ক্যাপ্টেন দুপুরে ভাত খেতে গেছে আর নাবিকেরা দখল নিয়েছে জাহাজের – প্রথম পর্ব

চার্লস বুকাওস্কি 

বাংলায়ন : শুভঙ্কর দাশ

 

৮/২৮/৯১

বেলা ১১-২৮

রেসের মাঠে দিনটা ভালোই কাটল, প্রায় পুরোটাই মেরে এনেছিলাম। তবু ওখানে একঘেয়েমির ক্লান্তি আছে একটা, যখন আপনি জিতছেন তখনও। দুটো ঘোড়দৌড়ের মাঝে যে ৩০ মিনিটের অপেক্ষা, তখন ফুটো দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আপনার জীবন, এই শূন্যতায়। ওখানে মানুষগুলো বড় ধূসর, আমি হেঁটে গেলাম সেখানে। আর আমি এখন ওদের ভেতর। কিন্তু এ ছাড়া কোথায়ই বা যেতাম? একটা আর্ট মিউজিয়ামে? ভাবুন সারাদিন বাড়ি বসে লেখক হওয়ার খেলা খেলছি। একটা ছোট স্কার্ফও জড়িয়ে নিতে পারি। আমার মনে পড়ে সেই কবির কথা যে আসত ভবঘুরের মতো। জামার বোতাম নেই, প্যান্টে বমির দাগ, চুল নেমে এসেছে চোখে, জুতোর ফিতে খোলা, কিন্তু তার একটা লম্বা স্কার্ফ ছিল যেটাকে সে ঝকঝকে পরিষ্কার রাখত। সে যে একজন কবি সেটা জানান দিত ওই স্কার্ফ। ওর লেখালিখি? সেটা ভুলে যাওয়াই ভালো…   

ফিরে এলাম, পুলে সাঁতার কাটলাম, তারপর চলে গেলাম স্পা-তে। আমার অন্তর তো সারাক্ষণই ঝুঁকিপূর্ণ। চিরটাকালই তো তাই ছিল।

লিন্ডার সাথে কোচে বসে ছিলাম, সুন্দর একটা গভীর রাত্রি নেমে আসছে, ঠিক তখন দরজার কড়া নড়ে উঠল। লিন্ডা গিয়ে দরজা খুলল।

‘তুমি এখানে এলে ভাল হয় হ্যাঙ্ক…’

আমি খালি পায়ে এগোলাম দরজার দিকে, গায়ে একটা লম্বা গাউন। সোনালি চুলো একজন তরুণ, একটি মোটা তরুণী, আরেকজন মাঝারি মাপের মেয়ে।

‘ওরা তোমার অটোগ্রাফ চায়…’

‘আমি লোকজনের সাথে দেখা করি না,’ ওদের বললাম আমি।

‘আমরা শুধু আপনার অটোগ্রাফ চাই,’ সোনালি চুলো ছেলেটা বলল, ‘আমরা প্রতিজ্ঞা করছি তারপর আর কখনও ফিরে আসব না।’

তারপর সে নিজের মাথাটা হাত দিয়ে ধরে ফিকফিক করে একটা চাপা হাসি হাসতে শুরু করল। মেয়েগুলোও সবে শুরু করেছে।

‘কিন্তু তোমাদের কারও কাছে তো কোনও পেন নেই এমনকি এক টুকরো কাগজও নেই’ আমি বললাম।

‘ওহ’ সোনালি চুলের বাচ্চাটা বলল, মাথার থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে, ‘আমরা আবার ফিরে আসব একটা বই নিয়ে। হয়ত একটা সঠিক সময়ে…’

স্নানের গাঊন। খালি পা। হয়ত বাচ্চাটা ভেবেছে আমি এখন বড় অস্থির, খামখেয়ালি। হয়ত আমি তাই ছিলাম।

‘সকালবেলা এসো না’, আমি বললাম ওদের।

দরজা বন্ধ করতে করতে দেখলাম ওরা চলে যাচ্ছে।

আর এখন ওপরে এসে ওদের নিয়ে লিখছি। ওদের ব্যাপারে কিছুটা কঠিন হতেই হয় না। হলে ওরা একেবারে ছেঁকে ধরবে আপনাকে। ওই দরজার সামনে অবরোধ তুলে প্রচুর বাওয়াল সহ্য করেছি আমি যা আদৌ সুখকর অভিজ্ঞতা নয়। ওরা অনেকেই এটা ভাবে যে আপনি ওদের ভেতরে ডেকে নিয়ে সারারাত ধরে ওদের সাথে মাল টানবেন। আমি একা একা মদ খেতে পছন্দ করি। একজন লেখক তার লেখার কাছে ছাড়া আর কোনও কিছুর কাছেই ঋণী নয়। পাঠকের কাছে তার কোনও ঋণ নেই একমাত্র ছাপা পাতা যাতে সহজে মেলে তার ব্যবস্থা করা ছাড়া। আর সব থেকে খারাপ হল ওই দরজা ঠোকা লোকজনের অনেকেই পাঠক নয়। ওরা জাস্ট কিছু শুনেছে। সেরা পাঠক আর সেরা মানুষ হলেন তিনি যিনি তার অনুপস্থিতি আমাকে উপহার দেন।

 

(এরপর দ্বিতীয় পর্ব)

ছবিঋণ – ইন্টারনেট

3 Comments

  1. বিয়ারের ফেনাভর্তি গ্লাসটা নিয়ে নড়েচড়ে বসলাম। আগামী কিস্তির অপেক্ষায়। আবার এক মাস? আরেকটু বড় হলে ভালো হত না কি?

    • অনুবাদক কথা দিয়েছেন। দেখা যাক! 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*