দেবী

সেবন্তী ঘোষ

 

পূবের আকাশে মহিষের মতো ঘাড়ত্যাঁড়া মেঘ
পথ ছাড়ছে না কিছুতেই,
এই বনপথে এখনও বর্ষার জল থমকে আছে,
শরৎ আসবে না বলে পণ করেছে তবু
কাশের বনে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে শিকার—
দেবী কোন সুখে বুকে ত্রিশূল গেঁথে দেবে বলে!

 

মোরগ ডেকেছে সারারাত,
মদঃস্রাবীর নিঃশব্দ পদচারণা
ঝোপড়া ভেঙে ঢুকে আসতে চেয়েছে,
পূর্ণিমার চাঁদে যে আকুলতা ছিল
তাকে ঠেকাবে কোন জোরে?
নেশাভাঙের স্বামী যখন পরদারে!

 

ট্রাক্টরবোঝাই বকরি গরুর মতো মতো ঠাসাঠাসি
দু আঙুল ফাঁক নেই এমন দূরত্ববিধিতে,
হাসতে হাসতে চলেছ মাইল মাইল উত্তরে দক্ষিণে।
কে জানে জীবন কোথায় নিয়ে যায়!
কার মরদ গর্ভে ভরে দেয় ঘরফেরৎ বীজ!
চার ছেলেমেয়ের মুখ মিলবেই কে দিয়েছে দিব্যি?
সন্তান আসা মুহূর্তের রেতঃপাত ছাড়া কিছু নয়।
অন্নপূর্ণা, জীবের মুখের কাছে,
ফুটন্ত ভাত ধরলেই তো কেবল তুমি দেবী!

 

মৃদু আলোর কম্পনে ভূতের ছবির মতো
এঁকেবেঁকে গেছে ওর ছায়া.
লুটেরা হাওয়া আছড়াচ্ছে খিলের কপাটে,
খুলে দেওয়া অর্গল আর বন্ধের ভিতরে
এক চুল যে ফাঁক, নচ্ছার শরীর
পোষ মানছে না যেন সেই বাধা!
যাওয়া আর আসার ভিতর
কোন তফাৎ নেই বলে,
স্বামী সন্তান এড়িয়ে,
অমিততেজা অসুরের মুখোমুখি,
একাই হতে চললেন দেবী।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2689 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...