মৃত পাখিদের গান

অর্ক : মৃত পাখিদের গান

অবিন সেন

 

পর্ব-এক

“রূপ আসে। পুড়ে যায়। বুক ভেঙে দিয়ে যায় কাম”।

সে দেখেছে আকাশে তারা ফুটে আছে ঠিক একটা। বাকি আকাশে কি তখনও মেঘ! এই তো কিছু আগে বৃষ্টি হয়ে গেল ঢের। বাতাসে এখনও বৃষ্টির রোঁয়া লেগে আছে গুঁড়ো গুঁড়ো। কর্তিক মাসের এই প্রায় মাঝরাতে ঠান্ডার আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। জ্যাকেটের কলারটা সে কান পর্যন্ত তুলে দেয়। এপাড়ায় ঢোকার মুখেই একটা কালীপুজো হচ্ছে। সেখানে হই-চই, মাতালদের চিৎকার। শস্তা বেশ্যাদের হাসাহাসি। বরং পাড়ার এই প্রান্তটায় নির্জনতা।

আধা ভেজানো একটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে কড়া নাড়ে। এক বার। দু বার। যে মহিলা দরজা খুলে দাঁড়ায় তার উজ্জ্বল সাজপোশাক। তীব্র প্রসাধনের গন্ধ। চুড়োকরা বাঁধা চুল। মুখে মেখে আছে এক ঢল মেকি হাসি।

সে তার পিঠের ব্যাগ থেকে একটা কাগজের মোড়ক মহিলার হাতে তুলে দেয়। চোখ চক চক করে ওঠে মহিলার। হাসি চওড়া হয়। মহিলা আগে থেকেই জানত সে আসবে। তাদের মধ্যে নিচু গলায় কিছু কথা হয়। সে মহিলার পিছনে পিছনে পিছনে একটা সরু সিঁড়ি বেয়ে দোতলার একটা ঘরে উঠে যায়। ঘরটা মাঝারি। একদিকে একটা মোটা গদিওলা মাঝারি মাপের খাট। আর এক পাশে একটা কাঠের দেওয়াল আলমারি। একটা ছোট টেবিল। তিনটে চেয়ার। একটা চেয়ারে একজন লম্বা হ্যান্ডসাম পুরুষ বসেছিল। চোখে চোখে তাদের হাসি বিনিময় হয়।

মহিলাটি তার হাতের কাগজে মোড়া প্যাকেটটি সেই ছোট টেবিলে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

সে বলল–

সব ব্যবস্থা পাকা?

যে চেয়ারে বসেছিল তার ভালো নেশা হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই সে ঘরে বসে মদ্যপান করেছে। তার উপরে আবার কালীপুজো। একবার সে পুজোর ওখানে গিয়েছিল। সেখানেও ইয়ার দোস্তদের সঙ্গে কয়েক পেগ টেনেছে। ফলে এখন তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। চোখ ঢুলু ঢুলু। কাঁপা কাঁপা হাতে কাগজের মোড়কটা খুলতে তার চোখ আবার চক চক করে ওঠে। একটা দামি ইম্পোর্টেড স্কচের বোতল।

এক

অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসে না, তারপরে যদিও বা অনেক সাধ্যসাধনার পরে ঘুম আসে, সে ঘুম ভোর রাতের দিকেই ভেঙে যায়। বাকি রাতটুকু সে আধো ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকে। আধো ঘুমের একটা ভার ক্রমাগত তার মাথার ভিতরে একটা অস্বস্তির জন্ম দেয়। বিছানা ছাড়ার পরেও সেই অস্বস্তি ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো তার মাথার ভিতরে দুলতে থাকে। তার পরে যত বেলা বাড়ে তত সেই পেন্ডুলামের দোলন এক যন্ত্রণার রূপ নেয়। এই যন্ত্রণা নিয়েই তার সারাটা দিন কাটে। সারাদিন সে কোনও কাজে মন বাসাতে পারে না। তার সমস্ত কাজ ভণ্ডুল হয়ে যাচ্ছে আজকাল।

ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যেতেই অর্ক ভাবল এবার তাকে নিশ্চিত করেই একবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। রাত তখনও শেষ হয়নি। ভোরের আলো ফুটে উঠে পর্দার ফাঁক গলে সেই আলো ঘরের ভিতরে এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু অন্ধকার ফিকে হয়ে যাবার একটা প্রয়াস যেন শুরু হয়ে গিয়েছে তখন। অর্ক বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা তুলে সময় দেখল। তখনই চিন্তাটা তার মাথায় আসে। অনেকদিন সে কোনও ডাক্তারের কাছে যায়নি। বলা ভালো যাবার দরকার পড়েনি। সে ছোট থেকেই বেশ স্বাস্থ্যবান। রোগ ব্যাধি তাকে বিশেষ কাবু করতে পারেনি কখনও। কিন্তু এবার আর ডাক্তারের কাছে না গেলেই চলছে না। তার স্কুলের বন্ধু অম্বর এখন ভালো নাম করেছে ডাক্তারিতে। সে ভাবল, অম্বরকেই একবার দেখিয়ে আসবে। এই ভাবনাটাকেই মাথার ভিতরে পরিপাক করতে করতে সে বাথরুম থেকে ঘুরে এসে মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখে। বিকেলে সে অম্বরকে ফোন করবে। অন্যথায় নানা কাজে ফেঁসে গিয়ে অম্বরকে ফোন করতেই ভুলে যাবে সে। ফোন না করে অম্বরের মতো ব্যস্ত ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা যে ঠিক হবে না পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে সেটা সে ভালোই জানে।

অর্ক মিত্র, আই.পি.এস, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার। ইয়ং এবং হ্যান্ডস্যাম। মধ্য ত্রিশের কাছে বয়স। এখনও ব্যাচেলর। তার মা, বিয়ে বিয়ে বলে বলে শেষে বোধহয় ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। কলকাতার বিশাল বাড়িতে মা’র সঙ্গে সে একাই থাকে। বাবা থাকেন দিল্লিতে। সরকারি আমলা। এই বছরই রিটায়ার করবেন। এক দাদা তার পরিবার নিয়ে সুইডেনে থাকে।

ঘুম না এলেও সাতটা পর্যন্ত সে বিছানাতেই পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে একটু তন্দ্রা আসে, এই তন্দ্রাটুকু যেন তাকে কিছুটা রিলিফ দেয়। সাতটায় উঠে সে ঘণ্টাখানেক এক্সারসাইজ করে। তার পরে স্নান টান করে অফিস।

সকালে অফিসে ঢুকেই দেখল, হোমিসাইডের ইনস্পেক্টর তন্ময় সামন্ত তার জন্যে বসে আছে।

তন্ময়কে দেখে অর্কর মাথার বেদনা যেন লাফিয়ে উঠল। নিশ্চয়ই গুরুতর কিছু সমস্যা নিয়ে তন্ময় হাজির হয়েছে। এখন নতুন নতুন কেসের কথা শুনলেই অর্কর মাথা ধরার পারদ চড় চড় করে বেড়ে ওঠে।

অর্ক একটা বড় গ্লাসের এক গ্লাস জল খেয়ে দু-মিনিট চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে থাকে। তার পরে তন্ময়কে ডেকে পাঠায়।

দুঁদে অফিসার হিসাবে তন্ময় সামন্তর যথেষ্ট সুনাম আছে। তাকে প্রথমে দেখলে তেমনটা মনে হয় না। খুব সাধারণ আন-ইমপ্রেসিভ চেহারা। একটু ভুঁড়ি আছে। শ্যামবর্ণ। মাথায় ব্যাকব্রাশ করা চুল। এখন অনেকটা পাতলা হয়ে এসেছে। অনেকদিন ধরে হোমিসাইড স্কোয়াডে তদন্ত-ভার সামলালেও তার মন প্রাণ থেকে এখনও আমোদ আহ্লাদ মুছে যায়নি। ট্রাক রেকর্ড খুব ভালো বলে বড়সাহেবরা তাকে বেশ পছন্দ করেন।

সামন্ত হাসি হাসি মুখে অর্কর চেম্বারে ঢুকল। হাতে একটা ফাইল। অর্কর মুখে কোনও হাসি ছিল না। মাথার যন্ত্রণা তার চোখমুখকে তিক্ত করে রেখেছিল। তার উপরে সকাল সকাল আবার একটা হোমিসাইডের ঝামেলা। সামন্ত নিশ্চয়ই নিজে থেকে আসেনি। ডিসিডিডি হয়তো তাকে পাঠিয়েছে। অথচ সাহেব নিজে থেকে তাকে কিছু বলেনি। অর্ককে খুব বিরক্ত করে তোলে ব্যাপারটা।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার গলার স্বরে তিক্ততা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

তা সামন্ত কী মনে করে?

সামন্ত বুঝতে পারছিল সাহেবের মেজাজ কোনও কারণে ঠিক নেই। তাও সে স্মিত মুখে বলল–

স্যার, গত সপ্তাহে টালিগঞ্জ পাড়ায় ব্যবসায়ী খুন আর তার সঙ্গিনী টেলি সিরিয়াল অভিনেত্রীর নিখোঁজ হবার ব্যাপারটা কীরকম সেনসেশানাল হয়ে উঠেছে নিশ্চয়ই জানেন..

সামন্তর কথা শেষ হবার আগেই তাকে থামিয়ে দিয়ে অর্ক বলল–

খুন কেন? আত্মহত্যা বলে শুনেছিলাম।

না স্যার। ওটা ডেলিবারেটলি এন্ড ভেরি প্ল্যানড্ মার্ডার। আর মিডিয়াও এটাকে মার্ডার বলে বলে ক্রমাগত প্রচার চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে পলিটিকাল কানেকশান আছে। সবই তো জানেন স্যার।

কথাটা যেন হাওয়ায় অর্কর অভিমুখে ভাসিয়ে দিয়ে হাসি হাসি মুখে সামন্ত হাত কচলাতে থাকে। তার কলিগরা বলে, সামন্তর এই এক দোষ, সব ব্যাপারেই সে দাঁত বার করে থাকে। অবশ্য এটা দোষ না গুণ সামন্ত ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। অফুরন্ত হাসিতামাশার বাস্পই যেন তার জীবনকে অফুরন্ত উজ্জ্বল করে রেখেছে। যে কোনও ডিফিকাল্ট পরিস্থিতি সে হাসি মুখে সামলে দিতে পারে।

তার এই হাসি দেখে এই মুহূর্তে অর্কর যেন গা জ্বলে গেল। সে তিক্ত মুখে বলল–

মার্ডার যখন বুঝতে পারছ তখন মার্ডারের সাসপেক্ট নায়িকাকে খুঁজে বার করো। তা হলেই তো কেস সলভড্।

সামন্ত কিছু বলল না। স্মিত মুখে হাতের বাঁধা ফাইলটা খুলতে শুরু করল। ফাইলটা খোলা হলে বলল–

সেখানেই সমস্যা স্যার। এক সপ্তাহ কেটে গেছে কেসটা নিয়ে, কোনও ব্রেক-থ্রু পাইনি। তা ছাড়া এটা যে মার্ডার সেই নিয়েও নিশ্চিত করে কোনও তথ্যপ্রমাণ হাতে আসেনি। তবে অনেক খটকা আছে। সেই খটকাগুলোর উত্তর খুঁজে বার করতে হবে।

আর সেই জন্যেই তুমি বড়সাহেবের কানে খুঁচিয়ে এসেছ! উঃ!

সামন্ত চুপ করে থাকল।

অর্ক খিঁচিয়ে উঠল–

দাঁত বার কোরো না সামন্ত!

এই সব কেসের ভ্যানতাড়া শুনতে অর্কর একেবারেই ভালো লাগছিল না। সে একবার কপালে হাত বোলাল। তার মনে হচ্ছে মাথার ব্যথাটা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

তা বড়সাহেব কী বলেছে তোমাকে? আমাকে তো কিছু বলেনি।

স্যার তদন্ত আমরাই চালাব। শুধু ডিসিডিডি সাহেব একটু আপনার অ্যাডভাইস নিতে বলেছেন। স্যার, এই সব ব্যাপারে আপনার মতো পারফেক্ট অফিসার তো ফোর্সে এখন নেই। তাই…

সামন্ত আবার কথাটা হাওয়ায় ভাসিয়ে দিল। তার মুখে মালিন্যহীন হাসি।

অর্ক মুখের ভিতরে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ করল।

এই সব কথা বলে কোনও লাভ নেই। এই কেসে ঢোকার মতো সময় এখন আমার হাতে নেই। তোমরা তোমাদের মতো তদন্ত চালিয়ে যাও। সে রকম অসুবিধা হলে পরে দেখা যাবে। তুমি এখন এসো।

অর্ক যেনতেন প্রকারে সামন্তকে কাটাতে চাইছিল। কিন্তু সামন্ত এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়। সে হাত কচলাতে কচলাতে বলল–

স্যার কেসটা একটু ব্রিফ করি? কেসটা আপনার মাথার মধ্যে থাকলে সময় সুযোগ মতো একটা ক্লু বেরিয়ে আসতে পারে।

অর্ক হাড়ে হাড়ে চেনে সামন্তকে। এমন অমায়িক আর নাছোড়বান্দা লোক খুব কমই দেখা যায়। যে কোনও কেসের পিছনে সে এমনি করেই অক্লান্তভাবে পড়ে থাকে। আর অসীম ধৈর্য। সে জন্যই তার ট্রাক রেকর্ড এত ভালো। ভালো তদন্তকারীর একটাই মোটো ‘পেসেন্স এন্ড পেসেন্স’। সামন্ত যেন তার পারফেক্ট উদাহরণ।

কিন্তু অর্কর মেজাজ একেবারেই কোনও নতুন কেসে মাথা ঘামাতে চাইছিল না। চেয়ারে হেলান দিয়ে সে কিছুক্ষণ বসে থাকল। চোখ বুজে। এই মুহূর্তে সে এক গুরুতর কেসের তদন্তে ভীষণ ভাবে ফেঁসে আছে। একটা আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালানের লিঙ্ক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে। সেই লিঙ্কের একটা প্রান্ত পশ্চিমবাংলা হয়ে বাংলাদেশে বিস্তৃত বলে সন্দেহ। রাজ্য সরকার গোপনে একটা সিট ফর্ম করে দিয়েছে এই বিষয়ে তদন্ত চালানোর জন্য। অর্ক সেই দলের মাথা। সুতরাং অন্য কেসে সে এখন কনসেনট্রেট করতেই পারবে না।

কিন্তু এই কেসটাও যখন একবার বড়সাহেবের মাথায় ঢুকেছে তখন আজ নাহয় কাল বড়সাহেব তাকে এটা নিয়ে বলবেই। সুতরাং না চাইলেও তাকে এই কেসটা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। চোখ বুজে সে ভাবছিল কী করা যায়। সহসা তার মাথায় এল, প্রবালকে এই কেসে ভিড়িয়ে দিলে কেমন হয়! ব্যাটার কয়েকদিন হল কোনও সাড়াশব্দ নেই। আইডিয়াটা মাথার আসতে সে মনে মনে নিজেই যেন নিজেকে তারিফ করল। সকাল থেকে এই প্রথম তার মুখের রেখাগুলো নরম হয়ে আসে। হালকা একটা হাসি খেলে যায় নিজের ভিতরে। সে বলল–

সামন্ত তুমি সন্ধ্যাবেলা একবার প্রবাল সেনের বাড়িতে আসতে পারবে? প্রবালকে চেনো তো?

সামন্তর মুখেও হাসি চওড়া হল, মনে মনে সেও যেন এমটাই আশা করেছিল। কিন্তু সেই মনোভাব গোপন করে সে বলল–

কী যে বলেন স্যার, সেন সাহেবকে কে না চেনে ফোর্সে। যদিও আমি নিজে কখনও কাজ করিনি ওনার সঙ্গে। তবে আপনাদের দু-জনের অনেক তদন্তের গল্প তো একটা মিথ হয়ে গেছে ফোর্সে। তা স্যার কটার সময় যাব?

তা এই ধরো আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ চলে যেও। আমি বলে রাখব প্রবালকে।

তন্ময় সামন্ত চলে যাবার পরে অর্ক আরও কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থাকল। তারপরে মোবাইলে প্রবালকে রিং করল। প্রবাল ফোন রিসিভ করতে অর্ক কোনও ভণিতা করল না। সরাসরি বলল–

সন্ধ্যা আটটার পরে তোর বাড়ি যাচ্ছি। হোমিসাইডের তন্ময় সামন্তও থাকবে।

প্রবালও বোধ হয় ব্যস্ত ছিল। তাই সেও আর কথা বাড়াল না।

প্রবালের ঘাড়ে মার্ডার কেসের তদন্তটা ডাইভার্ট করতে পেরে বেশ হালকা লাগছিল তার। মুডটা বেশ তরল হয়ে আসে।

বেয়ারাকে ডেকে এসিপি অধীর গাঙ্গুলিকে ডেকে পাঠায় অর্ক।

অধীর ঘরে ঢুকে অর্কর উল্টোদিকের চেয়ারে চুপ করে বসে। অধীর তার ইনভেস্টিগেটিং টিমের একজন সিনিয়র অফিসার। বয়স চল্লিশের উপরে। রোগা পাতলা পেটানো চেহারা। মাথার প্রায় অর্ধেক চুল সাদা হয়ে গিয়েছে। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। চোখ দুটো অন্তর্ভেদী। অল্প কথার মানুষ। দেখলে বোঝা যায় না কিন্তু দুর্দান্ত শার্প শুটার আর অ্যাকশন মাস্টার সে। নিন্দুকেরা বলে তার কথার আগে বুলেট চলে।

অর্ক তার দিকে তাকিয়ে দু-মুহূর্ত যেন কী ভাবল। তার পরে সে সরাসরি কাজের প্রসঙ্গে চলে গেল।

প্রত্যেকটা ইনফরমেশন রং হয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকটা রেড প্রোগ্রাম জাস্ট ফেল করছে। এখনও পর্যন্ত একটা সামান্য লিড আমরা পাইনি। কেন? এই নিয়ে কী ভাবছেন বলুন তো আপনারা?

অর্কর গলায় একটা বিরক্তি টের পায় অধীর।

সে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল। তার পরে রহস্য করে বলল–

ভিতরে একটা পচা ইঁদুরের গন্ধ পাচ্ছি।

অর্ক বুঝল। বলল–

আমিও পাচ্ছি। আপনি কাকে সাসপেক্ট করছেন?

আই অ্যাম নট শিওর, টিল নাও। কিন্তু আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পচা ইঁদুরটাকে নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলতে পারব।

 

এরপর আগামী সংখ্যায়

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...