ন্যায় যোজনার ন্যায়-অন্যায়

ব্রতীন্দ্র ভট্টাচার্য

 

সম্প্রতি কেন্দ্রের বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধি দেশবাসীর কাছে ‘ন্যায়’ (NYAY – NYuntamAay Yojana) নামে একটি প্রকল্পের অবতারণা করেছেন। যাঁদের জন্য এই প্রকল্প, অর্থাৎ ভারতের একেবারে হা-ঘরে হাভাতে কুড়ি শতাংশ মানুষ, তাঁরা এ নিয়ে কী ভাবছেন তা আমাদের জানা নেই। কারণ তাঁদের কথা আমরা কোনওকালেই জানি না বুঝি না। কিন্তু আমাদের মতো যারা, তাদের বেশিরভাগের একদল এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে বলছে— এতে ওই লোকগুলো পেয়ে-পেয়ে একেবারে উৎসন্নে যাবে, এবং এই পাইয়ে-দেবার রাজনীতি করা একেবারেই অনুচিত। আর অন্য একদল বলছে, যারা পায় না তাদেরই পাইয়ে দেওয়া উচিত (এই সঙ্গে যারা পায় তাদের নানাবিধ কটাক্ষ করতেও ছাড়ছে না), এবং সেই উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প একেবারে সঠিক দিশায় একটি পদক্ষেপ হতে পারে, যদি ক্ষমতাসীন দল সরে গিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে, এবং এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করে।

হাতির গোটা চেহারাটা আগে দেখে নেওয়া যাক।

শ্রী রাহুল গান্ধির বক্তব্য এইরূপ—

  • ভারতের কুড়ি শতাংশ মানুষ, সংখ্যায় যারা পাঁচ কোটির মতন, দরিদ্র।
  • পরিবারপ্রতি আয় হওয়া উচিত ন্যূনতম মাসিক বারো হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে বাহাত্তর হাজার টাকা।
  • কুড়ি শতাংশ (পাঁচ কোটি) মানুষের পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ছয় হাজার টাকা।
  • ন্যায় প্রকল্পে আরও ছয় হাজার টাকা করে দিয়ে ওই আয় বাড়িয়ে মাসে বারো হাজার টাকা করা হবে।

পরিবার ও জনসংখ্যার অনুপাতে (প্রতি পরিবারের সদস্যসংখ্যা প্রায় পাঁচ জন – সূত্র ২০১১ জনগণনা) ভাঙলে পাঁচ কোটি মানুষের পরিবারের সংখ্যা হবে এক কোটির মতন। এই প্রকল্পে এই এক কোটি পরিবারকে সাহায্য দেওয়া হবে, নাকি পাঁচ কোটি পরিবারেরই সংখ্যা— এই নিয়ে একটা ধন্দ রয়ে গেছে।

এই প্রকল্প ‘টপ-আপ’ গোত্রীয়, এবং সব পরিবারকে মাসে ছয় হাজার টাকা না দিয়ে এই প্রকল্প ততটাই দেবে যতটা দিলে মাসিক বারো হাজার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে এর ফলে সরকারের খরচ হবে বছরে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকা, যা আমাদের জাতীয় আয়ের ১.৮ শতাংশ।

এইখানে একটা পরিসংখ্যানের নীচে দাগ দিয়ে রাখাটা জরুরি। গত মাসে প্রকাশিত সি. রঙ্গরাজন কমিটি-প্রদত্ত রিপোর্ট অনুসারে ভারতে দারিদ্রের সংখ্যা ছত্রিশ কোটির কিছু বেশি। সুতরাং, রাষ্ট্রের হিসাবে দরিদ্র হলেও সব দরিদ্র এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। পরিবারের সংখ্যা পাঁচ কোটি ধরলেও মানুষের হিসাবে সংখ্যাটা দারিদ্রের মোট সংখ্যার বেশ কিছু নীচেই থাকবে। শ্রী গান্ধি অবশ্য ট্যুইটারে লিখেছেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য poorest of the poor।

ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করার এই যে বিশেষ অভিপ্রায়, এর বিরোধীরা নিশ্চিত এর মধ্যে সমাজতন্ত্রের ভূত দেখছেন, এবং তা দেখে আঁতকে উঠে বলছেন এখনকার জমানায় এসব জনকল্যাণমূলক ভাবনা স্রেফ চলে না। খেটে খেতে হবে, এবং খাটনি-অনুসারে উপার্জন করে সংসার প্রতিপালন করতে হবে। তুমি সরকারের টাকায় খাবে-দাবে আর বাচ্চা পয়দা করে চলবে, এ হবে না! তাঁরা অবশ্য দুটো জিনিস ভেবে দেখছেন না। এক, ‘খেটে খেতে হবে’ কথাটা ভুল না-হলেও খেটে খাবার রাস্তাটুকু অন্তত পাওয়া দরকার। অর্থাৎ তার দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ— এটুকু তার দেশের শাসক তাকে দেবেন। তার পরে আসছে খাটুনি-অনুযায়ী উপার্জনের প্রশ্ন। আর দুই, এই অভিপ্রায় বা ধারণা, বা আইডিয়া, মোটেই সমাজতন্ত্রের একচেটিয়া নয়।

আপনার আরও জেনে রাখা উচিত, যে এই ন্যূনতম আয়ের কথা অন্য নামে ঠাঁই পেয়েছিল এইতো সেদিন, ২০১৬-১৭-তে প্রকাশিত দেশের ইকোনমিক সার্ভেতে। সেখানে তার নাম ছিল ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম— ইউবিআই! এর প্রবক্তা ছিলেন তৎকালীন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরভিন্দ সুব্রমনিয়ন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী জেটলিজির কণ্ঠেও ধ্বনিত হয় এই ইউবিআই-এর কথা— জুন ২০১৭ সালে। এর পর, ওই বছরেরই অক্টোবরে ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ড— আইএমএফ— জানালেন ভারতের মতন দেশের ক্ষেত্রে ইউবিআই কেন গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইএমএফ চেয়েছিল খাদ্য ও জ্বালানিতে ভর্তুকি তুলে দিয়ে সেই টাকায় এই প্রকল্পের ব্যবস্থা করুন সরকার। আইএমএফ-এর পরামর্শ ছিল প্রতিটি ভারতবাসীকে প্রতি বছরে দু’ হাজার ছ’শো টাকা করে দেওয়া (২০১১-১২ সালের অর্থমূল্যের নিরিখে)।

এই বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রী গান্ধি প্রথম যেদিন এই ধরনের একটি প্রকল্পের কথা তুললেন, সেইদিনই শ্রী সুব্রমনিয়নও এ-বিষয়ে একটি টাটকা প্রস্তাবের অবতারণা করলেন। সেই প্রস্তাবে বলা হল ষাট থেকে আশি শতাংশ দরিদ্রকে অর্থসাহায্য করার কথা। এর কিছুদিন পরে পয়লা ফেব্রুয়ারি তারিখে সরকার কৃষকদের জন্য ঘোষণা করলেন একটি যোজনা (কারণ সম্ভবত কৃষকদের অবর্ণনীয় দুর্দশা, আর ক্রমশ বেড়ে ওঠা কৃষক-অসন্তোষ), যাতে দুই হেক্টরের কম জমির মালিক এমন কৃষক পরিবারকে প্রতি বছর ছয় হাজার টাকা করে নগদ অর্থসাহায্য করা হবে। ঠিক হল, বারো কোটি কৃষক পরিবারকে এই সাহায্য দেওয়া হবে। কৃষকের ক্ষতে প্রলেপ দেবার জন্য এই প্রকল্প যথেষ্ট হল না, কারণ এর আওতার বাইরে রয়ে গেলেন অগণিত ভাগচাষী ও ভূমিহীন কৃষকের পরিবার।

এই কারণেই শ্রী গান্ধি-প্রণীত নব প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কারণ দুটি। এক, এই প্রকল্প এর সমস্ত প্রকারভেদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘ইনক্লুসিভ’, বা সবচেয়ে বেশি-সংখ্যক পরিবারকে আওতাভুক্ত করবে। আর দুই, দেশীয় অর্থনীতির ওপর প্রধান দুটি আঘাত কৃষি ও কৃষকের দুরবস্থা এবং দারিদ্র্য। এই ন্যায় প্রকল্পই একমাত্র, যা দেশীয় দারিদ্র্যকে সম্পূর্ণভাবে নজরে রেখে এর মূলে আঘাত করতে পারে এবং দারিদ্র্যের কাঠামোগত বদল আনতে পারে।

দেশের কিছু বিদ্বজ্জন, এবং অবশ্যই কিছু অবুঝ নিন্দুক, এই প্রকল্পের নানান সম্ভাব্য সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। তার প্রথমটি হল, এই প্রকল্পের আওতায় আসা মানুষ কাজ করে খাবার বদলে ভিক্ষাবৃত্তিকেই শ্রেয় বলে মনে করবে। এ-বিষয়ে প্রথমেই যেটা বলা যায়, সেটা হল— এ-জাতীয় প্রকল্প দ্বীনদুনিয়ায় প্রথম নয়। আমাদের দেশে কৃষকদের জন্য নগদ সাহায্যের প্রকল্পের কথা একটু আগেই বললাম। এ-ছাড়াও, পারিবারিক সূত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এ-হেন সমস্যার কথা আমাদের মনে পড়ে না, কারণ তাতে আমাদের অসুবিধা হয়!

দ্বিতীয় সমস্যা— এ-জাতীয় প্রকল্প মুদ্রাস্ফীতির হারে বৃদ্ধি আনতে পারে। এর কারণ, কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে হঠাত করে কিছু টাকা চলে আসা। এর ফলে যোগান অপরিবর্তিত থাকলেও চাহিদার হঠাত বৃদ্ধি ঘটবে, এবং তার ফল হবে মূল্যবৃদ্ধি। শুনতে যুক্তিযুক্ত লাগলেও এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করার মত সাক্ষ্যপ্রমাণও কিছু কম নেই। আফ্রিকার কিছু দেশে ইউনিসেফ গবেষণা চালিয়ে দেখে, নগদ সাহায্যের পরিণতি অনিবার্যভাবে মুদ্রাস্ফীতিতে রূপান্তরিত না-ও হতে পারে। অর্থাৎ যাহাই সম্ভাব্য সর্বদা তাহা অবশ্যম্ভাবী না-ও হইতে পারে!

বিবিধ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এই মুদ্রাস্ফীতির পূর্বশর্ত যে অপরিবর্তিত যোগান তা কিছু সময় পরে বাড়তে থাকে। একটি গ্রামের মানুষের হাতে কিছু বাড়তি টাকা এলে তাঁরা হয়ত তুলনায় ভাল কাপড়জামা কিনতে থাকলেন। কাপড়জামার যোগান অপরিবর্তিত থাকলে তার দাম বাড়তে বাধ্য। কিন্তু কাজে দেখা গেল, তুলনায় ভাল জামাকাপড়ের চাহিদাবৃদ্ধি দেখে প্রাণিত হয়ে সেই গ্রামেরই কিছু মানুষ তৈরি করতে শুরু করলেন সেই ধরনের জামাকাপড়। এর ফলে আরেকটু কম দামে তা লভ্য হওয়া শুরু হতে লাগল। এর ফলে তাঁদের হাতে নগদ সাহায্য যেমন এল, তার সঙ্গেই তৈরি হতে লাগল আরও নতুন নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ।

এইসব গরিবগুর্বোদের ‘প্রকৃত’ শুভানুধ্যায়ীদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এঁদের আরও ভাবনা, নগদ টাকা হাতে এলেই মদ, বিড়ি ও অন্যান্য নেশাভাঙের দ্রব্যের ওপর খরচ করা শুরু হবে। তাতে লাভের বদলে তৈরি হবে গভীরতর সামাজিক সঙ্কট। এর উত্তর এই এনডিএ সরকারের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সুব্রমনিয়ন সাহেবই দিয়ে দিয়েছেন, ২০১৬-১৭ সালের ইকোনমিক সার্ভেতে ইউবিআই নিয়ে তাঁর রচনায়। তিনি বলছেন, মদ-গাঁজা-সিগারেট ইত্যাদি মূলত ‘প্রলোভন পণ্য’। যাঁদের কাছে নেশার দ্রব্য রোজকার প্রয়োজনের, তাঁদের কাছে নয় মোটেও। তবু অল্প আয়েও তাঁরা নেশার দ্রব্য কেনেন। এই কারণে দুই ক্ষেত্রেই নেশার বস্তুর ওপরে খরচ মোট আয়ের একটা ক্ষুদ্র অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নগদ সাহায্যের পুরো অর্থ কখনওই তিনি নেশার জন্য ব্যবহার করবেন না। নেশার কারণে সামাজিক কল্যাণে ক্ষতির পরিমাণ তাই লাভের পরিমাপের থেকে সর্বদাই অনেকটা কম হবে।

লোকগুলো কাজ করবে না! এই আরেক দুশ্চিন্তা! বস্তুত এই ধারণার পেছনে আছে ‘গরিব অলস বলেই গরিব’ এই ধারণা। ধারণা না-বলে একে ভুল ধারণা বলাই ভাল। কারণ এই ধারণা ঠিক হলে আমাদের দেশে কাজের অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি উঠত না। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের প্রতি পরিবারে গড়ে পাঁচজন মানুষ (আগে বলেছি)। একটি পরিবার মাসে ছয় হাজার টাকা পেলে সদস্যপ্রতি আয় হয় মাসে বারোশো টাকা। চোখ থেকে রঙিন চশমাটা খুলে দেখলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না, এই টাকার ক্রয়ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। এতটাই সীমিত, যে এই টাকা পেলে সব কাজ ভুলে সাধারণ মানুষ মোটেও উপার্জনের অন্য রাস্তা খোঁজা বন্ধ করে দেবে না।

ন্যায় প্রকল্প চালানোর আনুমানিক খরচ, আগে বলেছি, তিন লক্ষ ষাট হাজার কোটি টাকার মতন। আমাদের মতন অনেক দেশভক্তেরই ধারণা, যে এই প্রকল্পের খরচ তোলার চাপ আসবে করপ্রদানকারী মধ্যবিত্তের উপর। সত্যি কথা বলতে ঘরপোড়া কর-দেওয়া মধ্যবিত্ত গোরুর কাছে এ একেবারে সিঁদুরে মেঘ নয়, দেশের হালহকিকত দেখে এমন কথা খুব জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে এ-বিষয়ে কংগ্রেস দল ও তার অন্যান্য সহযোগী দলের নেতাদের থেকে যা শোনা যাচ্ছে তাতে এই ভয় কিছুটা হলেও অমূলক প্রমাণিত হয়। মোটের ওপর যেটা বলা হচ্ছে, তা হল চলতি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কিছু-কিছু বন্ধ করে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কিছু প্রকল্পে অর্থের যোগান কমানো হবে। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শ্রী চিদাম্বরম এক ধাপ এগিয়ে উদাহরণ দিয়েছেন বুলেট ট্রেন প্রকল্প ও বৃহৎ পুঁজিপতিদের দেওয়া করছাড়ের। ওঁর কথায়, এক বুলেট ট্রেন প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা। বৃহৎ পুঁজিপতিদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে প্রায় চুরাশি হাজার কোটি টাকার। আরও এমন অনেক ক্ষেত্র থেকে খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা এই প্রকল্পে খরচ জকরা সম্ভব হবে, শ্রী চিদাম্বরমের মত এমনই।

মোটের ওপর কথাটা হল এই, যে দারিদ্র্য কোনও প্রাথমিক স্তরের পাটিগণিত নয় যে তার সহজ সমাধান থাকবে। বিশেষ করে আমাদের মতন দেশে তো নয়ই, যেখানে বিপুল কৃষিব্যবস্থার দেহের গভীরে লুকিয়ে আছে, লালিত হচ্ছে দারিদ্র্য ও কর্মহীনতার গোপন অসুখ। ফলে এই জাতীয় প্রকল্প লাগু করতে হলে তার পথে অগণিত বাধাবিপত্তি আসবেই, এবং সেই বাধাবিপত্তিকে পেরিয়ে যাবার সফলতার ওপরেই নির্ভর করবে এই প্রকল্পের সফলতা। আর সবার ওপরে যে-কথাটা মনে রাখার, তা হল দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনটা মূলত দরিদ্রের। আমাদের মত সুবিধাবাদী সুবিধাভোগী চতুর শ্রেণির নয়, যে চায় যেনতেনপ্রকারেণ সমস্ত ঘাটায় লাভ তুলতে, আর তার বিকৃত মূল্যবোধের সংক্রমণ যতদূর পারে ছড়িয়ে দিতে।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1688 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...