রাফাল : তথ্য উধাও ও তথ্য ফাঁসের কড়চা

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত

 

নানা সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে সংবেদনশীল তথ্য ‘লিক’ হওয়া ও তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে যাওয়া ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কিছু না। রাফাল তথ্য চুরি ও তা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর প্রসঙ্গে লিখতে বসে সবার আগে এই কথাটাই মনে পড়ল। স্বাধীনতার পর থেকে এ জাতীয় তথ্য ‘লিক’, সংবাদপত্রে তা প্রকাশ ও তা নিয়ে ওঠা বিতর্কে দেশজুড়ে টালমাটাল পরিস্থিতির নজির এর আগেও বহুবার উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকেই ঘটেছে একাধিকবার এই জাতীয় দুর্নীতি-ফাঁসের ঘটনা।

দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা যেতে পারে, ২০০৬ সালে ভারতীয় নৌ-সেনার ‘ওয়ার রুম লিক স্ক্যান্ডালে’-র কথা। ১৮ হাজার কোটি টাকার সেই দুর্নীতিতে প্রবল ধাক্কা খেয়েছিল ততকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ইউপিএ-১ সরকার।

কুখ্যাত ‘আর্ম্‌স ডিলার’ অভিষেক ভার্মা ও নৌ-বাহিনীর লেফটেনান্ট কম্যান্ডার রবি শঙ্করনের যৌথ অপারেশনে টলে গেছিল নৌ বাহিনী। পিএমও ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একাধিক আধিকারিক ‘স্কর্পিওন সাবমেরিন’ কেনায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলে খবর ফাঁস হয়েছিল ‘হিন্দু’, ‘ট্রিবিউন’, ‘এক্সপ্রেস’ সহ বহু কাগজে। তত্কালীন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী একে অ্যান্টনি অনেক চেষ্টা করেও সে খবর ধামাচাপা দিতে পারেননি। খবরের সূত্র ধরে অভিষেক ভার্মা ধরা পড়লেও, মার্কিন মুলুকে পালিয়ে যান আরেক অভিযুক্ত রবি শঙ্করন। আজও তিনি দাগী ‘পলাতক’। ইন্টারপোলকে দিয়ে ‘রেডকর্নার নোটিস’ জারি করিয়েও তার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি ভারত সরকার।

ছ’বছরের মাথায় আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসে ‘লর্ড অফ ওয়ার’ অভিষেক ভার্মা। ইউপিএ-২ জমানায় প্রতিরক্ষা খাতে অস্ত্র কেনাকাটায় ৮০ হাজার কোটি টাকার তছরুপে উঠে আসে অভিষেক ভার্মা ও তার সুন্দরী-লাস্যময়ী রোমানিয়ান স্ত্রী এংকা নিক্সউ-এর নাম। এ দুর্নীতির খবর ফাঁস করেছিলেন এক মার্কিন অ্যাটর্নি। ওয়াশিংটন পোস্টে ফলাও করে সেই খবর ছাপা হয়। জাতীয় স্তরের একাধিক কাগজেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘সংবেদনশীল’ তথ্য ফাঁসের খবর ছাপা হয়। মিডিয়ার হাতে ‘লিক’ হওয়া খবর তুলে দেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। জাতীয় ‘সার্কিটে’ রীতিমত মুখ পুড়েছিল মনমোহন সিং-এর সরকারের। সংসদে ড. মনমোহন সিং-এর ইউপিএ-২ সরকারের তুলোধনা করেছিলেন বিরোধী শিবিরে থাকা রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজের মত বর্ষীয়ান নেতারা। সম্প্রতিক কালে রাফাল এই সব দুর্নীতিকাণ্ডের বেনজির ‘প্রতিফলন’ মাত্র।

পূর্বে ‘বোফর্স’ (ভুললে চলবে না রাফাল তথ্য ফাঁসের নায়ক এন রাম-ই বোফর্স কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করেছিলেন) ও জর্জ ফার্নান্ডেজের আমলে কফিন বিতর্কের সূত্র ধরে ‘অপারেশন ওয়েস্ট উইন্ড’ বা অগুস্তা-ওয়েস্টল্যান্ড বিতর্ক রাফালেরই পূর্বাভাস। যদিও প্রতিফলন হয়েও রাফাল বহুক্ষেত্রেই ‘ব্যতিক্রম’। কারণ, রাফালের মত অন্যান্য কেসগুলি কিন্তু কোথাও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জরুরি তথ্য আদৌ চুরি হয়েছে কী হয়নি, সেই জল্পনায় আটকে ছিল না, আটকে থাকেনি। আর এখানেই রাফাল ‘স্বতন্ত্র’।

ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাক বাজেট অধিবেশন চলাকালীন রাফাল বোমাটি ফাটান ‘দ্য হিন্দু’র বর্ষীয়ান সাংবাদিক এন রাম। তথ্য, যা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘কনফিডেনশিয়াল ডকুমেন্টে’র অন্যতম, তুলে এনে দেখান রাফাল চুক্তি নিয়ে পিএমও-র বাড়াবাড়ি এবং অযাচিতভাবে ‘নাক গলানো’ মন্ত্রক ও মধ্যস্থতাকারী দল ভালো চোখে দেখছে না, আর এই সেই ‘অস্বস্তিকর’ কারণ যেখানে অনিল আম্বানির হালে জন্মানো সংস্থাকে রাফালের বরাত পাইয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারি সংস্থা হ্যাল-কেও অগ্রাহ্য করেছেন। ‘দ্য হিন্দু’র এই দাবিতে আগুন লেগে যায় সংসদে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রাফাল মামলায় সরকারকে ‘ক্লিন চিট’ দেওয়ায় যখন রাফাল নিয়ে বিরোধীদের মনোবল ক্রমশ তলানিতে, তখন নতুন করে তাকে এক ধাক্কায় খাড়া করে দেন এন রাম। নতুন করে বিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়ে মোদি সরকার। এই সময় একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ‘দ্য হিন্দু’-তে। প্রতিটি প্রতিবেদনই ছিল এক একটি ‘এটম বোমা’। অকাট্য যুক্তি, সরকারি তথ্যসমৃদ্ধ খবর ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে তখন চোখে সর্ষেফুল কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের। সরকারের সংক্ষিপ্ত ও অন্তর্বতী বাজেট অধিবেশনেও পড়ে তার ‘ছায়া’। সেই তথ্যের উপর ভরসা করে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে ‘রিভিউ পিটিশন’ দায়ের করেন যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি ও প্রশান্ত ভূষণের মত বিক্ষুব্ধরা। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ’র নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে শুরু হয় পুনঃ শুনানি।

৬ মার্চ ‘দ্য হিন্দু’তে এন রাম দাবি করেন, ডাসল্ট-কে ‘লেটার অফ কমফোর্ট’ দেওয়া হয়েছিল মোদি সরকারের তরফে। ব্যাঙ্ক গ্যারান্টার হতে না চাওয়ায় রাফালের চুক্তি মূল্য যে ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে তা নিয়ে ডিল মধ্যস্থতাকারী ‘ইন্ডিয়ান নেগোশিয়েশন টিম’ রিপোর্ট জমা দিয়েছিল তৎকালীন মন্ত্রী মনোহর পারিকরের মন্ত্রকে। তারিখ হল ২০১৬ সালের ২১ জুলাই। তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছিল এর ফলে চুক্তির মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে যে ৫৭৪ মিলিয়ন ইউরোর ছাড় পাওয়ার কথা সেটাও পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ২০১৬ সালে ফরাসি সরকার ও ভারত সরকারের মধ্যে রাফাল চুক্তি অনুসারে যে ৩৬টি এয়ারক্রাফট নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তাতে ২৪৬ মিলিয়ন বাড়তি খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ৭৮৭৯.৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে। সরকার তার প্রতিবেদনে (পরে কোর্টেও) এও বলে যে, এনডিএ সরকার সমানে বলে গেছে ইউপিএ জমানার চাইতে তাদের রাফাল চুক্তি অনেক বেশি লাভজনক। এন রাম বলেন, এই তথ্য অসত্য। তার মতে এনডিএ সরকারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্যাবিনেট ফরাসি সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দিতেই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টার না থাকার সুবিধে দিয়েছিল। বদলে ফরাসি সরকার মোদিকে রাফাল নিয়ে ‘লেটার অফ কমফোর্ট’ দেয় যার কোনও আইনি বৈধতা নেই। এন রামের তুলে দেওয়া একাধিক রোমাঞ্চকর তথ্যের ভিত্তিতে যখন সুপ্রিম কোর্টে নাস্তানাবুদ কেন্দ্র, তখনই তাকে আড়াল করতে নতুন হাতিয়ার তুলে নেন মোদি। রাফাল নিয়ে যখন নতুন করে তদন্তের দাবি উঠছে তখন তা ঠেকাতে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল বলে বসলেন, মন্ত্রক থেকে রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত ফাইল চুরি হয়েছে। সাউথ ব্লকে স্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে তথ্য চুরির এই দাবি ছিল সত্যি নজিরবিহীন। এও বলা হল ‘হিন্দু’তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। শত্রুপক্ষের হাতে সেই সব তথ্য তুলে দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে বিরাট সমঝোতা করা হচ্ছে বলে দাবি তোলা হয় কেন্দ্রের তরফে। অভিযোগ ওঠে, ‘হিন্দু’ই আসলে রয়েছে এই ঐতিহাসিক চৌর্যবৃত্তির নেপথ্যে। এন রামের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার হুমকিও দেয় কেন্দ্র। যদিও ততক্ষণে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছে তারা। সুপ্রিম কোর্ট পালটা সওয়াল করে ‘হাই সিকিউরিটি জোন’ থেকে কী করে চুরি হতে পারে তথ্য? বিরোধীরাও তোলেন সওয়াল। খোদ নরেন্দ্র মোদির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দাবি ওঠে কংগ্রেসের তরফে। তাদের দাবি, ‘চৌকিদার’ই আসলে চোর। এখন গা বাঁচাতে চুরির অজুহাত এনে তদন্তকে বিপথে চালনা করতে চাইছেন মোদি। অন্যদিকে বিদ্রোহ শুরু হয় সংবাদমাধ্যম মহলেও। এন রামের সমর্থনে এগিয়ে আসেন বহু নেতারাও, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যার অন্যতম।

চুরির দাবি উলটে সরকারপক্ষকেই বিপাকে ফেলতে চলেছে দেখে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভোল পাল্টায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের মুখপাত্র এজি কে কে ভেনুগোপাল জানান, চুরির কথা তিনি বলেননি। তার কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আসলে যা খোওয়া গেছে তা তথ্যের প্রতিলিপি। খোওয়া যাওয়া তথ্য প্রকাশকারী সংবাদপত্রকেই নিতে হবে তার দায়। অন্যদিকে, আদালতে দাঁড়িয়ে এন রাম বলেন, তারা কোনও সরকারি তথ্য চুরি করেননি। রাফাল নিয়ে যা তথ্য তারা তুলে ধরেছেন তা সত্য এবং বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমেই তা পাওয়া গেছে। সূত্রের পরিচয় গোপন রাখা তাদের নীতিগত কর্তব্য। কেন্দ্রের অজুহাত ছিল, জাতীয় সুরক্ষার কাছে কোনও নীতিই বড় নয়, তা সে সংবাদমাধ্যমই হোক না কেন! কিন্তু সরকারের সে যুক্তিও ধোপে টেকেনি। সুপ্রিম কোর্টের কাছে রীতিমত ভর্ৎসিত হয় কেন্দ্র। প্রথমে চুরির অভিযোগ ও পরে তা অস্বীকার— এমন দ্বৈত দাবিদাওয়া নিয়েই রাফাল চুক্তি ও তা ঘিরে তদন্তের দাবি এখনও বিশ বাঁও জলে। ফাইল কি আদৌ চুরি হয়েছে নাকি সবটাই মনগড়া, সে নিয়েই চলছে জল্পনা।

কিন্তু বিশেষজ্ঞ মহল রাফাল নিয়ে এই ‘ধোঁয়াশা’র মধ্যে অন্য সূত্র দেখছেন। তাদের মতে গোটা বিষয়টি যথেষ্ট কায়দা করে সাজানো। যার নেপথ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ ও সুবিধেবাদী চিন্তা। জাতীয়তাবাদ বা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে দূরদূরান্ত পর্যন্ত তার কোনও সম্পর্ক নেই। এই প্রসঙ্গে তাদের পর্যবেক্ষণ—

  1. নরেন্দ্র মোদির অঙ্গুলিহেলনেই রাফাল চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে ও অনিল আম্বানির সংস্থাকেই বরাত পাওয়ানো হয়েছে হ্যালকে বাদ দিয়ে, তার কারণ পরবর্তী কালে নির্বাচন ও বিভিন্ন উপনির্বাচনের সময়ে আম্বানির সাহায্য নেওয়া, যা সম্পূর্ণ ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ নীতি নির্ভর। রাফাল চুক্তিতে ৫৯ হাজার টাকার এই বিপুল দুর্নীতি আসলে সরকারের তরফে নিতান্তই উপঢৌকন মাত্র। পরে যা দলের প্রয়োজনে আবার চেয়ে নেওয়া হবে।
  2. ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ক্লিন চিট দেওয়ায় যে স্বস্তির জায়গা তৈরি হয়েছিল, এন রামের ‘ম্যারাথন’ প্রতিবেদনেই তা আটকে যায়। সেই ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে ‘কাউন্টার এভিডেন্স’ তুলে ধরেও যখন সুবিধে হয়নি বা এন রামের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকারের আগ্রাসী নীতি গ্রহণের যাবতীয় ‘স্ট্র‍্যাটেজি’ যখন মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখনই ফাইল চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাফাল নিয়ে গোটা মামলার মুখ অন্যত্র ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে কেন্দ্র। আসলে চুরি ও চোরের প্রসঙ্গ তুলে শুধু ‘দ্য হিন্দু’কেই নয়, সমস্ত সংবাদ জগতকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র সরকার ও যার একমাত্র উদ্দেশ্য তথ্যপ্রকাশে ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’র হদিশ পাওয়া।
  3. এই ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু সতর্কতাজনক প্রবণতাও। ফাইল চুরির প্রসঙ্গে লাগাতার বিরোধী আক্রমণে জেরবার নরেন্দ্র মোদি, এবার একটু রক্ষণাত্মক ভুমিকা নিলেন। জানানো হল ফাইল বা নথি নয়, আসলে তার প্রতিলিপি খোওয়া গেছে। মরিয়া চেষ্টা করা হল যাতে সরকারের কিছুটা হলেও বিশ্বাসযোগ্যতা আদালতের কাছে বলবত হয় ও শীর্ষ আদালতের আস্থাভাজন হওয়া যায়। যদিও আদালতের কাছে আসল ফাইল এখনও তুলে ধরতে পারেনি তারা। একই সঙ্গে, রাফাল তথ্যকে জাতীয়তাবাদী রং দিয়ে প্রেস ও সংবাদমাধ্যমকে কোনঠাসা করা ও জনসমর্থন হাসিল করারও একটা চেষ্টা করা হল। তবে সবচেয়ে বড় ‘স্ট্র‍্যাটেজি’ খুব সম্ভবত নির্বাচনের বাজারে রাফাল নিয়ে তদন্তের দাবিকে যতটা সম্ভব বিলম্বিত করা। কারণ নির্বাচনের মুখে সরকারবিরোধী এই মামলায় কোনও অপ্রীতিকর রায় এলে তা প্রভাব ফেলবে ভোটব্যাঙ্কে।

পরিশেষে, একটা কথাই বলা যায় যে ফাইল চুরি হোক বা না হোক, এসবের পিছনে নিজের রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থকেই যে বারংবার বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মোদি, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই কারও। রাফাল ফাইল উদ্ধার হবে কিনা তা তদন্তসাপেক্ষ এবং তা নির্ণয় করবে দেশের শীর্ষ আদালত, কিন্তু এই মুহূর্তে মোদি জমানায় নোট বাতিলের পর সবচেয়ে বড় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে যে রাফালেই সেও নির্দ্বিধায় বলা যায়। যুদ্ধবিমান আসুক না আসুক, দেশের নিরাপত্তা যদি সত্যি সত্যি বিঘ্নিত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী হবেন এক ও একমাত্র নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদি। লোকসভার নির্বাচন তার জন্য যে বার্তাই বহন করে আনুক না কেন, এই রাফাল চুক্তি ও তা নিয়ে দুর্নীতির দায় তিনি কখনওই ঝেড়ে ফেলতে পারবেন না। বাকিটুকু নির্ণয় তোলা থাকুক সময়ের হাতে…

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1180 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*