সুতপা মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

খোঁজ

 

কোনও কোনওদিন এক আদিম অরণ্য এসে
নিবিড় নতজানু হয় হৃদয়ের সানুদেশে
তোমার নিভৃত বন্দর থেকে ছেড়ে যায়
শতাব্দীর শেষ জাহাজ —
দূরাগত নক্ষত্রের আলোয় আলোয়
তার শূন্য চলাচল।
অরণ্য খুঁজেছে তাকে, বন্দরের
শেষ জাহাজ ছেড়ে গেছে
অসমাপ্ত পথে রয়ে গেছে নিভৃত অঙ্গীকার

 

হাত

 

প্রগাঢ় প্রসাধনে ঢাকা হৃদয়ের উপত্যকা জুড়ে
গাঢ়তর ক্ষত।
সমুদ্র-অতল-আলো গভীর অন্ধকারে জেগে থাকে।
সেখানে শৈবাল, নুড়ি পাথরের বুকে অনন্ত জিজ্ঞাসা
আমাদের ফেলে আসা বেলা
তিরিশ বছর বড় কম কথা নয়।
ক্ষণমুহূর্ত জেগে থাকে দ্বীপ
জলের উপরে ভাসমান
অঙ্গারে রেখেছ হাত শুশ্রূষার।

 

বাদলবেলা

 

অশান্ত হৃদয়ের পাড় ঘেঁষে
কিঞ্চিৎ আলিঙ্গনের ওপারে থমকে আছে
ফাল্গুনী হাওয়া। তোমার স্পর্ধিত বনরাজি
শাল, সেগুন, মহুয়ায় ঢাকা মাতাল দিন
কক্ষচ্যুত সূর্যকণা। এখানে উতরোল রাত্রি
অন্ধকারের নবজাতককে শুইয়ে দিচ্ছে
জন্মান্তরের দোলনায়। কর্ষণের দিন শেষ হবে তাই
বালুকণা উন্মত্ত আকাশ থেকে ডেকে আনছে মেঘ।
বাদলবেলা ঝরে পড়বে অগোছাল বিকেল পেরিয়ে
নক্ষত্ররাতের বুকে—- তীব্র বজ্র, আলোর হুতাশন
আলো—- অণু-পরমাণু, আমাদের বিবিধ জীবন
তোমার বাদলবেলা বুকের ভিতর।

 

ভালোবাসা

 

নদীরা ফিরে আসে বুকের কিনারে!
কাল তোমাকে কথাটা বলব ভেবেও বলা হয়নি
যদি শুধু কবিতা হয়েই বেঁচে থাকা যেত
যদি শনশন হাওয়ার দিনের ল্যাটেরাইটের মাঠে
আজও উড়ে যেত কিছু ঝরা পাতা
তবু বারুদের বুকের ভেতরে
নিভু নিভু
উত্তাপে চুম্বন রেখেছো তুমি
যেমন উল্কা নামে রাত্রির নির্জন পাহারায়
এখানে বৃষ্টি নামবে কবে যেন?
ততদিনে বাদলছায়া খুঁজে খুঁজে
পৌঁছে যাব বৃত্তের ওপারে, নদীরা
কি ফিরে এল তবে।

 

হোমাগ্নি আমার

 

রাত্রির বুক চিরে চিরে
ঘূর্ণির অভ্যন্তর থেকে তুলে আনছ
ঘাতকের ছুরি। ক্ষতবিক্ষত করতে চাইছ
ধূসর পেলবতা
একান্ত মুহূর্তে যজ্ঞের বেদি থেকে
উপড়ে ফেলতে চাইছ হোমাগ্নি। তোমার
করতলে ক্ষমাহীন রাত্রি তারা হয়ে
জ্বলে আছে। নিগূঢ় আশ্লেষে জ্বালিয়ে দিচ্ছ
ভালবাসার সামান্য সঞ্চয়
নিভৃত কন্দরে আজ উঠে আসছে মৃত্যুশীতল দিন
সূর্য নেই। শুধু তুমিময় এ জগৎ চরাচর

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1097 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*