যুদ্ধনৃত্য

প্রত্যয়দীপ্ত রুদ্র

 

যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই! এই কথাই আমরা বলে থাকি। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই শান্তিকামী, এমনই বিশ্বাস করতে ভালো লাগে। আবার অনেকে বলে থাকেন কিছু কিছু পরিস্থিতিতে যুদ্ধ অনিবার্য। প্রতিকূলতার সঙ্গে নিরন্তর যুদ্ধ করে বেঁচে থাকাই একমাত্র পথ, তবে সে যুদ্ধ একে অপরের সঙ্গে না হওয়াই কাম্য, এমনটাই নিয়ম ঠিক করে নিয়েছি আমরা মানুষরা। মানুষে মানুষে যুদ্ধের ইতিহাস আজকের নয়; চিরকালই হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তবু আমাদের নীতিবোধ বলে যুদ্ধ খারাপ জিনিস।

এই নীতিবোধ জিনিসটা বেশ মজার বিষয়। কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, প্রজাতি হিসাবে মানুষের এই নীতি তৈরি করে নেওয়ার বিবর্তনের ধরন নিয়ে গবেষণা হয়েছে, হচ্ছে। আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে ভাবলে প্রশ্ন ওঠে না-মানুষী দুনিয়ায় ছবিটা কেমন? আমরা যেমন অন্যান্য প্রাণীদের প্রায়ই ‘মনুষ্যেতর’ বলে থাকি, মানুষকে ‘জানোয়ার’ বলে গালাগাল দিই, নিজেদের সবচেয়ে সভ্য এবং উন্নত মনে করি, তার বিপরীতে আবার আজকাল অনেকের মধ্যে এ কথা বলার প্রবণতাও দেখা যায় যে মানুষই সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী, অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে অপরাধ, খুনখারাপি, ধর্ষণ ইত্যাদি নাকি নেই। এই ধারণা আসলে একেবারেই ভুল। এই সবকিছুরই ডকুমেন্টেড প্রমাণ বহু প্রাণীর ক্ষেত্রে আছে। মারামারি, ধর্ষণ, ভ্রাতৃহত্যা, জীবনসঙ্গীকে ঠকানো, অপরপক্ষের সন্তানকে মেরে ফেলা, অপরের কষ্টার্জিত শিকার কেড়ে খাওয়া, এসব তো আছেই। আছে স্রেফ খেয়ালখুশিতে মেরে ফেলার উদাহরণও। যৌনতায় মেয়েদের ‘চয়েস’-এর বালাই নেই বহু প্রজাতির মধ্যে, আবার যৌনতা সেরে নিয়ে পুরুষ সঙ্গীকে স্রেফ খেয়ে ফেলার প্রচলন আছে অন্য কিছু প্রজাতির মধ্যে। নিজেদের সুবিধার জন্য অন্য প্রজাতিকে মেরে নির্মূল করে দেওয়ার উদাহরণও আছে প্রচুর। লক্ষ করার বিষয় হল এগুলো কোনওটাই ঠিক বেগতিকে পড়ে হঠাৎ করে করা নয়, এভাবেই তারা বিবর্তিত হয়েছে বহু বছর ধরে। টিকে থাকার জন্য এই ‘অনৈতিক’ কৌশলগুলোই তারা বেছে নিয়েছে প্রজাতিগতভাবে। তাদের সঙ্গে আমাদের কৌশলের একটা বড় তফাত অনেক ক্ষেত্রেই ‘মাথা খাটিয়ে’ কৌশল বেছে নেবার। মস্তিষ্ক অঙ্গটিকে আমরা অন্যভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি। তাই বেশি জটিল কুটিল রাজনীতি মানুষের মধ্যে দেখা যাবে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। তা বলে রাজনীতি যে অন্য প্রাণীদের মধ্যে নেই, তাও নয়। বিশেষ করে উন্নত মস্তিষ্কের প্রাণীদের মধ্যে তো অত্যন্ত বেশি পরিমাণে আছে। সম্প্রতি বিবিসির ‘Dynasties’ নামের সিরিজটা দেখতে দেখতে এই কথাই আবারও মনে হচ্ছিল।

প্রকৃতিতে নিরন্তরই চলছে লড়াই। আর নিজের বংশকে টিকিয়ে রাখতে সেই লড়াই অনেক সময় ধ্বংসাত্মক মাত্রা নেয়। তার মানে কি সেই যুদ্ধে কোনও নীতি নেই? আছে। কিন্তু সেই নীতি একেক প্রাণীর ক্ষেত্রে একেকরকম। আমরা প্রায়ই যে ভুলটা করি তা হল আমাদের নীতিবোধ দিয়ে অন্য প্রাণীদের বিচার করা। আমরা ভুলে যাই যে আমরা মানুষেরা আসলে স্রেফ আরেকটি প্রজাতি, আমাদের নীতিবোধ কোনও অর্থেই ‘স্ট্যান্ডার্ড’ নয় যে তার ভিত্তিতে অন্যদের বিচার করা চলে। অন্য জীবজন্তুদের মোর‍্যালিটি এবং তার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা হয়েছে কিছু, তবু এখনও অনেক কিছুই আমাদের অজানা। যেটুকু আমরা জানতে পেরেছি, শুধু সেই নিয়েই একটা আস্ত লেখা লেখা চলে, কিন্তু এই লেখার বিষয় তা নয়। আজ স্রেফ কিছু ছবিতে গল্প বলব, প্রেমের জন্য যুদ্ধের। নিজের বংশকে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের।

আমার প্রথম গল্পের সময়কাল ২০১৮-র বসন্তকাল। মার্কিন দেশের কলোরাডো রাজ্যের উত্তর পশ্চিম অংশটি বেশ অন্যরকম। চারপাশে পাহাড় ঘেরা এই বিস্তীর্ণ উপত্যকাকে দূর থেকে দেখলে মনে হবে মাঠের মত, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় এই মাঠ আসলে সেজ (Sage) গাছের ঝোপড়ায় ঢাকা। এই সেজ ব্রাশ হ্যাবিট্যাটকে আপন করে নিয়েছে বেশ কিছু প্রজাতি। তাদের মধ্যে অন্যতম হল গ্রেটার সেজ গ্রাউজ (Greater Sage Grouse)। গ্রেটার সেজ গ্রাউজের কোনও বাংলা নাম নেই বলাই বাহুল্য। ভেবে নিতে পারেন বন মুর্গি বা তিতির জাতীয় পাখি। সারা বছর এরা ঝোপেঝাড়ে লুকিয়ে থাকলেও বসন্তের সময় এক বিশেষ উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসে ফাঁকা মাঠে। বসন্তকাল হল সঙ্গী বেছে নেবার সময়। তাই পুরুষ পাখিরা রঙ্গমঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে তাদের নাচ দেখায়। আর করে শক্তিপ্রদর্শন। এক মাসের ওপর প্রতিদিন সকালে চলে এই অনুষ্ঠান, আর তারই মধ্যে মেয়ে পাখিরা এসে সঙ্গীকে বেছে নেয়, সেই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বীজ বোনার কাজও সম্পন্ন হয়ে যায়। খোলা জায়গায় এই ঘটনা ঘটলেও তা দেখতে পাওয়া খুব সহজ নয়, কারণ বিস্তীর্ণ উপত্যকার মধ্যে ঠিক কোন জায়গাকে তারা এই লেকিং (lekking)-এর জন্য বেছে নেবে সেটা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে বহুদিন এই সমস্ত অঞ্চলে ঘুরে পাখি খুঁজে বেড়ানোর ফলে তদ্দিনে আমার কিছু ধারণা হয়েছে কোথায় এদের দেখতে পাবার সম্ভাবনা। সেই মত কাকভোর থাকতে গিয়ে হাজির হয়েছি সেখানে। সূর্যোদয়ের আগে পৌঁছনোই নিয়ম, নইলে গাড়ি চলতে দেখে এই পাখিরা ভয় পেতে পারে, এবং তাদের অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অন্ধকার থাকতে এসে পৌঁছে চুপচাপ বসে থাকলে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়।

গ্রেটার সেজ গ্রাউজের নাচ

লেজের পালকের ফাঁক দিয়ে পিছনে নজর রাখতে ভোলে না এরা

সূর্য ওঠার আগেই শুনতে পেলাম প্রত্যাশিত “বুগুম বুগুম” আওয়াজ। নাচের সঙ্গে সঙ্গে তাদের গলার থলিতে হাওয়া ভরে আওয়াজ করে এই পাখিরা। অনেকটা বুক চাপড়ে বলার মত “দেখো, আমিই শ্রেষ্ঠ পুরুষ!” এরা খোলা একটা মাঠে জড়ো হয় আগেই বলেছি। সেই মাঠটাকে যদি একটা বৃত্তাকার রঙ্গমঞ্চ বলে ভেবে নেওয়া যায়, তাহলে তার মাঝখানের জায়গাটা হল সবচেয়ে মূল্যবান। কারণ সেখানেই এসে দাঁড়ায় মেয়ে গ্রাউজেরা। নাচ করতে করতে বৃত্তের বাইরের দিক থেকে কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টায় থাকে পুরুষ পাখিরা। আর সেখানেই বাধে যুদ্ধ। অন্যদেরকে মাঝখানের দিকে যেতে দিতে রাজি নয় কেউই। তাই লেগে যায় মারপিট। মজার ব্যাপার হল এই মারপিট সাধারণত দল বেঁধে হয় না, হয় দুজনের মধ্যে, একজন যে ইতিমধ্যেই তুলনামূলক ভিতরের জায়গাটিতে আছে, তার সঙ্গে ‘বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী’র। যেন চ্যাম্পিয়ন বনাম চ্যালেঞ্জার ডুয়েল। যে জিতবে সে এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ, মাঝখানের দিকে। এই মারামারি অনেক সময় অল্পের ওপর দিয়ে যায়। কেবল একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখ রাঙানোতেই একজন হয়তো হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু কখনও কখনও লড়াই হয় পুরোদমে, আর তাতে আহতও হয় অনেক পাখি। কিছু ক্ষেত্রে এই আঘাত বিপজ্জনক হতে পারে তাদের বেঁচে থাকার পক্ষে। তবু স্রেফ বংশ রক্ষার তাগিদে তারা অংশ নেই এই ডুয়েলে।

তুষারপাতের মধ্যেই চলছে ডুয়েল

অনুপ্রবেশকারীর পিছু ধাওয়া করে তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে বেশি শক্তিশালী একজন

এইভাবে ডুয়েল চলতে চলতে একসময় বেশ কয়েকজন পৌঁছে যায় মাঝখানে। সেখানে গিয়ে তারা সবাই নাচ দেখাতে থাকে, আর নারী গ্রাউজ তাদের মধ্যে বেছে নেয় একজনকে। ঠিক কী অ্যালগরিদমে তারা বাছে তা জানি না, তবে মনে করা যেতে পারে পুরুষ পাখির চেহারা, নাচ (এবং বুক বাজানো গান) বা শারীরিক সক্ষমতা দেখেই তারা সঙ্গী বেছে নেয়। এই অনুষ্ঠান যেহেতু অনেকদিন ধরে চলে, তাই প্রত্যেকদিনই কেউ এই শেষ পর্যায়ে যাবে এবং সঙ্গমে লিপ্ত হবে তার কোনও মানে নেই। ঘটনাচক্রে আমি যেদিন যাই সেদিন বেশ কয়েকজনকে মিলিত হতে দেখেছিলাম।

তুষারপাত উপেক্ষা করে লড়াই দুই সেজ গ্রাউজের। পাশে পড়ে ঝাপটাঝাপটিতে খসে পড়া পালক

এত কিছু করেও শেষরক্ষা হয় না সবসময়। নেপোয় মারে দই

রঙ্গমঞ্চের মাঝখানে নৃত্যপ্রদর্শন। কে বেশি ভালো নাচিয়ে তা পরখ করে নিচ্ছে মেয়ে গ্রাউজটি

শেষপর্যন্ত সে বেছে নেয় একজনকে

এই উঁচু উপত্যকাগুলো যথেষ্ট ঠান্ডা থাকে বসন্তকালেও। আমি যখন যাই তার আগেই রীতিমত অনেকখানি তুষারপাত হয়ে গেছে। সকাল বাড়ে, কিন্তু সূর্যের মুখ আর দেখা যায় না। ফের শুরু হয় তুষারপাত। গ্রাউজদের অবশ্য তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা দিব্যি চালিয়ে যায় তাদের নাচ। তাদের দেখতে দেখতে আর ছবি তুলতে তুলতে কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়। অবশেষে একজন একজন করে মঞ্চ ছেড়ে নিজেদের বাড়ির পথ ধরে তারা, যেখানে সেজ ব্রাশের নিরাপদ আশ্রয়ে তারা কাটিয়ে দিতে পারবে বাকি দিনটা। পরদিন সকাল হলেই আবার শুরু হবে এই অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পালা

আমার পরের গল্পের ঘটনাস্থল দক্ষিণ পূর্ব অ্যারিজোনা। অ্যারিজোনা রাজ্যটির অনেকটা অংশ মরুভূমি হলেও এই দক্ষিণ পূর্ব অংশটি অন্যরকম। বেশিরভাগ জায়গাই পাহাড় ঘেরা, সঙ্গে অনেক গাছপালাও। এখানে আমরা গেছিলাম কিছু বিশেষ পাখির খোঁজে। সেখানে একটি ট্রেইলে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পাশের ঘাসে ঢাকা অঞ্চল থেকে শুনতে পেলাম খসখস করে আওয়াজ। তাকিয়ে দেখি দুটি র‍্যাটলস্নেক একে অপরের দেহ জড়াজড়ি করে উঠে দাঁড়িয়েছে এবং একে অপরের সঙ্গে মারামারি করছে। চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আমরা সকলেই জানি সাপের দৃষ্টিশক্তি তেমন না হলেও হাঁটাচলা করলে তারা সহজেই উপস্থিতি টের পাবে। চুপ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সাপদুটি বেরিয়ে এল খোলা ট্রেইলের ওপর, আর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কুস্তি লড়তে লাগল। একে অপরকে জড়িয়ে ধরা এবং সুযোগ বুঝে কুস্তির মত মাটিতে আছাড় মারা, এই হল এই লড়াইয়ের পদ্ধতি।

ঘাসের ওপর র‍্যাটলস্নেকের যুদ্ধনৃত্য

তদ্দিনে আমি জানি সাপের এই কুস্তি, যাকে চলতি কথায় কমব্যাট ড্যান্স বলা হয়, তা হল তাদের শক্তিপ্রদর্শনের পদ্ধতি। তখন ব্রিডিং সিজন, সুতরাং সঙ্গী পাওয়ার জন্য পুরুষ সাপেদের লড়তে হয় একে অপরের সঙ্গে, বিশেষ করে যে সব অঞ্চলে বেশি সংখ্যক সাপ আছে সেখানে। বিজয়ী সাপ এর মাধ্যমে নিজের টেরিটরি প্রতিষ্ঠা করে এবং সেই অঞ্চলের মেয়ে সাপেদের সঙ্গী হিসাবে পাওয়ার সুযোগ পায় সহজে।

খোলা ট্রেইলে বেরিয়ে আসে তারা

একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে আছড়ে ফেলার চেষ্টায়

এই কমব্যাট ড্যান্স, অর্থাৎ যুদ্ধনৃত্য, দেখতে অনেকটা নাচের মতই। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই ভাবেন এটা বুঝি পুরুষ ও নারী সাপের মিলননৃত্য। কিন্তু আসলে সাপেদের যৌন মিলনে এত লাফাঝাঁপা থাকে না, তা হয় অনেক নরম গোছের। তাছাড়া র‍্যাটলস্নেকদের যৌন মিলন এমন খোলা জায়গায় হবার সম্ভাবনাও খুবই কম। আমাদের দেশেও সাপেদের এই লড়াইকে ঘিরে অনেক ভুল ধারণা এবং কুসংস্কার রয়েছে।

কখনও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে পরের প্যাঁচের হিসাব করা

যে দুটি র‍্যাটলস্নেককে আমি দেখি তাদের প্রজাতির নাম হল মোহাভে র‍্যাটলস্নেক। অনেকের ভুল ধারণা আছে যে র‍্যাটলস্নেক বুঝি একটি প্রজাতির নাম। আসলে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, যাদের লেজে ঝুমঝুমি আছে, তাদের সবাইকেই সাধারণভাবে র‍্যাটলস্নেক বলা হয়। এই বিশেষ প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক অত্যন্ত বিষধর, তাই বলাই বাহুল্য আমি ওদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। র‍্যাটলস্নেকরা কেউই খুব আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয় না, এবং বেশিরভাগ সাপের মতই, বেগতিকে না পড়লে চট করে মানুষকে কামড়ায় না। তবে সঙ্গী খোঁজার এই লড়াইয়ে একে অপরের প্রতি তারা যথেষ্টই আক্রমণাত্মক!

কুস্তি চলছে এখনও। লেজের ঝুমঝুমি কিন্তু বাজছে না

অনেককে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি সাপেরা সাপেদের কামড়ায় কিনা। এক সাপ অন্য সাপকে খায় এমন উদাহরণ বহু আছে, কিন্তু নিজেদের মধ্যে লড়াইতে একে অপরকে কামড়ানোর উদাহরণ আছে বলে শুনিনি। অবশ্য কামড়ালেও সেই বিষে অন্য সাপটির ক্ষতি হত না। যাইহোক, এই কুস্তির লড়াই চলতে থাকল আরও মিনিট দশেক। তারপর দুজনের মধ্যে একজনকে দেখা গেল সে আর মাথা তুলছে না। অর্থাৎ সে হার স্বীকার করে নিয়েছে। বিজয়ী সাপ বিজয়গর্বে বার দুয়েক জিভ বার করল। তারপর দুজনেই সরসর করে আবার ঢুকে গেল ঘাসজমিতে।

লড়াই শেষ! নেতিয়ে পড়েছে অন্য সাপটি

একেবারেই অপ্রত্যাশিত এই ঘটনাটি দেখে তখন আমি রীতিমত উত্তেজিত। এই দৃশ্য দেখার সুযোগ আর কখনও আসবে কিনা জানি না। এর আগে বা পরে আরও নানান জীবজন্তুর লড়াই দেখার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু সেজ গ্রাউজ আর র‍্যাটলস্নেকের যুদ্ধনৃত্যই বোধহয় সবচেয়ে বেশি করে মনে থাকবে বহুদিন।

প্রেম আর যুদ্ধ, এই দুইয়ের জন্য কোনও কিছুই অন্যায় নয়, এমনটাই শোনা যায়। প্রেমের জন্য যুদ্ধ হলে তা দ্বিগুণ বৈধতা পায় কিনা সে কথা জানা নেই। তবে না-মানুষদের নীতিবোধ নিয়ে আমাদের রোম্যান্টিসিজম খানিক অযৌক্তিক হলেও তাদের এত যুদ্ধের মধ্যেও তাদের মত করেই রোম্যান্টিসিজমের অভাব নেই, একথা বলা যায়। সে গল্প আরেকদিন…

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1320 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...