সর্বজিৎ সরকার

অপেক্ষা

 

 

চারটে জানলাই বন্ধ করা ছিল।
একটু আগে তুমি একটা জানলা খুলে দিলে।
কিছু কি দমবন্ধ করে ছিল? হাওয়া জরুরি ছিল কিছু?
একটা জানলা খুলে যাওয়ার পর, বুঝেছিলে, ছিল।

 

তোমার মাঝরাতের স্বপ্নে কিছু পলাতক দিন ফিরে ফিরে আসে।
আর দিনের জাগরণে, শুধু না ঘুমনো মধ্যরাত।
শুধু কোনও বিকেলবেলার আলোয় এক একদিন ভায়োলিন বেজে ওঠে।
আর সারারাত এক গোপন ঠাট্টার মত জেগে থাকে ডাবল বেডেড খাট।

 

পালাতে গিয়ে কত মানুষ এমনিই হারিয়ে গেছে।
ঠিকানা হারানো চিঠিরা কোথায় ফিরে আসে?
মানিকতলার অস্থায়ী পোস্টমাস্টারকে একথা কোনওদিন জিগ্যেস করবো ভাবি।
আর, হঠাৎ মনে পড়ে, সমুদ্রের তীরে আমি কোনওদিন কোনও ডাকবাক্স দেখিনি।

 

রমলা মাসির মেয়ে গন্ধকের বনে চলে গিয়েছিল।
আমারই তৃতীয় কবিতার বই থেকে এই ফাঁদ আজ পেতে রেখে গেছে কেউ।
রমণী প্রণয় চায়, পুরুষের কাম তাতে চিঠি লিখে রাখে।
সাক্ষরবিহীন চিঠি রেজিস্ট্রি অফিসে বসে একা কাঁদে, শুধু মাথা খোঁড়ে।

 

শেষ অবধি সেদিন যে লোকটার সাথে পরিচয় হোল।
সে শুধু প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেটে রোজ বসে থাকে একা।
শেষ স্টেশনের নাম তার মনে নেই আর।
আমি তাকে স্টেশনমাস্টারের কাছে জমা করে দিই, আর
ফেরার পথে নিজেরই ঠিকানা ভুলে যাই।

 

যে সব কার্নিশে বেড়াল ও রোদ্দুর এক সাথে খেলা করে
আমি শুধু তাদের কাছেই জানতে চেয়েছি, অপেক্ষা মানে জানো?
এভাবে বেশিক্ষণ ওপর দিকে তাকালে মনে হয় শরতের আকাশ, মোহবশে নীল
বেশিক্ষণ দূরের দিকে তাকালে, ঘরবাড়ি ঝাপসা, হারানো দিগন্ত
বেশিক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে, দেখি, পাইন জুনিপার কঙ্কাল আর খাদ
আর পিছনের দিকে, বহুদূরে , কয়েকটা ধূসর এ্যালবাম ।

 

আর এইসব দেখতে দেখতে
অপেক্ষা, এভাবেই, প্রতিধ্বনি তোলে, ফিরে ফিরে আসে
এসে ফিরে যায়।
তখন, শুধু এই অবান্তর হাসি জেগে থাকে।

About Char Number Platform 523 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*