ক্রিয়েসান অফ পোস্ট-ট্রুথ মাহাভারাতা

ব্রতীন্দ্র ভট্টাচার্য

–আজ থামাও বাপু! আজ আর ভাল্লাগজে না! মনটা অনুপ জলোটার ভজনের মতন ভারী হয়ে গ্যাচে! আর পারি নাহ!!

উঁউঁউঁউঁউঁউঁউঁউঁউঁহ…

–কেন গো! কী হল তোমার! ঠিকাচে চলো আজ অ্যাগদিনের জন্য কন্ডিসানে একটু রিলাক্স দিচ্চি! কিন্তু কি হয়েচে সেটা তো বোলবে?

–আর ভাই… তোমার আর কী! তোমার তো পোয়াবারো। ভালোই তো চলছে ভায়া! কী!

–কিসের কী!

–আজ যেকেনে যাচ্চি সেকেনেই দেকচি তুমি! ড্যামনহাবড়ায় ইলিস নিতে গেচি! দেকি তুমি! সোনারপুরে শাগবাজারেও তুমি! গড়েহাটেও তুমি। স্প্ল্যানেডেও তুমি, আবার আনন্দপুরের ঘুংনি-দোকানেও দেকি তুমি! বলি, বাজার তো হুলিয়ে জমিয়োচো বস! সূর্যকোটিসম কীসব যেন বলে তোমায়? যেকেনেই যাই সেকেনেই কোটি কোটি তুমি! অথচ দ্যাকো বাপু, আমি তো তোমার চেয়ে সিনিয়ার, না কী! আমার বই নিয়ে হুদোহুদো স্রিয়াল শিনিমা! অথচ আমার টিটমেনটা দ্যাকো এগবার!

–দ্যাকো বস, তুমি রাইটার হতে পারো কিন্তু আমি সিদ্ধিদাতা। অ্যান্ড ইন দিস এজ অফ ক্যাপিটালিজম সিদ্ধিদাতা রুলস! আমার চোখে তো সকলই শোভন! সকলই মধুর, সকলই ইসে! আর তুমি বাপু বুড়ো তিনকাল যেয়ে এককালে ঠেকেচে তবু লোভ যায় না?! হিংসুটেমো কোরো না তো! তোমারও হবে! মিনিবাশের ইয়েতে দ্যাকো নি?!

–থামো থামো! বক্রতুণ্ড হাঁড়িমুণ্ড! নেহাত আমাদের পাল্লা ভারী। রুলার আমাদের লোক। নইলে গন্ডেরি ছাড়া কে পুঁছেছে তোমায় এতোকাল? এই ক-বছর আগেও তো টিমটিম করে দু-একটা জায়গায় তোমায় ধুনো দেখাতো লোকজন আর বাসি লাড্ডুর ভোগ দিত। এখন বাজার গরম হয়ে খুব এ হয়েছে না?

–শুঁড় দুলিয়ে ঘুরে বেড়াই / কেবল বাজে বুকের মাঝে / তোমার কঠোর ভর্ৎসনা যে… এই বস তোমায় না টোট্টাল রবিঠাকুরের মতন দেকতে! হি হি… আহা হা রাগ কোরো না!

–রবিঠাকুর আবার কেডা?

–আরে ছিল এক বেম্মোজ্ঞানী। আমাদের মানত-টানত না! তবে তোমার মতন কাঁড়ি-কাঁড়ি লিকেচে। আমার ইঁদুরটা বলে না কী হেব্বি টেস!

–হুম!

–কিন্তু বস হু দ্য হেল ইজ গন্ডেরি?

–গন্ডেরি! আরে মিস্টার বাটপাড়িয়া!

–আরে ওর কতা বোলো না গো! বাটপাড়িয়ার কাছে আমার আর মুগ দ্যাকাবার জো নেই!

–কেন গো? কী হল?

–না না মানে গন্ডেরি ঠিকই আছে। ঘই ইজ সেলিং লাইক ফ্রেশ মোদকস অ্যাজ অলওয়েজ! তবে ওর অনেক ভাই-বেরাদর না কী মুখ থুবড়ে পড়েছে! আমাদের শাগ্রেদ না কী কীসব ট্যাক্সো-ম্যাক্সো লাগিয়েছে আর টাকাপাল্টি করেছে। তাইতে না কী দুধের শিশুরা একেবারে কুপোকাত!

–সে একদিকে পড়লে অন্যদিকে চাগান দেবে। ও নিয়ে তুমি ভেবো না! ওনরা হচ্চেন যেয়ে জাতির মেরুডন্ডো! ওনরা ভেঙে পড়লে দেশ মুক থুবড়ে পড়বে যে! সে শাগ্রেদ বাবাজীবনও খোওব বোজে! আর এককাঁড়ি ছোট বেচু দিয়েই বা লাভ কী বলো? হিতোপদেশে পড়ো নি? ওই বাপ সব লাঠিকে একসাথে বাঁধলেই ছেলেরা আর ভাঙতে পারল না! এ-ও হচ্চে যেয়ে সেই! দশের লাঠি একের বোঝা! ও না এটা তো বাজে কথা! মোদ্দা কথা হচ্চে, যত কম, তত বড়ো! আমাদের বাৎসু বলে সাইজ ডাজ ম্যাটার!

–বাৎসু মানে? ও! বুয়েচি! হি হি… ও ব্যাটার আর খেয়েপরে কাজ নেই! হি হি হি হি… গব্বরী গতর নিয়েও কেমন খেল দ্যাকাচ্চে বলো!

–হি হি… যাক তুমি এসব ফালতো কতা না ভেবে বরং সিদ্ধিটা বরাবর দিতে থাকো, তালেই হবে!

–আজগাল আধার হওয়াতে সুবিদে হয়েচে জানলে? বেশ কার কত কি লাগবে দেকে দেকে দেয়া যায়! আর এইসব চক্করে এমনিতেই হাফ হাওয়া হয়ে গ্যাচে! নো আধার, ওনলি আঁধার ফর দেম! বুজলে না! তাই চাপ কম!

–শুনচি না কী সেসব নাম-ঠিকানা সব খোলাবাজারে চলে গ্যাচে?

–গ্যাচেই ত! আর যাওয়াও উচিত! উপকার করবার অধিকার সকলের! ওই যে সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

–হুম! তা, হালে কাকে কি দিলে? মানে তেমন লাগসই কিছু?

–ওই যেমন বল্লুম, আমার টারগেট এখন বিগ বিগ। গৌতম এসচিলো জানলে? কে একটা লোক না কী ওঁকে নিয়ে যাচ্ছেতায় লিকেচে কোন এক কাগজে। তা আমি বল্লুম – বাপু হে, কাগজ ক’জন পড়ে? তুমি কেন এসব ফালতো ভাবনা ভাবচো? তবু সে নাছোড়বান্দা। আর বলতে নেই ভোগটাও বেশ ইসে দিয়েচিল জানলে। শেষকালে ন্যায়াগ্নিমিত্রম্‌ থেকে দুপিস সূক্ত লিকে দিলুম তবে শান্তি! শুনচি না কী ফিরে যেয়ে এমন ঝাড় দিয়েচে যে সে ব্যাটা পণ্ডিত পালানোর পথ পাচ্চে না!

–তা বেশ কোরোচো! সত্যিই তো! পোকিতো দেশসেবী বলতে তো সীমান্তের ইসেরা ছাড়া এই গৌতমের মতন ইসেরাই! এদের না দেগলে কাদের আর দেগবে! ভালো কোরোচো!

–তারপর ধরো, এরা, মানে এই গৌতমের মতই অন্য দেশভক্তেরা আমায় অ্যাগবার ধরল – বাবা আর যে ধার শোধ দিয়ে পারি না! আপনি কিছু একটা হিল্লে না করলেই যে নয়! তুমি তো জানো আমি ভক্তবৎসল, কারণ আমি খাদ্যবৎসল। মনটা সহজে গলে যায় গ কী করব! তা আমি শাগ্রেদকে স্বপ্নে ভিজিট দিয়ে বললুম – কী হে, কী করব! সে-ও এক কতায় রাজী! সুতরাং তাকে দিয়ে কলমের একটা খোঁচা দিইয়ে নিলুম। আর বকলমা তাদের দিয়ে দিলুম যারা এমনিতেই ব্যাংকের ভয়ে জুজু। বুজলে না! ভয়কে জয় কত্তে পারিস নে আমার ভগবানের অনুগ্রহ পাবি কী রে ব্যাটা! বলো?

–হ্যাঁ সে ত ঠিকই! আহ, এই একটু রেস্ট পেয়ে মনটা একটু ঠাণ্ডা হল বুজলে? চাড্ডি বাজে কতা কওয়ার জোও ত রাকো নি! শোলোক থামালেই না কী কেটে পড়বে! এই একটু রিলাক্স দিলে, একোন বেশ ভালো বোদ কচ্চি!

–তা নাও, আর কী! রেস্ট যকোন হল, এবার শুরু করি চলো বস!

–ওরে বাপ আমার, এতো তো বকালে বাপ! আর কেন?!

–তা বললে কী হয় গুরু? পোস্ট-ট্রুথ কাকে বলে জানো? এখন হল পোস্ট-ট্রুথের জমানা! শুনতে পাচ্চো না বুঝি, নীচ থেকে বাবাজীবন ডাকচে! ওর বড়ো শখ হয়েচে মহাভারতখানা নতুন করে লেকাবার! তুমি ছাড়া কে লিগবে বস? বালুবাবু রামায়ণ নিয়ে অলরেডি লেগে পড়েচেন! নাও নাও চলো চলো!! ওইটে দিয়ে শুরু করো – আচখ্যুঃ কবয়ঃ কেচিৎ সম্প্রত্যাচক্ষতে পরে… ইতিহাসমিমং ভুবি…অ্যাঁ..অ্যাঁ….ভবিষ্যতেও বর্ণনা করিবেন… নাও নাও বলো লিকচি বলো বলো!

 

3 Comments

  1. আমার মতো গোলা পাঠকের জন্য লেখাটার শেষে টীকা থাকা উচিত ছিল। কে গন্ডেরি বা মিস্টার বাটপাড়িয়া? যা হোক, মুচমুচে লেখাটা উপভোগ করলাম। জয় বাবা গণেশ!

    • আজ্ঞে শ্রী গণ্ডেরিরাম বাটপাড়িয়ার কথা বলে গেছেন শ্রী পরশুরাম। আমি উল্লেখ করেছি মাত্র। সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড-এ পাবেন।

      • পাজামা অভিশপ্ত হলেও সৎ… নিজেকে গোলা বলে দিয়েছে… 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*