ঈশিতা দে সরকারের কবিতা

ঈশিতা দে সরকার

অবসাদ @

 

একটা দিন ধুলো।
একটা দিন পাঁচতলা থেকে ছোঁড়া আবর্জনা।
পুরকর্মী সবটা নেয় না।
রাখে; রাতপ্রহরীর জন্য।
আমার প্রতিটা উড়িয়ে দেওয়া দিনরাতে
প্রহরীর শুকনো চোখ ঝুলে থাকে;
লাঠিতে মুখ গুঁজে সে ভাবে;
সবকটা অপচয় জমাতে পারলে;
তার পঙ্গু স্ত্রী উঠে দাঁড়াতে পারত।

 

জন্মদিনে….

 

ততটা বলিনি।
বলার পর ঝুঁকে যাও যদি…
তুমি তো গাছ নও;
জলের সামনে উড়ু ভেজাতে পারবে না প্রকাশ্য সমাবেশে।
জল থেকে বেরোনো হাত গাছের শরীরে শীতলপাটি বিছোয়।
প্রতিটা গাছ শরীরী;
জলের তাতে অগাধ সম্মতি।
এ দেহতত্ত্ব তোমাকে শোনাবে বলে; দুপুর উপুড় করেছে দরবেশি গানের খাতা।
কথা গুছিয়েছে চায়ের পাট
যাও ওদের কাছে;.
একটা চক পড়ে আছে।
ছোঁও;
রুটিনে আঁকবে বলেছিলে মাধুকরী পথ।
জন্মদিনে…

 

জীবন বিজ্ঞান

 

বালিশ প্রত্নতাত্ত্বিক।
হাত হেরিটেজ।
হাতে মেহনতি বাঁক; বালিয়াড়ি শ্রম।
ফিকে শ্রম ভোরের পেটের কাছে আজান হয়ে শুয়েছিল।
মনে আছে;
মনে আছে; রুকস্যাকে গিঁট না দিলে প্রেম বায়বীয় ভীষণ…
এখন শুধু মা-বাবার ওষুধ মনে থাকে।
মায়ের আবছা হয়ে আসা স্মৃতি;
বাবার অনর্গল একা একা বলা কথায় একটা নদী আসে রোজ।
মাকে তখন গানের মত দেখায়; বাবা সঙ্গতে।
ভুলে যাই; প্রিয় পুরুষ ও তার সন্তানের নামকরণ উৎসব।
গাছে গাছে ধৈর্য্যের ইস্তেহার ফুল হয়ে ফুটেছে।
ফুটছে চোখ; ভাত; ডিম।
আমি জন্মেছি; বা জন্মের মত দেখতে আমাকে…

 

কোথায় পাব তারে….

 

ঠোঁট পড়ে আছে মাঠে।
চুমু ধার চেয়েছে শিলিগুড়ি এক্সপ্রেস।
এমন সন্ধ্যায় ইমন; বিলাবল স্বরলিপি ছেড়ে উঠে আসে।
ঠান্ডা নামছে অর্ধনমিত পতাকার মত।
পতাকার নীচে কৃষকের কোরিওগ্রাফি।
ধান গাছ নাচে।
নাচ থেমে যায় মাঠ; বাজার পেরিয়ে এলে;
ছেঁড়া ঘুঙুর ভাত হয়ে ফোটে হাঁড়িতে।
থালায় থালায় বিধবা ঘোমটার ভাঁজ।
কৃষক মাঝরাতে মুদ্রাচর্চা করে।
পড়ে থাকা ন্যাতানো চুমুর জিভে গুঁজে দেবে সঙ্গমের কাঠামো…
এ আবাদ ঈশিতা জানে না।
জানলে নাম ডাকার খাতায় অন্নসংস্থানের রোদ জমত।
যে রোদ কোনওদিন আত্মহত্যার পায়জামাকে শুকিয়ে তোলেনি…

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1180 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*