বেলা দত্ত : এক অনন্য জীবন

opcje binarne ebook কুণাল get link দত্ত

see

 

http://www.beaujolais-challenge.com/?nikolsa=club-rencontre-evreux&e05=3f লেখক https://www.cedarforestloghomes.com/enupikos/7358 বেলা দত্ত source click সরোজ http://milehiproperty.com/?ki0oss=Part-time-jobs-in-bronx-ny&c59=07 দত্ত grossiroberto411 yahho com iq option http://captainaugust.com/?koooas=opzione-binarie-demo-prova&1dc=f5 rencontre femme dans le 13 কনিষ্ঠ সন্তান http://gtheal.com/?marakanr=is-yoona-dating-seung-gi&a42=94 পিতামাতার tofranil 2mg of রাজনৈতিক আর্দশে বিশ্বাস করেন buy ashwagandha powder australia price of ginseng in north carolina অকৃতদার, দীর্ঘ তিরিশ বছর শহীদ সরোজ দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটির সঙ্গে যুক্ত নিজের পেশার বাইরে সারা বছর ধরে কমিটির বিভিন্ন কর্মসূচী ও নানান পত্রপত্রিকায় লেখালেখির কাজে ব্যস্ত আছেন

 

 

বৃন্দাবনবাসী শ্রীরামদাস কাঠিয়া বাবাজির পরম শিষ্য ঘোর বৈষ্ণব সুরেন্দ্রনাথ-ইন্দুবালা বোসের রক্ষণশীল পরিবারে অধুনা বাংলাদেশের খুলনা জেলার মূলঘর গ্রামে জন্ম বেলার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৩। শাস্ত্র মেনে একে একে বেলার অগ্রজ তিন বালিকা কন্যার বিবাহ দিলেন পিতা, এবার পালা বেলার। কিন্তু বেঁকে বসল বেলা। বিয়ে সে করবে না। কিছুতেই নয়। শত চেষ্টা প্রলোভনেও টলানো গেল না তাকে। বহু জেদাজেদি ও টানাপোড়েনের পর বেলাকে ভর্তি করা হল স্কুলে।

গ্রামস্তরে প্রাথমিক পর্ব শেষ করে বেলা পাড়ি দিল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট সদরে, পাশ দিল ম্যাট্রিক। এবারে বাঘেরহাট কলেজ। I.A. পাশ করে বেলা ফিরে এল গ্রামে।

গ্রাম সেবা সমিতির সেবিকা ও গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা হয়ে কাজ শুরু করল সে। এ কাজে অবশ্য মায়ের প্রেরণা আর গৃহশিক্ষকের আদর্শ তার পাথেয়।

চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি বেলা এল কলকাতায়। ভর্তি হল বিদ্যাসাগর কলেজের B.A. ক্লাসে। শহরে চটুল ভোগবাদী সংস্কৃতি টলাতে পারেনি গ্রাম্য তরুণীর প্রত্যয়। বেলা আকৃষ্ট হল বামপন্থী রাজনীতিতে। যোগ দিল কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ফেডারেশনে। মাঝে মাঝে কলেজ ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হয় বৃহত্তর কর্মসূচীর ডাকে। ঠিক সেদিন তেমনই গিয়েছিল ইংরেজী দৈনিক খবরের কাগজ, অমৃতবাজার পত্রিকার দপ্তরে। ধর্মঘটী কর্মচারীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে। চলছিল ছাত্রদের পিকেটিং। সেখানে ছিলেন শিবুদা– বেলার মামাতো দাদা– শিবশঙ্কর মিত্র। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির দৈনিক পত্রিকা ‘স্বাধীনতা’-র সাংবাদিক। বেলাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন উপস্থিত কবি-সাংবাদিক ও অমৃতবাজার পত্রিকার সহ-সম্পাদক সরোজ দত্তর সঙ্গে। লড়াইয়ের ময়দানেই প্রথম দেখা হল তাঁদের। পিকেটিং-রত ছাত্রদের হটাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করল তাঁদের। গ্রেপ্তার হল বেলা। সরোজ দত্ত তখন ছাত্রদের মুক্তির মামলার তদারকি করতেন, যেতেন জেলে বিখ্যাত ব্যারিস্টার স্নেহাংশু আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে। পরবর্তীতে বেলা তাঁকেই তাঁর জীবনসঙ্গী করলেন।

বাড়ি থেকে খবর এল বেলার বাবা অসুস্থ। তিন কন্যার ‘দায়’ মিটিয়ে তখন তিনি নিঃস্ব। তাঁর চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন। বেলা চাকরি নিল ক্যালকাটা টেলিফোনস্-এ। রাতে ডিউটি, দিনে কলেজ আর রাজনীতি। কলকাতায় তখন চলছে মর্মান্তিক দাঙ্গা। তারই মধ্যে প্রতিদিন পুলিশের গাড়িতে রাতের ডিউটিতে চলেছে বেলা, সংসারের প্রয়োজনে।

ছেচল্লিশের প্রথম থেকেই শুরু হল, আধি নয় তেভাগা চাই। আধি অর্থাৎ অর্ধেক। ভাগচাষে দস্তুর ছিল; ভূমিহীন কৃষক তার ঘরের হাল, লাঙল, গবাদি পশু, ও পর্যাপ্ত জল দিয়ে মাটি কর্ষণ করবে, সার দিয়ে তা উর্বর হবে। নিজের ভাগের ধান থেকে বীজ-ধান এনে তায় মাটিতে রোপণ করবে। ফসলের চারা হলে তাকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে হবে। সারা বছর পরিবারের সবাই মিলে এত পরিশ্রমের পর যে ফসল, তা গোলায় তুলবে। না, ঠিক হল না, তা তুলে দিয়ে আসতে হবে জমিদারের গোলায়। জমিদার তার মাত্র অর্ধেক ভাগচাষিকে দেবে। তবু সেই ‘অর্ধেক’-এ প্রায়শই থাকে ফাঁকি। মূর্খ চাষি অত মাপ-জোপের বোঝেটা কী! আর যদি অতি বা অনাবৃষ্টিতে ফসল মার খায় তো কৃষক থাকবে অনাহারে। না, ঠিক অনাহারে নয়। অনাহারে মৃত্যু হলে সামনের বছর ধান রুইবে কে? তাই ‘কৃপা’ পাবে সে জমিদারের। পাবে বেঁচে থাকার মতো সামান্য কিছু ধান যা তাকে কর্জ দেবে জমিদার। সেই দায় মেটাতে কৃষক কন্যাদের ডাক পড়বে জমিদার বাড়িতে, চলবে নির্মমভাবে অবাধ ধর্ষণ।

কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালনায় প্রাদেশিক কৃষকসভার নেতৃত্বে সারা বাংলা জুড়ে গড়ে উঠল তেভাগা আন্দোলন। দাবি উঠল ফসল উঠবে কৃষকের গোলায়। ভাগ হবে তিনটি। একটি জমিদার, একটি কৃষক আর একভাগ বীজ-ধান সংরক্ষিত থাকবে।

তেভাগার লাল আগুন একের পর এক ছড়িয়ে পড়ছে বাংলার গ্রামে গ্রামে। তেভাগার লড়াইকে আরেক অর্থে গ্রাম্য নারী জাগরণের ইতিহাস বলা যেতে পারে। হাজার হাজার গ্রাম্য নারী পুরুষতন্ত্রের শিকল ছিঁড়ে যোগ দিচ্ছে তেভাগায়। প্রাদেশিক ‘মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি’ গঠনের উদ্যোগ নিল পার্টি।

সাতচল্লিশের শুরুতে এক বসন্ত পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বিয়ে হল বেলা আর সরোজের। বিয়েতে বেলার মা-বাবা উপস্থিত ছিলেন না। তবু মা পাঠিয়েছিলেন আশীর্বাদ-পত্র আর বেলার জন্য গচ্ছিত সোনার গহনার একটি পুঁটুলি। পরবর্তীকালে তার সবটুকুই বেলা তুলে দেয় ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার রোটারি মেশিন কেনার প্রয়োজনে। বিয়েতে ছিল ভাই-বোন আর অগুনতি বন্ধু-বান্ধব। পালিত হয়নি বিয়ের কোনও আচার-অনুষ্ঠান। শোনা যায়নি উলুধ্বনি — বাজেনি শঙ্খ — ছিল না সিঁদুর, মন্ত্রপাঠ বা সাত পাকের বন্ধন। সাথে ছিল শুধু প্রেম-আদর্শের অঙ্গীকার — আর চির জীবন একসাথে চলার শপথ।

বেলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পেল। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতিতে যোগ দিয়ে তেভাগা আন্দোলনে আত্মনিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করল।

ওদিকে অমৃতবাজার পত্রিকায় আবার ধর্মঘটের শুরু। ইন্দো-চীন-মালয়-ইন্দোনেশিয়ার যুদ্ধরত বিপ্লবীদের ‘ডাকাত’ নয়, ‘দেশপ্রেমিক’ বলতে হবে এই দাবিতে। ধর্মঘট ব্যর্থ হল। সরোজ দত্ত’র চাকরি গেল। তবু দমল না নবদম্পতি। দু’জনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিল বেলা তেভাগার সংগ্রামে যোগ দেবে।

চাকরি ছেড়ে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই বেলা হাওড়া ময়দান স্টেশন থেকে ডোমজুড়ের ট্রেনে চেপে বসল। অন্য কমরেডদের সঙ্গে বেলা রওনা দিল। সরোজ দত্ত ফিরে এলেন, বেলাকে স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে।

বেলার কর্মভূমি হাওড়া জেলার ডোমজুড়-দক্ষিণবাড়ি-হাটাল-চাঁপাডাঙ্গা প্রভৃতি অঞ্চল। নতুন নাম হল ‘পদ্মা’। তেভাগা-দমনে পুলিশি অত্যাচার তখন তুঙ্গে। জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধানের গোলা-কৃষকের খড়ের চাল। ধরপাকড়, ধর্ষণ আর অত্যাচার চলছে অবিরাম। শ্বেত সন্ত্রাস ছড়াতে এলাকায় এসে বসেছে পুলিশ ক্যাম্প। অনিবার্যভাবে শুরু হল কৃষকের প্রতিরোধ– সশস্ত্র লড়াই। রাতের অন্ধকারে দক্ষিণবাড়ি স্টেশনের কাছে বোমাসহ আক্রমণ করা হল পুলিশ ক্যাম্প। জ্বলে উঠল আগুন। কৃষকেরা ছিনিয়ে নিল রাইফেল। সে রাইফেল নিয়ে পদ্মারা ফিরে এল গ্রামে।

হাটালে ঊনপঞ্চাশের সেপ্টেম্বরে মহিলাদের প্রতিরোধের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাল। হত্যা করা হল শিশুসহ পদ্মার স্কোয়াডের আটজন রমণীকে। কৃষকেরা যখন পালটা প্রতিশোধের লড়াইয়ের জন্য তৈরি, ঠিক তখনই তদানীন্তন পার্টি নেতৃত্বের নির্দেশ এল মহিলাদের রান্নাঘরে ফিরে যাওয়ার। হতভম্ব হতাশ হয়ে আড়াই বছরের অক্লান্ত সংগ্রামে ছেদ টেনে ফিরতে হল পদ্মাকে।

পঞ্চাশ সাল, পার্টি আটচল্লিশ সালেই নিষিদ্ধ হয়েছে। ‘স্বাধীনতা’ বন্ধ। সরোজ দত্ত তখন পার্টির সাংস্কৃতিক মুখপত্র ‘পরিচয়’-এর সম্পাদক। বেলা সরোজকে সংসারের সমস্ত অর্থনৈতিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে, নিজে একটা চাকরি নিলেন।

বাষট্টি সালে চীন-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষিতে সরোজ দত্ত গ্রেপ্তার হলেন। তাঁকে পাঠানো হল দমদম সেন্ট্রাল জেলে। সেই অপরাধে বেলা সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন। তখন তিনি একটি বালক ও একটি শিশুপুত্রের জননী। কর্মহীন, সংসারে একা। আবার শুরু হল তাঁর বেঁচে থাকার লড়াই।

রুশ-চীন আন্তর্জাতিক মহাবিতর্ক ঘিরে পার্টির মধ্যে তখন চলছে রাজনৈতিক মেরুকরণের পালা। জেলে বসেই সরোজ দত্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন আন্তঃপার্টি সংশোধনবাদবিরোধী লড়াইয়ের। আর বেলা তখন কপর্দকহীন অবস্থায় ঘুরছেন মহানগরের পথে পথে, কখনও রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির মিছিলে, আবার কখনও সংসার বাঁচাতে ছোটখাটো চাকরির সন্ধানে।

চৌষট্টি সাল। যুদ্ধ শেষ হল। যুদ্ধে সম্পূর্ণ পর্যুদস্ত হয়ে ক্ষান্ত দিল ভারত সরকার। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে একে একে বেরিয়ে এলেন কমরেডরা। নীতিগত প্রশ্নে পার্টি দ্বিখণ্ডিত হল। নানান বিপ্লবী প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে গঠিত হল নতুন পার্টি– সি পি আই (এম)। সরোজ দত্ত যোগ দিলেন তাতে, সর্বক্ষণের কর্মী ও পার্টির মুখপত্র ‘দেশহিতৈষী’-র দায়িত্ব নিয়ে। আর কঠোর পরিশ্রম করে দু’টি সন্তান নিয়ে তখন সংসারটিকে আগলে রেখেছেন বেলা।

উনিশশো সাতষট্টি সালে, শুধু জনমত যাচাই করার ফিকিরে নির্বাচনে অংশ নিল সি পি আই এম। বিপুল জনমত পেয়ে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠিত হল। এদিকে এক্কেবারে ধোপে টিকল না বেলার বিরুদ্ধে আনা সরকারি অভিযোগ, বাতিল করতে হল বরখাস্তের আদেশ। বেলা আবার চাকরিতে যোগ দিলেন।

চাকরিটা পেয়ে বেলা একটু আশ্বস্ত হলেন বটে, কিন্তু চূড়ান্ত হতাশ হলেন নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনের ওপর পুলিশের গুলিচালনার ঘটনায় সরকারি সমর্থনে। সরোজ দত্ত এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বেরিয়ে এলেন পার্টি থেকে। শুরু হল আবার নতুন করে বিপ্লবী পার্টি গড়ার প্রস্তুতি।

উনিশশো ঊনষাট সালের বাইশে এপ্রিল, লেনিনে জন্মদিনে, চারু মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত হল সি পি আই (এম-এল)। বেলা দৃঢ় সমর্থন করলেন সি পি আই (এম-এল)-কে। পারিবারিক নিরাপত্তা তুচ্ছ করে পার্টির একনিষ্ঠ সমর্থক ও আশ্রয়দাতা হয়ে রইলেন পার্টির সঙ্গে, তরুণদের বেলাদি হয়ে।

উনিশশো একাত্তর সালের পাঁচ-ই আগস্ট পুলিশ সরোজ দত্তকে গোপনে হত্যা করল। সরোজ দত্তর মৃত্যু বেলাকে এতটুকু ম্লান করতে পারেনি। পার্টির প্রতি কর্তব্যপালনে এরপরেও তাঁর কোনও শিথিলতা ছিল না, শহীদের স্ত্রী বলে বেদনার থেকে গর্ব ছিল তাঁর অনেক বেশি।

জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যে কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বেলা। নবীন প্রজন্মকে শুনিয়েছেন তাঁর লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা। চুরানব্বই বছর বেঁচেছেন নিজের মতো করে। এক স্বাধীন স্বতন্ত্র স্বনির্ভর জীবন। কুসংস্কারমুক্ত চিন্তা আর নতুন সমাজের স্বপ্ন নিয়ে। চলে গেলেন ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭। দেহটি দান করে গেলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির লক্ষ্যে। বেলা দত্তর জীবন নবপ্রজন্মের কাছে উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*