সকল বন ফুল রহে

ক্ষতের মুখে দাঁড়িয়ে আরেকবার জীবনের দিকে ফিরে তাকানো। একদিকে শীতশেষের রুক্ষতায় পতনশীল পাতার শরীর। অন্য দিকে গাছে একটি-দুটি করে ফুল, কচি পাতা। ঝরে যাওয়া ও ফুটে ওঠার দোলাচল। জীবন যেমন। বসন্ত যেমন।

এই বসন্তে পৌঁছে চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম-এর মনে পড়ছে লালমাটিতে ফুটে থাকা পলাশগুচ্ছের কথা। শহর কলকাতায় অ্যাসফল্ট ফাটিয়ে মুখ তোলা একাকী অচেনা গাছটির কথা। রফিক-জব্বার- বরকতের কথা। শাহবাগের কথা। প্রকৃতির মতোই এই মানুষ সমাজেও এই ফেব্রুয়ারি-মার্চ যেন গড়ে তোলার কাল। যতটা উচ্ছাসের, ততটাই প্রতিবাদের। পুরোনো যা কিছু সব পেছনে ফেলে নতুনকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময়। আমাদের সমস্ত খেদ, অসন্তোষের মুখ উৎসবের দিকে উদ্বোধনের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার অনিবার্য দিনকাল।

আজ বসন্তসমাগমে নতুন জীবনের গান, নতুন সম্ভাবনার কথা আমরা শুনতে শোনাতে চাইছি একগুচ্ছ মুক্ত গদ্যে। আমাদের প্রিয় কবি ও গদ্যকারেরা স্মৃতি-বিস্মৃতির শহর থেকে আমাদের লিখে পাঠাচ্ছেন ব্যক্তিগত বসন্তদিনের চিঠি। হয়তো তাঁদের হাত দিয়ে আমাদের চিঠি লিখছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও। একটি ময়ূর-রঙা ট্রেন হুইসিল বাজিয়ে চলে যাচ্ছে দূরে। বাদামপাহাড়ে। ইতিহাস থেকে ভেসে আসছে বাহারী বন্দিশ। সকল বন ফুল রহে- ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে সব বন, এখন কেবল প্রার্থিতের জন্য অপেক্ষা।

যাঁরা লিখেছেন: