বোর্ড রুম

অম্লানকুসুম চক্রবর্তী

 

এই রুমে টেবিল টেনিস বোর্ড থাকে না। বিলিয়ার্ড বোর্ড, ক্যারম বোর্ডও নয়। কোম্পানির পিএম-রা থাকেন। মানে পলিসি মেকাররা। কোম্পানির উন্নতির জন্য। আর থাকে জনাকয়েক চুনোপুঁটি। বাধ্য চুনোপুঁটি। কোম্পানির উন্নতি মানে তাদেরও উন্নতি।

রুমটা থাকে ঠান্ডা। তবে রুমের মেজাজ ওভেন ফ্রেশ। মানে তাওয়া গরম। রুমের টেবিলে থাকে টেলিফোন। দেওয়ালে এলইডি স্ক্রিন। নয়ন সমুখে কেউ না থাকলেও তাকে যেন ঠিকঠাক নেওয়া যেতে পারে তার নানা উপায়। ভিডিও কনফারেন্স হলে স্ক্রিনে থাকে দেশে বা ভিন দেশে অফিসের অন্য ব্রাঞ্চের কর্মীরা। হাই ডেফিনিশন ডিসপ্লেতে কাঁচুমাচু মুখ আর কপালের ভাঁজ। আর জামার কলারে সাঁটা মাইক্রোফোনে কথার থেকে বেশি দীর্ঘশ্বাসের হঠাৎ হঠাৎ দমক।

আর থাকে জার্গন। ম্যানেজমেন্টের জার্গন। যার বেশিরভাগ মানেই আমি বুঝি না।

এই কোম্পানিতে আমার চাকরির মাসচারেক হল। এখানে আমি মানে অমল-বিমল-কমল নয়, বরং রতন-মদন-ঘোঁতন। আমার কোম্পানি বিশাল বড়। এমএনসি, মানে মাল্টিন্যাশনাল। আর আমার বস্ বলেন আমি মালটি ইরেশনাল, কোনও কম্মের নয়। আমি সামান্য এক একজিকিউটিভ। আমার কোম্পানি এফএমসিজি। মানে ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস নিয়ে এদের কারবার। তবে এফএমসিজি ছাড়াও এদের আরও অনেক প্রোডাক্ট আছে। যে কোনও ইমোশনের জন্যেই যেমন কবিগুরুর গান আছে, ঠিক তেমনই যে শিশু আজ রাতে ছাড়পত্র পেল থেকে শুরু করে যার আজ চিতাতেই সব শেষ হলসবার জন্য, সব কাজের জন্য আমাদের কোম্পানির জিনিস আছে। মোট সাড়ে চার হাজার আইটেম। আমাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রিসার্চ টিমকে বলেছেন, ভাল কাজের জন্য তাঁরা যেন কখনও আত্মতৃপ্তিতে না ভোগেন। আরও বেহতর প্রোডাক্ট বানানোর প্যাশনটা যেন সকালে চোখ খুললেই বাইসাইকেল কিক দিয়ে সারা দিন তাড়া করে বেড়ায়। তাই আমাদের শতকরা পঁচাত্তর ভাগ প্রোডাক্টেই নিউ আর ইমপ্রুভড কথাটা সব সময় লেখা থাকে।

তবে শুধু প্রোডাক্ট বানালেই তো হয় না। সেগুলোর বিক্রির উপর চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভির ক্যামেরার মতো তাক করে থাকে কোম্পানির কয়েক জোড়া চোখ। ক্যাটরিনা-প্রিয়াঙ্কার নাচ দেখতে দেখতে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু মাইক্রোসফট এক্সেলের লক্ষ লক্ষ রো আর কলামের মধ্যে খুঁজে পান অমৃতসুধা। সাগরপাড়ে সূর্যোদয় দেখার পর তাঁদের প্রশ্ন হয়, সাইট আচ্ছা হ্যায়। বাট কাল হামনে কিতনা গ্রো কিয়া?’ তাঁদের প্রিয় খাবার ডাটা। না না সজনেডাটা নয়। ডেটা। ডেটা। অনেকে আবার ডাটা বলেন তো, তাই বললাম। তাঁদের কাছে ডাটাই সব। আর তাঁদের ডাটার সাপ্লাই দিই আমি। ডাটা ম্যানেজমেন্ট একজিকিউটিভ। আমার কাজ আবার ডাটা বানানোতেই শেষ হয়ে যায় না। একটুখানি গভীরে গিয়ে আবার দেখতে হয়, কোনও প্রোডাক্টে কোম্পানির ব্যবসা পড়তির দিকে হলে, কী কী কারণে পড়তি হল। ওই একটুখানিই। আরও গভীরে যাওয়ার জন্য বড় বড় বাবুরা আছেন। আমার স্কুটি আছে। আর ওনাদের এসইউভি।

মাসে একবার করে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়, যেটাকে বলা হয় মান্থলি রিভিউ। সেই বোর্ড রুমে।

বিকম পাশ করে এই কোম্পানিতে একটা চাকরি জুটিয়েছি। কলেজে পড়ার সময় ফেসবুক ছাড়া কম্পিউটারের অন্য কিছু জানতাম না। ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিয়ে বারাসাত স্টেশনের ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এক মন খারাপ করা বিকেলে যখন উদাস মনে বিড়ি খাচ্ছি, তখনই চোখে পড়েছিল বিজ্ঞাপনটা। মাইক্রোসফট এক্সেল আর ট্যালি। আপনার জীবনে ফিরিয়ে দেবে গতি। কর্মে দেবে মতি। মাত্র তিন মাসে। ফি মাত্র ১২০০ টাকা। তখন আমার এমপ্লয়মেন্ট নিউজ পড়া ছাড়া আর করার কিছু ছিল না। ভর্তি হয়ে গেলাম। আর মাস খানেকের মধ্যে কয়েকটা প্লেসমেন্ট এজেন্সির খাতায় নিজের নাম তুলে এলাম। কোর্স শেষ করার কিছুদিনের মধ্যেই এই এফএমসিজি কোম্পানিতে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা হল।

ততদিনে আমি অবশ্য ফটাফট এক্সেল চালাই আর পটাপট রিপোর্ট বানাই। কিন্তু এখানে এসে একটা জিনিস ভালই মালুম হল। বিক্রি ভাল হলে কেন ভাল হল না বললেও হবে। কিন্তু খারাপ হলেই কেন খারাপ হল তার প্রাথমিক কারণগুলোও আমাকে বাতলাতে হবে। এখানে জয়েন করার পর আমার প্রথম পরীক্ষা হল বোর্ডরুমে। প্রোজেক্টারে একটার পর একটা চার্ট দেখানো হচ্ছে। আমারই বানানো। ওভালাকৃতি সেই টেবিলটার চারপাশে ন্যাশনাল সেলস হেড-এর সঙ্গে বসে রয়েছেন অন্য ডিপার্টমেন্টের সেলস ম্যানেজাররা। একটা একটা করে চার্ট দেখছেন আর নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন যার একটার মানেও আমি কিছু বুঝতে পারছি না। ওদিকে আমার উপরে দায়িত্ব ওই মিটিংয়ের মিনিট লেখার। একটা চার্ট দেখার পরে একজন বলল, এই প্রোজেক্টের সিপি কে? অন্য জন বলল, আমি। প্রথম জন বলল, ইওডি চাই। দ্বিতীয় জন বলল, এন পি স্যার। পরে জেনেছিলাম, সিপি মানে হল গিয়ে কনসার্নড পার্সন। আর ইওডি হল এন্ড অফ ডে। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই ইওডি কি সূর্যাস্ত না অফিসের ওয়ার্কিং আওয়ারের শেষ নাকি রাত ১১টা ৫৯মিনিট ৫৯ সেকেন্ড? এক সিনিয়র ম্যানজার আমায় বলল, রাবিশ। কোথা থেকে যে এই এলজি-রা আসে?’ পরে জেনেছিলাম এলজি মানে লগারহেড। বোকা। আর এনপি মানে নট পসিবল।

আস্তে আস্তে কাজ বোঝার চেষ্টা করতে থাকলাম। আমাকে বলা হয়েছে, রিপোর্টে যদি দেখ কোনও প্রোডাক্টে বিক্রি পড়তির দিকে, তা হলে নিজে বোঝার চেষ্টা করবে। ঠিকঠাক আইডিয়া না পেলে গেট ইন টাচ উইথ সিপি। আর সিপি যদি এনএ মানে নট অ্যাভেলেবল থাকে, তা হলে তোমার অ্যানালিসিসটাই উইল গো লাইভ।

এক্সেল চার্টের হাজার হাজার নম্বরগুলোকে একসাথে দেখলে সেই স্ক্রিনটাকে আমার এক কয়েদখানার মতো লাগে। বিক্রি কম হওয়া প্রোডাক্টগুলোর সেলস ফিগার যেন মাথা নিচু করে থাকে লজ্জায়। আমি মাউস দিয়ে ওদের গায়ে হাত বুলিয়ে বলি, মন খারাপ করিস না সোনা। সামনের মাসে দেখিস, ঠিক ভাল হয়ে যাবি তুই। গ্রোথে থাকবি। তখন আমার কথা মনে থাকবে তোর? বকাঝকাও করতে হয়। এই অক্টোবর মাসেই যেমন তুমুল গ্রোথে থাকা মশা মারার কয়েলকে এক দাবড়ানি দিয়ে ফন্টটা দু পয়েন্ট ছোট করে বললাম, লোকের ডেঙ্গি হচ্ছে বলে খুব দেমাক বেড়েছে তোর না? আর দুটো মাস যেতে দে, শীতটা পড়ুক, তখন দেখি বোর্ডরুমে তোকে কে বাঁচায়! নম্বরগুলো জুলজুল করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কোনও কথা বলে না।

নম্বরগুলোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু ওই বকা দেওয়া আর সান্ত্বনা দেওয়াটুকুই। আমার দৌড়ও ওই পর্যন্ত। তবে বোর্ডরুমে আমিও প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হই। শয়ে শয়ে প্রশ্ন আকুপাংচারের পিনের মতো আমার চামড়ার ভিতরে হুল ফোটাতে থাকে। কারণ প্রাইমারি অবজারভেশন বলতে যা বোঝায়, সেটা যে জোগাতে হয় আমাকেই। বেশিদিন আগের কথা নয়। দেখা গেল মিল্ক পাউডারের বিক্রি কমছে। প্রোজেক্টরে সেই স্লাইডটা আসতেই ন্যাশনাল সেলস হেড আমায় জিজ্ঞেস করলেন, হোয়াই? আমি বললাম, স্যার প্রোডাকশানের কিছু প্রবলেম আছে বলে মনে হয়। কারণ গত মাসের তুলনায় এ মাসে আমাদের প্রোডাকশান অনেকটাই কম হয়েছে। উনি বললেন, হোয়াই? আমি বললাম, স্যার দুধের জোগানের কিছু সমস্যা আছে বলে মনে হয়। উনি বললেন, হোয়াই? আমি বললাম, স্যার মিল্ক ফেডারেশনগুলোর থেকে দুধ কম আসছে বলে মনে হয়। উনি শুধোলেন, হোয়াই? আমি বললাম, স্যার গরুগুলো গত মাসে কম দুধ দিয়েছে বলে মনে হয়। উনি বললেন, হোয়াই?

আমি সামান্য বিকম পাশ। আমি স্কুটি চালাই। ওনারা এসইউভি। ওই হোয়াইয়ের উত্তর দিতে পারিনি। সিপিকেও কিছু জিজ্ঞাসা করে উঠতে পারিনি কারণ সেই সপ্তাহটায় উনি এনএ ছিলেন। শুনেছি পরে উনি নাকি এ বিষয়ে এপি, মানে অ্যাকশন প্ল্যান বানিয়েছিলেন। আর ইওডি সাবমিট করেছিলেন। বোর্ডরুমে সেদিন আমার প্রথম বকা খাওয়া। আমি কি আর অতশত বুঝি! তবে সেদিন রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি। প্রশ্নচিহ্নগুলো ক্রমশ বড় হতে হতে আংটার মতো আমার গলা ধরে টান মারছিল। আমার দম বন্ধ লাগছিল। তন্দ্রা ভেঙে যাচ্ছিল বার বার। বিছানা থেকে উঠে কত বার যে এক ঢোক জল খেয়ে পায়চারি করেছিলাম তা মনে করতে পারি না।

পরের দিন সকালে উঠে মনটাকে রিফরম্যাট করলাম। ভাবলাম এই কাজের মধ্যে থেকেই আমাকে আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। মনীষীরা বলেছেন, কোনও কাজই ছোট নয়। ঈশপের গল্পে বলা আছে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। এটাও ঠিক করলাম যে এ বার থেকে সব হোয়াইয়ের উত্তর আমাকেই দিতে হবে। না হলে তো হেরে যাওয়া হয়। দেব বলেছেন, চ্যালেঞ্জ নিবি না শালা।

এ বারে সাম্প্রতিক ঘটনাটা বলি। কালও আমাদের মিটিং ছিল, বোর্ডরুমে। সেই একই রকম গম্ভীর পরিবেশ। এলইডি স্ক্রিনে ছ-সাতটা খোপে দেখা যাচ্ছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সমস্ত টেরিটরি সেলস ম্যানেজারদের মুখ। কারও মুখে হাসি নেই। গত মাসে আমাদের ব্যবসা অনেকটাই ডুবিয়ে দিয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রক, পুরুষদের। তিন অক্ষর নাম যার। বুলাদি যেটার কথা বার বার বলতেন। আমাদের কোম্পানি এটাও বানাতে শুরু করেছে মাসছয়েক হল। রিপোর্ট বানানোর সময় আমি দেখেছিলাম, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে সারা দেশ জুড়ে এর বিক্রি কমেছে অনেকটাই। নেগেটিভ গ্রোথ দেখেই ন্যাশনাল সেলস হেড-এর কপালে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠল বলিরেখা। এবং তারপরেই এল সেই অমোঘ প্রশ্নটা, হোয়াই? আমি জানতাম এমনটা হবে। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর আমায় দেবে কে! সাইকোলজিস্ট না সাইক্রিয়াটিস্ট না এন্ডোক্রিনোলজিস্ট না ব্র্যান্ড ম্যানেজার নাকি বাবা গুরমিত রাম রহিম? তা জানতাম না। যে ছেলেটি সেদিনের মিটিংয়ের মিনিট লিখেছিল, তার খাতা থেকে বলা যায়, আমি বলেছিলাম, স্যার এখন তো সবারই খুব স্ট্রেসফুল লাইফ। মনে হয় অন অ্যান অ্যাভারেজ বিইইইইপটা কম হচ্ছে। ন্যাশনাল সেলস হেড-এর পরের প্রশ্ন ছিল, শো মি দ্য অ্যাভারেজ বিইইইইপ ডেটা। আমি বলেছিলাম, স্যার আই ডোন্ট হ্যাভ। উনি বলেছিলেন, ইউজলেস। আমাদের এ মাসে এই প্রোডাক্টে টার্গেট কত আছে জান? ইট ইজ হিউজ। স্ক্রিনে সব টেরিটরি সেলস ম্যানেজাররা মাথা নাড়লেন। বোর্ড রুমে পিনড্রপ সাইলেন্স। তিন-তিনটে স্প্লিট এসি থেকে কুল-কুল হাওয়া বেরোচ্ছে। তা সত্ত্বেও ক্রমশ কুলকুল করে ঘামছি আমি। ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার আমায় বললেন, শো মি দ্য এপি অর ডব্লিউএফ। এপি মানে অ্যাকশান প্ল্যান আর ডব্লিউএফ মানে হল ওয়ে ফরওয়ার্ড। ব্র্যান্ড ম্যানেজার এনএ থাকায় আমি বানিয়েই রেখেছিলাম এটা। আমার সাধ্যমতো। এন্টার। পরের স্লাইড। এপিতে দুটো পয়েন্ট। কনজিউমার অ্যাওয়ারনেস। এল ইউ এল ইউ ও এম পি। ন্যাশন্যাল সেলস হেড বললেন, কনজিউমার অ্যাওয়ারনেসের সঙ্গে উই নিড টু ওয়ার্ক মোর অন সেকেন্ড পয়েন্ট। তুমি কারেক্ট পয়েন্ট আউট করেছ। ইট ইজ ইনস্পায়ারিং। লিসেন টিম, এল ইউ এল ইউ ও এম পিলেটস ইউনাইট লেটস ইউনাইট অন মান্থ প্রোজেকশান। আমাদের স্পেশাল ফোকাস দিতে হবে এই প্রোডাক্টের উপরে। প্যান ইন্ডিয়া টিমওয়ার্ক ইজ নিডেড। স্ক্রিনে সবাই মাথা নাড়লেন।

পাগল ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, যত মত তত পথ।

আমি অ্যাকশান প্ল্যানে আসলে বলতে চেয়েছিলাম, লাঁব য়্যুঁ লাঁব য়্যুঁ ও মাই পাগলু। এল ইউ এল ইউ ও এম পি।

টলিউডের এক ঝিনচ্যাক হিরো বলেছেন, সব কাজের মধ্যে মজা খুঁজে নিবি গুরু।

মেলা ফচকেমি হল। এই বোর্ডরুমই যে কোনও কোম্পানির সব। এখান থেকেই যে কোনও কোম্পানির সারা বছরের প্ল্যান হয়। বাজেট হয়। কোম্পানি আগামী দিনে কোন পথে যাবে, তার অনেকটাই খাতায় কলমে চূড়ান্ত রূপ পায় এই বোর্ডরুমেই। পলিসিমেকাররা এখানে বসেই সেই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে থাকেন। আমি তাঁদের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি। তাঁরা আজ সদাব্যস্ত। শুনেছি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একদম আমার মতো জায়গা থেকেই কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। ইচ্ছা করে তাঁদের কোনও অন্য মুহূর্তে, দুর্বল মুহূর্তে, যখন তাঁদের গায়ে দখিনা বাতাস লাগে, যখন তাঁরা কোনওদিন পূর্ণিমা চাঁদ দেখেন, অথবা তুমুল বর্ষার দিনে গাড়ি থেকে নেমে ব্ল্যাকবেরি আইফোন ল্যাপটপ জলাঞ্জলি দিয়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিতে ভুল করে হলেও ভিজে ফেলেন, সেদিন প্রশ্ন করতে, আমাকে একটু টিপস দেবেন স্যার, টিপস? আমায় যে সব জানতেই হবে। সব হোয়াইয়ের উত্তর।

সেই মুহূর্তগুলোর জন্য বড় লোভ হয়। আকাঙ্খা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*