তিনটি অণুগল্প

তিনটি অণুগল্প আকাশ সরকার

আকাশ সরকার

 

একটি কাকের আত্মহত্যা

আমি একটা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতর ফুরফুরে আরাম গায়ে মেখে বসেছিলাম। আমার গন্তব্যে ট্রেন পৌঁছাতে তখনও দেরি খুব। হঠাৎ ট্রেনটা বনপাস নামক একটা স্টেশনে এসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে থামল। এই স্টেশনে ওর থামার কথা ছিল না মোটেও। একরাশ বিরক্তি নিয়ে আমি দরজার কাছে এসে দাঁড়ালাম। কেউ নামছে না, কেউই উঠছে না এই স্টেশন থেকে। চারিদিকে কেমন একটা যেন অবাক করা শূন্যতা। শূন্যতায় হঠাৎ থেমে যাওয়ার ভেতর, বিরক্তি জন্ম নিচ্ছে। আর বিরক্তির ভেতর জমছে ক্যাওয়াজ, বিভিন্ন হকারের আওয়াজ ঘুরছে সারা ট্রেন জুড়ে। আমাদের ট্রেনের পাশে একটা ফাঁকা রেল-ট্রাক। সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছিল ওর মসৃণ ইস্পাত দেহ। চোখ ধাঁধানো সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম এতক্ষণ। কোত্থেকে যেন একটা নিঃসঙ্গ কালো কাক হঠাৎ উড়ে এসে বসল চকচকে ইস্পাতের মসৃণ গালে। বসেই স্থির আগ্রহে চেয়ে রইল সামনের দিকে। যেভাবে যেভাবে প্লাটফর্মে মায়ের কোল থেকে ঝুঁকে দেখে আগ্রহী শিশু, আর কতদূরে তার প্রথম জার্নির রেলগাড়ি। কিছুক্ষণ পরেই একটা রেলের সামনের ইঞ্জিন দেখতে পাওয়া গেল তার আগ্রহের অভিমুখে। এই টের পেয়ে লাইনের উপর মাথা এলিয়ে দিব্যি ঘুমের ভঙ্গিতে শুয়ে পড়ল কালো অদ্ভুত সেই কাক। এই ভঙ্গিতে থেকেই, একবার শুধু মাথাটা উঁচু করে সে দেখে নিল ‘আর কদ্দুরে?’। তারপর মৃদু ‘কা’ উচ্চারণ ছুঁড়ে দিল অনির্দিষ্ট কারও উদ্দেশ্যে।

এক্সপ্রেস রেলগাড়ি তার সর্বোচ্চ গতিতে এগিয়ে এসে, ক্রমশ মিলিয়ে যেতে থাকল গন্তব্যের দিকে। ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা কয়েকটি পালক ছাড়া রেল লাইনের আশেপাশে কাকটির কোনও চিহ্ন নেই আর এখন। অদ্ভুত, বড় স্বপ্নের মতো অদ্ভুত লাগল ঘটনার এমন প্রদর্শন…

একটা নিঃসঙ্গ কালো কাক আমার চোখের সামনে আত্মহত্যা করল। আমি তার গোপন আত্মহত্যার কৌশল দেখে ফেললাম, নাকি সে আমাকে দেখিয়ে দেখিয়েই আত্মহত্যা করল..?

তার ছুঁড়ে দেওয়া শেষ ‘কা’ উচ্চারণ, অচৈতন্য অবস্থায় আমার ভেতর এই অস্বস্তির প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঘুরপাক খেয়েই চলেছে…

কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের ট্রেনটা ছাড়ল। আত্মহত্যার স্পট থেকে দূরে সরে যেতে যেতে, একটা আনচান নিস্তব্ধতা নিয়ে আমি নিজের সিটে এসে বসলাম। জানলা দিয়ে একবার দেখার চেষ্টা করলাম ঘটনার অবশিষ্টাংশ, শেষবারের মতো। তারপর, সারাটা পথ জুড়ে অবচেতন নিজেকে প্রশ্নচিহ্ন দিয়ে টোকা দিতে দিতে বাসায় ফিরলাম। আমার ভেতর জেগে রইল তার শেষ ‘কা’ উচ্চারণ।

স্মৃতিসিনেশন

এইখানে এসে বসলে স্মৃতি ঝাপটা দেয়। উড়ে উড়ে আসে কত যে পুরোনো না দেওয়া চিঠি। কত চেনা পথ টুক করে ঢুকে পড়ে মাথার ভিতর। তারপর ছেলেবেলারা মনখারাপের কাতুকুতু দেয়। আমি এলোমেলো। ভাবতে ভাবতে এক কাপ চা আর একটা ছোটো গোল্ডফ্লেক অর্ডার দি। দোকানি’কে।

এইখানেই এসে বসে স্কুলছুটিরা গল্প করে। আড়ালে লুকোচুরি খেলে ব্ল্যাকবোর্ড। সিঁড়ি ঘর। যুক্তচিহ্ন দিয়ে লেখা নাম। ক্লাসের যে বান্ধবীকে রোজ লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম একটা সময়, তার মুখের ছায়া এসে পড়ে হঠাৎ। রোদের ভিতর। ছায়ার আড়ালে থেকে এক এক করে সব বন্ধুরা তার নাম ধরে ডাকতে শুরু করে। হঠাৎ। খুউব চিৎকারে। লজ্জায়। ভয়ে। এক কাতর উত্তেজনায় সেইসময়ই আমার হাত পা কাঁপতে থাকে। তার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। নিচু মাথা। কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে সারারাত ধরে মুখস্থ করা কথাগুলো বলা হয়ে ওঠে না কিছুতেই সেবারও তাকে। তবুও উত্তেজনার আবহ সে বুঝে ফেলে। নিঃশব্দে আমাদের সামনে প্রশ্নবোধক চিহ্ন সাজিয়ে রেখে চলে যায়। আর গেট পেরোনোর আগে একবারই, আমাদের দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসে। এমনিই। এই দুর্ঘটনার কয়েকমাস পর, স্কুলের সিঁড়ি ঘরে একদিন লাস্ট পিরিয়ডে তার গালে দুঃসাহসিক চুমু আঁকতে গিয়ে দেখে ফেলেন ইতিহাস স্যার। ক্লাস টেনের ফার্স্ট বয় ছিলাম বলেই হয়তো আমাদের কোনও গার্জেন কল হয় না। কিন্তু হেডস্যার সেইদিন ছুটির পর আমায় ডেকে নিয়ে এমন কিছু বলেছিলেন যে, বাড়ি ফেরত কাঁদতে কাঁদতে সাইকেল নিয়ে ক্যানেলের জলে ডুবে যেতে চাই আমি। বন্ধুরা এগিয়ে আসে। জল থেকে টেনেটুনে তোলে সাইকেল। আমি সাঁতরে পারে উঠি। আমার কোনও চুমু খাওয়া হয়ে ওঠেনি সেইদিনে, তার পরেরদিনেও না, এমনকি তার পরের পরেরদিনেও না। হেডস্যারও তাই আর কিচ্ছু বলেননি। নজরে নজরে রেখেছিলেন শুধু আমাদের। হাবভাব। টেস্ট পরীক্ষার ঠিক আগে আগেই আমাদের স্কুলের অ্যানুয়াল ফাংশন। সেইসময়ই আমার বন্ধুরা আবিষ্কার করে, আমার সেই বান্ধবীর চুমু ক্লাস টুয়েলভের এক দাদার মসৃণ ক্লিন শেভড গালে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে স্বগর্বে। আর দূরে বান্ধবীদের নিয়ে জটলা পাকিয়ে ইতস্তত লাজুক সেই বান্ধবী আমাকে উড়িয়ে দিচ্ছে অবহেলা নামক হাওয়ায়। মনখারাপ।

ক্রমশ টেস্ট পরীক্ষা নেমে আসে আমাদের স্কুল জীবনের ক্রিজে। পাটিগণিত, ত্রিকোণমিতি, জ্যামিতির মতো ইয়োর্কার আমাদের প্রশ্নপত্রে। কঠোর নেট প্রাক্টিস সত্ত্বেও আমার টেস্ট পরিক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়। মনঃসংযোগকে নালিশালো বাড়ির লোক। আর আমি দোষ দিলাম আমার মনখারাপকে। এভাবে দোষারোপ পেরিয়ে একদিন ছুটির ঘণ্টা বেজে উঠল স্কুলের। গেট খুলে দিল নূরদা। আমরা বাড়ি ফিরে এলাম দ্রুত। মাথার ভেতর তখন কেবলই মাধ্যমিক প্রস্তুতি।

পরীক্ষা এল ঝকঝকে তকতকে রঙিন প্রশ্নপত্রে। বুক দুরু দুরু। বুক দুরু দুরু পেরিয়ে সে চলেও গেল খুব তাড়াতাড়ি।

তার সাথে আমার শেষ দেখা হল মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট আনতে গিয়ে। পাশ করার আনন্দ উত্তেজনায় সে তখন অন্য ঠিকানায় নিজের চুমু ছুঁয়ে দিচ্ছিল, সেই চুমু যা কিনা একদিন আমার দিকে এগিয়ে এসেছিল আমার জীবনের প্রথম চুমু হয়ে। নিমিষেই আমার পাশ করার আনন্দ গেল উবে। আমি ফেল করার দুঃখ নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।

তারপর বহুকাল কেটে গেছে। তার নামও প্রায় ভুলে যেতে বসেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বাড়ি ফেরার পথ, আমায় আজ আবার সেই স্কুল, তার বাড়ির বারান্দার সামনে এনেছে। দোকানে বসে বসে চা সিগারেট খাচ্ছি। মনে পড়ছে। এইসব রাস্তায় আগে বিকেল জুড়ে আমার সাইকেল চড়ে বেড়াত। শুধু জানালা পেরিয়ে একবার তাকে দেখতে পাব বলে।

স্মৃতিকাতর। এই উত্তেজনায় দোকানের ভিতর থেকে হঠাৎ অন্যমনস্কভাবে যেন তাকেই উল্টোদিকের বারান্দায় দেখতে পেলাম। পুরোনো দিনের মতো। প্রথমে আবছা, তারপর স্পষ্ট থেকে আরো স্পষ্টতর হল তার মুখ। স্কুল ইউনিফর্ম; সাদা চুড়িদার, সাদা ওড়না, সাদা হেয়ার ব্যান্ড। রাস্তা পেরিয়ে এল দোকানের সামনে। আমাকে অবাক করে দিয়ে, ডাকনাম ধরে ডাক দিল। শরীর, শান্ত অবশ হয়ে গিয়ে উচ্চারণ হারিয়ে ফেলল আমার গলার স্বর। এগিয়ে এল সে আমার দিকে, দোকানভর্তি সবাইকে উপেক্ষা করে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল। এবড়োথেবড়ো অজস্র চুমুতে ভিজিয়ে দিল আমার শুকনো ঠোঁট। ভেজা ঠোঁট নিয়ে আমিও এগিয়ে গেলাম তার ঠোঁটে আর তখনই সিগারেটটা পুড়তে পুড়তে আঙুলে ছ্যাঁকা দিয়ে আমায় জাগাল। ততক্ষণে আমার হ্যালুসিনেশন পেরিয়ে সে চলে গেছে অনেকটা দূর। যেখানে বাস্তব নামের একটা গাঁ আছে। তীব্র ঝাঁকুনি সমেত অপাচ্য স্মৃতির বমি হল এইমাত্র। আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। বাইকে স্টার্ট দিলাম। ফেরার পথ এখন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

ঘরে ফিরেই ধপ করে বসে পড়লাম মেঝের উপর। আলো নিভিয়ে সিগারেট ধরালাম একটা। চোখ বুজে ঘটনার রিক্যাপ করছি আর প্রতিটা সিনে সিনে পজ্ করে দেখে নিচ্ছি ছিঁটেফোঁটা মনখারাপের দাগ কোথায় রয়ে গেছে কিনা। ডিটেইলে। এইবার আমার সুস্থ মনকেমন আমায় ধীরে ধীরে জানান দিতে লাগল, স্কুলের সিঁড়ি ঘরে ফেলে রেখে আসা চুমু। জীবনের সেই মিস করে যাওয়া প্রথমটা। আমার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছে আজ, একটু আগেই। স্পর্শসুখে চোখ বুজে আসছিল…

আলো জ্বলে উঠল।

পোড়খাওয়া সিগারেট ছুঁড়ে ফেলে, আমি খাটে গিয়ে স্মৃতিদের দিকে পাশ ফিরে শুলাম। আলো নিভে গেল…

 

প্রশ্নবোধক

জানালার নিচে একটা সাদা অ্যাম্বাসেডর দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বুড়ো হয়ে গেছে। স্থির। সে কোথাও যাচ্ছে না আর। তিনটে কাক। একটা কালো বেড়াল। আর টায়ারে পেচ্ছাপ করতে আসা কুকুরের দল। আপাতত এরাই রোজ তার কাছাকাছি এসে বসে। শিমুল গাছ। ন্যাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে তার মাথার কাছে।

ভোরবেলা। সবার প্রথমে আসে কাকগুলো। ডেকে ডেকে ডেকে ঘুম থেকে তোলে তাকে। তারপর  অপেক্ষা না করেই। ফুরুৎ করে উড়ে চলে যায়। আর কালো বেড়ালটা এসে ঢোকে সিনে। ড্রাইভার এর সীটে বসে। জং ধরা ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে অবশেষে সে থামে পাড়ার নেড়ি গুলোর ঘেউঘেউ-এ। এখন থেকে সারারাত ওর মালিকানা এই নেড়ি গুলোর। এভাবেই তাকে রোজ দেখা যায়। আমাদের নির্বাক জানালার দিকে তাকিয়ে সেও আমাকে দেখে নেয় বার তিনেক ঘুমোতে যাবার আগে। মা এসে জানালা বন্ধ করে দেন।

গায়ে পানের পিক ফেলতে ফেলতে কোনও কোনওদিন ফেরিওয়ালা হেঁটে চলে যায় তার পাশ দিয়ে। দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে। রমজান চাচা এগিয়ে আসেন। দরজাটা খুলে যায়। আধখোলা দরজা দিয়ে আমের আচারের গন্ধ নাকে আসে। ঠাম্মা আচার ভালোবাসেন খুব। ঠাম্মা ফিরিয়ে দেন ফেরিওয়ালা। আমি শুধু খাই বোটল ভর্তি স্যালাইন। সিরিঞ্জ ভর্তি ওষুধ। শুয়ে শুয়ে জানালার দিকে স্থির চেয়ে থাকি। কোথাও যাচ্ছি না আমি। আমার মাথার কাছে এসে বসে মা। হাত বুলিয়ে দেন সারা দুপুর। জবাফুল মাথায় ঠেকান। আঁচলে মুখ ঢেকে কাঁদেন আড়ালে। রাত্রে বাবা এসে স্যালাইন বোটল পাল্টে দেন। চাদর টেনে দেন গায়ে। সত্যজিৎ, রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি পড়ে শোনান। আমার বুকসেল্ফের থেকে নামিয়ে। গল্প শেষ হয়ে এলে। বাবা নিঃশব্দে চলে যান নিজের ঘরে। আমি থাকতে বলি আরও কিছুক্ষণ আমার কাছে। বাবা শুনতে পান না।

এখন শীতকাল। বহরমপুর থেকে প্রতিবছর এসময় আলাউদ্দিন চাচা আসতেন। লেপ, তোষক, বালিশ বানিয়ে দিতেন। এবারে আসেননি এখনও! রোজ রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবি আমার এই লেপখানি আলাউদ্দিন চাচার বানানো। অবশ শরীর উষ্ণ হয়ে ওঠে! টের পাওয়া যায় না। ভরসা পাই আলাউদ্দিন চাচার তুলোয়। বুননে। হাতের কাজে। কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জানালার কাঁচ। কুঁই কুঁই শব্দ ভেসে আসছে ওপার থেকে। এবার এলে আলাউদ্দিন চাচাকে বলব। ওই নেড়ি গুলোর জন্যে একটা লেপ বানিয়ে দিতে। ইচ্ছে হয়েছে কতবার। ওই গাড়িটার ভেতর রেখে আসি। আমার লেপখানি। যদ্দিন না আলাউদ্দিন চাচার কোনও খবর আসে। কেউ শুনতে পায় না আমার কথা। মনে মনে সারাক্ষণ কত কী অভিযোগ যে বলেই চলেছি। একসময় নিজেই থেমে যাই। তারপর সারারাত ধরে নেড়িদের কাতর কুঁই কুঁই শুনি।

সিন পেরোতে পেরোতে একদিন এমন হল। কোনো কাকের ডাকাডাকি না পেয়ে। খোলা জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখি। কাক তিনটে মুখ ভার করে বসে আছে। পাড়ার নেড়িগুলো বিড়ালটাকে সঙ্গে নিয়ে মৌন। শোকসভা। আর দূর কোনও গ্যারেজের থেকে। থেকে থেকে শুধু। লোহা কাটার আওয়াজ ভেসে আসছে…

হঠাৎ। আমার ঘুম ভেঙে গেল। কুঁই কুঁই শব্দে। গোঙাতে গোঙাতে। আমি এতবছর পর এই প্রথম কথা বললাম।

…”সাদা অ্যাম্বাসেডরটার কী হল? যেটা আমায় ধাক্কা মেরেছিল?”

 

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1430 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...