ভারতের গণতন্ত্র বনাম নজরদারি

সুশোভন ধর

 

ইদানীংকালে যে কয়েকজন দক্ষিণপন্থী নেতা প্রবল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নিজের একাধিপত্য স্থাপন করেছেন নরেন্দ্র মোদি তাদের অন্যতম। এ ব্যাপারে তার একমাত্র তুলনা চলে তুরস্কের এরদোগান, ফিলিপিন্সের দুতেরতে বা ব্রাজিলের বলসোনারোর সঙ্গে। তিনি যদিও একটি মাত্র দেশের শাসক কিন্তু সেই দেশের জনসংখ্যা পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ। তাঁর ২০১৪ সালের নির্বাচনী বিজয়ের পর থেকে মোদির দল বিজেপি জাতীয় রাজনীতিতে অবাধ আধিপত্য খাটিয়ে চলেছে। সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং এ দেশের সর্বাধিক রাজ্যে তাদের জয়পতাকা উড়ছে।

 

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র

একই সঙ্গে কিন্তু ভারতবর্ষের বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের তকমাটি আজ কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। সার্বিক নির্বাচনী কাঠামোটি হয়তো এখনও অক্ষত আছে কিন্তু তার অস্তিত্ব ক্রমশ অন্তঃসারশূন্য হচ্ছে। এদেশের ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট নির্বাচনী প্রথা সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন কতটা ঘটায় সে এক বড় প্রশ্ন। তার সঙ্গেই যেভাবে সমাজের সর্বস্তরে বিপুল পরিমাণে হিংসা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটে চলেছে তার সঙ্গে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ শব্দবন্ধটি বড়ই বেমানান।

লোকসভা ও বিধানসভাগুলির নির্বাচন প্রক্রিয়া যে এখনও প্রহসনে পরিণত হয়নি তার জন্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা প্রাপ্য। বিশেষ করে যেখানে অন্যান্য সংস্থাগুলির স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি চলছে এবং তাদের গুণগত মান ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে। অবশ্য বিধানসভা নির্বাচনের পরে বেশ কয়েকটি রাজ্যের সরকার গঠনের সঙ্গে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বেশ কিছু রাজ্যেই ক্ষমতা ও অর্থবলের দ্বারা সাধারণ মানুষের মতামত জলাঞ্জলি দেওয়ার উদাহরণ আছে।

হ্যাঁ এটা ঠিকই, নির্বাচনী ব্যবস্থা লোপাট করার কোনও ইচ্ছা বিজেপির এই মুহূর্তে নেই। কিন্তু যেনতেন প্রকারেণ নির্বাচনে জিতে একাধিপত্য হাসিল করাই বিজেপির লক্ষ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের নামে হিন্দু রাষ্ট্র নির্মাণই তাদের প্রায় ঘোষিত অ্যাজেন্ডা। তাদের মতে মুসলমানদের মেনে নিতে হবে যে তারা একটি হিন্দু রাষ্ট্রে বাস করছে নতুবা এর ফলাফল ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদী চরিত্রের যা মূল বৈশিষ্ট তা হল পুঁজির সঙ্গে এর গাঁটছড়া বাধা। হিন্দুত্ব প্রকল্প এবং পুঁজির আগ্রাসন ও আক্রমণের বিরুদ্ধে যারা যারা মুখ খুলবেন তাদের ওপর খড়্গহস্ত হবে বিজেপি-আরএসএস।

গোটা ভারত জুড়ে সাধারণ মেহনতী মানুষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ ছাড়াও এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ‘আরবান নকশাল’ তকমা দিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের ওপর আক্রমণ। গত বছর ২৪শে আগস্ট একটি দেশব্যাপী অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ আটজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকের ঘরে ঘরে হামলা চালায়। এবং শেষে অরুণ ফেরেরা, ভারনন গনসালভেস, সুধা ভরদ্বাজ, ভারভারা রাওদের গ্রেফতার করে। তাদের ইউএপিএ আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় যা স্পষ্টতই একটি তথাকথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী কালা কানুন। এই আইনের প্রয়োগ করে জাতীয় সুরক্ষার নামে তাঁদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চলছে। নিঃসন্দেহে এঁরা কেউই সন্ত্রাসবাদী নন। যেমন নন সুরেন্দ্র গাডলিং, সুধীর ধাওয়ালে, রোনা উইলসন, বা মহেশ রাউত। তাঁরা একেকজন সাংবাদিক, লেখক, কবি, রাজনৈতিক কর্মী বা আইনজীবী। তাঁরা এই দেশের নাগরিক যাঁরা আমাদের সমাজের বহুত্বকে সম্মান করে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলির অধিকারের জন্য লড়াই করেন। এই কারণেই তাঁদের কণ্ঠরোধ করতে চাওয়া। তাদের এই পরিণাম দেখিয়ে অন্যান্য মানুষকে ভয় দেখাতে চাওয়া যাঁরা এই সমাজের গণতন্ত্র রক্ষায় সোচ্চার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামনের সারিতে আছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর পাহারপ্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআইকে দিয়ে সাপলুডো খেলা চালালেও ওই সমস্ত মানুষজনের ক্ষেত্রে কোনও রেহাই নেই। যারা মেরুদণ্ডহীনতায় ভুগছেন না বা নিজেদের বিক্রির জন্য তুলে ধরেননি তাদের জন্য বরাদ্দ কড়া চাবুক।

 

ব্যাপক নজরদারি

বিজেপি আরএসএস কিছু মানুষকে চাবকে সোজা করার পদ্ধতি নেওয়ার পাশাপাশি বাকি সমাজের ওপর ব্যাপক নজরদারির কৌশল অবলম্বন করেছে। সমাজের প্রতিটি মানুষের ওপর নজরদারি বাড়াতে বাড়াতে ভারতবর্ষ ক্রমশ একটি পুলিশ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। গত বছর জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট ভারত সরকারকে Social media communication hub (SMCH) স্থাপন করা নিয়ে একটা নোটিস জারি করে। তথ্য ও সূচনা মন্ত্রকের অধীনে এই হাবের উদ্দেশ্য হল সামাজিক মাধ্যমের ওপর নজরদারি জারি রাখা। এই হাবটি বাতিল করার দাবিতে একটি জনস্বার্থ সম্পর্কিত মামলার শুনানি চলাকালীন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় মন্তব্য করেন যে সরকার হোয়াটসঅ্যপের বার্তা ট্যাপ করতে শুরু করলে আমরা একটি নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত হব।

সুপ্রিম কোর্টের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এই পর্যায়ে নজরদারি শুরু হলে শুধুমাত্র বিরোধীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে না সমাজের প্রতিটি মানুষেরই ব্যক্তিগত পরিসর বলে কিছুই থাকবে না। যদিও এই প্রকল্পটি এখনও পর্যন্ত সবুজ সংকেত পায়নি কিন্তু এই পরিকল্পনা বা এমনকি এই ভাবনাটাই ভয়াবহ। এর মাধ্যমে ঢালাও নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। এই ধরনের ব্যবস্থাপনা আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৭১৬টি জেলায় একজন করে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সেকিউটিভ থাকবেন যাদের কাজ হবে প্রতিদিন প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ করে তা কম্যান্ড সেন্টারে পাঠানো। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছিলেন যে গোপনীয়তা মানুষের মৌলিক অধিকার। এই প্রকল্প সেই রায়ের অবমাননা ঘটায়। নজরদারি স্বাধীন বক্তব্যর ওপর কালো পর্দা নামিয়ে দেবে যা সংবিধানের ১৯ (১) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এছাড়াও রাষ্ট্রের কড়া নজরদারির ফলে মানুষ বাধ্য হবেন রাষ্ট্র যা শুনতে চায় কেবলমাত্র সেই ধরনের কথা বলতে। এতে আমাদের জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিঘ্ন ঘটবে যা সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের সূত্র ধরে প্রাপ্ত।

SMCH-এর সঙ্গে তুলনা চলে চিনের কুখ্যাত সেন্সরশিপ প্ল্যাটফর্মের বা মার্কিন জাতীয় সুরক্ষা সংস্থার (American National Security System) ব্যক্তি পরিসরে হানা দেওয়ার বিপজ্জনক পদ্ধতি PRISM এর সঙ্গে। সামাজিক মাধ্যমে নজর রাখতে গিয়ে SMCH যদি ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করে তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ আছে। বিশেষ করে Cambridge Analytica কেলেঙ্কারির পর এ কথা পরিষ্কার যে উপযুক্ত রক্ষাকবচের ব্যতিরেকে এই তথ্যের বহুল অপব্যবহার ঘটতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তথ্য সুরক্ষা নিয়ে উপযুক্ত নিয়মাবলী চালু করেছে।

নজরদারি যে সমাজের পক্ষে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার জলজ্যান্ত উদাহরণ কাশ্মির। হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে যে ২০১৪ সাল অবধি গোয়েন্দা কর্তারা কাশ্মিরে ১০ লাখ ফোন টিপ করেছে। এ দেশে মোবাইল ফোন ১৯৯৫ সালে চালু হলেও কাশ্মিরে তা চালু করার অনুমতি দেওয়া হয় ২০০৩ সালে। প্রথমদিকে তা সাধারণ মানুষের গতিবিধি নজরে রাখতে গোয়েন্দাদের কাজে লাগলেও ২০০৮ সালের গণ অভ্যুত্থানের পরে মোবাইল ফোনের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ নামতে থাকে। কাশ্মিরের মানুষ প্রতিবাদ আন্দোলন সংগঠিত করার কাজে মোবাইল ব্যবহার করতে শুরু করলে গোয়েন্দারা বিপাকে পড়ে। নজরদারির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পরিষেবার ওপর হস্তক্ষেপ।

ভারত রাষ্ট্র ও জম্মু কাশ্মিরের প্রশাসন কাশ্মিরে গণ সমীক্ষা চালু করে জনগণের demographic ও psychographic প্রোফাইল বানাতে শুরু করে। এই কাজে নিযুক্ত হন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও একাধিক ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্কের লোকজন। সমীক্ষাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানতে চায় তাদের পরিবারের লোকজনের মানসিক অবস্থা কেমন, তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস কী ও বাড়ির ও আশপাশের কোন কোন লোক নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত বা সহানুভূতিশীল। এই সমীক্ষার প্রক্রিয়াই কাশ্মিরি জনমানসে ভয়াবহতা নামিয়ে আনে। মানুষের হাড় হিম করে দেওয়ার জন্য এরকম একটি সমীক্ষা প্রক্রিয়া যথেষ্ঠ। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে আনার এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে বিজেপির ভারত। এই সমীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ব্যবহার ও অপব্যবহার ঘিরে যে ভয়াবহতা রচিত হতে পারে সে আরেক উপাখ্যান।

নজরদারির মাধ্যমে মানুষকে ভয় দেখানো ছাড়াও রাষ্ট্রের আরেক লক্ষ্য এই ধরনের প্রকল্পভুলির মাধ্যমে মানুষকে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন করা। অর্থাৎ আপনি আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারবেন না। আপনার সবসময় মনে হতে পারে আশপাশের লোকজন আপনার ওপর নজর রাখছে। সামাজিক মেলামেশার বৃত্তগুলি ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকবে এইভাবে।

এগুলি রাষ্ট্রের সামাজিক কৌশলের অঙ্গ। মানুষকে একই সঙ্গে ভীত ও বিচ্ছিন্ন করা যা এক ভিশাস সাইকেলের মতো একে অপরের ঘাড়ে চেপে বসে। মানুষকে পুরোদস্তুর একরকমের মানসিক যুদ্ধে নামিয়ে ফেলা। Bellum omnium contra omnes. সকলের বিরুদ্ধে সকলের যুদ্ধ!

২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে জানায় যে মানুষের গোপনীয়তা তার মৌলিক অধিকার। সারা দেশে এই রায় নিয়ে হইচই পড়ে ও সমাজের প্রগতিশীল ও গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষ তাকে সোল্লাসে স্বাগত জানায়। দুঃখজনকভাবে এই একই কোর্ট আধার প্যান সংযুক্তিকরণ ও সরকারী ভর্তুকি ও প্রকল্পে আধার কার্ডের ব্যবহার সম্পর্কিত হাইকোর্টের রায়ের ওপর সিলমোহর লাগায়। সরকার এই সুযোগ নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে নাগরিক অধিকার খর্ব করার সমস্ত অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

২০১৮-র ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিল্লির পুলিশ কমিশনার, সিবিআই, রাজস্ব গোয়েন্দা আধিকারিক সহ দশটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও তাদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে আদানপ্রদানের উপর নজরদারি চালাতে অবাধ স্বাধীনতা দেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০০ ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত ২০০৯-এর রুল ৪-এর মাধ্যমে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। এই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আমাদের কম্পিউটারে রাখা তথ্য বা তথ্যের আদান প্রদানের ওপর সম্পূর্ণ নজরদারি চালাতে পারবে ও প্রয়োজন হলে আটক করতে পারবে। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এই চূড়ান্ত পদক্ষেপের পেছনে অন্য অভিসন্ধি আছে। দেশের সুরক্ষার নামে এই আদেশনামা জারি হলেও দিল্লি পুলিশ, সিবিআই বা কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা আধিকারিক কোনওরকমের দেশ পাহারার কাজে নিযুক্ত নয়। এর আসল লক্ষ্য হল বিরোধী কণ্ঠস্বর খুঁজে বার করে সবক শেখানো।

যেখানে একের পর এক বড় বড় শিল্পপতি বিপুল অর্থের কর ফাঁকি দিচ্ছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল অংশের টাকা মেরে সকলের গোচরে বিদেশে পাড়ি দিয়ে ড্যাং ড্যাং করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেখানে সাধারণ মানুষের তথ্য নিয়ে রাষ্ট্রের এত উৎসাহ কেন? রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব হল সর্বাগ্রে এই সব শিল্পপতিদের সমস্ত তথ্য বাজেয়াপ্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কয়েকদিনের আগের খবরে প্রকাশ যে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে কর সংগ্রহে প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। সেই সময় হঠাৎ তারা রাজস্ব সংগ্রহ ছেড়ে দেশের সুরক্ষা নিয়ে পড়লেন কেন? এরপর কি এই সব সংস্থাগুলোকে পাঠানো হবে পাকিস্তানে বোমা মেরে আসার জন্য। এমন দৃষ্টান্তও তো দেখা যায়নি যে নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের বলে বলীয়ান হয়ে সরকার একজন কৃষকের আত্মহত্যা রুখতে পেরেছেন। দেশের তিন লক্ষের বেশি কৃষকদের আত্মহত্যা আমাদের সামাজিক সভ্যতার ওপর বড় করে প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে যাচ্ছে। সেসবে নিরোসুলভ উদাসীনতা দেখিয়ে কোন ধান্দায় এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি?

বর্তমানে ভারত রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে যেভাবেই হোক নাগরিকদের নজরবন্দি করে ফেলা। প্রতিটি মানুষকে নজরদারির আওতায় এনে কীভাবে তাদের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য কুক্ষিগত করা যায় তা নিয়ে এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে এদেশের বিভিন্ন সরকারি মহল। সব চেয়ে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারি মহলে নেওয়া হলেও রাজ্য সরকারগুলিও কোনও অংশে কম যায় না। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে ভারতবর্ষের একটি পুলিশ রাষ্ট্রে পরিণত হতে খুব দেরি নেই। অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে সাধারণ মানুষের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। তারা যত বেশি সরকারের বিরুদ্ধতায় নামবেন নজরদারি ও দমন পীড়ন তত বেশি বাড়বে। গণতন্ত্র আজ সত্যি প্রশ্নের মুখে।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1688 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...