চাষির ভাঁড়ে মা ভবানী, দুর্গ গড়ছি মহাকাশে

অমিত দাশগুপ্ত

 

গত ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে কৃষি ক্ষেত্রের অগ্রগতির যে ত্রৈমাসিক চিত্র কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দফতর প্রকাশ করেছে তা ভারতীয় গ্রামীণ সমাজের এক হতাশাব্যঞ্জক অবস্থার দলিল। অপর দিকে শ্রম ব্যুরোর তরফে প্রকাশিত ডিসেম্বর, ২০১৮তে শেষ হওয়া বছরে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হারও সেই হতাশাকে আরও গভীর করে তুলেছে। সে নিয়েই এই লেখার অবতারণা…

লেখাটা লিখতে বসে পরিসংখ্যান হাতড়াচ্ছি, হঠাৎই টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ। মহাকাশে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ঘটিয়ে জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের রেশ পুরোপুরি কাটতে না-কাটতেই ইসরো-র বিবৃতি থেকে জানা গেল, এবার মহাকাশে গোয়েন্দা উপগ্রহ পাঠানোর পথেও সফল পদক্ষেপ করল ভারত। খুবই আনন্দের কথা, সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘স্বর্গে সাম্রাজ্যবিস্তার’ বিষয়ে যখন সকাল-বিকেল ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছি আমরা, তখন মর্ত্যভূমিতে, ঘরের একেবারে পাশের জমিতে কী ঘটছে? আসুন, দেখা যাক…

কৃষিক্ষেত্র থেকে আয়বৃদ্ধির শ্লথ গতি

২০১৮-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদন মাত্র ২.৬৭% বার্ষিক হারে বেড়েছে, অর্থাৎ ২০১৭-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের উৎপাদনের তুলনায় গত ত্রৈমাসিকে উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ২.৬৭%। অবশ্য এই উৎপাদন বৃদ্ধি বা উৎপাদন মাপা হচ্ছে টাকার অঙ্কে। ওই ২.৬৭% বৃদ্ধি টাকার প্রকৃত মূল্যে বা স্থির মূল্যে বা মুদ্রাস্ফীতির হার বাদ দেওযার পরে। স্থির মূল্যে ওই বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। একদিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭%-এর আশেপাশে থাকছে, অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রের বৃদ্ধি তলানিতে ঠেকছে। স্থির মূল্যে কৃষি উৎপাদনের বরাদ্দর স্লথগতি থেকেও চাষিদের দুশ্চিন্তার কারণ চলতি মূল্যে অতি কম বৃদ্ধির হার। সাধারণত, আমরা সকলেই বাজার চলতি মূল্যকে সহজে বুঝতে পারি। সেই চলতি মূল্যে ২০১৮-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদন মাত্র বার্ষিক ২.০৪% হারে বেড়েছে। এর অর্থ হল, কৃষিপণ্যের দাম ২০১৭-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২০১৮-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ০.৬৩% হারে কমেছে। সমস্ত পণ্যের দাম যখন বাড়ছে তখন কৃষিপণ্যের দাম কমছে। দেশের কৃষকদের হাল এই সরকারের আমলে কোথায় পৌঁছচ্ছে তা অনুভব করা যাচ্ছে। গত ১১ বছরে চলতি মূল্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন। কেবল গত ত্রৈমাসিকেই নয়, তার আগের ত্রৈমাসিকেও কৃষিপণ্যের দাম ০.৭৮% কমেছিল। ফলে স্থির মূল্যে বৃদ্ধির হার, ৪.১৫%, চলতি মূল্যে বৃদ্ধির হার ৩.৭৩%-র তুলনায় কম ছিল। ২০১৭-র এপ্রিল-জুন, ত্রৈমাসিকেও কৃষিপণ্যের দাম কমেছিল, বার্ষিক ১.৩৮% হারে। ওই ত্রৈমাসিকে চলতি মূল্যে বৃদ্ধির হার ছিল ২.৭৮%, স্থির মূল্যে তা ছিল ৪.১৬%। তবুও পরপর দুটি ত্রৈমাসিকে কৃষিপণ্যের দাম কমা ঘটেনি। তা ছাড়া ওই ২০১৭-র এপ্রিল-জুন, ত্রৈমাসিক থেকে শুরু করে ২০১৮-র অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিক পর্যন্ত চলতি মূল্যে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির হার এক অঙ্কে রয়েছে। লক্ষণীয় যে, নোট বাতিলের পরে প্রথম শস্য কৃষকের ঘরে ঢুকেছিল ওই ২০১৭-র এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে।

সরকারের কৃষকবিরোধী ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নীতি

কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনকে টাকার অঙ্কে মাপা হয়, অর্থাৎ উৎপাদন বলতে কৃষিতে মূল্যযোগের পরিমাণকে বোঝায়, যে মূল্যযোগ, উৎপাদিত শস্যের মূল্য থেকে উৎপাদন ব্যয়কে বাদ দিয়ে পরিমাপ করা হয়। তাই কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদিত শস্যের মূল্যের সরারসরি যোগাযোগ আছে। অন্যদিকে, কৃষি পণ্যের মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের সরারসরি যোগ আছে। সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি করে সেই সহায়ক মূল্যে শস্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে কৃষককে দুর্দশায় পড়তে হয় না ও কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয় না। অন্যদিকে সরকার মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চাষিকে কম দাম দিতে চাইলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তেমনভাবে বাড়াবে না। ফলে কৃষিপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি কম ঘটবে। তার ধারাবাহিকতায় সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কম হবে। বর্তমান সরকার তেমনটাই নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাই কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য যথোপযুক্ত বাড়ায়নি। চাষি দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। চাষিদের দুর্দশার উপরে ভর করে মুদ্রাস্ফীতিকে কম দেখিয়ে জনসমর্থন চেয়েছে এই সরকার। নিচের তালিকাটিতে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার যখনই এসেছে কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তখনই অত্যন্ত শ্লথ গতিতে বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ ধানের কথাই ধরা যাক। বাজপেয়ি সরকারের ৫ বছরে (১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০০৩-০৪) ধানের সংগ্রহ মূল্য বেড়েছে ২৫%, মনমোহন সিং সরকারের প্রথম ৫ বছরে (২০০৩-০৪ থেকে ২০০৮-০৯) তা বেড়েছে ৬৪%, দ্বিতীয় ৫ বছরে (২০০৮-০৯ থেকে ২০১৩-১৪) ৪৬%। মোদি সরকারের ৫ বছরে (২০১৩-১৪ থেকে ২০১৮-১৯) অনুরূপ বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ২৫%।

তালিকা-১

কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (টাকা প্রতি কুইন্টাল) ও পঞ্চবার্ষিকী বৃদ্ধির হারের (%) তালিকা

১৯৯৮-৯৯ ২০০৩-০৪ বৃদ্ধি% ২০০৮-০৯ বৃদ্ধি% ২০১৩-১৪ বৃদ্ধি% ২০১৮-১৯ বৃদ্ধি%
ধান ৪৪০ ৫৫০ ২৫ ৯০০ ৬৪ ১৩১০ ৪৬ ১৭৫০ ২৫
দানা শস্য ৩৯০ ৫০৫ ২৯ ৮৪০ ৬৬ ১৩১০ ৫৬ ১৭০০ ২৩
গম ৫৫০ ৬৩০ ১৫ ১০৮০ ৭১ ১৪০০ ৩০ ১৭৩৫ ১৯
অড়হর ৯৬০ ১৩৬০ ৪২ ২০০০ ৪৭ ৪৩০০ ১১৫ ৫৬৭৫ ২৪
মুগ ৯৬০ ১৩৭০ ৪৩ ২৫২০ ৮৪ ৪৫০০ ৭৯ ৬৯৭৫ ৩৫
উরদ ৯৬০ ১৩৭০ ৪৩ ২৫২০ ৮৪ ৪৩০০ ৭১ ৫৬০০ ২৩
আখ ৫২.৭ ৭৩ ৩৯ ৮১.১৮ ১১ ২১০ ১৫৯ ২৭৫ ৩১
তুলা ১৬৫০ ১৯২৫ ১৭ ৩০০০ ৫৬ ৪০০০ ৩৩ ৫৪৫০ ৩৬
পাট ৬৫০ ৮৬০ ৩২ ১২৫০ ৪৫ ২৩০০ ৮৪ ৩৭০০ ৬১
বাদাম ১০৪০ ১৪০০ ৩৫ ২১০০ ৫০ ৪০০০ ৯০ ৪৮৯০ ২২
সয়াবিন ৭০৫ ৮৪০ ১৯ ১৩৫০ ৬১ ২৫০০ ৮৫ ২৭৭৫ ১১
সূর্যমুখি ১০৬০ ১২৫০ ১৮ ২২১৫ ৭৭ ৩৭০০ ৬৭ ৫৩৮৮ ৪৬
রেপসিড/সর্ষে ১০০০ ১৬০০ ৬০ ১৮৩০ ১৪ ৩০৫০ ৬৭ ৪০০০ ৩১
সাফোলা ৯৯০ ১৫০০ ৫২ ১৬৫০ ১০ ৩০০০ ৮২ ৪১০০ ৩৭

 

যেহেতু, টাকার অঙ্কে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির হার তলানিতে ঠেকেছে, এবং কৃষি পণ্যের দাম কমছে তাই, কৃষি মজুরদের মজুরিও তেমন বাড়ছে না। তবে তা অন্যান্য গ্রামীণ কাজের মজুরির তুলনায় অধিক হারে বেড়েছে। একদিকে কৃষি পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি, অপর দিকে কৃষি মজুরি পণ্যের দামের তুলনায় বেশী বেড়েছে। ফলে কৃষি ক্ষেত্রটিই সমস্যা সঙ্কুল হয়ে পড়েছে।

গ্রামীণ মজুরির বৃদ্ধির হারও অত্যন্ত কম

ডিসেম্বর মাসে চলতি মূল্যে গ্রামীণ মজুরির বৃদ্ধিকে হিসেব করলে তা বার্ষিক মাত্র ৩.৮% হারে বেড়েছে। এটি এক ডিসেম্বর মাস থেকে পরের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন। গত ডিসেম্বর মাসে খাদ্যদ্রব্যের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির বার্ষিক হার ছিল ঋণাত্মক ০.০৭%, খাদ্য ব্যাতিরেকে জিনিসপত্রের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির বার্ষিক হার ছিল ৪.৪৫%। একদিকে গ্রামীণ মজুরির হারের সর্বনিম্ন বৃদ্ধি অন্যদিকে খাদ্যপণ্যের ঋণাত্মক মুদ্রাস্ফীতি কৃষিক্ষেত্রকে ছাড়িয়ে এক বিস্তৃত গ্রামীণ সমস্যাকে তুলে ধরছে।

২৫টি কৃষি ও অকৃষি পেশার মজুরির সাধারণ গড়ের ভিত্তিতে গঠিত জাতীয় দৈনিক গ্রামীণ মজুরির হার ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে ৩২২.৬২ টাকা ছিল, যা গত বছর ডিসেম্বরের ৩১০.৬৯ টাকার তুলনায় মাত্র ৩.৮৪% বেশি। মনে রাখা দরকার ওই একবছরে টাকার দাম কমেছে। ফলে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৩৪%। যেহেতু, ওই সময়ে গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১.৫০% বার্ষিক।

বর্তমান হারে গ্রামীণ মজুরি বাড়লে আয় দ্বিগুণ হতে ১৪০ বছর লাগবে

ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা সরকারের সময়কালে ২০১৪-র ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ মজুরি বৃদ্ধির বার্ষিক গড় হার চলতি টাকার অঙ্কে মাত্র ৪.৭%, এবং স্থির টাকার অঙ্কে মাত্র ০.৫%, কারণ ওই সময়ে কৃষি মজুরদের ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল গড়ে বার্ষিক ৪.২%। যদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা-২ সরকারের ২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত অনুরূপ বার্ষিক গড় মজুরি বৃদ্ধিকে হিসেব করা যায় তাহলে চলতি মূল্যে তার পরিমাণ হবে বার্ষিক ১৭.৮%। অন্যদিকে ওই বছরগুলিতে কৃষি মজুরদের ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল গড়ে বার্ষিক ১১.১%। ফলে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৬.৭%। যা জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা সরকারের আমলের ০.৫% থেকে অনেকটাই বেশি।

সুতরাং গত ৫ বছরে গ্রামীণ মজুরি বৃদ্ধি অত্যন্ত শ্লথ হয়েছে। চলতি মূল্যে টাকার অঙ্কে তার বৃদ্ধি অত্যন্ত কম, এমনকি মুদ্রাস্ফীতি কম হওযা সত্ত্বেও, বাস্তবে মজুরি কেবল গড়ে বার্ষিক ০.৫% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সরকার গ্রামীণ মানুষদের উন্নতির কথা বলছে, অচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতিতে গ্রামীণ ক্ষেত্রে আয় ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার কথা বলছে, তাদের জানা দরকার যদি বার্ষিক ০.৫% হারে গড় আয় বৃদ্ধি ঘটতে থাকে তাহলে আয় দ্বিগুণ হতে ১৪০ বছর লাগবে।

তালিকা-২

বর্ষ থেকে বর্ষ মজুরি বৃদ্ধির হার ও গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার(%)

বৎসর গ্রামীণ কৃষি দক্ষ গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি
ডিসেম্বর, ২০১৮ ৩.৮৪ ৪.৬৪ ৪.০৬ ১.৫০
ডিসেম্বর,২০১৭ ৪.২১ ৪.৫০ ৩.৯১ ৫.২৭
ডিসেম্বর,২০১৬ ৬.০৭ ৬.৭৭ ৫.৫০ ৩.৮৩
ডিসেম্বর,২০১৫ ৪.৬৮ ৪.৬৭ ৪.৩৮ ৬.৩২
ডিসেম্বর,২০১৪ ৪.৫৮ ৫.১৩ ৬.১৬ ৪.১৬

 

লক্ষণীয় যে, গত ৫ বছরের শ্লথ মজুরি বৃদ্ধির হার চাষবাসের সম্পর্কিত কাজে তেমন ঘটেনি। শ্রমব্যুরোর তথ্য অনুসারে হাল চষা, বীজ বপন, ফসল কাটা, ফল ফুল তোলা, বাগিচা শ্রম, পশুপালনের কাজ, সেচের কাজ, এবং গাছ সংরক্ষণের মতো ৮টি প্রধান কৃষি সম্পর্কিত পেশায় গড় বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫.১৪%, সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার ৪.৬৮% এর থেকে যা বেশি। সুতরাং একদিকে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যে খুব কম বৃদ্ধি ঘটেছে বা এমনকি মূল্য হ্রাস পর্যন্ত ঘটেছে কিন্তু কৃষি মজুরিতে তেমন হ্রাস না ঘটায় চাষিরা দুদিক থেকেই সমস্যায় পড়েছে।

অন্যদিকে ছুতোর, কামার, রাজমিস্ত্রি, ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি এবং হাল্কা মোটরযান বা ট্রাক্টর চালকদের মত দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মজুরির হার সামগ্রিক গ্রামীণ মজুরি বৃদ্ধির হারের থেকে আলোচ্য ৫ বছরের মধ্যে ৩টি বছরেই কম থেকেছে। রাস্তা, বাধ, কূপ খনন, শিল্প প্রকল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমছিল, ৪.৩৮%; মালবাহক, মাল ফেলার মত অকৃষি কাজেও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল আরও কম, ৪.৩২%।

দুটি বছরে মজুরি বৃদ্ধির থেকে মূল্যবৃদ্ধির হার বেশি

আরও লক্ষণীয় যে, ডিসেম্বর ২০১৫ সালে শেষ হওযা বছরে মজুরি বৃদ্ধির হারের (৪.৬৮%) তুলনায় গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার (৬.৩২%) ১.৬৪% বেশি, ডিসেম্বর ২০১৭ সালেও গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারের থেকে ১.০৬% বেশি। ফলে ওই দুই বছরে গ্রামীণ শ্রমিকদের প্রকৃত আয় কমেছে। এমনিতেই শ্রমিকদের আয় তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম, আবার সেই মজুরিও যদি কমে তাহলে তাদের কী দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয় তা অনুমান করা যেতে পারে।

সামগ্রিকে বর্তমান সরকার উচ্চবিত্ত শহুরে নাগরিক ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। কৃষকদের ভোট দেশপ্রেমের উন্মাদনা ছড়িয়ে কিনতে চাইছে তারা। কিন্তু আদতে কৃষিকে অলাভজনক করে তুলে কোনও এক পর্যায়ে কর্পোরেট চাষের হাতেই গোটা ব্যবস্থাটিকে তুলে দিতে চায় তারা। তাই যতবার সরকারে আসে ভারতীয় জনতা পার্টি ততবারই কৃষিকে দুর্বল করে তোলে।

 

তথ্যসূত্র:

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ডাটাবেস অফ ইন্ডিয়ান ইকোনোমি।

ঋণ স্বীকার:

হরিশ দামোদরন (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1745 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...