বয়স কত হল?
জানি না তো।
কিছু মনে পড়ে আগেকার কথা?
নাহ।
কবে থেকে এখানে?
অনেএএক দিন।
তাও?
অনেএএএএক দিন।
পরিবার? অনাবিল হাসি।
ভাই বোন দাদা দিদি? অনাবিল হাসি।
দেশ? ভারত না তিব্বত না চীন?
দেশ কী?
ফিরতে ইচ্ছা করে কোথাও?
ঘরে।
ঘর কোথায়?
এই তো বাঁদিকের সিড়ি দিয়ে উঠেই।
বন্ধু নেই?
বন্ধু কী?
কতক্ষণ কাজ করতে হয়?
সকাল থেকে বিকেল।
টাকা?
খাই তো!
ছোটবেলা?
হ্যাঁ ছোটবেলা।
সেটা কেমন ছিল?
জানি না তো।
বাইরেটায় কী আছে জানো?
কিছু আছে।
এই জায়গাটা ভারতে জানো?
শুনেছি।
কোনও কিছু ইচ্ছে করে?
না তো।
সিনেমা দেখো?
শুনেছি।
প্রতিদিন একই কাজ ভাল লাগে?
হ্যাঁ।
নিজেরা গল্প করো?
করি তো।
কী নিয়ে গল্প করো?
তা তো মনে পড়ছে না…
কথাবার্তাগুলো কাল্পনিক। ভাষা সমস্যায় কথা বলা হয়ে ওঠেনি। সঙ্গের ছবিগুলো ওনাদের। দার্জিলিং থেকে ২০-২৫ মিনিট দূরে লেবং কার্ট রোডের টিবেটান রিফিউজি সেল্ফ হেল্প সেন্টারে এনাদের দেখা পাবেন। পঞ্চাশের দশকে তিব্বত ছেড়ে চলে আসা মানুষজন। অতীত মনে নেই, ভবিষ্যতের আশা নেই। আছে শুধু কাজ শেষের ঘণ্টা বাজলে সিড়ির ওপরের ঘরে ফেরা।
গৌরব চট্টোপাধ্যায় লেখক যাদবপুর বিশ্বাবিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ছাত্র। বর্তমানে কলিঙ্গ ইন্সটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজির স্কুল অব ল্যাঙ্গুয়েজে ইংরেজির সহকারী অধ্যাপক স্যমন্তকদা, তোমার ছবি দেওয়া একটা পোস্টার দেখলুম কিছুদিন আগে। ডিপার্টমেন্টেরই পোস্টার। তুমি দেখলে? এত জ্যান্ত চোখদুটো তোমার। পাশে লেখা ‘শ্রদ্ধা ও স্মরণ’। যেন এই দুটো…
অনির্বাণ চন্দ নিরুদ্দেশ মোড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে রোজকার মতোই ভদ্রস্থ দেখতে পাগলটা কী যেন লিফলেট বিলি করছে। রোজই দেখি। রোজই চোখে চোখ রেখে হাসে। আর হাতে গুঁজে দেয় একটা করে৷ খুলেও দেখিনি কখনও। কে দেখে এইসব। বেশিরভাগ দিনই ফেলে দিই। অপ্রয়োজনীয় দাদ-পাঁচড়ার বা অন্যান্য কোনও হ্যান্ডবিল তো রাস্তায় ফেলার জন্যই।…
ভবানী ঘটক প্রথমে ভেবেছিলাম, এও এক কড়িকর। কিন্তু নাহ। লোকটাকে বোঝা মুশকিল। তবে চিসসা। এমন একজনকে পারিক করে রাখলে লাইফটা কাটানো যায়। কাল আমার হাত ধরেছিল। ঝটিতে শরীরে বিদ্যুৎ... তা কেন অমন ধরলে গো! হাত যখন ধরলে, আবার ছেড়েই বা দিলে কেন লা! বোঝো না, ওই স্পর্শটুকু আমাকে কেমন…