অনীক রুদ্রের কবিতা

অনীক রুদ্র

মায়াচর

 

মায়াচর কোনখানে
ভূমিকম্পে ডোবেনি তো, দ্বীপ
তীরভূমি

ওখানে গাছেরা স্বাভাবিক
কদলী বাগান আর নারকেল ঝোপ
মৎস্যজীবী নিশ্চিত কাছে-পিঠে আছে

ঐ যে শুকোচ্ছে জাল
ওরে বাবা! দেখি দোলনা আছে
হ্যামকে শায়িতা আছে সবুজ বিকিনি
আর হাফ-প্যান্ট পরা পুরুষ্ট শরীর

মাথা-কাটা ডাব, রঙিন বোতলও
পড়ে আছে

দূরে পাম-ভিলা। কেশবের খুব প্রিয়
সৌরবিদ্যুতে চলে, পাহারের কোলে
জেনো, সবটাই আছে

তবু চরটুকু মায়া

 

কালক্রমে

 

কালক্রমে স্মৃতির ভাণ্ডারে
জমা হচ্ছে শুকনো পাতা, অপমান
জয়-পরাজয় আর
প্রাগৈতিহাসিক শ্যাওলা-স্তর, জীবাশ্মেরা
সকাল বিকেলে তা ছাড়াও থাকে
আনন্দ ও বিবমিষা যেমন যেভাবে
চিদাকাশে মেঘ জমে, বৃষ্টিপাত
পরিপার্শ্ব সুজলা-সুফলা হয়ে ওঠে

থাকে খরতাপ, আচম্বিতে
রুক্ষতার এ ঘরদুয়ার
কিংবা এই স্মৃতি লুপ্তপ্রায়
জীবনেও সন্ধ্যা নেমে আসে
এই তো যাপন আমাদের
বাক্যালাপ, ঘটনা যেভাবে কার্যকর হয়

পর্দা সরে যায় আর নেমে আসে
ভারী

প্রেক্ষাগৃহে আলো জ্বলে ওঠে

 

সমাধিক্ষেত্র

 

আসঞ্জনশীলতার সূত্র ধরে
স্বপ্নদের উপপাদ্যের ওপর
প্রতিপদের হালকা হলুদ ও ভারমিলিয়ন
ছায়া ভেসে ওঠে
কী সেই প্রেরণা যা সূচিত করে
সমাবর্তন উৎসব
গোল পাঠপ্রতিক্রিয়া মৌনমুখর
এবং অনিবার্য, আচার্যদের বিচলন
লক্ষিত হয়

দশদিক-নন্দিত সরোবরে গুলঞ্চের ছায়া
টুপটাপ ঝরে পড়া কলকে ফুলের গমক
উল্লম্ব অক্ষ আর অতিভুজ দেখতে দেখতেই
কাটিয়ে যাও ঋতুচক্র, রেখাচিত্র নির্মিত হয় না

এভাবেই ঋতুসংহার পুনর্বার অভিনীত হয়
হেলে থাকে শহরের বাতিদান
স্বপ্ন মোহময় থাকে, তার মুদ্গরও
চন্দ্রকলা বিকশিত হতে পারে জেনে

এ সমাধিস্থলে মহানিদ্রায় শায়িত ছিলেন
শ্রী মধুসূদন। ক্ষয়িষ্ণু তাঁর হাড়গোড় এতদিনে
অবশিষ্ট থাকতেই পারে
ভিখিরি ও যৌনকর্মীরা সেখানে নিশ্চিন্ত
গল্প করে।

 

শিরোনামহীন

 

তুচ্ছ কথার পরিসর
নাতিদীর্ঘ মতবিরোধ
সরিয়ে দিচ্ছে আমাদের
একে অপরের থেকে দূরগামী পথে
অন্যের জয়োল্লাস
জলের প্রপাতধ্বনি
বিমর্ষ করেছে এই বসবাস

অব্যয়ের মতো মেধাবী ও চতুর
সংকট মুহূর্তাবলি
বাড়িয়ে চলেছে কল্পনামলিন
দূরত্ব

যে প্রাচীন সভ্যতার
মানবেতিহাসের দিনপঞ্জীর
পুনরুদ্ধার আমাদের জন্যই সম্ভব হল
এগিয়ে চলার পথ তুচ্ছ অথবা
অধিকতর প্রশস্ত হল
দূরত্বের অপার মহিমায় আমরা
চলেছি সমান্তরাল না হলেও
বিপ্রতীপে
অকারণ আলোকিত হচ্ছে
স্বাতন্ত্র্যের কথা
সম্ভবত সম্ভ্রমেরও

 

ঈশ

 

জন্ম-জন্মান্তরের মাঝে
পিছলে-যাওয়া আরেকটা দিন
আরেকটা অবসাদ ও পরাচেতনার
সন্ধিপ্রকাশে বিমর্ষ
আরেকটা হুল্লোড়ের জন্য প্রতীক্ষা
পরমাত্মীয়ের
স্বল্প আলো থেকে প্রখরতার শৌর্যে
একটা সময়ের মাপে, দেশে
বদলে যায় বুদ্ধ্যঙ্ক
তার প্রসাধন ও স্মারকগুলি

জন্মান্তরের মাঝে এই প্রাপ্তি
অতিচেতনা, সনাতন বিশ্বাস মতে কি
প্রত্যক্ষ করেন জগজ্জননী!
শান্ত, অবসৃত তাঁর সন্তানদের?
দূরের কোনও ক্রন্দসী থেকে!

সত্য শুধু প্রত্যাখ্যাত
চিরন্তনকে পান করে নিঃশব্দে
ধ্বংস বা নির্মাণের সূচনা ছাড়াই

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1254 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...