অনন্তের সন্ধানে

অরুণাভ সেনগুপ্ত

 

পর্ব ১ : প্রাণসম্ভব

পর্ব ২ : প্রাণপ্রবাহ

“Thus, from the war of nature, from famine and death, the most exalted object which we are capable of conceiving, namely, the production of the higher animals, directly follows. There is grandeur in this view of life, with its several powers, having been originally breathed into a few forms or into one; and that, whilst this planet has gone cycling on according to the fixed law of gravity, from so simple a beginning endless forms most beautiful and most wonderful have been, and are being, evolved.”

Charles Darwin, The Origin of Species

প্রাণের অস্তিত্বধারণ একটা মাইলস্টোন তো বটেই, কিন্তু সেখানেই কি শেষ হয় প্রকৃতির উদাসীন আলেখ্য? আমরা জানি অবশ্যই, হয় না। “মিরর মিরর অন দ্য ওয়াল” সবথেকে বড় প্রমাণ নয় কি? কল্পের পর কল্প কেটে যায়, মনু স্বয়ম্ভুর পর একে একে সকল মনুর শাসনকাল কাটে, বৈবস্বতের কাল শুরু হয় মৃন্ময় সৃষ্টিসমতলে। এককোষী পরিণত হয় বহুকোষী অঙ্গসংগঠনে, প্রোক্যারিওটিক থেকে আসে আর্কিব্যাক্টেরিয়া ও ক্রমে ইউক্যারিয়া.. আপনার আমার উন্নততম কোষগুচ্ছ। এই মহাকালচক্র সতত প্রবহমান। প্রাণসম্ভবে অভিব্যক্তির শেষ আসে না। বরং গল্প শুধু শুরু হয়।

ডারউইনের মতবাদ সারা পৃথিবীকে নতুন সমাজব্যবস্থার দিকে এগিয়ে দিয়েছিল তাতে সন্দেহ নেই কোনও, কিন্তু ডারউইন বিবর্তনের কিছু জায়গা আকস্মিক ও অ্যাকসিডেন্ট বলে এড়িয়ে গেছিলেন এ কথাও সত্যি। গ্রেগর যোহান মেন্ডেলের গবেষণাপত্র ডারউইনের কাছে প্রেরিত হয়েছিল এতে সন্দেহ নেই। ডারউইন তা গ্রহণ করলে পৃথিবীর ইতিহাস অন্যপ্রকার হতে পারত। মেন্ডেল ডিপ্রাইভড হয়েছিলেন, কয়েক দশক ধরে লাইব্রেরির অন্ধকারের বাসিন্দা হতে হয়েছিল তাকে।

ডারউইন মেন্ডেলের চিঠি নিয়ে কী করেছিলেন, জানা নেই, তাঁর মনে সেই মুহূর্তে কী চলছিল, এতদিন পরে তা জানাও আর সম্ভব নয়, তবে এটুকু বলাই যায়.. মেন্ডেলের গবেষণাদি সম্পর্কে তাঁর দ্বিধা ও সন্দেহ অমূলক ছিল। মেন্ডেল ডারউইনকে চ্যালেঞ্জ করেননি কোনওদিন, পুনরাবিষ্কৃত হবার পর মেন্ডেলের পেপারস এক লাফে সমগ্র বিবর্তনের রিসার্চকে অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছিল।

আমরা আগেই জেনেছি, একটি জীবের সমগ্র চরিত্র তার দ্বারা উৎপাদিত প্রোটিনের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। উৎপাদিত প্রোটিন জীবটির বহিরাকৃতি ও অন্তরঙ্গ দুইই প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এই বাহির ও অন্দরের বিভিন্ন রূপভেদগুলি বিজ্ঞানের ভাষায় ক্যারেকটার। প্রতিটি ক্যারেকটার একাধিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে পারে। প্রতিটি আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যকে আমরা বলব ট্রেট। অর্থাৎ মটর গাছের দৈর্ঘ্য যদি ক্যারেকটার হয়, লম্বা ও বেঁটে এর দুটি ট্রেট। জেনেটিক সারবস্তুর অন্তর্গত যে রাসায়নিক অংশ আলাদা আলাদা ট্রেটগুলিকে বহিরাকৃতিতে প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে বলা হচ্ছে অ্যালীল। অর্থাৎ পাহাড়ি খরগোশের লোমের রঙ, এটা যদি ক্যারেকটার হয় তবে ওর সাত রকমের যে রঙ দেখতে পাওয়া যায় প্রতিটি আলাদা আলাদা ট্রেট হবে। আর ডি এন এর অন্তর্গত যে জেনেটিক উপাদান ওই ট্রেটগুলির বহিঃপ্রকাশে দায়ী থাকবে, তাদের বলা হবে অ্যালীল। এই খরগোশের ক্ষেত্রে, স্বভাবতই, অ্যালীল সংখ্যা হবে সাতটি। অ্যালীল জেনেটিক উপাদান ছাড়া কিছুই না, একটি জিন একটিই অ্যালীল প্রকাশ করতে পারে, আবার অনেকগুলি জিন মিলেও একটি অ্যালীল প্রকাশ করতে পারে।

এখন, একটি ডি এন এর যতটুকু অংশ একটিমাত্র পলিপেপটাইডের সংকেত বহন করে সেটুকুকে জিন বলতে পারি আমরা। সুতরাং অ্যালীলকে এক বা একগুচ্ছ জিনের একাধিক ফর্ম বলাটাই ঠিক হবে। এবার এই জিন বা জিনগুচ্ছে কিছুমাত্র বদল হলে সে বা তারা যে অ্যালীলটি প্রকাশ করে সেও তো বদলে যাবে, অতএব পপুলেশনে নতুন একটি অ্যালীলের আবির্ভাব হবে। অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট ক্যারেকটারটি একটা নতুন ট্রেট লাভ করবে। এই অ্যালীলটি যে নতুন বৈশিষ্ট্য বা ট্রেট সৃষ্টি করবে, তা বহিরাকৃতিতে প্রকাশিত হতেই পারে। যেমন সে খরগোশের রঙের মেলায় একটি অষ্টম রঙ সৃষ্টি করতে পারে। এই নতুন বৈশিষ্ট্যটি যদি পারিপার্শ্বিকের সাথে খাপ খাওয়াতে জীবটিকে বেশি সাহায্য করে তবে প্রকৃতি তাকে নির্বাচন করবে। অর্থাৎ পপুলেশনে একটি নতুন অ্যালীল নিতে হবে। প্রকৃতি ও পারিপার্শ্বিকের দ্বন্দ্ব না থাকলে কিন্তু এ ঘটনা ঘটত না। এই ঘটনা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের পরিপন্থী নয়।

এই পপুলেশনে নতুন অ্যালীলের আগমন সর্বদা প্রবহমান থাকবে। এই আগমন আর প্রাকৃতিক নির্বাচনের বহতা নদীতে একসময় নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবটিকে আর তার পূর্বপুরুষের সাথে এক জায়গায় রাখা যাবে না, তাকে নতুন প্রজাতির সম্মান দিতে হবে। অর্থাৎ নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হবে।

তাই ইভোলিউশনকে কোনও পপুলেশনে অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সির সতত পরিবর্তন বলেও ব্যাখ্যা করা যায়।

তিনভাবে এই নতুন অ্যালীলের গঠন হতে পারে :

১. পরিব্যক্তি বা মিউটেশন ও ক্রোমোজোমাল অ্যাবারেশন.. (ডি এন এর রাসায়নিক পরিবর্তনে জেনেটিক সংকেতের বদল)

২. গ্যামেট তৈরীর সময় প্রথম মিয়োসিসে হয়ে যাওয়া রিকম্বিনেশন (ক্রসিং ওভার)

৩. জেনেটিক বস্তুর ট্রান্সলোকেশন।

অ্যালীলের গঠন যেভাবেই হোক না কেন, তাকে টিকে থাকতে গেলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারস্থ হতেই হয়.. প্রকৃতির কাছে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ না দেখাতে পারলে পপুলেশন থেকে নির্বাসিত হতে হয়।

অ্যালীল ব্যাপারটা বুঝতে একটু অসুবিধে হচ্ছে, তাই তো?? বেশ, একটু সহজ করে নেওয়া যাক আগে। এই লেখার পূর্বসূরিকেও যদি পড়ে ফেলার দুর্ভাগ্য হয়ে থাকে, (কি অবস্থা, ওটা পড়ার পরও আপনি আবার এই লেখাটা ধরেছেন?) তবে আশা করি মনে আছে সেই বিশাল ব্যাপক কোষীয় লাইব্রেরির কথা, যার আর একটা নাম জিনোম! একটু রিভাইস করে নিই, সেই লাইব্রেরিতে আছে অজস্র বুকশেলফ, যাকে আমরা বলি ডি এন এ, সেই প্রতি বুকশেলফে হাজার হাজার বই হল এই মহাপ্রাণ সৃষ্টির ইতিহাস লেখার কোডন, জিন.. এই মহাগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান অত্যন্ত কুচুটে, বই তিনি বাড়িতে আনতে দেন না মোটেই, তবে ফোটোকপি বা সাদা বাংলায় জেরক্স করার সুব্যবস্থা আছে, আজ্ঞে হ্যাঁ, ধরেছেন ঠিকই, ফোটোকপি অর্থাৎ জিনটিকে ডি এন এ থেকে আর এন এতে ট্রান্সক্রাইব করা। এই ট্রান্সক্রিপশনের পর, বিজাতীয় ভাষায় লেখা বইটিকে আপনি অনুবাদ করলেন আপনার মাতৃভাষায়, বা ট্রানশ্লেসন। আর এন এ থেকে আপনার বই রূপান্তরিত হল প্রোটিনে। এইভাবেই নিয়ত চলল জীবনপ্রবাহ। এইটুকু অংশ বোঝা গেছে নিশ্চই, এই ঘটনাকে সেন্ট্রাল ডগমা অফ লাইফ বলে এইটুকুও এতদিনে জানা আছে আমাদের।

এইবার, কল্পনাকে আর একটু প্রসারিত করি বরং, ধরে নেওয়া যাক, এই লাইব্রেরিতে আছে ঠিক ২৩ জোড়া বুকশেলফ। আর ধরে নেওয়া যাক, প্রতি জোড়া বুকশেলফের প্রথমটি হল ক, আর দ্বিতীয়টি খ। জোড়া কেন বললাম? ৪৬টি বললে কী অসুবিধা হত? হত, কারণ ১-এর ক নম্বর বুকশেলফে তাকগুলিতে যে যে বিষয়ের বই আছে, ১ খ নম্বর বুকশেলফেও তাই। আবার ২-এর ক আর ২-এর খ বুকশেলফের তাকগুলিতেও একই বিষয়ভিত্তিক বইয়ের সম্ভার, এইভাবে ২২-এর ক ও খ বুকশেলফের তাকগুলিও একই বিষয়সমূহের বইয়ের ভাণ্ডার নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ২৩ নম্বরের কেসটা একটু আলাদা, তাই পরে বলবখন। একই বই বলতে কি আমরা হুবহু নকল বোঝাচ্ছি? আজ্ঞে না, সবসময় তা নয়। একই বই বলতে একই বিষয়ের বই হতে পারে, আবার হুবহু নকলও হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যাক, ৩-এর ক বুকশেলফের দ্বিতীয় তাকের চতুর্থ বইটি নবম শ্রেণির ইতিহাসের, গৌতম বসুর লেখা। অন্যদিকে ৩-এর খ বুকশেলফের দ্বিতীয় তাকের চতুর্থ বইটিকে ইতিহাস হতেই হবে, অঙ্ক হলে চলবে না, দশম শ্রেণির হলেও চলবে না। তবে ওই বই গৌতম বসুর হতে পারে, আবার কয়াল হাজরারও হতে পারে। ওদের আমরা বলব অ্যালীল।

পরস্পর জোড়া বইয়ের আলমারিগুলি সমসংস্থ বা হোমোলগাস ক্রোমোজোম। আর প্রতি জোড়া মুখোমুখি বইগুলি অ্যালীল। বইয়ের আলমারি বা বুকশেলফের তাকগুলি হল জিনের অবস্থান বা লোকাস। অল্টারনেটিভ ফর্মস অফ জিন। দুটি মুখোমুখি অ্যালীলের সম্মিলিত রূপ একত্রে বহিরাকৃতি বা ফেনোটাইপ প্রকাশ করে। প্রকৃতিতে একটি নির্দিষ্ট ক্যারেকটারের অজস্র ট্রেট আর অজস্র অ্যালীল থাকতে পারে, কিন্তু কোষের অন্দরে তাদের বসার জায়গা মাত্র দুটি, মুখোমুখি। মুখোমুখি সমপ্রকার অ্যালীল থাকলে উৎপন্ন ট্রেটটি হোমোজাইগাস, মুখোমুখি আলাদা প্রকার অ্যালীল থাকলে উৎপন্ন ট্রেটটি হেটেরোজাইগাস। হেটেরোজাইগাস জীবে দুটি অ্যালীল দ্বারা প্রকাশিত আলাদা আলাদা  গুণের যে কোনও একটি ফেনোটাইপে প্রকাশ পায়, যেটি প্রকাশ পাবে, সেটি প্রকট বৈশিষ্ট্য আর যেটি পাবে না, সেটা প্রচ্ছন্ন। সেই ক্লাস নাইনের পড়া মনে করুন, বিশুদ্ধ লম্বা আর বিশুদ্ধ বেঁটের মিলনে মাঝারি গাছ সৃষ্টি হয় না। লম্বাই হয়।

কোনও নির্দিষ্ট পপুলেশনে প্রতিনিয়ত পাওয়া অ্যালীলগুলিকে আমরা ওয়াইল্ড ভ্যারাইটি বলতে পারি। এই ওয়াইল্ড ভ্যারাইটির বাইরে বিভিন্ন কারণে নতুন নতুন অ্যালীল সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। কখনও তা জীবটির বেঁচে থাকার সুবিধে করে দেয়, আবার কখনও এই নবাগত অ্যালীল আসে নিষ্ঠুর খুনির রূপ ধরে। মোদ্দা কথা খুনি হোক বা প্রেমিকা, পপুলেশনে নতুন নতুন অ্যালীলের আগমন না ঘটলে পরিবর্তন বা প্রকরণ ঘটবার কোনও সম্ভাবনাই থাকত না। আর প্রকরণগুলি মিলিত হয়ে নতুন প্রজাতির উদ্ভব বা স্পেসিয়েশনের সম্ভাবনাও অস্তমিত হত।

একটা পপুলেশনের অন্তর্গত জীবগুলো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে আলাদা আলাদা হতে পারে দুটি প্রধান উপায়ে : ১. বংশগতভাবে (genetically) এবং ২. পরিবেশের প্রভাবে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাদেরকে বলা হয় “Nature” and “Nurture”কোনও একটা জীবের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিবর্তিত হলে সেটি বেড়ে উঠবে ভিন্নভাবে। এটি বিবর্তন নয়। যেমন– একটা কুকুরকে বেশি করে খেতে দিলে তার দৈহিক বৃদ্ধি ঘটবে, কিন্তু এ শারীরিক পরিবর্তন তার পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হবে না। অর্থাৎ কুকুরটি যদি একগাদা খেয়ে মোটা হয়ে যায়, তাহলে তার বাচ্চাও যে মোটা হবে, এমন কোনও কারণ নেই।

অন্যদিকে, “Nature” অংশটি একটা জীব বংশগতভাবে প্রাপ্ত হয়, আর এটিই বিবর্তিত হয় সময়ের সাথে প্রজন্মান্তরে। সন্তানদের প্রত্যেকের ডিএনএ অর্ধেক তৈরি হয় বাবার কাছ থেকে পাওয়া অর্ধেক ডিএনএ থেকে, আর বাকি অর্ধেক মায়ের থেকে। এক্ষেত্রে সব সন্তান বাবা ও মায়ের সব বৈশিষ্ট্য একই সঙ্গে পেতে পারে না, ফলে বৈশিষ্ট্যগুলো সন্তানদের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সন্তানদের নিজেদের মধ্যেও কিছু পার্থক্য বা প্রকরণ থাকে।

বাবা-মায়ের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো আছে, কেবল সেগুলোই যে পরের প্রজন্মে সঞ্চারিত হবে, তা নয়। কখনও কখনও বাবা বা মায়ের কোনও কোনও বৈশিষ্ট্য একটু বদলে গিয়ে সন্তানের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। মিউটেশন, জিন ডুপ্লিকেশন ইত্যাদি বেশ কিছু ঘটনা ঘটে যেতে পারে যে কোনও জীবের ডিএনএ-তেই। এতে করে নতুন অ্যালীল তৈরি হয় যার ফলে ওই জীবের মধ্যে বাবা বা মায়ের যে বৈশিষ্ট্যটি থাকার কথা, সেটি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। এভাবে এমনকি বাবা ছাড়াই যেসব প্রাণী – যেমন, পার্থেনোজেনেটিক জীব – বাচ্চা জন্ম দিতে পারে, তাদের মধ্যেও নতুন ভ্যারিয়েশন তৈরি হয়। এধরনের জেনেটিক ভেরিয়েশন বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোতে সঞ্চারিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য দায়ী থাকে জিন। DNA তার প্রতিরূপ (replication) সৃষ্টির মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মগুলোতে এই জিনগুলোকে সঞ্চারিত করে। পদ্ধতিটা আশা করি আর নতুন করে বলার দরকার নেই। একটা পপুলেশনের অন্তর্গত বিভিন্ন সদস্যের DNA-র গঠনে কিছুটা পার্থক্য থাকেই। এই পার্থক্য থাকা মানেই হচ্ছে জিনগত পরিবর্তন। বা পক্ষান্তরে অ্যালীল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। আর এর ফলে সেই পপুলেশনের অন্তর্গত সমস্ত জীবই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরস্পর থেকে কমবেশি ভিন্ন হয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন হল সমস্ত সঞ্চারণযোগ্য প্রকরণই কি জীবের বেঁচে থাকার জন্য সুবিধে উৎপাদন করে? পপুলেশনে নিয়ত যে অ্যালীলগুলি সৃষ্টি হয় সবাই কি নতুন প্রজাতির উৎপত্তি বা স্পেসিয়েশনে অংশগ্রহণ করে? সংক্ষিপ্ত উত্তর, করে না। কোন নব উৎপাদিত অ্যালীলগুলি আদৌ স্পেসিয়েশনে গ্রাহ্য হবে তা প্রকৃতি বিমাতৃসুলভ উদাসীনতায় নির্বাচন করে দেয়। আজ্ঞে হ্যাঁ, ন্যাচারাল সিলেকশন।

Natural selection এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো জনগোষ্ঠীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এটি বিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি।

প্রাকৃতিক নির্বাচন মূলত ফেনোটাইপ বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের উপর কাজ করে কিন্তু ফেনোটাইপের জিনতাত্ত্বিক ভিত্তি, যা প্রজননগত সাফল্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, জনগোষ্ঠীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে। এভাবে ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে প্রাণীরা তাদের আপন পরিবেশের (Ecological niche) জন্য বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক নির্বাচন এমন একটি প্রক্রিয়া (তবে একমাত্র প্রক্রিয়া নয়) যার মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী হতে নতুন প্রজাতির উন্মেষ ঘটে। এটি এমন এক ছাঁকনি যার ভেতর দিয়ে শুধু উপকারী প্রকরণগুলোই গমন করতে পারে।

যেকোনও জনগোষ্ঠীতেই প্রাকৃতিকভাবে প্রকরণ উৎপন্ন হয়। অনেক প্রকরণই প্রাণীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করে না (যেমন, মানুষের চোখের রঙ), কিন্তু কিছু কিছু করে। একটি খরগোশ অন্যদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দ্রুতগামী হলে সহজেই শিকারীর হাত থেকে পালাতে পারবে, কোনও শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে বেশি পারদর্শী হলে অন্যদের চেয়ে দ্রুত বেড়ে উঠবে। কোনও প্রকরণ প্রাণীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে বৃদ্ধি করলে তার প্রজননের হারকেও প্রভাবিত করবে; তবে মাঝে মাঝে দু’টো একই সাথে প্রভাবিত নাও হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আসলে একটি প্রাণীর সারা জীবনের প্রজননগত সাফল্য একত্রে প্রকৃতির কাছে গুরুত্ব দাবি করবে।

DNA যেসব বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন করে, তার সবগুলোই যদি সমানভাবে অনুকূল হত, তাহলেও বিবর্তন হতে পারত, তবে তা হত খুবই ধীরে আর কিছুটা এলোমেলোভাবে বা র‍্যান্ডম। যেহেতু কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো তার বাহক জীবকে সংশ্লিষ্ট পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে, আবার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলোর উপস্থিতি তার বাহক জীবের খাপ খাওয়ানোতে কোনও ভূমিকা রাখে না কিংবা তার জীবটির জন্য ক্ষতিকর, তাই ব্যাপারটা সাধারণত এমন হয় না।

ফিটনেস হচ্ছে একটা জীবের প্রজননের সামর্থ্য। শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি জীব প্রজননের ক্ষেত্রে যেমন দুর্বল হতে পারে, তেমনি শারীরিকভাবে  একটি জীব আবার প্রজননের ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে পারে। একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য একটি জীবকে অধিক সংখ্যক ভায়াবল সন্তান উৎপাদনের সামর্থ্য দিতে পারে। এমনও হতে পারে যে, বৈশিষ্ট্যটি সেই জীবকে তার সন্তানের যত্ন নেওয়ার মতো সক্ষমতা দেয়। আবার হয়ত কোনও একটি বৈশিষ্ট্য সেই জীবটির বেঁচে থাকার থাকার সময়কালকে দীর্ঘায়িত করে, ফলে জীবটি অধিক হারে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

একটি বৈশিষ্ট্য কোনও জীবকে বাড়তি বা কম সামর্থ্য দেবে কি দেবে না, তা পরিবেশসাপেক্ষ বিষয়। যদি পরিবেশ পরিবর্তিত হয় বা জীবটি ভিন্ন কোনও পরিবেশে স্থানান্তরিত হয়, তাহলে পরিবেশের তারতম্যের কারণে তার ফিটনেসেও পরিবর্তন আসবে। কারণ বেঁচে থাকা বা প্রজননের বিভিন্ন পন্থা পরিবেশভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে।

একটু উদাহরণের সাহায্য নেওয়া যাক, ব্রিটেনে হালকা ও গাঢ় রঙের peppered moth পাওয়া যেত। শিল্প বিপ্লবের সময় গাছের গুড়িতে বসবাস করা পতঙ্গগুলোর উপর ধূলো পড়ায় সেগুলোর রঙ গাঢ় হয়ে গিয়েছিল, এতে করে তারা সহজেই শিকারীর হাত থেকে নিস্তার পেত। এভাবে গাঢ় রঙের peppered moth বেশি করে সন্তান রেখে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। প্রথম গাঢ় রঙের পতঙ্গটি ধরার পঞ্চাশ বছর পর কারখানা-সমৃদ্ধ ম্যানচেস্টার এলাকায় প্রায় সব পতঙ্গ গাঢ় রঙের ছিল। কিন্তু ১৯৫৬ সালে Clean Air Act পাস হওয়ার পর পরিবেশ অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় গাঢ় রঙের পতঙ্গগুলো দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ায় শিকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছিল। এতে করে গাঢ় রঙের পতঙ্গগুলো আবার দুর্লভ হয়ে পড়ে। এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি বাস্তব উদাহরণ।

যেসব বৈশিষ্ট্য প্রাণীকে প্রজননগত সুবিধা প্রদান করে, সেসব বৈশিষ্ট্য একই সাথে দায়যোগ্য হলে, অর্থাৎ, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত হলে, পরবর্তী প্রজন্মে দ্রুতগামী খরগোশ অথবা সুদক্ষ শৈবাল একটু বেশি অনুপাতে উপস্থিত থাকবে। একে পার্থক্যযুক্ত প্রজনন বা differential reproduction বলে। এভাবে এমনকি যৎসামান্য প্রজননগত সুবিধাগুলোও বহু প্রজন্ম পরে জনগোষ্ঠীতে আধিপত্য বিস্তার করবে, একটি প্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রজননগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্য “নির্বাচন” করে জৈব বিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। যথারীতি, চার্লস ডারউইন প্রথম এই ব্যাপারটি বর্ণনা করেন এবং নামকরণ করেন।

একটি পপুলেশনের সকল মেম্বারদের মধ্যে ভ্যারিয়েশন থাকায় যে অ্যালীলগুলো সবচেয়ে বেশি ফিট, তার সবগুলোই সব সদস্যের মধ্যে সমানভাবে থাকে না। যে জীবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অপেক্ষাকৃত অধিক ফিট অ্যালীলগুলো থাকবে, ওরা বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির কাজটা অন্যদের চেয়ে কিছুটা ভালোভাবে করতে পারবে। এভাবে পুরো প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে। এর ফলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো জীবের কোনও উপকারে আসে না, সেগুলো তথা ওগুলোর সংশ্লিষ্ট অ্যালীল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটু একটু করে হারিয়ে যাবে। অন্যদিকে যেগুলো বাড়তি উপযোগিতা দেবে, সেগুলো পরের প্রজন্মগুলোর মধ্যে আরও ঘন ঘন দেখা যাবে। এভাবে বিভিন্ন উপকারী অ্যালীল ও তার সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জীবদের মধ্যে সংকলিত হতে থাকবে, অর্থাৎ, পরের প্রজন্মগুলোর জীবরা বান্ডল আকারে একই সাথে বিভিন্ন উপকারী বৈশিষ্ট্যসমেত জন্ম নিতে থাকবে।

নিচের ছবিটা দিয়ে ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি এবং সিলেকশনের মাধ্যমে কীভাবে বিবর্তন ঘটে সেটার একটা সরল ডায়াগ্রাম দেখানো যেতে পারে–

প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারণাটি বংশগতিবিদ্যার চেয়ে পুরনো। আধুনিক ভাষায় বললে– প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রাণীর ফেনোটাইপ বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যকে নির্বাচন করে কিন্তু আদতে এই বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনোটাইপ নির্বাচিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। বা বলা ভালো পপুলেশনে নবাগত অ্যালীলটি নিয়মিতভাবে বসবাস করার অনুমতি পেয়ে যায়। ফেনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনের বাহক যা প্রাণীটির পরিবেশ দ্বারা নির্ধারিত হয়।

বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষণ এভাবেই প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বংশগতিবিদ্যাকে সংযুক্ত করেছে। যদিও একটি পরিপূর্ণ জৈব বিবর্তন তত্ত্বকে সূত্রবদ্ধ করার জন্য জিনগত প্রকরণের কারণ (যেমন পরিব্যক্তি ও যৌন জনন) এবং অন্য সব বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার (যেমন জিন প্রবাহ বা জেনেটিক ড্রিফট) ব্যাখ্যা প্রয়োজন, আপাতদৃষ্টিতে প্রাকৃতিক নির্বাচনই প্রকৃতিতে সবচেয়ে জটিল অভিযোজনগুলোর পেছনে দায়ী বলে মনে হয়।

বিবর্তন যুগে যুগে ধর্মের ধামাধারীদের বিরক্তি উৎপাদনের কারণ, রহস্যটা আন্দাজ করা শক্ত নয় নিশ্চয়ই! অভিব্যক্তি আসলে শুধুই একটা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়, চারপাশের পৃথিবীকে দেখার উন্নততর দৃষ্টিভঙ্গি। এ আমাদের চিরায়ত চিন্তাভাবনা, দর্শন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেও প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। ঘুণ ধরা পুরনো সব মুল্যবোধে তীব্রভাবে আঘাত হেনেছে সে, বহু প্রাচীন রক্ষণশীলতা কেঁপে উঠেছে ভিতর থেকে। পৃথিবীতে যে গুটিকয়েক তত্ত্ব মানব সভ্যতার ভিত ধরে নাড়া দিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। কোপার্নিকাসের ঈশ্বরবিরোধী সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বধারণার তত্ত্বের পরে এত বড় প্যরাডাইম শিফট আর আসেনি। মানুষ শুধু তথাকথিত ‘মহাসৃষ্টি’র কেন্দ্র থেকেই বিচ্যুত হয়ে পড়েনি, দুই হাজারেরও বেশী বছর ধরে লালন করা অপরিবর্তনশীল মহাবিশ্ব ও প্রজাতির ধারণা সমৃদ্ধ স্থবির জাগতিক দর্শন থেকেও তাকে বের হয়ে আসতে বাধ্য করেছে বিবর্তনবাদ তত্ত্ব। গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টটল এবং প্লেটো যে স্থির, অপরিবর্তনশীল এক বিশ্বের ছবি কল্পনা করেছিলেন আমরা সেই বালির বস্তা নিয়ে দৌড়েছি প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশী সময় ধরে। তাদের ভাগ্যবাদী, স্থবির এই মতবাদের প্রতফলনই দেখা যায় ধর্মীয় বইগুলোতে। বার্ট্রান্ড রাসেল এই প্রসঙ্গেই বলেছিলেন যে এর পরে পৃথিবীতে যত বড় বড় বৌদ্ধিক অথবা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ঘটেছে তাদের প্রায় সবাইকেই কোনও না কোনওভাবে এরিষ্টটলের মতবাদকে উৎখাত করে এগুতে হয়েছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই বোধহয়, আমাদের চিন্তা চেতনার সর্বত্র জুড়ে এখনও ভর করে রয়েছে সেই অপরিবর্তনশীল ভাগ্যবাদী দর্শন– প্রত্যেকটি প্রজাতিই এ অবস্থাতেই ‘সৃষ্টি’ হয়ে টুপ করে পৃথিবীতে পড়েছে, আমাদের সবার ভাগ্য পূর্ব-নির্ধারিত, নিয়তিকে ঘিরেই আবর্তিত হয় আমাদের চিন্তাভাবনা। তাই বিবর্তনবাদ যখন আমাদের বলে, এই বিশ্ব সদা পরিবর্তনশীল, কয়েকশো কোটি বছরের যাত্রাপথে আরও কোটি কোটি প্রজাতি জন্ম হয়েছে, আবার তাদের মধ্যে বেশীরভাগই বিলুপ্তও হয়ে গেছে, আমাদের প্রজাতিও হয়তো এক সময় হারিয়ে যাবে তখন আমাদের তা মেনে নিতে কষ্ট হয়। আমরা নাকি ঈশ্বরের নিজস্ব আকৃতিতে উদ্ভূত সন্তান দল, আমরাও বিলুপ্তির পথে যাত্রা করতে পারি এটা ভাবলে ধার্মিকদের ইগোতে লাগে, প্রসঙ্গান্তরে এই ফাঁকা অহংকারই হয়তো মানবসভ্যতার পতনের মূল হতে চলেছে। বিখ্যাত নাস্তিক বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স যখন বলেন, ‘আমাদের চারপাশের বিশ্বজগতে বিদ্যমান বৈশিষ্ট্যগুলো দেখলেই বোঝা যায় এর মধ্যে কোনও পরিকল্পনা নেই, উদ্দেশ্য নেই, নেই কোনও অশুভ কিংবা শুভের অস্তিত্ব; আসলে অন্ধ, করুণাহীন উদাসীনতা ছাড়া এখানে আর কিছুই চোখে পড়ে না’ – তখন আমাদের স্থবির ভাগ্যবাদী অচলায়তনের মোড়কে পোড়া দর্শন এবং বৌদ্ধিক সত্তা প্রবলভাবে নাড়া খায়। যে সব রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ, ধর্ম ব্যবসায়ীরা এতদিন সাধারণ মানুষকে এগুলো বুঝিয়ে এসেছেন তারা তীব্রভাবে এর বিরধিতা করেন, বিভিন্নরকমের কুৎসা রটাতে দ্বিধা করেন না।

চারপাশের পরিবেশ বদলায়, আমরা বদলাই তার সাথে সাথে বদলে যায় পরিবেশের সাথে আমাদের নিত্যদিনের সম্পর্কগুলোও। আমরা মানুষেরা সেই বিশ্ব-প্রকৃতিরই একটা ছোট্ট অংশ। প্রকৃতির আর সবার সাথেই আমাদের যাত্রাপথ ভাগ করে নিতে হবে। স্টিফেন জে গুল্ড বোধহয় সেটা ভেবেই বলেছিলেন, “We are the offspring of history, and must establish our own paths in this most diverse and interesting of conceivable universes– one indifferent to our suffering, and therefore offering us maximal freedom to thrive, or to fail, in our own chosen way.“

ঈশ্বর বিশ্বাস আমার নেই, ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনেও বিশ্বাস করি না, কিন্তু মহাসমুদ্রের বিশালতা যে অসীম বিস্ময় জাগায় তার ব্যাখ্যা কী? কসমসের নিরালম্ব বিরাটত্ব এমনিই শ্রদ্ধা জাগায়, অর্ডার আর ক্যাওসের সতত সংঘর্ষে এনট্রপি বেড়ে চলে, পারফেকশনের দিকে নয়, আমরা এগোই মহানাস্তির দিকে.. যে মহানাস্তিকে রোধ করার ক্ষমতা কোনও অপাংক্তেয় ঈশ্বরের নেই। এই মহাপৃথিবী নিজেই মহাকাল, নিজের মৃতদেহ নিজে গ্রাস করতে উদ্যত। কিন্তু এই অস্তিত্ব অনস্তিত্বের মহাদ্বন্দ্বেই মহাপ্রকৃতির সৌন্দর্য। তিনিই শক্তি, তিনি ঈশ্বর নন, ভুল বুঝবেন না, তিনি ধ্বংসেও অপরূপা।

সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই নিরালম্বে মানুষ নামক প্রাণীর তুচ্ছ সুত্রপাত, সে ধ্বংসও হবে, কিন্তু এর মাঝে আমরা কী দিচ্ছি পৃথিবীকে, আদৌ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিন্দুমাত্র অধিকার আছে কী, আমাদের ইতিহাস তো কেবল রক্তের ইতিহাস।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*