রামায়ণ: কথক যখন মেয়েরা

নবনীতা দেবসেন

(পূর্ববর্তী সংখ্যার পর)

 

গর্ভাবস্থার আকাঙ্ক্ষা

অন্যান্য পর্বের তুলনায় কিছুটা হালকা চালে দেখলেও গর্ভাবস্থায় সীতার নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা সূচক পর্বটিকেও গ্রামীণ মহিলা গায়কেরা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। তাঁরা যে প্রশ্নটি তুলেছেন তা সীতার স্বামী রাম বা তাঁর বকলমে মহাকাব্যের রচয়িতা বাল্মিকী, কেউই ভেবে দেখেননি-– সীতা নিজে কী চান, নিজের জন্য তিনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন? একটি তেলুগু গান এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই। এই গানে সীতা তিনমাসের গর্ভবতী। “সীতাম্মার মন কী চায়?” বাঘের দুধ, যা তাঁর প্রিয় দেবর লক্ষ্মণ জঙ্গল থেকে জোগাড় করে এনে দেবেন। “কিন্তু লক্ষ্মণ ভাই, আমার আরও একটা ইচ্ছে করছে।”

“আবার কী চাই?”– “নীল সমুদ্রের মাঝে এক সুদূর দ্বীপ রয়েছে

ওই দ্বীপের মাঝে রয়েছে একটা মাত্র সেগুন গাছ

সেই সেগুনগাছে এক বিশেষ মৌচাক হয়েছে

সেই মৌচাকের মধু দিয়ে সাদা দোসা খেতে চাই আমি!”-–

সীতার এ হেন আবদারে তাঁর শাশুড়ি মোটেই খুশি নন। তাঁর কটাক্ষ:

“হুঁ! আমিও গর্ভবতী ছিলাম একদিন, জন্ম দিয়েছিলাম রাম আর লক্ষ্মণের। আমি কি কোনওদিন এমন আশ্চর্য জিনিস চেয়েছি?

কাঁচা আম আর নারকেলই আমার একমাত্র চাহিদা ছিল…”

একটি মারাঠি গানে দেখা যাচ্ছে সীতা নানা ফল আর সবজি খেতে চাইছেন। তার মধ্যে গাজরের মতো কিছু খুবই দুষ্প্রাপ্য সবজিও রয়েছে আর তার জন্য রামকে বাজারে ছুটতে হচ্ছে। স্পষ্টতই, এ সব ইচ্ছাপূরণের গান। অনেক গানেই লক্ষ্মণ উপস্থিত, কিন্তু রামকে প্রায় পাওয়াই যায় না।

সীতার নির্বাসন

স্ত্রীকে বনে নির্বাসন দেওয়ার পর কী হল রামের? মেয়েরা তার উত্তর দিয়েছেন। একটি মারাঠি গানে স্ত্রীকে বনবাসে পাঠানোর পর রামকে বিলাপ করতে দেখা যায়। কিসের বিলাপ তাঁর? শালের খুঁটে চোখ মুছে রাম হাহাকার করেন:

“সীতার মতো রানী আমি কোথায় পাই

আর কে তার মতো জল দিয়ে মেঝে ধোয়াবে?

কে আমাকে আমার ধুতি এনে দেবে?

সীতার মতো সুস্বাদু রান্না রেঁধে কে খাওয়াবে আমায়?

সীতা এখন বনবাসে, কে পেতে দেবে আমার রাজশয্যা?

কে জোগাবে চন্দনবাটা?

ভাই লক্ষ্মণ, বন্ধ করে দাও এই বিলাসপ্রাসাদ।”

নল দিয়ে যেভাবে বৃষ্টির জল পড়ে ঠিক সেভাবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে রাম পায়ের ধাক্কায় খাট উল্টে দেন। সীতাকে বনবাসে পাঠিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছেন তিনি। সীতা তাঁর কাজের লোক, রাঁধুনী, বিছানা পাতার লোক, দক্ষ গৃহকর্মী এবং রতিসুখদাত্রী। এ সব হারানো এক বিরাট ক্ষতি, সন্দেহ নেই। ইচ্ছাপূরণের এমনই আর একটি বাংলাদেশি গানে রাম বিলাপ করতে করতে একসময়ে সীতাকে বনবাসে পাঠানোর জন্য অনুতাপ করেন এবং লক্ষ্মণের কাছে প্রাণপ্রিয় সীতাকে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার জন্য অনুনয় করতে থাকেন।

“সীতা আমার জানের জা

সীতা আমার প্রাণের প্রা

সীতা বিনা বাঁচে না জীব

ভাই রে লক্ষ্মণ,

পায়ে পড়ি সীতা আইনা দে

কী করিয়া দিলাম বিসর্জন।”

দেখা যাক সীতা নিজে কীভাবে বনবাসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি মারাঠি গানে সীতার জন্য রথ এসে অপেক্ষা করছে কারণ তিনি শেষ মুহূর্তেও কিছু দরকারি টুকিটাকি কাজ সেরে নিচ্ছেন। গৃহকর্মীকে তিনি নির্দেশ দেন কাপড় শুকোনোর দড়ি থেকে রামের শাল সময়মতো তুলে আনতে এবং রাম যখন খাবেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। গৃহকর্মীর হাতে একটুকরো সাবান দিয়ে সীতা বলেন তা দিয়ে যেন রামের কাপড় কাচা হয়। মুদিখানার দোকানে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন দোকানীকে। ভারীকে বলেন প্রতিদিন নিয়ম করে রামের স্নানের জল ভরে রাখতে, তিলিকে বলেন রামের বাতিদানে তেল ভরে রাখতে। যখন রথ প্রায় চলতে শুরু করেছে, সেই সময়ও তিনি মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করেন “আমার রামের কাচা পোশাক স্নানাগারে রাখা আছে তো?” দীর্ঘ গানটিতে সীতাকে আদর্শ স্ত্রীয়ের ভূমিকা পালন করতে দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি যখন, শুরু হয় গানের শেষাংশ। গায়ক আমাদের এবং তাঁর মহিলা সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে গাইতে থাকেন:

“সীতা বনবাসে চলেছেন

তিনি উজাড় করে দিচ্ছেন নিজের মনের কথা

শুধু আমাদের কাছে (তোমার আর আমার কাছে)

(তিনি বলছেন) ‘রামের শরীরে

দয়ামায়া নেই

পাঁচমাসের গর্ভবতী আমি।’

সীতা বাড়ি ছেড়ে চলেছেন

তাঁর কষ্ট তিনি ভাগ করে নিচ্ছেন তোমার  

আর আমার সাথে (তিনি বলছেন)

‘আমার জন্য কারও প্রাণ কাঁদে না এখানে

আমার পেটে ছোট্ট শিশু’।”

মোহভঙ্গের বেদনা আর সমালোচনার স্বর এ গানে ছত্রে ছত্রে। শুধু মেয়েরাই পারেন এ যন্ত্রণা সীতার সঙ্গে ভাগ করে নিতে, যেমন সীতা পারেন মেয়েদের সঙ্গে।

সোনার হরিণ

সোনার হরিণ আর সীতাহরণ নিয়ে অনেক কাহিনি প্রচলিত। বাংলায় যেমন সীতা একটি সুন্দর প্রাণীকে পোষ্য করতে চান, নির্জন জঙ্গলে যে তাঁর সঙ্গী হবে। মারাঠিতে সীতা সোনার হরিণের চামড়ায় বানানো একটি সোনালি কাঁচুলি চান। একটি জনজাতির গানে রয়েছে, দীর্ঘকাল ফলমূল খাওয়ার পর একটু বৈচিত্র আনতে সীতা মাংস রান্না করতে চান। তেলুগু গানে রয়েছে, সীতা একটি ছোট্ট চারাগাছের যত্ন করেন, কিন্তু রোজ এক হরিণ এসে তাকে খেয়ে যায়। সীতা হরিণটিকে বন্দি করে গাছটিকে রক্ষা করতে চান। কারণ যাই হোক, সীতা এরপর তাঁর স্বামীকে বললেন সোনার হরিণ ধরে আনতে এবং রাম বারবার লক্ষ্মণকে সীতার কাছ থেকে দূরে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে গেলেও তাঁকে রামের পিছনে পাঠালেন। ফলে মেয়েলি আচরণবিধি তিনি আবার ভাঙলেন। প্রথমবার এই আচরণবিধি সীতা ভেঙেছিলেন নিজের স্বয়ংবর সভায়। রাবণকে পর্যুদস্ত হতে দেখে হেসে উঠেছিলেন তিনি, মেয়েদের যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দ্বিতীয়বার তিনি আচরণবিধি ভেঙেছেন লক্ষ্মণকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার আদেশ অমান্য করতে বাধ্য করে। এবং তৃতীয়বার আবার তিনি এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন লক্ষ্মণের টেনে দেওয়া মন্ত্রপূত গণ্ডি অতিক্রম করে (এই অংশটি বাল্মীকি রামায়ণে পাওয়া যায় না, রাবণের প্রতিজ্ঞার কথাও নেই তাতে)।

অধিকাংশ গানে বলা হয়েছে, সীতা গণ্ডি অতিক্রম করেছিলেন ছদ্মবেশী সাধুকে ভিক্ষা দেওয়ার জন্য কারণ ভিক্ষাপ্রার্থী সাধুকে বিমুখ করা পাপ। বাংলায় গণ্ডি মাত্র একটি রেখার। তেলুগু ও মারাঠিতে মন্ত্রপূত এই রেখার সংখ্যা তিন অথবা সাত। তেলুগু ভাষায় রচিত, মেয়েদের ধান বোনার একটি গানে সীতা লক্ষ্মণকে জিজ্ঞেস করেন, গণ্ডি অতিক্রম করলে কী হবে। লক্ষ্মণ উত্তর দেন, “আপনাকে হরণ করা হবে।” রাবণ যখন সাধুর ছদ্মবেশে ভিক্ষা চাইতে আসেন এবং সীতাকে গণ্ডি অতিক্রম করতে বলেন, সীতা তাঁকেও ওই একই প্রশ্ন করেন। রাবণ বলেন, “একটা গণ্ডি পেরোলে এক ছেলে পাবে, দুটো গণ্ডি পেরোলে দুই ছেলে পাবে, তিনটে পেরোলে তিন…”। সীতা কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে পরপর সাতটি গণ্ডি পেরোন। কারণ তিনি পুত্রসন্তান চান। কিন্তু তিনি তো অপহরণের কথাও জানতেন! এর অর্থ পরিষ্কার।

ভারতে পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়া প্রত্যেক স্ত্রীর অবশ্যকর্তব্য। কোনও মেয়ে এই দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে তাঁর উপর প্রচণ্ড শারীরিক-মানসিক অত্যাচার নেমে আসে, এবং বহু ক্ষেত্রেই তাঁকে পরিত্যাগ করা হয়। সামাজিক ও পারিবারিক শাস্তির মুখে আত্মহত্যা করেন অনেকে। আজও এই দেশে শিশুকন্যা হত্যা এবং কন্যাভ্রূণহত্যার শতাংশ ভয়াবহভাবে বেশি। ফলে সীতা যে এই ঝুঁকিটা নেবেন, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

বাংলা মেয়েলি গানে সীতার গণ্ডি পেরনোর একটি বিকল্প কারণ পাওয়া যায়। রাবণ সীতাকে ভয় দেখান, গণ্ডি পেরিয়ে সীতা খাদ্য ও জল না দিলে তাঁর দরজার সামনে আত্মহত্যা করবেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সীতা, কারণ পুরুষহত্যা মহাপাপ। তাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও একটি পুরুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য গণ্ডি পেরোন তিনি। এ থেকে বোঝা যায়, পুরুষ জীবন অমূল্য হলেও একটি মেয়ের জীবনের কোনও দামই নেই। শিশুকন্যাহত্যার মধ্যেও এই একই চেতনা নিহিত আছে।

সীতার লক্ষ্মণরেখা পেরনোর যে দুটি কারণ আমরা দেখলাম, সেই দুটি ক্ষেত্রেই সীতা নিজের জীবনের চেয়ে পুরুষ জীবনের মূল্য বেশি বলে মনে করছেন। সে পুরুষ কখনও এক পুত্র, কখনও সাত পুত্র, কখনও আবার ভিক্ষাপ্রার্থী সাধু। মেয়েরা সীতার অন্যায়ের নানা ব্যাখ্যা দিলেও সাধারণভাবে জনমত তাঁর বিরুদ্ধে। কারণ সীতা আচরণবিধি ভেঙেছেন। স্বামীর অমতে সোনার হরিণের জন্য আবদার করেছেন, নির্ধারিত গণ্ডি পেরিয়েছেন, অভিভাবককে অন্য কাজে দূরে পাঠিয়েছেন, জনসমক্ষে একজন পুরুষকে বিদ্রূপ করেছেন-– কাজেই শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। এই বিষয়টিকেই আমি বলি, “এটাই ওর প্রাপ্য” মানসিকতা। কোনও মেয়ে ধর্ষিত বা নিগৃহীত হলে সমাজে এই মানসিকতাই মাথাচাড়া দেয়। এই মানসিকতাই বলে, সীতা নিজেই নিজের অপহরণের জন্য দায়ী।

একইভাবে পরিত্যক্ত হওয়ার ব্যাপারেও সীতা নিজেই দায়ী। তিনি যে ধর্ষিত হননি, সেটা নেহাতই একটা ঘটনাচক্র। সমাজের চোখে সীতা নিজের ইজ্জত হারিয়েছেন। আজও পৃথিবী জুড়ে ঠিক এই জিনিসটাই ঘটে। নিগৃহীতাকেই যাবতীয় দোষারোপ করে দ্বিগুণ অন্যায় করা হয়। ধর্ষিত মেয়েটিকে একদিকে যেমন তাঁর ওপরে ঘটে যাওয়া শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়, তেমনই অন্যদিকে সমাজ এবং পরিবারের কাছ থেকেও পরিত্যক্ত হতে হয়। ভারতে এই কারণে অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করেন। সীতার ক্ষেত্রেও তার কোনও ব্যত্যয় হয়নি। দ্বিতীয়বার সতীত্বের পরীক্ষা দিতে তাঁকে জোর করা হলে চিরকালের জন্য এই পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সীতা।

এই লড়াই মেয়েদের একার লড়াই। সবচেয়ে কাছের মানুষরাও মেয়েদের যন্ত্রণায় তাঁদের শরিক নন। একটি মারাঠি গানে খুব সুন্দর করে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে:

“কীভাবে পারে ওরা?

আমাদের রক্তও চোখের জল হয়ে যায়

গহীন জঙ্গলে একা একা কে বাঁচার লড়াই করে

কে একেবারে একা?

সীতার বনবাসের কথা

রাম বইয়ে পড়েন…”

সীতার বাস্তবের সঙ্গে রামের বাস্তবের এই প্রকট বৈপরীত্য ও বিচ্ছিন্নতা আমাদের সরাসরি আঘাত করে। সীতার দুঃখকষ্টের সঙ্গে রামের কোনও সম্পর্কই নেই। সীতার কষ্টের কথা তিনি বইয়ে পড়েন। মেয়েদের রামায়ণী গানে রাম সীতার কাহিনির অংশীদার নন, বরং এক বিচ্ছিন্ন অংশ।

নির্বাসনে সন্তানের জন্মদান

নির্বাসনের গান সম্ভবত মেয়েদের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের।  অন্তত মারাঠি ও তেলুগু গানগুলি সেরকমই ইঙ্গিত দেয়। মৈথিলীতে নির্বাসনকে সন্তান জন্মদানের অংশ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এই গানটি:

“সোনার ফটক খুলে প্রাসাদ ছেড়ে চললেন সীতা

বনবাসের পথে

মেয়েরা শুনে নাও, সীতার কপালে নির্বাসনই লেখা

সীতা এক ক্রোশ যান, দুই ক্রোশ যান

তিন ক্রোশে ব্যথা ওঠে

এবার নতুন জীবন আসছে, মেয়েরা

দাইকে ডাকো জলদি!

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে গাছেরা

তোমরা কি আমার বন্ধু, আমার শুভাকাঙ্ক্ষী?

আমার সোনার বালা নাও

শিশুর নাড়ি কাটো…

হায়! যদি রাম অন্তত বুঝতেন!”

বাড়ির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত, সম্পূর্ণ একা অসহায়, সমস্যাদীর্ণ একটি গর্ভবতী মেয়ের চরম একাকিত্ব আর দুর্দশার ছবি উঠে আসে এই পর্যায়ের গানে।

জঙ্গলে একা সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হওয়া মহিলার একাকিত্ব মেয়েদের রামায়ণী পল্লীগীতির মূল উপজীব্য। মারাঠিতে আর একটি উদাহরণ আমরা দেখব:

“গহীন জঙ্গলে ধোঁয়া আসে কোথা থেকে?

সীতাবাই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন গভীর জঙ্গলে

জল ফোটানো হচ্ছে

সীতাবাই জন্ম দিয়েছেন

বিছানা কোথায় তাঁর?

কৃষ্ণসুন্দরী সীতাবাই

পাথর দিয়ে বানিয়ে নাও নিজের বিছানা

শুয়ে পড়ো তার ওপর

সীতা পুষ্টি পাবেন কোথা থেকে

কেউ রান্না করে দেওয়ার নেই

সীতা নির্বাসনে, তাঁর শিশুদের দোলনা নেই

সীতা ফুলের বিছানা বানান

যমজ শিশুদের শুইয়ে দেন তার ওপর

সীতাবাই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন

পাহাড় আর জঙ্গলে খুশির ঢল।

নিজের বলতে কেউ নেই তাঁর

সীতা বলেন, “পরিত্যক্ত হওয়ার জীবন আমার”

সারাজীবন রাম তাঁকে অবহেলা করেছেন

সারাটা জীবন।”

রামায়ণের মধ্যে দিয়ে এভাবে আসলে নিজেদের জীবনের গানই গেয়ে যান মেয়েরা।

গ্রামীণ ভারতে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে, সহায়হীন অবস্থায়, আরাম বা সুস্থ পরিবেশের কথা ভুলে গিয়ে মেয়েরা যেভাবে সন্তানের জন্ম দেন, সেই ছবিই উঠে এসেছে সীতার জন্মদানের বর্ণনায়। একমাত্র যত্নের চিহ্ন জল ফোটানো। তেলুগু, মারাঠি ও মৈথিলী ভাষায় এই প্রসঙ্গটি রয়েছে। ভারতে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। গর্ভবতী মহিলাদের ৮০ শতাংশ রক্তাল্পতায় ভোগেন। প্রসব পরবর্তী যত্নের ছবিও তথৈবচ। আজও ভারতের ৬৭ শতাংশ মহিলা সন্তান প্রসব করেন একা, কোনও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা নার্সের সাহায্য ছাড়াই। প্রতি এক লক্ষ শিশুর জন্মপিছু মায়ের মৃত্যুর হার ৫৭০। তাই একা সন্তানপ্রসবের কষ্ট আর ভয়, খাদ্য আর পুষ্টির অভাবের কথা স্বাভাবিকভাবেই গ্রামীণ মহিলাদের কণ্ঠে উঠে এসেছে। সীতাই তাঁদের কণ্ঠ। কারণ সীতার মতোই তাঁরা বিদ্রোহ করতে শেখেননি কোনওদিন।

“বারো বছর ধরে সীতা

জঙ্গলে একা

ফলমূল খোঁজে

কিছু খেতে হবে

বাচ্চা হয়েছে তার

পাঁচদিন ধরে সীতাবাই কিছু খায়নি।” (মারাঠি)

কেউ ওষুধ বানিয়ে দেওয়ার নেই, রান্না করে খাওয়ানোরও কেউ নেই।

“দমকা ঝোড়ো হাওয়ার মতো

রাম আমায় নির্বাসন দিয়েছেন…” (মারাঠি)

গাছ আর পাখিদের কাছে নিজের নালিশ জানান সীতা, রামরাজ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। “রাম এখন কোথায় রাজত্ব করছেন?” এক্ষেত্রে রামের রাজধর্ম ও পারিবারিক দায়িত্ববোধকে পাশাপাশি রেখে বিচার করা দরকার। পরের লাইনেই সীতার প্রশ্ন, “রাম, কীভাবে আপনি আমার সঙ্গে এমন কাজ করতে পারলেন?”

সীতার প্রশ্নের উত্তর আছে গাছেদের কাছে। আর একটি মারাঠি গানে সে উত্তর পাই আমরা:

“সীতা ন’মাসের গর্ভবতী, বনবাসে

কারণ সীতা মেয়ে

তাকে সহ্য করতে হবে পরিত্যাগ আর অবহেলা

আর যন্ত্রণা

কারণ সীতা মেয়ে…

রাম, মাত্র কয়েকজন লোকের কথায়

পুণ্যবতী সীতাকে বনে পাঠালে তুমি!”

সীতা প্রকৃতির সন্তান। কাজেই বন্যজগতের সহানুভূতি সীতার প্রতি। বাংলাতেও বনবাসের গানগুলি হৃদয় নিংড়ে লেখা, কিন্তু অনেক বেশি রূঢ়। বাঙালি মহিলারা অনেক বেশি কঠোর ভাষায় দ্বিধাহীনভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতেন। তার মধ্যে রামের উদ্দেশ্যে সংস্কৃত ভাষায় গালিগালাজও থাকত। একটি উদাহরণ:

“পঞ্চমাসের গর্ভ সীতার ছিল রাজধাম

পাষণ্ড হইয়া রাম সীতা দিল বনে!”

আর একটি গানে বলা হয়েছে, রাজকুমারী সীতার বনবাস যেন “অসময়ে সোনার প্রতিমা বিসর্জন”।

“কিছু কিছু যায় রে সীতা, পিছু পিছু চায়

তথাপি পাপিষ্ঠী রামের পুরী দেখা যায় রে পুরী দেখা যায়।”

(অর্থাৎ সীতা এক পা করে যাচ্ছেন, আর বারবার ফিরে তাকাচ্ছেন, তবুও পাপী রামের প্রাসাদ দেখা যাচ্ছে)। বহুদিনের সঞ্চিত রাগ, ক্ষোভ ও দুঃখ থেকে “করুণাসিন্ধু” নামে পরিচিত ব্যক্তিকে “পাষণ্ড” নামে অভিহিত করা যায়। কিন্তু পতিতপাবন নামে যিনি খ্যাত, তাঁকেই পাপিষ্ঠী বলার অর্থ মনের রাগ ও তিক্ততা উগরে দেওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

আত্মপরিচয়হীনতা

আর একটি মারাঠি গানেও আমরা দেখি, প্রাসাদ ছেড়ে যাওয়ার পথে প্রতি পদে সীতা পিছু ফিরে চাইছেন। ফেলে আসা টুকিটাকি জিনিস নিতে বারবার লক্ষ্মণকে দাঁড় করাচ্ছেন তিনি। তাঁর কাঁচুলি রয়ে গেছে রামের বিছানায়। শাড়িটাও। সিঁদুরের বাক্স। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, “আমার মুখ রামের বিছানায় ফেলে এসেছি।” আমরা ধরে নিতে পারি ‘মুখ’ বলতে আয়নার কথা বোঝানো হয়েছে। আর অন্যভাবে দেখলে, তাঁর অস্তিত্ব বা আত্মপরিচয় তিনি ফেলে এসেছেন রামের কাছে। ভারতীয় সমাজে আজও স্বামীর পরিচয়েই স্ত্রী পরিচিত হন। স্বামী যদি স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেন, তা হলে স্ত্রীর অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয় বই কী!

স্বামীর পরিচয়ই যে একটি মেয়ের পরিচয়, সে কথা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে একটি তেলুগু গানে। সীতা রামের শোয়ার ঘরে যান এবং এক সুন্দরী মেয়েকে রামের সাহচর্যে দেখতে পান। স্বাভাবিকভাবেও আহত ও বিস্মিত সীতা রামের আচরণ নিয়ে অনুযোগ করেন। সীতার অনুযোগ শুনতে শুনতে রাম একসময় উঠে এসে সীতাকে আলিঙ্গন করেন। অথচ আয়নায় সীতা সুন্দরী মেয়েটিকে রামের সঙ্গে আলিঙ্গনবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং উপলব্ধি করেন ওই সুন্দরী মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি নিজেই। অর্থাৎ, রামের সাহচর্য ছাড়া সীতা অস্তিত্বহীন, পরিচিতিহীন। স্বামীর কাছ থেকে তাঁকে দূরে বনবাসে পাঠানোর অর্থ তাঁর সেই ধার করা পরিচিতি কেড়ে নেওয়া। তখন পরিত্যক্ত হওয়াই একমাত্র সত্য। মহাভারত থেকে শুরু করে মবি ডিক পর্যন্ত সর্বত্রই নির্বাসন ক্ষমতাহীনতার প্রতীক– অধিকারহীনতা এবং সমাজচ্যুত হওয়ার নিদর্শন।

সীতার বনবাসই হোক বা সারার মরুভূমিতে নির্বাসন– দুইয়ের অর্থ একই। সমাজের বিপরীতে থাকে বন; বনবাসের অর্থ সমস্ত সামাজিক সম্পর্ক থেকে বহিষ্কৃত হওয়া। সীতার মতো সারার ঘটনাও সমাজে মেয়েদের ভঙ্গুর অবস্থানকেই প্রকাশ করে। মহাকাব্যে নির্বাসন ও পরিত্যাগ সমতুল নয়। নির্বাসনেও সম্মান ও বীরত্ব থাকতে পারে– পুরুষও নির্বাসিত হতে পারেন। রাম নিজে নির্বাসনে গিয়েছিলেন কিন্তু সেখানে তাঁর পরিত্যক্ত হওয়ার কোনও প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু সারার মতোই সীতার ক্ষেত্রেও নির্বাসনের অর্থ পরিত্যক্ত হওয়া। শুধু অধিকারচ্যুত হওয়াই নয়, প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং চিরকালের মতো ঘরছাড়া হওয়া। পরিত্যক্ত হওয়ার মধ্যে কোনও নায়কোচিত ব্যাপার নেই, আছে শুধু লজ্জা। পরিত্যক্ত হন দুর্বলেরা, মেয়েরা। পরিত্যক্ত স্ত্রীর কথা হামেশাই শোনা যায়, পরিত্যক্ত স্বামীর কথা শোনা যায় কি? শোনা যায় না, কারণ পুরুষ আত্মপরিচয়ে বলীয়ান। কিন্তু মেয়েদের পরিচয় পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। মেয়েরা পরিত্যক্ত হলে সেই পরিচয় তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যেক মহিলা এই লজ্জার সঙ্গে পরিচিত।

“সীতার নির্বাসন

এসো ভাগ করে নিই এ যন্ত্রণা

সীতার নির্বাসন

কতবার ঘটবে এ ঘটনা

সীতার নির্বাসন

ঘটছে প্রতি মুহূর্তে, সর্বত্র

বনবাসের পথে

সীতা বিলিয়ে দিয়েছেন তা

তিল তিল করে।”

এই মারাঠি গানটিতে সীতাকে যন্ত্রণাবোধের প্রতীক করে দেখানো হয়েছে, যে যন্ত্রণা নারীত্বের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িত। সীতা মেয়েদের কাছে চিরন্তন নারীত্বের প্রতীক। সীতার গানের মধ্যে দিয়ে নিজেদের জীবনের কঠিন বাস্তব প্রতিফলিত করে তুলেছেন গ্রামীণ মেয়েরা।

আদর্শ গৃহবধূ

উপমহাদেশের মেয়েদের মুখে ভাষা জোগান সীতা। তাঁর মাধ্যমেই হাজার হাজার মেয়ে প্রকাশ করেন তাঁদের ভয়, দুঃখ, আশা, আকাঙ্ক্ষার কথা। সীতা আর পাঁচজন পরিশ্রমী মেয়ের মতোই একজন। আর পাঁচটা মেয়ের মতোই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে তাঁকে গঞ্জনা শুনতে হয়, স্বামী অবহেলা করেন, ভরসা করার মতো কেউ নেই তাঁর। কোনও দোষ না করা সত্ত্বেও তাঁকে শাস্তি পেতে হয়। একটি তেলুগু গানের কথা ধরা যাক: যুদ্ধ শেষ। রাবণ মৃত, সীতাকে উদ্ধার করা হয়েছে ও রামের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পথে মাটিতে অর্ধেক গেঁথে থাকা একটা সুন্দর পাথর দেখতে পান সীতা। লাজুকভাবে তিনি হনুমানকে বলেন, “ভাল শিলনোড়া হবে ওই পাথরে। আমি ওটা অযোধ্যায় নিয়ে যেতে চাই।” সীতার কথা শুনে হনুমান তৎক্ষণাৎ শিল উদ্ধারে নেমে পড়েন। কিন্তু বাধা দেন জাম্বুবান কারণ এমন লোভ কোনও রানীর পক্ষে শোভনীয় নয়। লজ্জায় অধোবদন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন সীতা। এই গানের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্যেই হাসাহাসি করেন মেয়েরা।

ঘরোয়া বস্তুর প্রতি হাস্যকর আকর্ষণই হোক বা একা সন্তান প্রসবের ভয়ই হোক, এই সব গান মেয়েদের কিছু অকৃত্রিম উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ভারতীয় পৌরাণিক চরিত্রগুলির মধ্যে সীতা কেন সবচেয়ে জনপ্রিয়, কেন তিনি আদর্শ নারী, তা বোঝা কঠিন নয়। সীতা সসম্মানে জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করেছেন, এমনকী দুঃখকষ্টকে তিনি বর্ণময়ও করে তুলেছেন। দুঃখ থেকে মুক্তির পথ যদি না থাকে, তা হলে তা মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করে নেওয়াই শ্রেয়। সীতা সে পথই দেখান। তিনি যন্ত্রণা সহ্য করেন মহীয়ান হয়ে, কখনও প্রতিশোধ নিতে চান না। তিনি এমন এক শিকার যিনি কখনও শিকারী হয়ে উঠতে চান না। মহাকাব্যে সাধারণত শিকার শিকারীতে পরিণত হয়, উল্টোটাও ঘটে। কিন্তু যদি কোনও আক্রান্ত মহিলা ক্রোধ বা প্রতিশোধস্পৃহা থেকে আক্রমণকারী হয়ে উঠতে চান, তাঁর জয়লাভ হয় না। আপাতভাবে জয়ী হলেও সেই জয়ের পরিণতি হিসেবে আসে ধ্বংস। অ্যান্ড্রোম্যাকি বা হেলেনের মতো আক্রান্ত মেয়েরা আশঙ্কার কারণ হয়ে ওঠেন না। কিন্তু দ্রৌপদী আক্রমণকারী হয়ে ওঠেন, পাঁচ স্বামীর কাছে তাঁর অসম্মানের প্রতিশোধ চান। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধে জিতেও পাঁচ পুত্রকে হারান তিনি।

প্রতিশোধকামী নারী কখনও জেতেন না। ভার্জিলের ইনিড মহাকাব্যে ক্রুদ্ধ ডিডো আত্মহত্যা করেন, কার্থেজের স্বপ্ন তাঁর অসমাপ্তই থেকে যায়। কিন্তু নায়ক ইনিস যিনি ডিডোকে পরিত্যাগ করেছিলেন, বহাল তবিয়তেই থেকে যান। নিজের রাজত্ব গড়ে তোলেন, নিজের বংশ তৈরি করেন। আমাতার ক্রোধকে পাগলামি হিসেবে গণ্য করা হয়, খাটো করা হয়। নিবেলুঙ্গেনলিড-এর প্রথম পর্বে ক্রিমহিল্ড আক্রান্ত। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে প্রতিশোধকামী ক্রিমহিল্ডের চরিত্র প্রায় দানবের মতো করে চিত্রিত। ফলে দ্রৌপদীর মতো তাঁরও বংশনাশ হয়। সীতা চিরকাল আক্রান্ত হয়েই থাকেন, ফলে তাঁর ছেলেরা বড় হয়ে নায়কের মর্যাদা পায়।

দুর্বল ও নিগৃহীত মেয়েদের কাছে দ্রৌপদী কখনওই আদর্শ হয়ে ওঠেন না তাঁর চরিত্রের নাটকীয়তার জন্য। দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামী, ভগবান কৃষ্ণ তাঁর সখা। প্রথাভাঙা জীবন ও প্রতিশোধকামিতা নিয়ে দ্রৌপদী সম্ভ্রম জাগান। কিন্তু সীতা ঘরের মেয়ে। তাঁকে গ্রামের মেয়েরা চেনেন, তাঁর দুঃখ-যন্ত্রণা ভাগ করে নিতে পারেন। সীতা উচ্চবর্গের অংশ নন, বিদ্রোহী নন। বরং তিনি ত্যাগের প্রতিমূর্তি, পিতৃতান্ত্রিক রীতি অনুসারে যা মেয়েদের সবচেয়ে বড় গুণ। সীতা বিলাপ করেন, কিন্তু কখনও রামকে চ্যালেঞ্জ করেন না। অন্য মেয়েরা সীতার কথা বলেন, মনে মনে আশা করেন তাঁদের হয়েও কেউ কথা বলবে। চন্দ্রাবতীর কবিতায় রাম কঠোরভাবে সমালোচিত, কিন্তু সীতা নির্বাক গৃহবধূ। সীতার হয়ে রামকে বিদ্ধ করেন চন্দ্রাবতী নিজে। অসীম সহনশীলতার প্রতীক সীতা, তাই হেরে গিয়েও জিতে যান তিনি। দুঃখকষ্ট সসম্মানে সহ্য করেন তিনি, সহনশীলতাকে নায়কোচিত গুণ হিসেবে তুলে ধরেন। এই কারণেই ভারতীয় মেয়েদের কাছে তিনি আদর্শ নারী হয়ে থেকে যান সীতা। গত দশকে উপমহাদেশে যুগ পরিবর্তনের তীব্র হাওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার কাছে আজও ন্যায়বিচার নিছক স্বপ্ন, সাম্য এক তীব্র অবাস্তবতা আর যন্ত্রণাই তাঁদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

সীতা ঘরহীন, ভালোবাসাহীন, নিরাপত্তাহীন, পরিত্যক্ত এক অনাথ মেয়ে। সীতার গানের মাধ্যমে মেয়েরা আসলে উদযাপন করেন নিজেদেরই।

গবেষণাপত্রটি নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দ্য সীতা সিম্পোসিয়াম’-এ উপস্থাপিত ও পঠিত

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*