বাজার-পুঁজি-মুনাফা, নব্যউদারপন্থী স্বাস্থ্যনীতি বনাম সবার জন্যে স্বাস্থ্য

বাজার ও স্বাস্থ্য

বিষাণ বসু

 

How people themselves perceive what they are doing is not a question that interests me. I mean, there are very few people who are going to look into the mirror and say, ‘That person I see is a savage monster’; instead, they make up some construction that justifies what they do. If you ask the CEO of some major corporation what he does he will say, in all honesty, that he is slaving 20 hours a day to provide his customers with the best goods or services he can and creating the best possible working conditions for his employees. But then you take a look at what the corporation does, the effect of its legal structure, the vast inequalities in pay and conditions, and you see the reality is something far different.

Noam Chomsky

হঠাৎ করেই কথাটা চোখে পড়ে গেল। বারচারেক পড়লাম। আর, অদ্ভুতভাবেই, পাঁচতারা হাসপাতালের কিছু বড়কর্তার মুখ মনে পড়ে গেল। হ্যাঁ, সেইসব বড়কর্তাদের কয়েকজন ডাক্তারিও পড়েছেন।

ব্যক্তিগতভাবে এঁদের কয়েকজনকে চিনিও। এঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা ব্যক্তিজীবন ও পেশার ক্ষেত্রে সৎ, দায়িত্ববান, পরিশ্রমী, দায়বদ্ধ, দক্ষ এবং যোগ্য। কিন্তু, এঁদের এই পরিশ্রম-দক্ষতা-দায়বদ্ধতার ফসলটা ঠিক কেমন দাঁড়াচ্ছে? বা সেই ফসলের লাভের কড়ি গুণছেন ঠিক কারা?

অসুখ শেষে হাসিমুখ পরিজন যখন শুধুমাত্র হ্যাপি কাস্টমার হিসেবেই বিবেচ্য হন, তখন অঙ্কটা আপাতসহজ মনে হলেও সমাধান জটিল হয়ে ওঠে।

কেননা, এর ঠিক বিপরীতেই থাকে চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া, ডাক্তারদের প্রাণপণ চেষ্টাতেও সুস্থ হতে না পারা কিছু মানুষের মুখ। কেননা, চিকিৎসা তো, এখনও, কোনও সুনিশ্চিত বিজ্ঞান হয়ে উঠতে পারেনি।

অতএব, কড়ি গুণে তেল মাখার হিসেব বুঝে নেওয়া অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। অতএব, আনহ্যাপি এবং ক্রুদ্ধ কাস্টমারও নিশ্চয়ই জাস্টিফায়েড— অন্তত সেই বিশেষ মুহূর্তে জাস্টিফায়েড— যখন একদিকে সারি সারি কাস্টমারের হাস্যোজ্জ্বল মুখ বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে।

না, চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া রোগীপরিজনের আছড়ে পড়া ক্ষোভের জাস্টিফিকেশন হিসেবে এই লেখা নয়।

এইটুকুই বলার, যে, রোগীকে কাস্টমার বা ক্রেতা হিসেবে দেখার এইটাই মুশকিল। ক্রেতারা যুগের হাওয়া মেনে (বা বচ্চনজির পরামর্শ মেনে) ইদানিং সচেতন গ্রাহক। একশ্রেণি যখন হ্যাপি কাস্টমার এবং আপনি যখন নিজের প্রোডাক্ট দিয়ে তাঁদেরকে স্যাটিসফাই করে যারপরনাই খুশি, এবং সেই খুশির খবরটি ফলাও করে বিক্রিও করছেন,  তখন আরেকপক্ষের আনহ্যাপিনেসের দায় আপনাকেই নিতে হবে, নিতেই হবে।

এই অবস্থা যদি মেনে না নিতে চান, তাহলে ব্যবস্থাটাকেই বদলানোর কথা ভাবুন। যে বিশাল কারখানার আপনি একজন দক্ষ কিন্তু ছোট্ট অংশ, সেই কারখানাটির লক্ষ্য কিন্তু আরোগ্য বা সুস্বাস্থ্য নয় (যেটা আপনি বিশ্বাস করেন), সেই কারখানার এক এবং একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা।

কাজেই, সেইসব দক্ষ কর্পোরেট স্বাস্থ্যকর্তারা নিজেদের সম্পর্কে যে ধারণাই পোষণ করুন না কেন, কর্পোরেট মুনাফা বৃদ্ধি বাদ দিয়ে তিনি আর কিছুই করছেন না।

এই মুনাফাবৃদ্ধির উল্টোপিঠে, প্রতিবছর, স্রেফ চিকিৎসা করাতে গিয়ে, নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাচ্ছেন যে কয়েক লক্ষ মানুষ, যাঁরা কিনা আমার-আপনারই সহনাগরিক, কিন্তু কোনও অলৌকিক উন্নয়নের ছটায় যাঁরা অদৃশ্য হয়ে থাকছেন আমার-আপনার চোখের সামনে— না, লেখার শুরুতেই যাঁদের কথা বলেছি, সেইসব সৎ-দক্ষ-যোগ্য-দায়বদ্ধ পেশাদার বন্ধুদের মেধা এইসব সহনাগরিকদের সহায়তার জন্যে নেই। বা বলা ভালো, সহায়তার জন্যে থাকতে পারছে না এবং সেই না থাকাটুকু এইসব মেধাদীপ্ত ঝকঝকে মানুষগুলো বুঝতে পারছেন কি? বুঝতে চাইছেন কি?

*****

বস্তুত, মুনাফা আর বিশ্বাস একসাথে হয় না, হতে পারে না। না, কথাটা আমার নয়, অর্থনীতিবিদ কেনেথ অ্যারোর।

কিন্তু, বিশ্বাসকে ভাঙিয়ে মুনাফা?

স্বাস্থ্যচিকিৎসাকে কেন মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবে ছাড়া যায় না, বা ছাড়া উচিত নয়, সেই নিয়ে এত বড় বড় মানুষ এত বিভিন্নরকমের লেখা লিখে গিয়েছেন, তার পুনারাবৃত্তি বাহুল্য মাত্র।

বাজার-এর হাতে স্বাস্থ্যকে ছাড়ার বিপরীতে যুক্তিগুলোও বহুশ্রুত। বারবার শুনে নিশ্চয়ই আপনিও ক্লান্ত। অবশ্যই, যুক্তিগুলো তো আপনি জানেনই।

যেমন ধরুন, দামে না পোষালেও কেনার বাধ্যবাধকতা থাকলে, যেমন একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ক্ষেত্রে, বাজার-কথিত চয়েসের স্বাধীনতা থাকে না। যেমন ধরুন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী-চিকিৎসকের মধ্যে তথ্যের সাম্য কখনওই সম্ভবপর নয়, যা কিনা মুক্ত বাজার-এর অনিবার্য শর্ত। যেমন ধরুন, চিকিৎসার ফলাফলের মতো একটি অনিশ্চিত বিষয়কে কেনাবেচার প্রোডাক্ট হিসেবে বিচার করা অসম্ভব, এবং অর্থের বিনিময়ে প্রোডাক্ট বুঝিয়া পাইলাম এই বিবেচনা রোগী-পরিজন-ক্রেতার পক্ষে অসম্ভব। যেমন ধরুন, ক্রেতা-বিক্রেতা বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ কোনও তৃতীয় পক্ষের যদি যদি লেনদেনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এই যেমন ছোঁয়াচে রোগী যদি আর্থিক টানাটানিতে চিকিৎসা না করিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন এবং এলাকায় রোগজীবাণু ছড়াতে থাকেন, সেইখানেই বা অবাধ মুক্ত বাজার-এর নিয়মে খেলব কেমন করে?

তবু, দিনের শেষে কোনও যুক্তিই খাটে না। অমোঘ একই কথা শুনে যেতে হয়, এছাড়া তো পথ নেই।

বিশ্বজুড়ে বাজার অর্থনীতি একই বাণী অহরহ শুনিয়ে চলেছে, শুনিয়েই চলেছে— There is no alternative, সংক্ষেপে TINA.

তাহলে?

তাহলে আর হেরে যাওয়া লড়াইটা লড়ে যাওয়ার মানে কী!! এই ব্যবস্থার মধ্যে যেটুকু সামলেসুমলে চলা যায়, এটুকুই? চিকিৎসার খরচ লাগামছাড়া হয়ে গেলে, আমরা কিনে নেব আরও বেশি কভারেজের স্বাস্থ্যবিমা, সরকার সরাসরি বিনামূল্যে চিকিৎসার দায় এড়িয়ে তৃতীয় পক্ষের হাত দিয়ে স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে নাগরিকের স্বাস্থ্যের দায় ঝেড়ে ফেলবেন, প্রাথমিক এবং নিবারণী স্বাস্থ্যের কথা ভুলে রোগ বাড়িয়ে হাইটেক চিকিৎসার দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবো সবাই— শেয়ারের দর বাড়বে, বেড়েই চলবে স্বাস্থ্যব্যবসার, বিমাব্যবসার, বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির— আর এই খেলায় পেরে না উঠে রিং-এর বাইরে ছিটকে পড়বেন, পড়তেই থাকবেন দেশের অনেক মানুষ, বেশিরভাগ মানুষ। আর, আমরা বলব, না, দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ।

না, অন্যভাবে না ভাবলেই যে নয়!! আর বিকল্পের ভাবনাটা শুরু হোক না কথাবার্তা-আলোচনা দিয়েই।

We live in capitalism. Its power seems inescapable. So did the divine right of kings. Any human power can be resisted and changed by human beings. Resistance and change often begin in art, and very often in our art, the art of words.

Ursula K. Le Guin

*****

মোটামুটি বিগত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকেই, দেশে আর্থিক উদারবাদের পদার্পণের পাশাপাশিই, এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বৃহৎ পুঁজির রমরমা শুরু।

না, চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রাইভেট সেট-আপ তার আগেও ছিল, কিন্তু সে ছিল মূলত প্রাইভেট চেম্বার বা ছোট-মাঝারি নার্সিং হোম। দেশীয় বৃহৎ পুঁজির মালিকানাধীন নার্সিং হোম যে ছিল না, এমন নয়— কিন্তু, সে প্রায় ব্যতিক্রম।

বৃহৎ পুঁজি, বা এককথায় সিরিয়াস কর্পোরেট মানি-র আনাগোনা ওই নব্বইয়ের আশেপাশেই। পরবর্তী তিনটি দশকে দেশের চিকিৎসার চালচিত্রে বদলটি লক্ষ্যণীয়।

  1. একদিকে, চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবনীয় উন্নতি। বিশ্বের প্রায় সেরা মানের চিকিৎসার উপযুক্ত পরিকাঠামো বা সমতুল টেকনোলজি এখন মেলে যেকোনও মেট্রো শহরে।
  2. চিকিৎসার লাগামছাড়া ব্যয়। প্রাণে মারা যাওয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে ধনেপ্রাণে মারা যাওয়ার সংখ্যা কিছু কম নয়। স্রেফ চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর দেশের কয়েক লক্ষ মানুষের নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে যাওয়ার যে বাস্তবতা, তার পিছনে এই অর্গ্যানাইজড প্রাইভেট হেলথকেয়ারের অবদান কিছু কম নয়।
  3. চিকিৎসকদের সামাজিক অবস্থানের অবনতি। বা, এক কথায় বলতে গেলে, প্রায় অযাচিত যে সামাজিক সম্মান চিকিৎসকেরা পেতে অভ্যস্ত ছিলেন বহু শতাব্দী যাবত, সেই সম্মানটি থেকে চিকিৎসকেরা বঞ্চিত হতে শুরু করলেন— বলা ভালো, প্রায় নির্বিচারে চিকিৎসকেরা পেশাগতভাবে অসম্মানিত হতে শুরু করলেন।

এতে অবশ্য খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষ করে আপনি যদি একথা জেনে থাকেন, যে, প্রায় পৌনে দুই শতক আগেই, দুই দাড়িওয়ালা বন্ধু মিলে এইসব কথা বলে গিয়েছিলেন। না, তাঁরা জ্যোতিষচর্চা করছিলেন না, তাঁরা ইতিহাসের ধারাটিকে অনুধাবন করেছিলেন মাত্র। দুর্ভাগ্য, কোনও গভীর অধ্যয়নের প্রয়াস ছাড়াই, ইদানিং, সেই ভাবনাগুলোকে বাতিলের দলে ফেলতে চাইছেন অনেকে।

পুঁজির বৈপ্লবিক ভূমিকার কথা তাঁরা বলেছিলেন সেই ছোট্ট চটি বইয়ে। বলেছিলেন, পুঁজির হাত ধরে আধুনিক প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি এবং তার নতুন নতুন প্রয়োগের কথা। বলেছিলেন, প্রযুক্তির উন্নতির সুফলের দেশের বেড়া ডিঙোনোর কথা।

জানিয়েছিলেন শোষণের নতুন নতুন প্রকরণের কথাও। দ্বিধাহীন ভাষায় জানিয়েছিলেন, “In one word, for exploitation, veiled by religious and political illusions, it has substituted naked, shameless, direct, brutal exploitation.” কৃষিঋণে জর্জরিত চাষি, শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত মজদুর, ক্রমসঙ্কুচিত সরকারি চিকিৎসাকাঠামোয় হতাশ রোগী-পরিজনের বেসরকারি স্বাস্থ্যপরিষেবা পেতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই পথে বসা— কোনও এক জায়গায় মুখগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

মজার ব্যাপার হল, এই ব্যবস্থায় শোষকের মুখটি থাকে অন্তরালে। শোষণ জারি থাকে যে মুখকে সামনে রেখে, তিনিও শোষিত। সেই মুখটি চিকিৎসকের। শুনতে অবাক লাগলেও, বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মুনাফা অর্জনের মুখ্য হাতিয়ার এবং মুখ যে চিকিৎসক, তিনিও নির্মম শোষণের শিকার। কর্পোরেট প্রভুর শেয়ারের দাম চড়চড় করে বাড়তে থাকলেও তাঁর বেতন বাড়ে না তেমনভাবে, তাঁর নাম করে ব্যবসা হলেও রোগীর চিকিৎসাব্যয়ের দশ কি পনেরো শতাংশ জোটে তাঁর ভাগ্যে, বিভিন্ন তথাকথিত জনকল্যাণকর প্রকল্পে হাসপাতাল যোগ দিলে তাঁর সেই প্রাপ্য ভাগ গিয়ে ঠেকে চার কি পাঁচ শতাংশে, তাঁর আয়ের এবং চাকরির বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা নেই, এবং হাসপাতালের কর্মপদ্ধতির উপরে তাঁর নিয়ন্ত্রণ থাকা তো দূরের কথা, নিজের চাকরিটি নিয়ে অনিশ্চিত চিকিৎসকের কণ্ঠস্বরটি শোনানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও নেই।

এক বিরাট শোষণযন্ত্রের অংশ হয়ে, চিকিৎসকের হাতেও লেগে থাকে কাদারক্তের চিহ্ন— দুর্নীতির অংশ হয়ে যান তিনিও, যিনি কিনা নিজেই শোষিত।

আর চিকিৎসক বা যেকোনও পেশার সাথে জড়িত মানুষের সামাজিক সম্মান?

The bourgeoisie has stripped of its halo every occupation hitherto honoured and looked up to with reverent awe. It has converted the physician, the lawyer, the priest, the poet, the man of science, into its paid wage-labourers.

Karl Marx & Friedrich Engels (The Communist Manifesto)

*****

তাহলে, এই বিপুল চিকিৎসাশিল্পের (আর্ট অর্থে নয়) বেতনভুক ঠিকে-শ্রমিক চিকিৎসকেরা কেমন আছেন। আপনাদের ভালো থাকা বা না থাকার সাথে তাঁদের পরিস্থিতির যোগাযোগ কতটুকু?

উত্তর পেতে হলে, চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু কিছু একেবারে বুনিয়াদি বদলের কথা ভাবুন। আগে অসুখবিসুখ না হলে আপনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেন না। কিন্তু, এখন স্বাস্থ্যসচেতনতার ঠেলায় দিব্যি সুস্থ শরীরেও আপনি হাসপাতাল যাচ্ছেন, বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষানিরীক্ষা করাচ্ছেন, টুকটাক ওষুধপত্তরও খেতে হচ্ছে। এতে আপনার লাভ কতখানি হচ্ছে, নিশ্চিত করে বলা কঠিন— কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবসার সাথে যুক্ত কর্পোরেটদের লাভ হচ্ছে বিলক্ষণ। তাঁদের ব্যবসার জন্যে কাস্টমারের জোগান থাকছে অব্যাহত।

আগে অসুস্থ হলে আপনি ডাক্তারের কাছে যেতেন, এখন যান হাসপাতালে। আগে আপনি ডাক্তারকে ভরসা করতেন, এখন চেনেন হাসপাতালটিকে এবং ভরসা করেন যে এত বড় হাসপাতালে যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে খুব যোগ্য। আর এই বিশ্বাসের উল্টোপিঠেই, ঝাঁ চকচকে পাঁচতারার বাইরে যেসব ডাক্তার রয়েছেন, তাঁদের প্রতি অবিশ্বাস— যদি এলেম থাকত, তাহলে কি ওইসব হাইফাই হাসপাতাল এদের খেলতে নিত না!!

পাঁচতারা হাসপাতালে চিকিৎসা একটি বিপণনযোগ্য পণ্য। পয়সা দিন, চিকিৎসা কিনুন। কিন্তু, খেয়াল করুন, বিজ্ঞাপনে কখনওই চিকিৎসা কেনার কথা বলা হয় না, কেননা চিকিৎসায় মানুষের আগ্রহ কম। বিজ্ঞাপনে বলা হয়, আপনি সুস্থতা বা স্বাস্থ্য পেতে আসছেন। নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আপনি স্বাস্থ্য ফিরে পেতে আসছেন। ফারাকটি আপাত সূক্ষ্ম হলেও তাৎপর্যে গভীর। চিকিৎসা কেনার পরেও আপনি সুস্থ নাও হতে পারেন। কিন্তু, আপনি যদি সুস্থতা কিনতেই আসেন, সেখানে আপনাকে সুস্থ করা না গেলে প্রায় প্রতিশ্রুতিভঙ্গ বলে বোধ হয়। এবং অনিবার্য রাগ হয়।

সমস্যা হল, আপনার সেই রাগ-ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার মুহূর্তে আপনি সামনে পাচ্ছেন না সেইসব বিপণন-বিজ্ঞাপনের ভারপ্রাপ্ত মানুষগুলোকে, বা এর আর্থিক লাভের গুড় পৌঁছাচ্ছে যাঁদের ঘরে, তাঁদেরকেও। সামনে থাকছেন শুধুমাত্র চিকিৎসক, বিজ্ঞাপন ঝলমলানোর মুহূর্তে যাঁর মতামতটুকুও নেয়নি কেউ।

কড়ি ফেলার পরে তেলটুকুর উপর আপনার অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্যে রয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আইন। নিজেদের নিরাপদে রাখতে চিকিৎসকেরা একটুও ঝুঁকি নিচ্ছেন না৷ করাচ্ছেন অসংখ্য পরীক্ষানিরীক্ষা। চিকিৎসার খরচ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আপনার লাভ হচ্ছে কিনা নিশ্চিত নই, কিন্তু এই পরীক্ষানিরীক্ষার লাভের কড়ি গুণে নিচ্ছেন কারা?

আদালতে চিকিৎসার ঠিক-বেঠিক বিচার করবেন অচিকিৎসক আইনজীবী। তাঁর ভরসা ইন্টারনেট খুঁজে বের করা আপ-টু-ডেট গাইডলাইন। সেইসব গাইডলাইনের উপর অনিবার্যভাবেই বৃহৎ ওষুধ কোম্পানির প্রভাব। নতুন গাইডলাইন অনুসারে নতুন ওষুধ দিয়ে বাড়তি তেমন সুবিধে নেই জানা সত্ত্বেও চিকিৎসক তা-ই লিখবেন, স্রেফ নিজেকে বাঁচাতে। চিকিৎসার খরচ বাড়বে আপনার, লাভের গুড় খাবেন বৃহৎ পুঁজি।

আগেই বলেছি, আপনার চিকিৎসার খরচের খুব একটা ছোট ভগ্নাংশই পৌঁছোয় ডাক্তারের ঘরে। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আদালতের ক্ষতিপূরণের আদেশের সিংহভাগ মেটানোর দায়িত্ব তাঁদের উপরেই ন্যস্ত। অতএব, আদালত-ক্ষতিপূরণ-আউট-অফ-কোর্ট সেটলমেন্ট এইসব হ্যাপা-খরচ থেকে বাঁচতে চিকিৎসক বিমা করাবেন, মেডিকেল ইনডেমনিটি ইনশিওরেন্স। লাভ কার? বিমাব্যবসায়ীদের। বৃহৎ পুঁজির।

এই ঘটনাক্রম বাড়ানোই যেত। কিন্তু, আশা করি, মূল বিষয়টার কিছুটা বোঝানো গিয়েছে। আর, তাছাড়া খামোখা আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়াও তো কোনও কাজের কথা নয়।

এখন প্রশ্ন এইটাই, যে, এই অবস্থা এই পরিস্থিতিকে অনিবার্য বা ভবিতব্য বলে মেনে নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন?

নাকি বিকল্প পথের কথাও ভেবে দেখবেন?

After all, if you do not resist the apparently inevitable, you will never know how inevitable the inevitable was.

Terry Eagleton

*****

এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা কোণঠাসা, আর্থিকভাবে তুলনামূলকভাবে সক্ষম শ্রেণির মানুষেরা চিকিৎসা করাতে গিয়ে সারাজীবনের সঞ্চয়টুকু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে কাঁটা, আরেকটু আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষেরা চিকিৎসা করাতে গিয়ে পথে বসছেন, আর্থিক সিঁড়িটার একেবারে নীচের সারিতে যাঁদের বাস তাঁরা চিকিৎসা করাতেই পারছেন না।

এদিকে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে এমন মানুষের সংখ্যার দিক দিয়েও আমরা বেশ এগিয়ে। কেননা, সদ্যপ্রকাশিত ব্লুমবার্গ হেলদিয়েস্ট কান্ট্রি ইনডেক্স অনুসারে একশ ঊনসত্তরটি দেশের মধ্যে আমাদের স্থান একশো কুড়িতে, আগের বারের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে (প্রসঙ্গত, আমাদের এক নম্বর শত্রু দেশ, যাদের আক্রমণ করে নিশ্চিহ্ন না করতে পারলে আমাদের অনেকেই শান্তি পাচ্ছেন না, সেই পাকিস্তান রয়েছে আমাদের পিঠোপিঠি, একশো চব্বিশে), ঘরের পাশের বাংলাদেশ এগোতে এগোতে এখন একানব্বই (শুধু এই দফাতেই এগিয়েছে তিন ধাপ)।

মোদ্দা কথা, মুনাফা-বাজার-প্রতিযোগিতার হাতে দেশের নাগরিকের স্বাস্থ্যকে ছেড়ে দিলে এর বাইরে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দেশে তো স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় নামমাত্র, কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরেও এই ব্যবস্থা বলবত রেখে জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব হয় না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণটি দেখুন। দেশের নাগরিকপিছু স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় এগারো হাজার ডলার। স্থান পঁয়ত্রিশ নম্বরে, গতবারের তুলনায় এক ধাপ পিছিয়ে।

একটু তুলনা দিলে প্রেক্ষিতটি স্পষ্ট হতে পারবে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্যখাতে নাগরিকপিছু ব্যয় দুশো চল্লিশ ডলার। খরচের অধিকাংশটাই আসে নাগরিকের পকেট থেকে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় যে দুটি দেশ, স্পেন ও ইতালি, তাদের নাগরিকপিছু ব্যয় সাড়ে তিন হাজার ডলার। একটা সাধারণ সূত্রের খোঁজ যদি করা যায়, তাহলে স্পষ্ট, প্রথম দশটি দেশের প্রত্যেকটিতেই নাগরিকের স্বাস্থ্যের অধিকার সরকার দ্বারা সুরক্ষিত এবং এর প্রতিটা দেশেই স্বাস্থ্যব্যয়ের সত্তর শতাংশ দায়ভাগই বহন করেন সরকার।

স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর বেসরকারিকরণ এবং সরকারি ব্যয়বরাদ্দের সঙ্কোচন হওয়ামাত্র স্বাস্থ্যবান দেশের তালিকায় দেশটির অবনমন ঘটেছে। যেমন, ঘরের পাশে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যের প্রতিটি মাপকাঠিতে ঈর্ষণীয় উন্নতি করার পরে অবশেষে, কয়েক বছর হল, বেসরকারিকরণ ও সরকারি বরাদ্দের সঙ্কোচনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এবারের র‍্যাঙ্কিং-এ তারা এক ধাপ পিছিয়ে এসেছে। পঁয়ষট্টি থেকে নেমে ছেষট্টি।

*****

অতএব, বৃহৎ পুঁজির অবাধ দাপাদাপি, মুনাফার লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা, মুক্ত বাণিজ্যের অভয়ারণ্য হলেই দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না।

আর পাঁচটা দেশের তুলনায় আড়াই তিনগুণ অর্থ ব্যয় করেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে ক্রমশই পিছিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ নাগরিকের সন্তুষ্টির মাপেও সেদেশ বেশ পিছিয়ে।

এইবার ভাবুন, আমাদের এই গরীব দেশে, যেদেশের সরকারের সামর্থ্য নেই মার্কিন দেশের বাজেটবরাদ্দের এক-দশমাংশও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যয় করার, যেদেশে এত বড় সংখ্যার মানুষের বাস দারিদ্র্যসীমার নীচে (অবশ্য দারিদ্র্যসীমার সংজ্ঞাটিই বদলে ফেলে তাঁদের অনেককেই সম্প্রতি দারিদ্র্যসীমার এই পারে এনে আপাতত আশ্বস্ত হওয়া গিয়েছে), যেদেশে মানুষের পক্ষে দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করা এক দৈনন্দিন যুদ্ধ— সেই দেশে, সেই আর্থসামাজিক কাঠামোয় মার্কিন দেশের স্বাস্থ্যমডেলটি চালু করার ফল ঠিক কী দাঁড়াতে পারে?

I’ve learned that in addressing any country’s – and the world’s – most pressing challenges, competition can always be fruitful. This shouldn’t be surprising ; think of how often we hear calls for competitiveness in business, or how we value the achievements of a superior jazz musician or athlete. But while good policy will draw on this tension among competitors, to solve the great social problems before us, from climate change to pandemic disease, we know we need to turn from competitiveness to co-operation and partnership. This is especially true when these problems afflict the poor and marginalized, as they disproportionately do.

Bill Clinton

বাজার-এর হোম গ্রাউন্ডের খাস প্রেসিডেন্টের সুরটি বিস্ময়কর শোনালেও, এ কঠোর বাস্তবসঞ্জাত উপলব্ধি। ছেলেবেলায় দেখা ভ্যাসেকটমির একটি জনপ্রিয় টিভি বিজ্ঞাপনকে মনে রেখে আপনি শ্লেষের সুরে বলতেই পারেন, “বড় দেরি করে ভাবতে বসেছেন মশাই”— কিন্তু, বোধোদয় সবসময়েই স্বাগত, দেরিতে হলেও।

আপনি যদি ভাবেন, আপনি আমি চুপ থাকলেও এই দেশের হর্তাকর্তারাও আপনাআপনিই বুঝেটুঝে সবার সামর্থ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যচিকিৎসার ব্যবস্থা করে ফেলবেন, তাহলে আপনার শিশুসুলভ সারল্যে মুগ্ধ না হয়ে উপায় থাকে না।

শুধু মনে করিয়ে দিই, সেই প্রাচীন দাড়িওয়ালা বৃদ্ধদের অমোঘ উচ্চারণ— “The executive of the modern state is but a committee for managing the common affairs of the whole bourgeoisie.”

আচ্ছা, আপনার কথা মেনেই নিলাম। বর্তমান সঙ্কটের প্রসঙ্গে কথায় কথায় শতাব্দীপ্রাচীন বাতিল হয়ে যাওয়া মার্কস-এঙ্গেলস-কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর উদ্ধৃতি আপনার বিলকুল নাপসন্দ। আপনি তো আর উগ্র বামপন্থী, ওরফে মাকু নন!!

কিন্তু, পশ্চিমী মূলধারার মিডিয়াতেও, নেশন স্টেট-এর স্থানটি যেমনভাবে কর্পোরেটরা দখল করছে, বা বলা ভালো, নব্যউদার অর্থনীতি বা বিশ্বায়নের নাম করে নেশন স্টেটের ছদ্মবেশে যেমন করে কর্পোরেট স্টেট চলছে, সেই নিয়ে বিস্তর লেখালিখি হচ্ছে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই।

কয়েকটি উদ্ধৃতি সেইখান থেকেও দিলাম—

In an era of new economic, social and political challenges, when welfare services and support needs to expand to meet need and demand, globalization is limiting the range of policy options available to states, limiting state sovereignty, entailing a retrenchment of the welfare state in developed nations. If the state no-longer has the capacity to provide the economic and social rights its citizens demand, the question is, what or who will?

Katherine Wall (The end of the Welfare State? How globalization is affecting state sovereignty. Global Policy 17th August 2012)

নাগরিকের অধিকার যদি রাষ্ট্র রক্ষা করতে না পারেন, বা রক্ষা করার চেষ্টাটুকুও না করেন, তাহলে নাগরিকের সামনে বিকল্প রাস্তা কী?

Two hundred years ago, nations were the undisputed realms of power. Countries would go to war to fight boundaries, secure trading rights and defend lucrative markets. Regions would be colonized by nations. Empires rose and fell……..In the past 100 years, we’ve seen the rise of corporations as the true embodiment of power…….In the last 50 years of globalization especially, corporations have taken over control.

Peter Hinssen (How Power is shifting from Nations to Networks, Forbes 6th June, 2017)

সন্দেহের অবকাশ নেই, কর্পোরেট শক্তিশালী হতে হতে ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র প্রায় ঠুঁটো জগন্নাথ।

If you look outside your window, the world is telling us that neoliberal globalisation has transferred too much power from states to multiple transnational corporations……..It has become clear that neo-liberal globalisation has intertwined capital and power together.

Aidan Green (Are Multinationals now more powerful than the Nation State? Spectator, Australia, 18th September, 2014)

অতএব, পুঁজি ও রাষ্ট্রক্ষমতা যখন মিলেমিশে একাকার, সেইখানে রাষ্ট্রের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী হতে পারে? রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, মনে রাখুন, তাঁরা আপনার-আমার স্বার্থরক্ষা করার জন্যে বসে নেই। তাঁদের দায়বদ্ধতা বৃহৎ পুঁজির প্রতি। বৃহৎ পুঁজির স্বার্থরক্ষাই তাঁদের এক এবং একমাত্র লক্ষ্য, কর্তব্য। এইটুকু নিশ্চিত করে বুঝলেই, বাকিটুকুও বুঝতে আর অসুবিধে থাকে না—

It helps explain the otherwise inexplicable: the creeping privatisation of health and education, hated by the vast majority of voters; the private finance initiative, which has left public services with unpayable debts; the replacement of the civil service with companies distinguished only by incompetence; the failure to re-regulate the banks and collect tax; the war on the natural world; the scrapping of the safeguards that protect us from exploitation; above all, the severe limitation of political choice in a nation crying out for alternatives.

George Monbiot (Taming Corporate Power : The Key Political Issue of Our Age; The Guardian, 8th December, 2014)

স্বভাবতই, সবার জন্যে স্বাস্থ্য নিয়ে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকরা ভাবিত নন, ভাবিত ছিলেনও না কখনও। বেকায়দায় পড়ে সেই কথা উচ্চারণ করতে বাধ্য হলেও তাঁরা বেছে নেন স্বাস্থ্যবিমার পথ। যে পথে নাগরিকের স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকার প্রিমিয়াম মিটিয়েই হাত ধুয়ে ফেলবেন, আর ফুলেফেঁপে উঠবে বিমাব্যবসা। ফুলেফেঁপে উঠবে বৃহৎ কর্পোরেট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেসাতিও, কেননা বিমাকৃত রাশির সুবাদে সমাজের প্রান্তিক মানুষও তাঁদের কাস্টমার হতে পারবেন (এতদিনের লাগাতার প্রচারে মানুষের মনের গভীরে এটুকু গেঁথে দেওয়া গিয়েছে, যে, চিকিৎসা বলতে যা বোঝায়, তা ওই পাঁচতারা হাসপাতালেই হয়। অতএব, সামর্থ্য থাকলে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবাও পাপ।)। পুরো পরিবারের বিমাকৃত রাশি একজনের চিকিৎসার জন্যে খরচা হয়ে গেলে বাকি সবার কী হবে, ভাবার প্রয়োজন নেই, তাই না?

কাজেই, দিনের শেষে প্রশ্ন এটাই, যে, এই অবস্থা নির্বিচারে মেনে নেবেন? নাকি, অন্যভাবে ভাববেন?

নাকি, আগুন পিঠ পুড়ছে, অতএব ফিরে শোয়ার সদুপদেশ আঁকড়ে আরও কিছুদিন ঘুমিয়ে নেবেন?

স্বাধীনতার পর এতগুলো বছর পার হওয়ার পরেও সাধারণ নাগরিকের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান সুরক্ষিত হল না। শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো অত্যাবশ্যক বিষয়গুলিও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি সদিচ্ছের ভরসায়।

শুধু রাজনীতিক-সরকার-কর্পোরেটকে দুষলে হবে? আমরাও বা তেমন করে সোচ্চার হতে পেরেছি কই!!

This is not only about politicians, it is also about us. Corporate power has shut down our imagination, persuading us that there is no alternative to market fundamentalism, and that “market” is a reasonable description of a state-endorsed corporate oligarchy.

We have been persuaded that we have power only as consumers, that citizenship is an anachronism, that changing the world is either impossible or best effected by buying a different brand of biscuits. Corporate power now lives within us. Confronting it means shaking off the manacles it has imposed on our minds.

George Monbiot (Taming Corporate Power : The Key Political Issue of Our Age; The Guardian, 8th December, 2014)

বিকল্পের সন্ধান কি সৎ নাগরিকের অবশ্যপালনীয় কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না? কর্পোরেট লোভের কবল থেকে নিজের দেশকে ছিনিয়ে নিয়ে আসা কি আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না??

আগেই হবে না বলে হাল ছেড়ে বসে থাকাটা তো, আর যা-ই হোক, কোনও কাজের কথা হতে পারে না। একবার জোর গলায় বলেই দেখুন না, “আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব।”

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

3 Comments

  1. অতি উচ্চমানের লেখা। পুঁজির আগ্রাসন সর্বত্র।

  2. The essay by Bishan Basu does what it says on the tin. He represents the concerns of any thinking man what unbridled capitalism might do to people’s access to health service I.e. excluding large section of the population. The author has brought in Marxist economic analysis to explain this. Although it is noteworthy that Adam Smith, who is generally considered the father of modern capitalism also warned about corruption of market economy and talked about social responsibility of which provision of healthcare is a part. The author has alluded to but did not elaborate on role of state or govt. It is quite possible to provide health through general taxation and making it accessible free of charge at the point of delivery with some rationing – the NHS model of UK and very similar model in Canada and Scandinavian countries. There are variation on this model e.g. France, Germany, Australia which are based on state provided insurance. None of these countries are socialist countries yet in case of Health (and Education ) they have adopted a socialist model. US system ,despite spending nearly double that of UK, either as percentage of GDP or per capita (OECD stats) a large part of the population is uncovered or barely covered. That raises the point of political will or lack of it and corruption among politicians. The role of bodies that controls the quality and entrusted with audit is at best feeble at worst almost non-existent. One must not underestimate the role of people, particularly those who can afford to pay . They in a vicarious way contribute to perpetuate an unholy system . It will be wrong to always think of them as exploited victims only. The author has not explored this area- perhaps roles of govt and that of consumers should be topics of his essay sequels. I thank him for raising the profile of this important issue.

আপনার মতামত...