বাংলা নববর্ষের মঞ্জুষা

রুখসানা কাজল

 

নগর বাঙ্গালীর যান্ত্রিক জীবনকে কালবৈশাখীর ঝড়ে উড়িয়ে দিতে আসছে পহেলা বৈশাখ। আর গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে, আকাশ বাতাস, নদী মাটি জলে, ফসলের ক্ষেত আর গৃহস্থের নিকানো উঠোনে পরম আত্মীয়ের মতো বৈশাখ এসে দাঁড়িয়েছে সবুজ মায়ার হাতছানি দিয়ে।

বাংলাদেশের হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃস্টান সকলের ঘরে শুরু হয়ে গেছে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদযাপনের এক মহাযজ্ঞ। হই হই আয়োজন চলছে। চলছে মহড়া। ছোট বড় সবাইকে নিয়ে গান, নাচ, আবৃত্তি, গীতি কাব্য আর নাটকের মহড়ায় ব্যস্ত শিল্পীরা।

এর সাথে শুরু হয়ে গেছে অন্য রকমের তোড়জোর। ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলোর নির্দিস্ট কয়েক মাইল রাস্তা সেজে উঠবে রঙিন আল্পনায়। প্রতিদিন খবর আসছে, রঙ কেনা শেষ। তুলি বানাতে কঞ্চি কাপড় আর রাস্তা ঝেড়ে পুঁছে সাফ করতে শলার ঝাড়ু কেনা শুধু বাকি। এসো হে বৈশাখ! বাঙ্গালীর প্রাণ ছুঁয়ে এসো।

আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশ সরকার গেল কয়েক বছর ধরে চাকুরীজীবীদের বৈশাখী ভাতা দিয়ে আসছে। ফলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে রাজা মহারাজাদের মতো। ঘরে বাইরে ইশকুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার মার্কেট, অন লাইন শপিং, পাড়ার সব্জি ভ্যানগাড়িতে বৈশাখী হাওয়া জমজমাট। চলছে ফ্রিজ, টিভি, এসি,  ওয়াশ মেশিন, ব্লেন্ডার থেকে শাড়ি, জামা কাপড়, ফার্নিচার হাতা খুন্তির উপর মূল্যহ্রাসের বৈশাখী ধামাকা। শহর নগরের রাস্তায় রাস্তায় রঙিন ফেস্টুনে জ্বলজ্বল করছে, — যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি…

চৈত্রের শেষ সপ্তাহ থেকে বাঙ্গালী গিন্নীর কিচেনে জমতে থাকে, কাঁচা কাঁঠাল, কাঁচা আম, মোচা, কলার থোড়, সজনেডাঁটা, মিষ্টি আলু, শাপলা, কুমড়োফুল, বকফুল, নানা স্বাদের বড়ি, ইলিশ, চিংড়ি, পাকা কৈ, রুই, চিতল, চিকেন, খাসি গরুর মাংসের সাথে দই মিষ্টি, পিঠে পুলি পায়েসের সাথে লাল বিরুই চাল কখনও বা দেশি পোলাউয়ের চালের প্যাকেট। এদিন ঘরের এবং পরের মানুষ, বন্ধুবান্ধবদের আপ্যায়ন করা হবে খাঁটি বাঙ্গালী খাবারে। বিশুদ্ধ বাঙ্গালী রেসিপিতে।

এই তো এখুনি সাজ সাজ রব পড়ে গেছে তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে। বুটিকসগুলো বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছে, শাড়ি পাঞ্জাবী, শার্ট, ফতুয়া, বাচ্চাদের জামা কাপড়। গয়নার দোকানে জমে উঠেছে সাবেকি গহনা আর শুকনো ফুলের মালা মুকুট, বাজুবন্দ। রাশি রাশি তাজা ফুল আসতে শুরু করেছে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে। আগমনের সুর বাজছে প্রকৃতিতে। সে সুর ছড়িয়ে পড়ছে বাঙ্গালীর প্রাণে, তাপসনিশ্বাসবায়ে মূমূর্ষুকে দাও উড়ায়ে……..

কতবার কত ফতোয়া এসেছে। নিষেধাজ্ঞা, বোমাবাজি। রক্তাক্ত করে দিয়েছে রমনার বটমূলে উদযাপিত পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান। কত প্রাণ গেছে। তবু বাঙ্গালী কোনও কিছুতেই মেনে নেয়নি পহেলা বৈশাখের অবমাননা। পহেলা বৈশাখ, সে তো বাঙালীর প্রথম সন্তান। আবহমান কালের কত প্রস্তুতি, কত মায়া তার জন্যে। এদিন কোটিকোটি প্রাণ গেয়ে ওঠে, বৎসরের আবর্জনা, দূর হয়ে যাক, যাক যাক…..

বৈশাখের প্রথম দিন মানে কিন্তু এই নয় যে বাঙ্গালীকে মনে করিয়ে দেওয়া, একদিন বাঙ্গালী ছিলাম রে! বাঙ্গালী সর্বদাই বাঙ্গালী ছিল। এখনও আছে এবং চিরকাল থাকবে। কোটপ্যান্ট, স্কার্ট টপস, টং টপস, বারমুডা, শর্টপ্যান্ট, গেঞ্জি কুর্তি, ইংরেজি, বাংলিশ বাৎচিত কিছুই বাঙ্গালীর বাঙ্গালীত্বকে মুছে দিতে পারবে না। পারছেও না। এই একটি দিনের শক্তি বাঙ্গালীকে এগিয়ে নিয়ে যায় হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক বাংলার পথে প্রান্তরে। বাঙ্গালীর  রক্ত মাংসে মজ্জায় বৈশাখ তাই সতত সুরে সুরে গাহমান, মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা……

ঈদ, পূজা, বড়দিন কিম্বা বৌদ্ধ পুর্ণিমা উৎসবে থাকে ধর্মীয় অনুশাসনের কিছু নিয়মনীতি, সংস্কার, প্রথারীতি। তাতে  ধর্মীয় সুবাস ভাসে। কিন্তু পহেলা বৈশাখ আসে মুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ধনী, গরীব সকল বাঙ্গালীর জন্যে এক প্রাণ, এক ভালোবাসা নিয়ে। সমগ্র বাংলাদেশ সেদিন উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।

বাঙ্গালীর কাছে চৈত্রমাস হল পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানানোর মাস। ইতোমধ্যেই সংবাদপত্রগুলির বিশেষ ফিচার জুড়ে রয়েছে পহেলা বৈশাখ। ব্যবসায়ীরা আয়োজন করছে হালখাতা। যেসব ছেলেমেয়েরা ম্যাকডোনাল্ডস, চিলিস, নন্দস, কেএফসি, বারিস্তা, হেলভেশিয়া, ইয়াম্মি ঘুরে ঘুরে ফাস্ট ফুড জাংক ফুড, চাইনিজ খেতে ভালবাসত তারা এই দিনে মাটির শানকিতে পান্তা ইলিশ, শুটকি, আলুভর্তা খেতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ে। উপভোগ করে পহেলা বৈশাখের অপার আনন্দ।

নতুন বাবামায়েরা তাদের নতুন শিশুকে লাল পাড় সাদা শাড়ি, সবুজ বা লাল পাঞ্জাবী ফতুয়ায় সাজিয়ে শিখিয়ে দেয় এই হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালীর নিজস্ব সংস্কৃতি। সত্তার মূল শিকড়। অস্তিত্বের আপনঘর। একই সাথে তারা আরও একবার নিজেদেরকেও ঝালিয়ে নেয়। রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, বদি, জুয়েল, রুমি, ডাঃ সেতারা, ভাগীরথী, প্রিয়ভাষিণী, তারাবানুদের উত্তরসূরি তারা। ভাষার জন্যে, দেশের জন্যে শতবার প্রাণ দিতে আজও প্রস্তুত।

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল একটি গোষ্ঠী, কাঠমোল্লাদের সহযোগী হয়ে সর্বদা প্রচার করে আসছে পহেলা বৈশাখ উৎসব মুলত হিন্দুদের অনুষ্ঠান। মূলত এটি লোকাচার এবং এ অঞ্চলে ইসলাম আসার আগে থেকেই এটি আবর্ত উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অথচ তারা ইচ্ছা করে ইতিহাস ভুলে যায় যে মুসলিম শাসক আকবর বাদশা এই অঞ্চলের হিন্দু মুসলিম প্রজাদের সুবিধার জন্যে কর আদায়ের একটি নতুন বর্ষপঞ্জী প্রচলন করেন। এর ফলেই সূচনা ঘটে বাংলা পঞ্জির বা বাংলা সনের। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের, ইরান, তুরস্ক, ইরাক, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মুসলিমরা তাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জীর প্রথম দিনটি নওরোজ উৎসব হিসেবে অত্যন্ত ধূমধামের সাথে উদযাপন করে থাকেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ পালনে মোল্লাদের বাধা দেওয়ার ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। গত বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চট্টগ্রামে, চারুকলার ছাত্রছাত্রীদের আঁকা দেয়ালচিত্রে কে বা কারা পোড়া পেট্রল ঢেলে দিয়েছিল। এ বছর বিপুল উৎসাহে সেই দেয়ালে চিত্র আঁকছে ছাত্রছাত্রীরা। রমনার বটমূলে ২০০১ সালে বোমাবাজি করে হত্যাযজ্ঞ ঘটালেও আজও পহেলা বৈশাখের মূল উৎসব রমনার বটমূলেই পালিত হয়। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর নিজস্ব উৎসব বলেই আজ পর্যন্ত শত বাধা, অপপ্রচার সত্ত্বেও বাংলাদেশে মহা সমারোহে উদযাপিত হয়ে আসছে।

আর একটা বিতর্কও চালানোর চেষ্টা করা হয়, দুই বাংলার বিভেদকামীদের পক্ষ থেকেই, যে পশ্চিমবাংলা আর আমাদের পহেলা বৈশাখ কেন আলাদা দিনে হয়? হ্যাঁ, হয়। আমাদের ১৪ই এপ্রিল এবং পশ্চিমবাংলায় ১৫ই এপ্রিল। এর কারণ দুই বাংলায় আলাদা বর্ষপঞ্জিকা অনুসরণ। পশ্চিমবাংলায় এখনও অনুসৃত হয় পুরনো পঞ্জিকা, যা অনুসারে পহেলা বৈশাখ ১৫ই এপ্রিল। আর আমরা ১৯৮৭ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদের সময় থেকে অনুসরণ করতে শুরু করেছি ড. মেঘনাদ সাহা কৃত এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমর্থিত বর্ষপঞ্জিকাটি। যেটি পুরনো পঞ্জিকা সংস্কার করে ড. সাহা সেই ১৯৫২ সালে তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কুমতলব ছাড়া এ নিয়ে বিতর্কের সত্যিই কি কিছু আছে? দেশ তো দুটো আলাদা হয়েই গেছি সেই কবে। বর্ষবরণের দুটো আলাদা দিন হলে আর কী মহাভারত অশুদ্ধ হবে! বরং কেউ ইচ্ছে করলে দুই দেশের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে পারবে!

বৈশাখী মেলা বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। প্রাচীন বাংলায় মেলা ছিল বাঙ্গালীর সারা বছরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার এক মিলনস্থল। তখনকার জীবনে এখনকার আধুনিক জীবনের মতো হাতের কাছেই সব কিছু পাওয়া যেত না। সারা বছর অপেক্ষার পরে গ্রামগঞ্জের মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সাথে শৌখিন জিনিসপত্রও মেলা থেকে কিনে নিত। এখনও এই আধুনিক যুগে মেলার আকর্ষণ বিন্দুমাত্র কমেনি। নারী এবং শিশুদের কাছে এই মেলার প্রচণ্ড আবেদন রয়েছে। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈশাখী মেলা হয়। এর মধ্যে সোনারগাঁ-র বউমেলা, ঘোড়ামেলা, মতুয়া সম্প্রদায়ের বারুণী মেলা ছাড়াও সদ্য যোগ হয়েছে অন লাইন বৈশাখী মেলা। সবকিছুর পসরা নিয়ে জমিয়ে বসে এই মেলাগুলো। এদিন দুই বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে বসে মিলনমেলা। তারকাটাকে মাঝে রেখে দুই বাংলার বাঙ্গালীরা সারাদিন তাদের আত্মীয় বন্ধুদের কাছাকাছি থাকে।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ থাকে যাত্রাপালা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ শিল্পীরা বিভিন্ন মেলায় নানা গান, মারফতি, লালন, মুরশেদি, ভাটিয়ালী, কীর্তন শোনায়। আছে সার্কাস। নাগরদোলা। পাশাপাশি থাকে লোকজ খাবার চিড়া মুড়ি মুড়কি খই, সন্দেশ, দানাদার, বাতাসা সহ নানারকম পিঠার সম্ভার।

১৯৬৫ সাল থেকে ছায়ানটের উদ্যোগে পালিত হয়ে আসছে বৈশাখ। এই দিন কাকডাকা ভোরে “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” গানে বাংলা মায়ের প্রথম দামাল মাস বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয় সারা বাংলাদেশে। ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে, লালমাটিয়ার সুরের ধারায়, গুলশান বনানী উত্তরাসহ ঢাকা শহর নাচে গানে আনন্দে সেজে ওঠে নতুন সাজে। আর থাকে অপেক্ষা। চারুকলা থেকে কখন বেরিয়ে আসবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে মুহুর্মুহু আনন্দে ভাসাতে একই সাথে জেলা শহরগুলোতেও শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুষঙ্গ হিসেবে থাকে পশু পাখি, মাছসহ নানা মুখোশ ও পোস্টার। ঢাকায় চারুকলা থেকে শাহবাগ ঘুরে টিএসসি ছুঁয়ে আবার চারুকলায় ফিরে আসতে আসতে কয়েক হাজার বাঙ্গালী নারীপুরুষ শিশুদের মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সর্বজনীন মুখচ্ছবি।

জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা বা ইন্ট্যাঞ্জিবল (intangible) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে।

এবারের বৈশাখ শংকা আশংকার এক বিরূপ পরিবেশে উদযাপিত হবে। নারীর উপর মৌলবাদীদের অব্যাহত  হুমকি, প্রতিক্রিয়াশীলদের নানা ষড়যন্ত্র ও বর্বরতাকে অতিক্রম করে এবার উদযাপন করতে হবে পহেলা বৈশাখকে। আশঙ্কার বিষয় হল, নতুন প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই নব্য ইসলামী ভাবনা তাদের নিজস্ব কৃষ্টি সংস্কৃতিকে অস্বীকার করিয়ে আরবীয় সংস্কৃতি গ্রহণে অতি উৎসাহী করে তুলেছে। মূলত এই মূহূর্তে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রই চলছে ধর্মতন্ত্রর ছায়ায় এবং বাংলাদেশেও এটি তারই প্রভাব।

তবু বাঙ্গালী পহেলা বৈশাখকে ভোলেনি। শুরু হয়ে গেছে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার নানা অনুষ্ঠান। এই বৈশাখে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি নতুন প্রতিজ্ঞায়, নতুন প্রত্যয়ে আর নতুন পরিকল্পনার আনন্দে ভরে উঠুক। প্রতিটি বাঙ্গালী ফিরে পাক বেঁচে থাকার সুমন্ত্রণা। নতুন জীবনের নিগূঢ় মঞ্জুষা, আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ, মায়ার কুঞ্ঝটিজাল যাক দূরে, যাক যাক….

About Char Number Platform 289 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*