলেন হরিভূষণ ব্রহ্ম। এ যাবৎ প্রকাশিত তাঁর গল্পগ্রন্থ দু’টি – ‘শ্রীমতি দুর্লায়’ ও ‘রোনাউ ফাগ্লা’ (রোনাউ পাগল)। গ্রন্থদু’টিতে সাতটি করে গল্প রয়েছে। হরিভূষণ ব্রহ্মের বেশির ভাগ গল্পের কাহিনী সাংসারিক জীবন থেকে নেওয়া। গল্পগুলিতে তাঁর উদার মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। তাঁর ‘শ্রীমতি দুর্লায়’ গ্রন্থে দেখি নায়িকা দুর্লায় সমাজের বাধা-নিষেধ অগ্রাহ্য করে অবাধে হাটে-বাজারে ঘুরে বেড়ায়। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন এক হিন্দিভাষী যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং কিছুদিন পর দুর্লায় তার সঙ্গে পালিয়ে যায়। তবে সেই যুবক তার সঙ্গে প্রতারণা করে। গল্পে ঘটনা ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জমজমাট গল্প নির্মাণে হরিভূষণের আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

নব্বইয়ের দশকে যারা বোড়ো গল্প রচনা করে বোড়ো সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁরা হলেন, নন্দেশ্বর দৈমারী, ইন্দ্রমালতী নার্জারি, ডঃ মঙ্গল সিং হাজওয়ারি, নবীন মল্ল বোড়ো প্রমুখ। নন্দেশ্বর দৈমারি বোড়ো সাহিত্যের অন্যতম সফল গল্পকার। তাঁর লেখা গল্পগ্রন্থগুলি হল – ‘থাংনাইনি দাউহা’ (বেঁচে থাকার সংগ্রাম), ‘বক্সিং’, ‘অবে নেনায় দলঙ্গা’ (সে দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি), ‘বাইগ্রেবনাইসো’ (ভগ্নাবশেষ) ইত্যাদি। বক্সিং গল্পটি একসময় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। গল্পটিতে গল্পকার বোড়ো জীবনের অতি পরিচিত একটি ছবি অঙ্কন করতে চেয়েছেন। বোড়োদের গ্রামের নিজস্ব বাসভূমি যখন ধীরে ধীরে শহরে পরিণত হতে থাকে, তখন তারা সেখানে টিকে থাকতে না পেরে সেই অঞ্চল ত্যাগ করে এবং অন্য কোনও গ্রাম্য পরিবেশে নতুন করে বসতি স্থাপন করার চেষ্টা করে। শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর হওয়ার জন্য বোড়োরা চাকরি বা বাণিজ্যক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর এজন্যই তারা একসময় নিজেদের বাস্তুভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। এই কথাটিই গল্পকার তাঁর ‘বক্সিং’ গল্পে তুলে ধরেছেন। নন্দেশ্বরের অনেক গল্পেই পরিচারিকা চরিত্র দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর ‘রুয়াথি নালেবনি হাংমা’ (নালেব পরিচারিকার অতৃপ্ত আকাঙখা), অবে নেলায় দলঙা’, ‘বাইগ্রেবনাইসো’, ‘মান্দার বিবারনি দাহা’ (মাদার ফুলের বেদনা) ইত্যাদি গল্পে পরিচারিকার ভূমিকাই মুখ্য।

‘রুয়াথি নালেবনি হাংমা’ গল্পের নালেব একজন পরিচারিকা। সে আর দশটা মেয়ের মতোই শিক্ষিতা হবার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু দারিদ্র‍্য তাকে পরিচারিকা হতে বাধ্য করে। নালেব ভালোবাসে একজন শিক্ষিত মহাজনকে যে একজন লেখকও বটে। মহাজন কিন্তু নালেবকে অন্য দৃষ্টিতেই দেখে। দরিদ্র পিতামাতার সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কীভাবে তারা গৃহভৃত্যে পরিণত হতে বাধ্য হয়, সেই ছবিই গল্পটিতে ফুটে উঠেছে। ‘মান্দার বিবারনি দাহা’ ও ‘অবে নেনায় দলঙা’, ‘বাইগ্রেবনাইসো’, গল্পেও পরিচারিকা হাংমা ও মৈনাথির জীবনের আশা-নিরাশার কথা লেখক ব্যক্ত করেছেন।

নন্দেশ্বর দৈমারির গল্পে বোড়োদের গ্রামীণ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা এবং ঘটনা স্থান পেয়েছে। তাঁর ‘খাতিরাম মাস্টারনি ডায়েরি’ গল্পে ভেঞ্চার স্কুলের শিক্ষকদের দুঃখ-দুর্দশার করুণ ছবি চিত্রিত হয়েছে। দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে মাইদাংগুরি হাইস্কুলে বিনা বেতনে প্রধান শিক্ষকের পদে কর্মরত খাতিরামের দুঃখ-দারিদ্র‍্যপূর্ণ জীবনকথা এই গল্পের প্রধান বিষয়। নন্দেশ্বরের ‘হকারনি কেরাসিন তেল’ গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ডালডার কৌটো। সিমাং মাস্টারের ফেলে দেওয়া ডালডার কৌটোকে থিম হিসেবে নিয়ে গল্পকার কৌশলে গরিবদের জীবনের শোষণ-বঞ্চনার চিত্রটি অঙ্কন করেছেন। গল্পটিতে আমরা দেখতে পাই ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থী সাউখিল হকারের কাছে কেরোসিন কিনতে গিয়ে ডালডার কৌটোটি লাইনে রেখে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কেরোসিন পায় না, কারণ প্রতাপশালী খালা মহাজনের জন্য তেল সংরক্ষিত ছিল। সমাজের ন্যায়-অন্যায়ের বিচারক উকিলের মতো লোকেরা আবার লাইনে না দাঁড়িয়েও তেল পায়। এরকম বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নন্দেশ্বরের গল্পে স্থান পেয়েছে।

গল্পকার ইন্দ্রমালতী নার্জারির গল্পগুলোতে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, প্রেম-বিরহের পাশাপাশি নানান সামাজিক সমস্যাও স্থান পেয়েছে। তাঁর লেখা ‘আংনি গোসো থোনায়নি ডায়েরি’ (আমার প্রেমের ডায়েরি) গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুবক ছাত্রের সঙ্গে কলেজের ছাত্রী মৌসুমির দান্তে-বিয়াত্রিস সদৃশ গভীর প্রেমের কাহিনি। তাঁর ‘মাউরিয়া’ (অনাথ) গল্পটির কেন্দ্রে রয়েছে দুঃখ-যন্ত্রণায় কাতর দরিদ্র মানুষের জীবনকথা। ‘সানহাবহাং’ (গোধূলি) ‘মানো বিদি জায়ো’ (এমন কেন হয়), ‘সোর নোংলায়'(তুমি কে), ‘বৈসাগু’ আদি গল্পগুলোতেও দারিদ্র‍্য এবং জীবনের ছোটোখাটো নানান ঘটনা স্থান পেয়েছে।

১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গল সিং হাজওয়ারির গল্প সংকলন ‘ফৈসালি আন্দোলি সলো’ (দিগন্ত পারের কাহিনি) প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থটিতে নয়টি গল্প রয়েছে। তাঁর গল্পে ডাইনি হত্যা ও নানান কুসংস্কার, গৃহভৃত্যের দুঃখ-দুর্দশা, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণা, মদ্যপানের কুপরিণাম, ভ্রষ্ট সামাজিক রীতি-নীতি ইত্যাদি বিষয় স্থান পেয়েছে। তাঁর গল্পগুলোতে প্রধানত সমাজের বাস্তব ছবি প্রতিফলিত হয়েছে। ‘রেইনকোট’ গল্পটিতে তিনি পরিচারিকাদের দুঃখ-যন্ত্রণাময় জীবনের কথা বলেছেন। দারিদ্র‍্যদগ্ধ জীবনেও গৃহভৃত্যরা সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু লম্পট ব্যক্তিদের প্রতারণায় তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। বালায়শ্রী এমনই এক গৃহভৃত্য। সে এক মিলিটারি যুবককে ভালোবাসে। একদিন সুভাইঝার গ্রামে গাউন১ দেখতে গিয়ে মিলিটারি পোশাক পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। রাতের অন্ধকারে বালায়শ্রী মিলিটারি পোশাক পরা ব্যক্তিকে তার প্রেমিক বলে মনে করে। অন্ধকার পথে চলতে চলতে একসময় গাউন অনুষ্ঠিত হওয়া স্থানে পৌঁছে তারা জানতে পারে যে, ছাত্র সংগঠনের ছেলেরা সেখানে মদ, জুয়া, বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখান থেকে সবাই পালিয়ে যাচ্ছে। বালায়শ্রী সেই উত্তপ্ত পরিবেশ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সেই ব্যক্তির সঙ্গে অন্যত্র চলে যায়। মিলিটারি পোশাক পরা সেই ব্যক্তি বালায়শ্রীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় এবং দু’জনে স্কুলের ঘরে রাত কাটায়। পরদিন সকালে বালায়শ্রী জানতে পারে, যে মিলিটারি পোশাক পরা ব্যক্তি তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে তার পবিত্রতা নষ্ট করেছে, সেই ব্যক্তিটি তার প্রেমিক রমেশ নয়, রমেশের বাবা মহাজন মেরগা। পরদিন সমাজ এই জঘন্য ঘটনার বিচার করার আগেই গৃহপরিচারিকা বালায়শ্রী আত্নঘাতী হয়। মঙ্গল সিং হাজওয়ারির অন্যান্য গল্প যেমন – ‘হিনজাউ সিখাউ’ (মহিলা চোর), ‘আলউরি দাউ বিমা’ (যত্ন নিতে না জানা মুরগি), ‘ডাইনা’ (ডাইনি), ‘অন্নায়নি খিথের’ (প্রেমের প্রতিশোধ) ইত্যাদিতে বোড়ো সমাজ ব্যবস্থার নিখুঁত ছবি ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া প্রেম-বিরহ ও প্রতারণার ছবিও তাঁর গল্পে দেখতে পাওয়া যায়।

বোড়ো গল্পের জগতে আর একজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হলেন নবীন মল্ল বোড়ো। গ্রামীণ জীবনের ছোটো ছোটো ঘটনা তাঁর গল্পে স্থান পেয়েছে। ‘হাদান’ (নতুন বস্তি) ও ‘গুসো ফানজারিনি বিবার’ (মন তিন জোড়া ফুল) তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। ‘হাদান’-এ বাস করতে গিয়ে একদিকে পুলিস এবং অন্যদিকে বন্য হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ নিজের জমি-জমা ছেড়ে কীভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় তা-ই ‘হাদান’ গল্পের মুখ্য বিষয়। ‘আসোখান্দা’ (অপূর্ণ আশা) গল্পে ব্যবসায় অনভিজ্ঞ ও অস্থির বোড়ো যুবকের চরিত্র অঙ্কন করেছেন গল্পকার। দালাংগা কৃষকের ছেলে। দুর্বলচিত্ততা এবং বাণিজ্য-জ্ঞানের অভাবের জন্য সে ব্যবসায় সফল হতে পারেনি। কিন্তু দালাংগার উচ্চাশা, সে নামী ব্যবসায়ী হবে। তাই সে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় উন্নতি করার স্বপ্ন দেখে। ছোটো ব্যবসাতেই অসফল পুত্রের উচ্চাশা দেখে পিতা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। পিতা ও পুত্রের বিপরীতমুখী মনোভাব সুন্দরভাবে গল্পটিতে ফুটে উঠেছে। ‘বাইখান্দা’ (ভাঙা) গল্পে আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগের ফলে গ্রামের কৃষকদের সহজ-সরল জীবনযাত্রায় সৃষ্টি হওয়া নানারকম সমস্যার কথা বর্ণিত হয়েছে। লেখক গল্পটির এক জায়গায় বলেছেন-

 

“পাগলদিয়া নদী ছিল তাদের পিতামাতা। এখন তাদের কেউ নয়। সে আশীর্বাদ দেয় না, দেয় অভিশাপ। প্রত্যেক বছরের বন্যার অত্যাচারে কেউ টিকতে পারে না। বাঁধটি হলে সত্যিই নলবাড়ি অঞ্চলের মানুষদের ভালো হবে। কিন্তু কোথায় বাঁধ হবে? তারা কোথায় থাকবে? কী হবে তাদের?” দরিদ্র কৃষকদের জীবনের বাস্তব ছবিটি এইভাবে তাঁর রচনায় ধরা পড়ে। নবীন মল্লের ‘হাদানাউ হেডমাস্টার’ (নতুন হেডমাস্টার), ‘দাহা’ (বেদনা), ‘হাওয়াসি সোরাং’ (আঁধারে আলো) প্রভৃতি গল্পেও সামাজিক সমস্যার রূপায়ণ ঘটেছে।

নব্বই দশকের পর রচিত গল্পগুলোতে গ্রাম্যজীবন, আন্দোলন, মূল্যবোধ, সামাজিক পরিবর্তন, মানবতা ও মানবতার স্থলন ইত্যাদি বিষয় প্রাধ্যান্য পেয়েছে। এই সময়ের গল্পকারদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জেড. ডি. বসুমতারি। তাঁর রচিত ‘লামা-সামা'(পথে-ঘাটে) গল্পে দেখানো হয়েছে পরিবর্তিত সমাজে যুবকেরা কীভাবে সহজ পথে অর্থোপার্জনের পথ বেছে নেয়। এ ছাড়াও তাঁর গল্পগুলোতে কৃষি-নির্ভর মানুষের জীবনকথার বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে। তিনি নিজেই গল্পের চরিত্র হয়ে উত্তমপুরুষে গল্প রচনা করেন – যা আধুনিক গল্পকারদের একটি অন্যতম স্টাইল। উত্তমপুরুষে লেখা তাঁর গল্পগুলো হল – ‘আংনি ট্রেজিডি কমেডি’ (আমার ট্রাজেডি-কমেডি), ‘লামা-সামা’, ‘গোদান’ (আধুনিক), ‘ফাংলাগিরি’ (ব্যবসায়ী) প্রভৃতি।

একুশ শতকের প্রথম দশকে ছোটোগল্প রচনা করে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন গোবিন্দ বসুমতারি। ২০০৬-এ তাঁর ‘হারাউনি সাইকেল’ (হারাউয়ের সাইকেল) গল্প সংকলনটি প্রকাশিত হয়। এতে ১৮ টি গল্প রয়েছে। তাঁর গল্পগুলোতে প্রধানত গ্রাম্যজীবনের ছবি ফুটে উঠেছে। তবে আধুনিক ও বিত্তশালী সভ্যতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে জীবননির্বাহ করতে চাওয়া শ্রেণির ছবিও তাঁর গল্পে বিশ্বাসযোগ্যভাবে রূপায়িত হয়েছে। এরকম একটি গল্প হল ‘গাড়ি বিগোমা’ (গাড়ির মালিক)। বোড়োল্যান্ড আন্দোলনের পর বোড়োদের হাতে শাসন ক্ষমতা চলে আসে। বোড়োরা শাসন ক্ষমতা লাভ করার পর অনেক বোড়ো আন্দোলনকারী আত্মসমর্পণ করে প্রচুর অর্থ লাভ করে। এ ছাড়া কেউ কেউ ঠিকাদারি করে, কেউ বা মদের পারমিট পেয়ে সৎ-অসৎ উপায়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। ‘গাড়ি বিগোমা’ গল্পের প্রধান চরিত্র অরখাউয়ের মধ্য দিয়ে গল্পকার তা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। অরখাউ চরিত্রটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এই বাক্যটিতে – “কেউ কোনো এক বছর সারেন্ডারের লোন পায়, কেউ না ওয়াইন শপের পারমিট পেয়ে এবং কেউ কেবল কন্ট্রাক্ট বিজনেস করেই বেশ মোটা হয়েছে, ফর্সাও হয়েছে… যেন শুয়োরের ছালে লেগে থাকা তেল রোদে গলে গলে চিকমিকিয়ে উঠেছে।” ‘উদই’ (পেট) গল্পে বর্ণিত হয়েছে কীভাবে ঠিকাদার দরিদ্র লোকেদের প্রতারণা করে অর্থপুষ্ট হয়ে ওঠে। গোবিন্দ বসুমতারির গল্পের বড়ো বৈশিষ্ট হচ্ছে হাস্যরস। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজের বিভিন্ন দিক গল্পে তুলে ধরেছেন। গোবিন্দ বসুমতারির মতো কাতিন্দ্র সর্গিয়ারির গল্পগুলোতেও বোড়োদের সমাজজীবনের বিভিন্ন ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি তাঁর গল্পে প্রধানত মানবজীবনের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরছেন।

একুশ শতকের আর একজন প্রখ্যাত গল্পকার হলেন প্রাণেশ্বর বোড়ো নার্জি। তাঁর গল্পগ্রন্থ দু’টি হল – ‘ডাইনা’ ও ‘বিনসারামনি থাংখু’ (বিনসারামের খৈনি)। ‘ডাইনা’ গল্পে বাউদা ওঝাকে কীভাবে ডাইনি সন্দেহে গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হয় এবং গল্পের এক চরিত্র লাউগাইয়ের হাতে সে কী ভয়ানক শাস্তি পায় তার মর্মান্তিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। প্রাণেশ্বরের ‘আংখাল’ (আকাল) গল্পে একজন রিক্সাওয়ালার বেঁচে থাকার তাড়না, ছেলে-মেয়েকে লালন-পালনের সমস্যা, অভাব-অনটনের ছবি চিত্রিত হয়েছে। ‘বিনসারামনি থাংখু’ গল্পটিতেও একজন দিনমজুরের কাহিনি চিত্রিত হয়েছে। গল্পে বিনসারাম নিজের ভুলের জন্য স্কুল ছাড়া হয়ে অল্প বয়সে সীমাংশ্রীকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে সাংসারিক জীবনে কীরূপ দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করেছিল তার চিত্রই অঙ্কন করেছেন গল্পকার। প্রাণেশ্বরের অধিকাংশ গল্পের চরিত্র গ্রামজীবন থেকে নেওয়া। তাঁর গল্পের বিষয় ছোটোখাটো সাধারণ ঘটনা হলেও তাঁর বর্ণনা কিন্তু বেশ সাবলীল।

একুশ শতকের গল্পকার সুনীতি নার্জারি এবং উত্তরা বৈসুমুথিয়ারি ছোটোগল্প লিখে বোড়ো গল্পের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন। সুনীতি নার্জারির ‘বাইখান্দা সাথা আরো’ (ভাঙা ছাতা এবং), ‘লাউথি গন’ (লাঠিটি) ও উত্তরা বৈসুমুথিয়ারির ‘রাক্ষস ফিসা’ (রাক্ষসসন্তান) এবং ‘হাওয়াসি’ (আলো না পড়া ঠাঁই) গল্পগ্রন্থে সন্নিবিষ্ট গল্পগুলোতে বোড়ো সমাজের অভাব-অনটন, দারিদ্র‍্য এবং জীবনের নানান সমস্যা স্থান পেয়েছে। ‘আদুংগারি’ গল্পে গল্পকার অবিবাহিত পরিচারিকা পূর্ণিমার অবহেলিত, ঘৃণিত ও দুঃখ-যন্ত্রণাময় জীবনের কাহিনি অঙ্কন করেছেন। পরিচারিকা হওয়ার জন্য পূর্ণিমার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে নানান প্রতিবন্ধকতার কাহিনিই গল্পটিতে বর্ণিত হয়েছে। সমাজে মেয়েদের যে কত অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয় তা এই বাক্যটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক – “পুরুষদের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও দাড়ি-কমা নেই। বয়স যতই হোক না কেন সে কম বয়সের মেয়েকেই বিয়ে করে। তাই বুঝি আদুংগারি২ – আদুংগারা নয়। বোড়ো ব্যাকরণে আদুংগারির পুংলিঙ্গ নেই।” তাঁর ‘বিচার’, ‘ডাইনা’ প্রভৃতি গল্পে তথাকথিত সমাজব্যবস্থায় নারীরা যে কীভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিল তারই ছবি ফুটে উঠেছে।

বোড়ো ছোটোগল্প সম্বন্ধে সমালোচক ড. ফুকনচন্দ্র বসুমতারি বলেছেন যে, বোড়ো গল্পের ইতিহাসকে ভালো করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় গল্পকাররা প্লট ও কাহিনির (Story) পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেননি বলে কাহিনি বর্ণনাতেই বরাবর গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। ঈশান মুসাহারির ‘আবারি’ থেকে আরম্ভ করে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘হারাওনি সাইকেল’ গল্পে দেখা যায় গল্পকাররা কাহিনি বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। (‘বর সুংদ সলানি বোহইথি দাহার’; সম্পাদনা : স্বর্ণপ্রভা সৈনারি; পৃ. ১২)।

বোড়ো গল্পের সূচনার এখনও একশো বছরও হয়নি, এরই মধ্যে বোড়ো গল্পের রচনা-কৌশল, চরিত্র-নির্মাণ, প্লট-পরিকল্পনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। গল্পকাররা কোনও একটি নির্দিষ্ট কৌশলকে আঁকড়ে ধরে না থেকে ভিন্ন ভিন্ন ফর্ম ও স্বাদের গল্প রচনায় প্রয়াসী হয়েছেন। তবে এ কথা অবশ্যই স্বীকার্য যে অনেক গল্পেই লেখকের জীবনদর্শন সুস্পষ্ট রূপে ধরা দেয়নি। হাস্য-ব্যঙ্গাত্মক বোড়ো গল্প অনেক লেখা হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু কাহিনিতে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পাঠকের মনে উৎকণ্ঠা জাগানো গল্প এ যুগের গল্পকারদের রচনাতেও তেমন ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।


১. গাউন – বোড়ো যাত্রাপালা
২. আদুংগারি – যে নারীর বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে কিন্তু বিয়ে হয়নি

————————
ভাষান্তর: বাপন দাস

(যাপনকথা – উত্তর-পূর্ব পত্রিকায় প্রকাশিত। সম্পাদকের অনুমতিক্রমে পুনঃপ্রকাশিত)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*