ক্রীতদাসীর কবিতা

উত্তম দত্ত

 

মাত্র সাত বছর বয়সে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল দাসী-হাটে। তারপর পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল থেকে সে চালান হয়ে যায় উত্তর আমেরিকায়। ১১ জুলাই, ১৭৬১ সালে ক্রীতদাস-ভর্তি একটি জাহাজে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রিটিশ-শাসিত বস্টনে। সেই জাহাজের মালিক টিমথি ফিচ, আর নাবিক ছিলেন পিটার গুইন। মা বাবা তার কিছু একটা নাম রেখেছিল হয়ত। কিন্তু দাসী-হাটের কালো বাতাসে কখন যে হারিয়ে গেছে সেই নাম। নতুন করে তার নাম রাখা হল ক্রীতদাস পারাপারের জাহাজটির নামে — ফিলিস। বস্টনের ধনী ব্যবসায়ী জন হুইটলে তাঁর স্ত্রী সুশান্নার সেবা-দাসী হিসেবে মেয়েটিকে ক্রয় করেছিলেন। প্রথা অনুসারে ফিলিসের নামের সঙ্গে যুক্ত হল হুইটলে পরিবারের পদবী। ক্রীতদাসী পেল নতুন নাম — ফিলিস হুইটলে। কিন্তু এই পরিবারে আশ্রয় পেয়ে নবজন্ম হল তার।

বারো বছর বয়সে গৃহকর্ত্রী সুশান্নার বইপত্র পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখতে গিয়ে কী যে হল তার। একটা বই থেকে একটা চিঠির কিছু অংশ দেখে দেখে অবিকল দেয়ালের গায়ে লিখতে থাকে সে। না, কোনও পেনসিল বা কলম দিয়ে নয়, এক টুকরো কাঠকয়লা দিয়ে। বাড়ির অন্য এক দাসী এই খবর পৌঁছে দেয় গৃহকর্ত্রীর কানে। কিন্তু ঘরের দেয়াল নোংরা করার অপরাধে মেয়েটিকে শাস্তি দেওয়া তো দূরের কথা, সেদিন থেকে তাকে গৃহকর্ম থেকে অব্যাহতি দিয়ে দূরদর্শী সুশান্না ফিলিসের লেখাপড়া শেখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন। অতি দ্রুত সে আয়ত্ত করে বাইবেলের পাশাপাশি গ্রীক ও ল্যাটিন ভাষা। ভাষা ও সাহিত্যে তার বিস্ময়কর উত্সাহ লক্ষ করে তাকে উপযুক্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় আলেকজান্ডার পোপ, মিল্টন, হোমার, হোরেস এবং ভার্জিলের কবিতার সঙ্গে। এরপর ফিলিসের কাব্য-প্রতিভার চরম বিকাশ ঘটে।

জন হুইটলে ছিলেন উদার প্রকৃতির মানুষ। সেকালের নিরিখে যথেষ্ট প্রগতিশীল ভাবনার অধিকারী। তাঁর তরুণী কন্যা মেরি এবং তরুণ পুত্র ন্যাথানিয়েলও ফিলিসকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সর্বতোভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। একজন ক্রীতদাসীর পক্ষে এতখানি প্রাপ্তি আমাদের আবহমান কালের ধ্যানধারণাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।

৩১ বছর বয়সে মারা যান ফিলিস। তাঁর বিবাহিত জীবন সুখের হয়নি। বিস্ময়কর কবি-খ্যাতি সত্ত্বেও দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ফিলিসকে ১৭৭৬ সালে নিজ বাসভবনে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানান। ফিলিস তাঁকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত কবিতা: “To His Excellency, George Washington”। আমেরিকার গণবিপ্লবকে সমর্থন করে লেখা ফিলিসের কবিতা মুগ্ধ করেছিল কবি ও বিপ্লবী টমাস পেইনকে। ১৭৭৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কবিতা-সংগ্রহ: Poems on Various Subjects. ভলতেয়ার একটি চিঠিতে তাঁর বন্ধুকে লিখেছিলেন: ‘Wheatley had proved that black people could write poetry.’ কালো মানুষেরাও কবিতা লিখতে পারে। বস্তুত ফিলিস ছিলেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ (মহিলা) কবি। ২০০২ সালে প্রখ্যাত গবেষক Molefi Kete Asante ফিলিসকে ১০০ জন প্রথম শ্রেণীর আফ্রিকান-আমেরিকান কবির তালিকায় স্থান দেন। ফিলিসের উল্লেখযোগ্য কাব্য-কবিতার মধ্যে স্মরণীয়:

  • “An Address to the Atheist” and “An Address to the Deist,” 1767
  • “To the King’s Most Excellent Majesty” 1768
  • “Atheism,” July 1769
  • “An Elegiac Poem On the Death of that Celebrated Divine, and Eminent Servant of Jesus Christ, the Reverend and Learned Mr. George Whitefield,” 1771
  • “A Poem of the Death of Charles Eliot …,” 1 September 1772
  • Poems on Various Subjects, Religious and Moral (1773; reprinted 1802)
  • “To His Honor the Lieutenant Governor on the death of his Lady,” 24 March 1773
  • “An Elegy, To Miss Mary Moorhead, On the Death of her Father, The Rev. Mr. John Moorhead,” 1773

ফিলিস মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, কবিতার শক্তি অপরিমেয়। কবিতা সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর চরম প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের কথা তিনি যথাসম্ভব কম বলেছেন। তবে একটি কবিতায় সার্বিকভাবে ক্রীতদাসদের জীবনের ওপর আলো ফেলেছেন তিনি, যেখানে প্রবল নৈরাশ্যের মধ্যেও ফুটে উঠেছে একটা আশাবাদিতার সুর, একটা উত্তরণের ইশারা ও প্রত্যয়:

Twas mercy brought me from my Pagan land,
Taught my benighted soul to understand
That there’s a God, that there’s a Saviour too:
Once I redemption neither sought nor knew.
Some view our sable race with scornful eye,
“Their colour is a diabolic dye.”
Remember, Christians, Negroes, black as Cain,
May be refin’d, and join th’ angelic train.

কবিতাটির নাম: ‘On being brought from Africa to America’. আত্মজৈবনিক এই কবিতাটি আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

১৭৭৮ সালে এই কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসী কবি আইনত দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ করেন। গৃহকর্তা জন হুইটলে ব্যক্তিগত উইলে তাঁর মুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ১৭৮৪ সালে ফিলিসের স্বামী জন পিটার্স যখন গলা পর্যন্ত ঋণের দায়ে জেলে যান, অসুস্থ শিশু-সন্তানকে নিয়ে ফিলিস তখন ঘোর সংকটে। ৫ ডিসেম্বর ১৭৮৪ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সাড়ে তিন ঘণ্টা পর তাঁর শিশুপুত্রটিও মারা যায়।

ক্রীতদাসীর সঠিক জন্মতারিখ কে মনে রাখে? তবে অন্বেষক-গবেষকবৃন্দ মনে করেন সেনেগালের কোনও অঞ্চলে (সেনেগাম্বিয়া) ৮ মে ১৭৫৩ সালে এই আশ্চর্য প্রতিভাময়ী কৃষ্ণাঙ্গ কবির জন্ম হয়েছিল। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান (পুরুষ) কবি ও লেখক জুপিটার হ্যামনও ছিলেন একজন ক্রীতদাস। তিনিও তাঁর কবিতায় ফিলিস হুইটলের কবিতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

ফিলিসের লেখা কয়েকটি কবিতার সঙ্গে পরিচিত হতে ইচ্ছে করে:

১)

To The University Of Cambridge

While an intrinsic ardor prompts to write,
The muses promise to assist my pen;
‘Twas not long since I left my native shore
The land of errors, and Egyptian gloom:
Father of mercy, ’twas thy gracious hand
Brought me in safety from those dark abodes.
Students, to you ’tis giv’n to scan the heights
Above, to traverse the ethereal space,
And mark the systems of revolving worlds.

২)

An Hymn To The Morning

ATTEND my lays, ye ever honour’d nine,
Assist my labours, and my strains refine;
In smoothest numbers pour the notes along,
For bright Aurora now demands my song.
Aurora hail, and all the thousand dies,
Which deck thy progress through the vaulted skies:
The morn awakes, and wide extends her rays,
On ev’ry leaf the gentle zephyr plays;
Harmonious lays the feather’d race resume,
Dart the bright eye, and shake the painted plume.
Ye shady groves, your verdant gloom display
To shield your poet from the burning day:
Calliope awake the sacred lyre,
While thy fair sisters fan the pleasing fire:
The bow’rs, the gales, the variegated skies
In all their pleasures in my bosom rise.
See in the east th’ illustrious king of day!
His rising radiance drives the shades away–
But Oh! I feel his fervid beams too strong,
And scarce begun, concludes th’ abortive song.

৩)

To A Lady On  The  Death  Of  Her  Husband

GRIM monarch! see, depriv’d of vital breath,
A young physician in the dust of death:
Dost thou go on incessant to destroy,
Our griefs to double, and lay waste our joy?
Enough thou never yet wast known to say,
Though millions die, the vassals of thy sway:
Nor youth, nor science, not the ties of love,
Nor ought on earth thy flinty heart can move.
The friend, the spouse from his dire dart to save,
In vain we ask the sovereign of the grave.
Fair mourner, there see thy lov’d Leonard laid,
And o’er him spread the deep impervious shade.
Clos’d are his eyes, and heavy fetters keep
His senses bound in never-waking sleep,
Till time shall cease, till many a starry world
Shall fall from heav’n, in dire confusion hurl’d
Till nature in her final wreck shall lie,
And her last groan shall rend the azure sky:
Not, not till then his active soul shall claim
His body, a divine immortal frame.
But see the softly-stealing tears apace
Pursue each other down the mourner’s face;
But cease thy tears, bid ev’ry sigh depart,
And cast the load of anguish from thine heart:
From the cold shell of his great soul arise,
And look beyond, thou native of the skies;
There fix thy view, where fleeter than the wind
Thy Leonard mounts, and leaves the earth behind.
Thyself prepare to pass the vale of night
To join for ever on the hills of light:
To thine embrace this joyful spirit moves
To thee, the partner of his earthly loves;
He welcomes thee to pleasures more refin’d,
And better suited to th’ immortal mind.

About Char Number Platform 106 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*