সংহিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

হেঁয়ালিসড়ক

 

এখন দৃশ্যের জন্ম হয় না আর শান্ত বাতাসে
শুকনো পাতার মতো আমাদের চোখ পড়ে আছে
সে চোখে আখ্যান আসে বাজারের নিখুঁত নির্মাণ
উদ্দাম রঙের ঘর বানিয়েছে সড়কের কাছে।
এখন স্বপ্নের দেহ যন্ত্রের নীচেই চমকিত
দালালের মতো তারা নরকের ঋতু বুনে চলে
এ পথে অজস্র কথা, তথ্য, ভিড়, নৈশ উত্তেজনা
দৃষ্টিপথ মুছে গেছে সুপ্রাচীন মিশরীয় জলে!

তবে কি আলোর কথা একান্তই ব্যক্তিগত ভয়?
ইতিহাস হেঁটে যাচ্ছে, দারুচিনি দ্বীপে শুধু ক্ষয়

 

কেবলই মনে হয় আলো ক্রমে চলে যাচ্ছে দূরে
তা হলে মৃত্যু ঘোষণা হল কার অঘ্রাণের শীতে?
ভাসমান ঘরগুলি ভুলে যেতে চায় মায়াজল?
তবে কি নতুন ভোর খাঁ খাঁ করে পণ্য-পৃথিবীতে?

আচ্ছন্ন কুয়াশাখানি মুছে যাচ্ছে দূর পথে নিসর্গের দিকে
বসন্তের সকালে তাই হাতে হাতে উঠে আসে অস্ত্রের ধার
এগুলিই সময়ের, আধুনিক কঙ্কালের ঠোঁটে রক্ত লেগে আছে
হে সড়ক, ইতিহাস, কে জানাবে তুমি তবে কার?

 

তবুও জলের গায়ে সূর্য দিল উচ্ছ্বসিত ঠেলা
যে এখনো কুটির পায়নি, তার বুকে নেমে আসে ছায়ার আভাস
কাঁপাকাঁপা জলকণিকারা স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে আকাশের টানে
নাশপাতি গাছটির নীচেই তখন কারা পুঁতে দিল শিশুদের লাশ

এ এক জটিল খেলা, অনন্ত যুগাবসান হয়ে যায়
আঁধারের পাশটিতে আলো এসে বিদ্রোহ ঘটায়
মূক নই, অন্ধ নই, টিকিটিও বাঁধা নেই হুজুরের কাছে
বর্ণনা করিনি, করব না, দিতে পারি যতটুকু প্রতিক্রিয়া আছে

নীল গ্রহে যত ঘুরি, বুঝি না কে বা আশ্রয় দিতে পারে কাকে
অনন্ত মাটির দেশে হয়ত কোথাও
কোনো গাছের কোটর খোলা থাকে!

 

এমন মাহেন্দ্রক্ষণে যেন পাশে আছে এক অপরূপ  ছায়া
যত ভাবি ছোঁয়া হল, গাছের আড়ালে কেউ সরে সরে যায়
আবার নীরব আমি, চলেছি আঁধার সরু পথে
সহসা মন্দির বেজে ওঠে মনোমাঝে, নাকি বাইরে কোথায়!

ব্যস্ত শহরের পথে, ব্যস্ত স্টেশনে, রিরংসায়
কেউ কেউ খুঁজে চলেছে মানুষের জন্মের উৎফুল্লতার
সঠিক কিছুটা মানে। লোভীর নিষ্ঠুর থাবা কেন আছড়ায়?
ঘুম অত দ্রুত ভাঙে নাকি একবার ঘুমিয়ে পড়লে আর?

সব ছেড়ে যে এসেছে নিভৃত বৈরাগী
তার জন্য আছে ধ্যানাসন, উন্মুক্ত মন্দিরদ্বার!

 

অনন্ত গল্পেরা তবু তরঙ্গের মতো রয়ে গেছে
অনন্ত রঙের কালো ভেসে ওঠে নদীর চরায়
দর্শন ও ইতিহাস রোদ্দুরের পথ ধরে চলে
অনুভূতিদেশ একা ঝরাপাতাপথে হেঁটে যায়

চেষ্টাটি অদ্ভুত, অনন্ত যুক্ত করে নিতে চাওয়া
হয়ত যারা কোনোদিন হবে না সংহত আর
বিনিদ্র ঝড়ের রাত সেই অন্তস্থলে আছড়ায়
তোমার সন্দেহ, প্রিয়, প্রমাণ করিয়া যেতে হবে বারবার!

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1688 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...