ভালোবাসা, শিক্ষা, বিজ্ঞান : এক শহর, দুই নারী এবং কিছু স্বপ্নের গল্প

চার নম্বর নিউজডেস্ক

 

রোট লার্নিং। না, নতুন কিছু না। আপনি গড়পড়তা যে শিক্ষা পেয়ে বড় হলেন। পরীক্ষা, সিলেবাস, কারিকুলামের ভেতর হারিয়ে যাওয়া আপনার ইস্কুল-ইচ্ছে। বন্ধুত্ব আছে। স্মৃতি আছে। কিছু পড়াশুনো? ভালোবাসা। আছে কি? থাকলেও সিকির বেশি কি? হীনা। মীরা। এই সিকির আশেপাশে ঘোরা ভালোবাসার ঘড়ির কাঁটা। তার বৃত্তাকার কক্ষে ঘোরা দুই বন্ধুর স্বপ্নের প্ল্যাটফর্ম। পড়াশুনো। এ এক অন্যরকম পড়াশুনো। মুম্বই। গড়পড়তা শহর। গড়পড়তা ইস্কুল-জীবন, কলেজ এবং বৃত্তিমূলক বাকিটুকু। কম্পিউটার, ফিজিক্স কিংবা মহাকাশবিদ্যা। দুই বন্ধুর জানার ইচ্ছেয় অনেক কিছু। হল না। গতানুগতিকতায় সে ইচ্ছেকে শিকেয় তুলতে হল। দেশের বাইরে থেকে ডিগ্রি। দেশে ফেরা। পারিবারিক কাজ। ব্যবসা ইত্যাদি। আর তারপরেই ম্যাজিক। উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েড ফাউন্ডেশন। কেন? দেশ জুড়ে তো এমন হাজার হাজার এডুকেশন সেন্টার। কোথায় তফাৎ? তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়। জীবনবোধে। উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েড ফাউন্ডেশন প্রায় ২০০০টি ছেলেমেয়েকে নিয়ে শেখাচ্ছে। কী? না হাতেকলমে বিজ্ঞান। যেমন? দুই বন্ধুর ভাষায় STEM স্কিল অর্থাৎ science, technology engineering and mathematics। মহাকাশবিদ্যার প্রতি তুমুল ভালোবাসা। পদার্থবিদ্যার ম্যাজিক। ম্যাজিকের এই শেষ নয়। লক্ষ্য যদি হাতেকলমে বিজ্ঞান শিক্ষা হয়, সিঁড়ি সেখানে ইনোভেশন। প্রবলেম সলভিং। দূষণ, পেস্টিসাইড, জল সমস্যা, জনবিস্ফোরণ। মুম্বই সহ নাগরিকতার দান। উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েডের ছেলেমেয়েরা প্রতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে একটা করে সাম্প্রতিক সমস্যা বাছে। আর তার প্রতিকারের রাস্তাটাও। হয় একদম নতুন কোনও সমাধানের পথ। কিংবা গতানুগতিক কিছুর উন্নতিসাধন। এভাবেই এসছে অন্ধ মানুষের জন্য সেন্সর স্টিক, বিদ্যুতের ব্যবহারবিহীন ওয়াশিং মেশিন, কম দামী হুইলচেয়ার। বাতিল প্লাস্টিক, খাবারের কৌটো, ই-ওয়েস্ট বেছে বেছে সেখান থেকেও ম্যাজিক খোঁজবার মন্ত্র শেখায় উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েড। বাতিল এরকমই কিছু জঞ্জাল থেকে ভ্যাকিউম ক্লিনার বানিয়েছে ছেলেমেয়েরা। কোথাও আটকালে? করতে করতে কোথাও থামলে? হীনা-মীরার উত্তর রেডি। শিক্ষকরা সমাধান করে দেন না। শুধু সংকেতটুকু ধরিয়ে দেন। বাকিটুকু ছেলেমেয়েদের। একটা সময়ে সায়েন্স প্রোজেক্ট কিংবা ওয়ার্কশপ দিয়েই চলছিল। আলো জ্বলছিল। যথেষ্ট না। এগোতে হবে তো? কীভাবে? সায়েন্স ক্লাব। স্কুল লেভেলে। কমিউনিটি লেভেলে। আর এমনই এক একটা সায়েন্স ক্লাব জড়ো করে ইনোভেশন হাব। ২০১৭-১৮-তেই পাঁচটা এমন হাব তৈরি করলেন দুই বন্ধু। এখনও অব্দি ২০০টির মতো কর্মশালা হয়ে গেছে উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েড থেকে। মুম্বইয়ের ৭টি জায়গায় ঘুরে ঘুরে ইনোভেশন হাব তৈরি করেছেন তাঁরা। ফিজিক্স ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের মতো সাম্প্রতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে ৪০টি প্রোজেক্ট বেরিয়ে এসেছে ছেলেমেয়েদের হাত ধরে। যার শেষে কোনও সার্টিফিকেট না। আনন্দ, দলবদ্ধভাবে আনন্দ। এর ভুল ধরিয়ে দেওয়া ওর। ওর আনন্দ নিজের আনন্দ বলে অহঙ্কারী হওয়া। যে শিক্ষকরা সমাধানের ক্লুটুকু ধরিয়ে দেন, তাঁদেরও এগোনোর কিংবা আরও আত্ম-বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে এডুকেটর ট্রেইনিং প্রোগ্রামের। অন্যান্য স্কুল এবং সংস্থার সঙ্গে টাই-আপ যার অন্যতম সোপান। একটা সময়ে এই স্কুলগুলোকেই বোঝাতে কত ঘাম রক্ত পেরোতে হয়েছে হীনা-মীরাকে। অর্থ যেটুকু ছিল কমতে কমতে হঠাৎ ম্যাজিক। তারপরেরটুকু যা বলা হল তাতেই…

সম্মান। অ্যাকোলেড। ফেলোশিপ। উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েড নিজে ২০১৯ সালে একটি এক বছরের পার্ট-টাইম ফেলোশিপের সঙ্গে দু বছরের একটি পূর্ণ সময়ের ফেলোশিপ চালু করছে। যার লক্ষ্য শিক্ষকদের একজোট করা। ক্রমশ মুখস্থ সিলেবাস থেকে বেরিয়ে হাতেকলমে শিক্ষাদানের বিজ্ঞানমনস্কতার জন্য তাদের আরও বেশি STEM এডুকেশনের আওতায় নিয়ে আসা। স্বপ্ন দেখা। স্বপ্ন দেখানো।

প্রিয় পাঠক, কোনওভাবে এই দুই নারীর হাতে হাত মেলাতে হলে, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীবদ্ধ হিসেবে উইনিভার্স সিমপ্লিফায়েডের সঙ্গে কোলাবরেশনে আসতে হলে মেইল করতে পারেন। henna@universesimplified.org। ছোট্ট একটা ঠিকানা। আপনাকে মিলিয়ে দেবে ওদের প্ল্যাটফর্মে। আসবেন না…?

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 899 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*