শিমুল জাবালির কবিতা

গোড়াপির হেঁশেল

 

১৬

গোড়াপির গর্ভাশয়ে ঢুকে গৌতমের বনপর্ব খুঁজি। আমার নামে ভর্তি শতভিষা পদ্ম একা একা রক্ত মাংস খেয়ে জীর্ণ দুটি ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে যাচ্ছে ক্ষতস্থান। কি যে আহ্লাদে চুপসে আছে বনপর্ব। আমি তার উর্ধমুখী এলোমেলো কাটা চুল, লালনযন্ত্রণা। হৃৎপিণ্ড খুয়ে খুয়ে যাচ্ছে বনবাসীদের পথে পথে। কি যে মোহে গোড়াপির সিলেবাস! আত্মকুঠে নীল সুর তোলো, নীল সুর। ঘোড়াগুলি আগের মতো দৌড়ে যাবে প্রস্তরযুগের যোনির ভেতর। ইব্রাহীমের ব্রক্ষ্মাণ্ড ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। আশিকিনি দরবার হলের সমস্ত মরা গাছের ডাল কেটে কুটে ঢুকিয়ে দিবো হুরের যোনিতে। সম্ভোগে তৃষ্ণা জাগে সখি। রাধার স্তন এনে দাও, ফোটা ফুলে জলভেঙে দৌড়ে লুকিয়ে পড়বো কৃষ্ণচূড়ায়। আমাদের হেঁসেলে ওসব ভণিতা চাই না। মগজে আটকা থাকুক তোমার আমার গর্ভাশয়। মরা পৃথিবীর উলঙ্গ পথে মাস্টারদের সন্ধ্যাযাত্রার গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে যাচ্ছি পুরনো রাস্তাঘাটে। আমি আমার ভেতর এক ধ্বংসযজ্ঞ আত্মা। নিরামিষাশী ওথেলো। ডাহুক বাহুক ভেতর গম্ভীর। কি যে এক নষ্ট ভ্রষ্ট আত্মা!

১৭

একটি অপ্রস্তুত পাখি সন্ন্যাসীনীর বুকে পিঠে হাত বুলিয়ে আবিস্কার করে এই ভাঙা দেশ তার নয়। অথচ অন্য পাখিপ্রকল্পের মুখোমুখি হয়ে দেখতে পাই সমস্ত সঙ্গম পিতাহীন হৃৎপিণ্ড। ছাইয়ের শূন্যস্থান কোলাহলে জেগে ওঠা গেরুয়া সন্ধ্যা।

অবসরের বরাত দিয়ে নিদ্রাহীন হুমায়রা যার পায়ের আঙুলে চিমটি কাটে সে আমার – তোমার বিপদগামী পিতা। সে গোড়াপি’র বংশকর্তা। আর হলুদরঙা ঠোঁটের কোণে বসে অপ্রস্তুত পাখিটি বিহ্বলে হিসাব করে বিগত দিনের প্রত্নআত্মার বিষাঘাত। এই যে লোকালয়ে তুমি আহ্লাদে চুপসে আছো, তোমার ঝুলিতেও ভাগ বসাবে মোহাম্মদের চরিত্র।

১৮

গোড়াপির হেঁশেলে গৌরীর নিশ্চিহ্ন ঋতুস্রাব, ভাঙা ঋপু, অর্ধস্ফুট হৃৎপিণ্ড। মাস্টারের বৃথা কাম বৃথা কর্মে তোমরাও ছলাৎ ছলাৎ নাচতে থাকো, বেখেয়ালে আমরাও ঢুকে যাই নাচ করাকরির ভেতর। পাশে ছোট্ট হয়ে বসে থাকে কর্ণ, ধনুকের সুতোতে কামড় বসিয়ে কামনা করে গোপালের কামধেনু। গোড়াপি নিশ্চয়ই পৌঁছে দিবে আত্মজ লাঞ্ছনা, অবিভক্ত যৌনাঙ্গের ঋতুস্রাব। না, আমরা ঘোড়াদের মিছিলে যেতে চাই, মিছিলে বসে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে চাই, ফকিরি নিশ্বাস নিতে চাই, একমুষ্টি লেবু-করমচা চাই, আমাদের হোসেন মিছিলের সব বিষরক্ত চুষে চুষে পুনরায় নীল করে দিবে ঘোড়াদের ঠান্ডা নাভি-মৃগনাভি। স্বাদের দেহতত্ত্ব রিপুতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, আমার কুসুমিত ইন্দ্রিয়স্বরুপে সতগুরু সাঁতার কাটতে পারে, জানতাম।

যে জানা কল্যাণের পিরিত
যে জানা নিসারতার তর্জমা
যে জানা উত্তম মধ্যম মানের পুরুষ
যে জানা দিলরুহের আবর্জনা
যে জানা বার্নিশজ্বালা লোকমা
যে জানা অতিশয়োক্তি নুন
যে জানা শূন্য ডিসপনেসারির জৌলুস

না, আমাকে ভেঙে ভেঙে টুকরো করে ফেলে দিও পাশের নোংরা দেয়ালে। ব্যবহৃত নেপকিন গায়ে জড়িয়ে বসে থাকবো নকল ইন্জিলের ভেতর। খুঁজে পাবে মুমিন মুসলমান। শোকে কাঁদবে অগনিত কৃষ্ণকূল। বাহ্! রনে দেকার্তে তোমার সন্দেহশীল দ্বৈতবাদ ছুড়ে মারো গোড়াপি’র হেঁসেলে।

১৯

আমার নিষিক্ত আত্মা; অনিষিক্ত শরীরে প্রবেশ করে কীভাবে? গোড়াপি! আখের চিবানো রসে নিষিক্ত হতে হতে তোমাদের আশ্রম শূণ্যস্থান হয়ে যায়। তাবৎ দুনিয়ার সমস্ত ফতোয়া ধাওয়া করে আমাকে আমাদেরকে। ঋণ শোধরানো ঘোড়সওয়ার, কাঁটার ভেতর ঘুমিয়ে পড়ে। জলের উপর ঝুলতে থাকে আরেক জমিন। তাকে আমরা পৃথিবীর সন্তান বলি। মাস্টার দ্রৌণাচার্যের সন্তানেরা কি যে মোহে ঢুকে যাচ্ছে দ্বিতীয় স্ত্রীধনের জমিনে। বের করে আনে দ্রৌণাচার্যের ধর্ষকামী ইতিহাস, ভাঙা শিশ্ন, উস্কখুস্ক লাল বুক। বাল্মীকির বালুঘরে এসব অহি অপুষ্ট। ধীরপায়ে গ্রহণ করি আরবের ইস্টপুস্ট বয়ান। যে সন্তান হাসপাতালে তাঁকে রোজ দুধশাল খাওয়ায় বালিকা নার্স। সন্তান উঁকি দিয়ে মাকে দেখতে চায়, মা হাওয়া হয়ে যায়। আমি নেঁতিয়ে পড়ি দোজখমিশ্রিত রঙ তামাশায়। যাই পাহাড়কুল। অগণিত হেরেমের ভেতর। দেখি, তামাশা থেকে কামাশার উৎপাদন করতে থাকে, অন্যদল, সবুজ ঘাসের ঘোড়া।

২০

একটি ভেজা শরীর যেভাবে কাত হয়ে ঘুমিয়ে থাকে সেভাবে অগনিত তুমি কাত হয়ে পড়ে থাকে। আর আমরা  দোলনচাঁপা কাঁধে নিয়ে ঘুরতে থাকি বাঁচার আনন্দে। কতদূর কতদূর বলে চিহ্নিত চিৎকার দিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য তুমি’রা। এই যে আমি রক্ত টেনে খাচ্ছি হরদম, খুব খেয়াল বেখেয়ালে। ‘রক্তের ভেতর জোসনা’ কিলবিল কিলবিল করে। অন্ধ তীরন্দাজ, তোমার ধনুকের সুতোতে কামড় বসিয়ে হাঁটতে থাকো পশ্চাতে, প্রাচীনে, সাদা রক্তের ভেতর। আবিস্কার করতে পারো নাদান ভক্তকুল, রক্ত যোগী হুর। প্রেমমিশ্রিত শ্লোকে জাগরণ তুলে দেওয়া দৃশ্য দেখতে দেখতে হুরসকল ভেজা শরীরের ভাঁজের ভেতর লুকিয়ে পড়বে। আমরা বা আমি একে একে ধ্বংসের দিকে চক্ষু তাক করে উড়ে যাবো বায়ুনিশ্বাসে। বায়ু থেকে ছিটকে পড়বে খেয়াঘাট। খেয়াঘাট, তুমি আরেক শৃঙ্গার তাড়না, অথবা সঙ্গম যন্ত্রণা। আরেকটি বেগবান শরীর বেয়ে নেমে পড়বে অহিংস বুদ্ধবানী। যাই হোক, তাতে কি আসে যায় গোড়াপি। তোমার ঝুলিতেই তো দুনিয়ার তাবৎ দণ্ডায়মান ইতিহাস।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1754 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...