মৃণালের কথা ভেবে…

 

 

শ্যাম বেনেগাল

মৃণালের প্রয়াণের খবর পেয়ে মনটা বেশ ভারাক্রান্ত হল। উষ্ণতা আর সহমর্মিতায় ভরা একটা সম্পূর্ণ ও প্রাণময় জীবন কাটিয়ে গেলেন তিনি। মৃণাল ছিলেন তাঁর সময়ের একজন বিচক্ষণ নিরীক্ষক ও ভাষ্যকার। চলে গেলেন ভারতীয় সিনেমার ত্রিমূর্তির শেষতম প্রতিনিধি। ওঁর সঙ্গে শেষ হল একটা বিশেষ সময়কাল।

 

 

আনন্দ পটবর্ধন

মৃণালদা সম্ভবত তাঁর ছবিগুলোর থেকেও বেশি আকর্ষণীয় ও প্রীতিকর ছিলেন। আগুনখেকো বামপন্থী মৃণালদা ছিলেন অতি অমায়িক ও অজাতশত্রু। আমার কাছে মৃণালদা মানেই হৈ হৈ হাসি আর উষ্ণ আলিঙ্গন। যে ফিল্মগুলো মৃণালদা আমাদের জন্য রেখে গেলেন, তারা আমাদের এখনকার সময়ের থেকে – যখন লাল পতাকার জায়গা নিচ্ছে গৈরিক আর বাতাসে ফ্যাশিজমের নিঃশ্বাস - আরও অনেকটা বেশি আশাব্যাঞ্জক সময়ের কথা আমাদের মনে করাবে। এই সময় একজন তরুণ মৃণালদা হয়তো পারতেন তাঁর নিজস্ব শৈলীতে শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে – এমনভাবে, যাতে প্রতিবাদের অভিঘাত ভাল করে বুঝে-ওঠার আগেই বিদ্ধ হত সে, মানে শাসক। ওঁর ছবির সঠিক সংরক্ষণ হোক, দেখা এবং শেখার ব্যবস্থা হোক। ওঁর সিনেমার থেকে জন্ম নিক নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকর্মীরা। মৃণালের ব্যাটন যাক যোগ্য মানুষের হাতে।

 

 

ইয়োর্গে ইগলেসিয়াস 

মৃণাল সেনের প্রয়াণের খবর পেয়ে আমরা শোকাহত। বিশ্ববন্দিত চলচ্চিত্র-পরিচালক ছাড়াও মৃণাল ছিলেন একজন ভাল মানুষ। আমাদের সৌভাগ্য, যে আমাদের প্রিয় স্কুলে উনি কিছুকাল শিক্ষকতা করেছেন। তার কিছু আগেই স্কুলের সূচনা হয়েছিল। তখন আমি স্কুলে ছিলাম না ঠিকই, তবু ওঁকে ঘিরে অনেকের প্রিয় স্মৃতির কথা আমি শুনেছি।

অধ্যক্ষ, ইআইসিটিভি, হাভানা, ক্যুবা

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1747 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...