বহতা অংশুমালীর কবিতা

প্রেমিক, তোমায় পেলে, বিরল ও নিভৃত হতাম
হ্রদের অপর প্রান্তে দূরগত সূর্যাস্তের মতো
সেখানে পাতার জাফরিতে, আমাদের আবড়াল
সেখানে হাওয়ার ফিসফাস, আমাদেরই কিছু

এখন তো আপাতত সর্বত্র হয়েছি
এখন গেঁথেছি আমি সখী সখী বাহুবন্ধন
বনব বানরীদের মতো আমি খাপ পঞ্চায়েতে
নগ্নতার বিরুদ্ধে ও নগ্নতার সপক্ষে
ফুলিয়ে গলার শির বিক্ষুব্ধ হয়েছি
নইলে যাব ছিঁড়েখুঁড়ে
নইলে ওরা নিজেরাই
জুজু পুষে জুজু ব’লে, জুজু গেয়ে তুলবে আগল
প্রেমিক তোমায় পেলে আরো বেশি দূরুহ হতাম
চলেও যেতাম ওই নদীর ওদিকে ঝোপেঝাড়ে
কখনো তোমায় নিয়ে কখনো তোমায় ছাড়া
কখনো তোমায় মনে ব’য়ে।

 

অনামা সমস্যা, ফোন,  অন্ধকারে শব্দময় হাসি

 

মা একটা রেসিপি বলবে?
রাঁধলেই টাকনায় শব্দ করে চেটে খেতে হবে?
কীসব রেস্তোঁরা যে খুলেছে এখন
এমন রেসিপি বলো যাতে রোজ রাতে বাড়ি ফেরে
মা তুমি ঘুমোচ্ছ নাকি?
আমি যেন ডুবে যাচ্ছি
ছুঁচের শব্দ পাওয়া হাঁ করা দুপুরে।
মা প্লিজ বলো না
শশা দিয়ে দুধ দিয়ে আর কি কি দিয়ে যেন মুখে মেখে দিতে!
কালকের পার্লারে নতুন ব্লিচের
ভিতর কী দিয়েছিল
সমস্ত গাল যেন লাল লাল বাঁদরের মতো!
ও যেন কেমন হাসলো,
আমি আলো নিভিয়ে দিলাম।
তবুও অন্ধকারে সমস্তক্ষণ
কিভাবে সে হাসি দেখা গেছে!
মা তুমি রাখছ না কি?
মা তুমি রেখো না
দুপুরটা পার করে দাও
আমি কিন্তু একা একা নইলে এঁটোর
উপরে ঘুরতে থাকা মাছিটার সঙ্গেও কথা বলে ফেলি।
মা আমি বাসন মাজবো, মা আমি কাপড় কাচবো
নিজের হাতে না, ইস্তিরি করে দেব সমস্ত কলার
পটের বিবির মতো তিনতলা বাড়িতে এমন
বসে আছি তাইতে না
খালি মাথা শয়তানের ঘর
মা আমি রাখছি ফোন, মা ফোন রাখছি।
হ্যালো মা রয়েছ?
এক্ষুনি শুতে যাবে?
না না প্লিজ শোনো
বাড়ি ফিরে বললো ও বেণু এর চেয়ে ঢের ভালো কাজ করে!
‘ট্রেইন্ড মেইড’ কিনা!
ও বলল কিটি পার্টি, এরোবিক্স এইসব কোরো।
ও বললো সব যত্ন কিনে নেবে অনায়াসে বেণুর কাছেই-
পনেরো হাজারে।
আমি তো তখন আলো নিভিয়ে দিলাম-
খিক করে শব্দ হল অন্ধকার ঘরে!
অন্ধকার ঘরে তবু কী করে যে হাসি দেখা যায়!
মা তোমরা যে বিএডটা করতে দিলে না-
এখন মন্টেসরি ট্রেনিং নেব কী?
ও কী টাকা দেবে?
কিন্তু বেণুর মাইনে পনেরো হাজার
আমার তো হলে হবে দশ!
হ্যাঁ মা টিনু ভালো আছে,
গরমের ছুটিতে তো ফেরে।
হ্যাঁ সবাই ভালো আছে
কী আশ্চর্য?  ভালো আছে বলছি তো!
ভাই বোন দেওর ননদ পুরো বিশ্ব সংসার।
রেগে যাচ্ছি কেন?
না তো-
রেগে যাব কেন?
তুমি এবার ঘুমোও।
আমি তো দুপুরবেলা আর্ট অফ লিভিং ক্লাসে জয়েন করেছি।
খুবই ভালো আছি।

 

স্বরমুক্তি

 

সঙ্গমের সময় আমার
অন্য কারণে ভালো লাগে
শুধু এই সময়েই আমার গলার স্বরে উজ্জীবিত হও
শুধু ওই সময়েই আমার উচ্চস্বর তোমায় বকলস হয়ে টানে
ঘুরতে বললে ঘোরো, উঠতে বললে ওঠো
অথচ অন্যথা
উদাত্ত আবৃত্তি যদি করি যদি বলি
জীবনের কথাগুলি গভীর আগ্রহে
যদি আমি প্রতিবাদ করি –
যন্ত্রণায় কান চাপো তুমি
অযৌন ভঙ্গিতে অমনি ওষ্ঠাধরে ঠেকাও আঙুল
বলো “চুপ চুপ, দেখছ না?
কথা বলছে দুজন পুরুষ!
দেখছ না কত গুরু আলোচনা
বাদ-অনুবাদ?”
সঙ্গমের সময় আমার
অন্য কারণে ভালো লাগে

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1320 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...