এ মাসের কবি : মণিশংকর বিশ্বাস

মণিশংকর বিশ্বাসের কবিতা

 

টীকা

 

দিনান্তের সূর্য, রক্তমাখা হাত;

বিকেলের কাছে পরিত্যক্ত রেলওয়ে কলোনির টানা বারান্দা।

ফুলের মতন খুব সাবধানে

কৃষ্ণচূড়া টপকায় লোহার রেলিঙ

কার কথা মনে পড়ে?

কাঁটা-বাবলার ঝোপ হ’তে ছিটকে বের হয় একটি বেড়াল

তার মত দ্রুতগামী ক্ষতচিহ্নময় সকল প্রেরণা।

ব্যর্থ-উপমার মত দূরে, কুয়াশা বিজনে ডুবে যায়

সমস্তিপুর রেল স্টেশান

তবু তারো চাই ভাষ্যকার; সেও চায় টীকা লেখা হোক,

লেখা হোক সূত্র…

 

ঈশ্বরের মতন কেউ না।

 

কার্তুজ

 

বৃষ্টির অপেরা থেমে গেছে;

বৃদ্ধ সৈনিকের বাড়ির সামনে ফাঁকা বেঞ্চে

ছায়া দিচ্ছে গুলমোহর।

আহত পাখির ছানা নিয়ে ঘরে ফেরে

নিতান্ত বালক—

ভালবাসা আর অশ্রুটুকু ছাড়া গল্প শেষে

কিছুতে আমরা এক নই।

গোলাপের মত অসম্ভব মেয়েটি এখন

দলছুট, রাস্তা পার হয়…

যেই ভাবে মৃত মথ

ঘুমায় পুরানো বইয়ের পাতার ভিতর

আমিও বাইরে থেকে আজ

ওরকম শান্ত।

 

শিকল

 

আমার নির্জনে বাঁশি বেজে ওঠে পুনর্বার।

এখন চাঁদের নীচে খুব খোলামেলা ছোটনাগপুর

দূরে বুদ্ধের মন্দির, শ্বেতলিলি সমিতির ইস্তাহার।

যে-ভাবে ক্রন্দনদৃশ্যে অভিনেত্রী মিশিয়েছে তার

ব্যক্তিগত অশ্রুর বিন্দু

সেইমত চোখের জলের সাথে জানাশোনা হেতু

দেখা যায় জলের উপর স্থির ছোট এক ডিঙা—

যেন আমাদের প্রিয় কবির সমাধি ফলকের ’পরে

একগুচ্ছ ফুল।

 

আমিও কোনদিন তোমার অধীন হব

আকাশে তারার মতো…

 

নব্বই দশক

 

যেন হাওয়া এসে নিজ হাতে ছড়ায় শুকনো পাতা

আর ছিঁড়ে ফেলে মেঘের প্রাসাদ, খেলার নিয়ম।

“আমার পরাণ কান্দে তোর লাগি”— এই মত ফুটে আছে

অজস্র শিমুল; আমি এই নিচু বন-গ্রামে ঢুকে পড়ে

দু’হাতে সরাই মহুয়ার ফুল, আর এই ভাবে খোলা জানালার ’পরে

দেখা যায় সোনায় সোনায় মোড়া আকাশী গম্বুজ;

একটি সরল অংক— যার একদিকে জ্বলে ওঠে থোকা থোকা অচিন্ত্য পলাশ

আর অন্যদিকে হলুদ পাতার স্তূপে রোগা এক ভুঁইসাপ।

তার বাউলে চলন ডাক দেয় আরো দূর কোনো অরণ্যের দিকে

যেন বলে, “মন, ছুটি দাও, ছুটি দাও এইবার…”

সমস্ত গ্রীষ্মের ছুটি জুড়ে কাপাসবালক ওড়ে, না বুঝেই

ওড়ে বহুদূর, সবার অলক্ষ্যে

অথচ তোমার স্কুল আজো খোলা

যেইখানে কৃষ্ণচূড়ার নখে ছিঁড়ে যায় নীলিমার নীল

আর বয়ে যায় বেলা

 

যেন বয়ে যায় বেলা…

 

ডেভনপোর্ট

 

নিঝুম হলুদ চাঁদ, ফেরিঘাট

দূরে তারার মিনার

অলক্ষ্যের কাছে আরো কত তারা র’য়ে গেছে!

খুচরো পয়সা হাতে শ্বেতাঙ্গ ভিখারিনীর দু’টি চোখ

যাকে খোঁজে, সেই ছেলেটির নাম ঘুম।

আশ্চর্য, আমি যে ধ্রুব নই, এই কথা বুঝে নিতে

এতকাল লেগে গেল!

 

কালো জলের উপর কুয়াশার মতো আবছা জাহাজ—

নিঝুম হলুদ ফেরিঘাট…

 

যা কিছু চাঁদের মতন, তাই চাঁদ।

 

মায়া

 

ফাঁকা দিনগুলি, মাঠের ভিতর ছোট এক দ্বীপ

তোমাদের বাড়ি ঘিরে অলৌকিক বোগেনভিলিয়া

ভেতর-বাগানে ছায়াকালো এক প্রভুভক্ত জীব

ধুলোর ভিতর তার কবেকার দুঃখ-জাগানিয়া

 

ধুসর চোখের তারা— পোড়োবাড়ি যেন, জ্বলে-নেভে—

অই পৃথিবীর তুমি খুব যত্নে হ্যারিকেন মোছ।

আমাকে দেখনি আগে কোনোদিন ওরকম ভাবে—

বিকেলবেলার ফেলে আসা আলোটুকু দিয়ে সাজো।

 

নারকেল বন থেকে বুনো হাওয়ারা ছুটে আসে।

সূর্যদেব চলে যান ডালপালা পাতার কুঠিরে—

বাতাসে পাখির গান, আত্মীয়ের মত মুথাঘাসে

ঢাকা ওই পথ, চেনা মনে হয় আমার শরীরে।

 

সেই একটি পলক বিঁধে আছে— অস্ত্র বের করে

নিতে ভয় হয়; গাঁথা-অস্ত্র, ব্যথার অংশের মতো

ব্যবহার করি— তাকে চেপে রেখে দিই সশরীরে

রক্তক্ষরণ যেন না হয় আর, ব্যথা পাই যত।

 

নিদাঘ

 

শ্বাস নিতে গিয়ে তাঁর মনে হয়—

‘এই বাতাস আমার নয়।’

 

সব ঋণ শোধ করে দিতে

চোত-বোশেখের খরা মাথায় করে

একদিন, সেও যাবে সইয়ের বাড়ি।

তাকে দেওয়া হবে জল, হলুদ বাতাসা, হাতপাখা

কাঁঠাল গাছের ছায়ায় ফুল-আঁকা আসন

পেতে দেবে কেউ, সদর বাড়ির থেকে দূরে।

বাচ্চাদের রবারের বল এসে থেমে যাবে পায়ের ধারে—

ওরা কেউ ভয়ে আসবে না কাছে।

গোয়াল ঘরের কাজ ফেলে রেখে নতুন বউটি

তাকে নজর করবে দূর থেকে।

সেজো-বউটি আঁচলে হাত মুছতে মুছতে এসে বলবে

“একটু জিরিয়ে নিন… যা রোদ…পুরুষ-ছেলেরা তো

কেউ বাড়িতে নেই…মাধবী কেমন আছে?…”

সে ঘুমিয়ে পড়বে…

 

বিকেল বেলায় পুলিশ আসবে,

সদরে লাশ বেঁধে নিয়ে যেতে।

 

বিন্দু

 

ফাঁকা মাঠের ভিতর একা দাঁড়িয়ে মানুষ

যেরকম স্তব্ধ হয়ে যায়—

ওরকম মেঘ আর কচুরিপানার ফুলে

বহুদূর পর্যন্ত অতিরঞ্জিত হয়ে আছে।

 

স্মৃতিকেন্দ্র থেকে প্রচারিত গতবছরের বাৎসরিক হিসাবপত্রে

তোমার কানের দুল, সন্ধ্যাপ্রদীপের মত জ্বলে।

 

যতটুকু প্রয়োজন,

মন তারো চেয়ে বেশী ঋণ নিয়ে

চলে গেছে তোমাদের পাড়ায়, তিলফুলে…

 

হাঁটতে শেখার পর সদ্য চক্ষুষ্মান সন্তানকে

যেমন অনুসরণ করে চোখ—

 

জন্মান্ধ মায়ের ।

 

পাঠক

 

মনে করো আমি কোন প্রশ্নের আগে ইতস্তত-করাটুকু।

 

তোমাকে টপকে যাই, আলটপকা

যেভাবে পাখির ঝাঁক পার হয়

দিনের বেলার চাঁদ—

চাঁদের ওপারে যায়— বালিহাঁসরেখা—

 

অজান্তে নিজেকে ছোঁয়ার মতো

তোমাকেও মনে পড়ে, কখনো-বা।

 

তুমি— হত্যাদৃশ্যে খুনির জামার রঙে

নভোনীল।

 

তারপর

 

কচুরিপানার ’পর শান্ত সন্ধ্যা এসে বসে—

বাছুরের চোখের মতন স্বচ্ছ, কালো, ভাষাহীন

যা কিছু কল্পনা করা অসম্ভব

তার মত চাঁদ, একটি অবশ পাখি

এক সঙ্গে বিঁধে আছে নাঙা খেজুর কাঁটায়

দূরে মেঘের মতন চাষি, মিশে যাচ্ছে পাতার আড়ালে

আমি কে বা কেন— এই প্রশ্ন অবান্তর তারপর—

 

একদিন চিন্তার শুদ্ধতা দিয়ে, পায়ে পায়ে

পৌঁছে যাবো নবদ্বীপ, বিষ্ণুপুর, দূর ফরাস ডাঙায়,

তাল বনের ভিতর দিয়ে কেউ একজন হাওয়ার মতন

সেই চাঁদের হিরণ ওলোট-পালোট ক’রে দিয়ে চ’লে যাবে—

এক পাশে গোলাঘর, বাঁশবন, ছোট একখানি জল

যেন জোনাকপাড়া, প্রসন্ন শিউলি গাছ, আমার কবিতা…

তারপর?

 

সম্ভবত আর কিছু নেই রক্তের ভিতর।

 

কবি মণিশংকর বিশ্বাসের কবিতা: আমার কথা

বেবী সাউ

 

কবিতা আসলে একটা ভ্রমণ। একটা সফর। পাঠকের সঙ্গে কবির। কিংবা বলা যেতে পারে কবি এবং পাঠক পরস্পর কবিতাটির পেছন পেছন যান, তাকে ছোঁয়ার জন্য। অনুভবের জন্য। আর তাতেই রহস্যময়ী হয়ে ওঠে সেও। একটা নতুন কবিতা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় পরিদর্শনে বেরিয়েছি। এক একটা দৃশ্য এসে বসছে। আবার এসে যাচ্ছে পরের দৃশ্যপট। নিজেকে পালটে নিতে নিতে, নিজেকে অক্ষরের সঙ্গে মেলাতে মেলাতে কবিতারটির কাছে বসি। নিজেকে মেলাই।  চারপাশে অজস্র আলো-আঁধারের খেলা। এইসব রঙকে কবি যেমন কিছু শব্দের মধ্যে বেঁধে রাখার সঙ্কল্প নেন, আবার পাঠক তাকে ছড়ায় বিস্তৃতির দিকে। হাঁটে। কবি আড়চোখে হাসেন। কবিও বেরিয়ে পড়া টুকু উপভোগ করেন। পাঠক রোমাঞ্চ বোধ করে। দেখে, শব্দ আর দৃশ্যের মতান্তর। সহযোগ। মুগ্ধ হয়। কখনও বিধ্বস্ত; বিভ্রান্ত। আবার বহুদিন পরে হঠাৎ কোনও দৃশ্যে নিজে খুঁজে পায় সেই কবিতাটির প্রকৃত আধার। তাই কবিতা যতটা না শব্দের ঠিক ততটাই স্বশব্দেরও। কবি মণিশংকর বিশ্বাসের কবিতাও যেন সেই লুকোচুরি খেলার মধ্য দিয়ে এক মায়াঘন পরিবেশে নিয়ে যায়। যেখানে প্রেম আছে, ভালোবাসা আছে আর আছে স্মৃতিকাতরতা। ছেড়ে আসা যা কিছু আমার যাপন ছিল, যা কিছু ছিল আমার প্রেমের,  মায়ার জড়ানোর অহমিকা তাকে কিছুতেই হারিয়ে যেতে দেব না— এই ভাব! আর তার সঙ্গে মেশে বাস্তব, আজকের দৃশ্য, বর্তমান যাপন।

শব্দ, অক্ষর, কথা, এই সংসার, এই যাপন আমাদের কী দেয়! মায়া।  মায়া ছাড়া,  জড়িয়ে রাখা ছাড়া আর যেন কিছু দেওয়ার নেই তার। মেনে নিই। তাই নিয়ে হাঁটি আমরা। গড়ে তুলি নিজস্ব মায়াপথ। জন্ম। হাঁটাপথ। আর কুড়োতে কুড়োতে পরিপূর্ণ করি নিজেকে। ঋদ্ধ করি। আর এগোই।

“কালো জলের উপর কুয়াশার মতো আবছা জাহাজ—

নিঝুম হলুদ ফেরিঘাট…”

এই পথ ততদিনে আমাদের শেখায়– ছল, চাতুরি, ভাঙা, গড়া…কিন্তু যে স্নেহ আজন্মের, যে স্নেহ শুধু দেওয়ার দাবি রাখে প্রতিদান পাওয়ার কোনও ইচ্ছেই যেন নেই তার। শুধু ভালোবেসে, আগলে, স্নেহে ভরিয়ে রাখা এই স্নেহ বোধহয় সন্তানস্নেহ… লোভ নেই তার। আশা নেই তার। নিয়ম নেই। নীতি নেই। ঠিক যেন,

“we are all old-timers/ each of us holds a locked razor” (লাওয়েল)

আমাদের কোথাও যেন দুলিয়ে দিয়ে যায়। ধাক্কা মারে। স্বাভাবিক অনিবার্যতার দেওয়ালে চিড় ধরেছে। ফাটলে তার দৃশ্য স্পষ্ট।  কিন্তু সাজানো ঘর যখন ভেঙে যায়, যখন বুঝতে পারি ধ্বংস স্বাভাবিক, অনিবার্য তখনও মন বোধহয় সান্ত্বনা খোঁজে। না থাকা, থাকা গুলিয়ে যায় তখন। পাখি উড়ে গেলে, শব্দ ভেঙে গেলে কী দরকার আর এই ঘরবাড়ির…মহাসময়ের আত্মা,  বুকে পোষমানা শূন্যতা তখন নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। কবিও তাই শান্ত, নির্মোহ, মায়াঘন চোখে দেখেন—

“কচুরিপানার ’পর শান্ত সন্ধ্যা এসে বসে—

বাছুরের চোখের মতন স্বচ্ছ, কালো, ভাষাহীন

যা কিছু কল্পনা করা অসম্ভব

তার মত চাঁদ, একটি অবশ পাখি

এক সঙ্গে বিঁধে আছে নাঙা খেজুর কাঁটায়

দূরে মেঘের মতন চাষি, মিশে যাচ্ছে পাতার আড়ালে

আমি কে বা কেন— এই প্রশ্ন অবান্তর তারপর—”

আমরা যদি ভালো করে লক্ষ্য করি তাঁর কবিতা, তবে হয়ত পেতে পারি ম্যাজিক রিয়ালিজমের পৃথিবী। এই ম্যাজিক রিয়ালিজম তো লাতিন আমেরিকার মতো না। এ হল দেশজ। দেশজ আধুনিকতার যে জায়গায় আমাদের ভাষার সৃষ্টিগুলি একসময়ে সৃজনশীল হয়ে নিজেদের প্রতিফলিত করত, ইউরোপীয় আধুনিকতা আসার পর থেকে তা, তার লোকাস পরিবর্তন করে। স্বাভাবিক ভাবেই, ইউরোপীয় আধুনিকতার পথকেই আমাদের সাহিত্যে ধরা হয় আধুনিকতার পরাকাষ্ঠা হিসেবে। কিন্তু এই ধারণা যে সত্য নয়, তা এখন প্রমাণিত। দেশজ আধুনিকতার যে রাস্তা আমাদের জীবনে, যাপনে ছিল, সেই পথ ধরে হেঁটে গেলে যে কত বিভোর দৃশ্য ও অসামান্য দর্শন আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে, তা বলাই বাহুল্য। এ নিয়ে এক স্বতন্ত্র আলোচনা হতে পারে, কীভাবে দেশজ আধুনিকতার রাস্তা ছেড়ে ইউরোপীয় আধুনিকতার পথকেই আমরা আধুনিকতার মূল রাস্তা হিসেবে ধরে নিলাম। তা হয়তো এখানেই কখনো আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব। কিন্তু এই ভাবনা যে মাথায় এল, তার কারণ দেশজ আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য হল, তাকে কিছুই চাপা দিয়ে রাখতে পারে না, বা তার অভিযাত্রাকে কিছুই সরিয়ে দিতে পারে না তার রাস্তা থেকে। তাই বোধহয় —

“ফাঁকা মাঠের ভিতর একা দাঁড়িয়ে মানুষ

যেরকম স্তব্ধ হয়ে যায়—

ওরকম মেঘ আর কচুরিপানার ফুলে

বহুদূর পর্যন্ত অতিরঞ্জিত হয়ে আছে।

 

স্মৃতিকেন্দ্র থেকে প্রচারিত গতবছরের বাৎসরিক হিসাবপত্রে

তোমার কানের দুল, সন্ধ্যাপ্রদীপের মত জ্বলে।

 

যতটুকু প্রয়োজন,

মন তারো চেয়ে বেশি ঋণ নিয়ে

চলে গেছে তিলফুলে, তোমাদের পাড়া…

 

হাঁটতে শেখার পর সদ্য চক্ষুষ্মান সন্তানকে

যেমন অনুসরণ করে চোখ—

 

জন্মান্ধ মায়ের।”

প্রতিটি কবিতাতেই অপ্রত্যাশিতের মতো আসে চিত্রকল্প। অন্তর্লীন এক নতুন ভাষাপ্রবাহ আমাদের নিয়ে যায় সেই কাব্যপ্রবাহের বিভিন্ন বাঁকে। এই কাব্যগ্রন্থের কোনও শুরু বা শেষ নেই। যে কোনও জায়গা থেকে শুরু হতে পারে এবং যে কোনও বিন্দুই এখানে কেন্দ্র।

“তার বাউলে চলন ডাক দেয় আরো দূর কোনো অরণ্যের দিকে

যেন বলে, “মন, ছুটি দাও, ছুটি দাও এইবার…”

সমস্ত গ্রীষ্মের ছুটি জুড়ে কাপাসবালক ওড়ে, না বুঝেই

ওড়ে বহুদূর, সবার অলক্ষ্যে

অথচ তোমার স্কুল আজো খোলা

যেইখানে কৃষ্ণচূড়ার নখে ছিঁড়ে যায় নীলিমার নীল

আর বয়ে যায় বেলা

 

যেন বয়ে যায় বেলা…”

 

জন্ম-মৃত্যু- বিরহ-প্রেমের এমন এক চক্রের মধ্যে কবি নিজের ভাবনাকে এখানে নিয়ে এসেছেন যার দুইদিকে অনন্তকাল হেঁটে গেছে। আমরা যেন একটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি সবসময়। যার একদিকে একটি রাস্তা অনন্তকালের দিকে চলে গেছে। আবার সেই রাস্তাই ঘুরে ফিরে হাজির হয়েছে এই দরজার সামনে। আমিই হাঁটছি অনন্তকাল ধরে। আমিই হেঁটে চলেছি অনন্তকালের দিকে।তাই যেন পাঠক হয়েও, নিবিড় চেতনা থেকে উচ্চারণ করে ফেলি,

“…নারকেল বন থেকে বুনো হাওয়ারা ছুটে আসে।

সূর্যদেব চলে যান ডালপালা পাতার কুঠিরে—

বাতাসে পাখির গান, আত্মীয়ের মত মুথাঘাসে

ঢাকা ওই পথ, চেনা মনে হয় আমার শরীরে।

 

সেই একটি পলক বিঁধে আছে— অস্ত্র বের করে

নিতে ভয় হয়; গাঁথা-অস্ত্র, ব্যথার অংশের মতো

ব্যবহার করি— তাকে চেপে রেখে দিই সশরীরে

রক্তক্ষরণ যেন না হয় আর, ব্যথা পাই যত।”

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1320 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...