২৫-এ পঁচিশ

আমাদের তরুণ কবিরা

 

২০০৫ সাল। মিগুয়েল সার্ভান্তিস রচিত এবং ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'ডন কিহোতে'-র চারশো বছর উদযাপনের মুহূর্তে আক্ষরিক অর্থে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন স্পেনের সাধারণ মানুষ। মাদ্রিদের রাস্তায় পথচলতি নাগরিক, অফিসফেরতা যুবক, কলেজবালিকা যে যার ওভারকোটের পকেট থেকে বার করছিলেন উপন্যাসের কপি। তারপর উন্মুক্ত মঞ্চে উঠে সামনের জনতাকে ইচ্ছেমতো পড়ে শোনাচ্ছিলেন 'ডন কিহোতে' থেকে নিজেদের পছন্দের অংশ।

নিজের চারশো বছরের জন্মদিনে কেমন থাকবেন রবীন্দ্রনাথ? বাঙালি কি একইভাবে রাস্তায় নেমে পালন করবে তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম প্রধান পুরুষের জন্মক্ষণটি? নাকি নিষ্প্রাণ উদযাপনই পড়ে থাকবে শুধু? আজও যেমন, সেদিনও রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর ভাবনার সঙ্গে কোনও গভীরতর যোগ থাকবে না পুথিশিক্ষিত বাঙালির!

বাঙালির জীবনভাবনায় রবীন্দ্রনাথ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছেন, এটা মেনে নিলে, সামগ্রিকভাবে জাতিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অবনমনের ব্যাখা পাওয়া যায় না। যেমন বোঝা যায় না, যে রবীন্দ্রনাথ ধর্মীয় উৎসবের সীমাবদ্ধতার কথা ভেবে বর্ষবরণ, বর্ষামঙ্গল ইত্যাদি নানা প্রকৃতি-সম্পৃক্ত, লৌকিক অথচ অসাম্প্রদায়িক উদযাপনের সূচনা করে গিয়েছিলেন, তাঁর বঙ্গদেশে ক্রমে ক্রমে বিজাতীয় চৌত্রিশ পার্বণের রমরমা, উগ্র জাতীয়তাবাদের নির্মাণ ও হিংসার চাষ শুরু হল কীভাবে!

এই খর বৈশাখে আমাদের ছোটনদীতে হাঁটুজল রয়েছে মানি, তবু তা একেবারে শূন্য নয়। প্রাণযমুনায় তিরতির শুশ্রূষার মতো বয়ে যাক তাঁর গান, কথা। জাতীয় স্তরের পাঠ্যবই থেকে তাঁর রচনা সরিয়ে দেওয়ার ষড় চলছে। রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়।

না, সরাসরি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কোনও লেখা নয়, এই পঁচিশে বৈশাখে আমরা তাঁরই হাতের পলি-মাখা আধুনিক বাংলা কবিতার জলপ্রবাহের সংলগ্ন হয়ে রইলাম। গতবারের মতো এবারও পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষ্যে চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছে বাংলাভাষার পঁচিশজন নবীন কবির পাটভাঙা কবিতা। এপার বাংলা, ওপার বাংলা ও বরাক উপত্যকার নবীন কবিরা হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের এই কবিতা-আন্তরিকতায়।

কালসিন্ধুর ওপারে বসে দেখছেন রবীন্দ্রনাথ।

 

অদিতি বসু রায়

কথা

আজকাল মুখোমুখি কথা হয় না

বাতাসে দূরের ভাষায়
হোয়াটসআপ আসে

যারা লেখে তারা সব কেমন আছে,
জানার উপায় নেই

জানার উপায় নেই, বাগবাজার
ঘাটের বটগাছ থেকে পাতা কেটে
ফেলেছে কারা

এখন আলাদা হওয়ার হাওয়া
এসেছে শহরে

মুখ গুঁজে আছে সব। চোখে পড়ে
না কিছুই

পুরনো বইমেলার সামনে থেকে
কোথায় গেল

ডাইনোসর?

কোথায় গেল, গুর্জরীর শার্ট পরা,
সিগারেট মুখের তরুণ?

পাতার লিখে রাখা সন্ধের মুখ সব,
কই?

দূরের বাতাস বইছে জোরে।

সামলে রাখতে শিখে নাও এবার।

এবার শিখে রাখো, দূরভাষ ছুড়ে
ফেলার দিন এসে যাচ্ছে দ্রুত

কাছে থাকা জরুরি, সবাই জানে।

মনে রাখা দরকার, কাছে থেকে
মারামারি করা ভালো

আলাদা বিছানার চেয়ে।

 

অনিমিখ পাত্র

তোমাকে

ঢিল মেরে ভেঙে দেওয়া হাসির মৌচাক
জোটাই তোমাকে এই শনশন রোদের সিঁথিতে
সমস্ত সকাল ভেঙে রোদ্দুর পড়েছে আর
হাসির বিবিধ অর্থ ভেঙে ছত্রখান
আমাকে দেখায় ভালো তোমাদের তোলা ফটোগ্রাফে
সমস্ত সকাল জুড়ে আমাকে দেখায় ভালো
রৌদ্রভঙ্গিমায়

হাসি কুড়নোর ছলে, আসলে তোমাকে ভাবি
যেন বা কী এক গান, রবীন্দ্রনাথের!

 

অনির্বাণ ভট্টাচার্য

বিয়োগাত্মক

খটখটে শুকনো রাস্তায় পড়ে থাকে একটা মরা সাপ

ট্রাকের গতির সঙ্গে আড়াআড়ি ভালোবাসা কুকুরের
ছড়ানো ছেটানো নাড়ি ভুঁড়ি ও অন্যান্য বাতিল প্রণালী

কুয়োতে চলকে পড়া চাঁদ—
দুধের সরা ভেবে আর ওঠে না প্রিয় মার্জার…

বিদ্যুৎবাহী তারের মোহ—
শববাহী পৌরসভার গাড়ি
দৃষ্টি উঁচু করে হাঁটেন, একা,
অযোধ্যারাজ

হা হা কালো চিৎকারের ভেতর
অসম্ভব পাশ কাটানো মানুষের
কেচ্ছা, কনডোম
কাকের পালকের মতো, স্বাভাবিক

শুকনো ঘাস চিবিয়েই আনমনে
হেসে ফেলে পালক ছেলেটা
তখনও টাটকা মাঠ, ছলছলে চোখ,
রঙিন যূপকাষ্ঠ

এইসব রূপকের ভেতর
একজন শাকাশীর অনুক্ষণ সলিলোকি,
অসম্ভব শোকে
বিলাপ করতে করতে পেরোন
যশোরের রাস্তা…

 

অরিত্র সান্যাল

অসীম জলযান

টিন ভাঙা পেলাসটিক ভাঙা লোহা ভাঙা চাইতে চাইতে
কবে ভুল করে চেয়ে বসেছিলাম নদীর ভাঙন—
জীবন কোনওদিন আর মেরামত হয়নি;
বিজন অন্ধকারে এক বৃদ্ধ
লন্ঠন তুলে খুঁটিয়ে দেখেন এই স্বপ্ন—
দেখেন তাঁর ভগ্ন স্বাস্থ্যেও একটি যুদ্ধক্ষেত্র আছে—
অশ্রুথলি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে অসীম জলযানের টুকরো

আমি বললাম, তোমার অদৃষ্টে এখন এ ফোঁড় ও ফোঁড় ক্ষত। রোদ চলাচল করে; মনে হয়, পোড়ো বাড়ি, ভিতরে শূন্যতার পুজো করছে কিছু অতিকায় লোক। সম্পূর্ণ সাদা কালো হলে তোমায় মায়া লাগত বেশি। স্থির দুটো পায়রা, তাদের শুকনো বিষ্ঠা দেখলেই চেনা যায় তোমার আমল। একটা রুগ্ন খাট, একটা পুরনো জানলা, এক লোটা বাসি জল— তুমি এ সবেতেই মানিয়ে যাও। যেকোনওদিন তোমার বুক উপচে একটা বিমান আকাশের দিকে চলে যাবে। মনে হবে, আত্মার কঠিন একটা রূপ নিখিলে ছোট্ট হয়ে এল। মনে হবে যুদ্ধ পালিয়ে একটা সৈনিক শ্বাস নিতে এসেছে এইখানে। তখন তার সামনে গোপন খোলার শব্দে দু চারটে ফুল ফুটল—

আমাদের সমস্ত ইতিহাস কররেখায় এঁটে যায়।
ওই জায়গাটায় আগে নদী ছিল, বৃদ্ধ বললেন, এখন শুধু তার একটা সুরেলা দাগ পড়ে আছে

 

অর্পণ বসু

শিল্পী

যে সব মানুষ রোজ
কাজ শেষে
ঘরে ফিরে আসে

সে সব মানুষ রোজ
ফিরেও ফেরে না কোনওদিন

তাদের আচমকা ভিড়ে দেখা হয়ে যায়…

দেখা হলে তারা হাসে, আদাব জানিয়ে
কফিশপে আড্ডা দেয়। সিগারেট জ্বেলে
টেবিলে চাপড় মেরে কবিতা বিষয়ে
তর্ক করে জোরে জোরে। কখনও
বাড়ির… অফিসের…

এতই নিমগ্নভাবে
যে, চোখেও পড়ে না তাদের—
অনতি টেবিল দূরে
কোনও এক উদাসীন—
বেকার পাগল
যা যা শোনে— সে সব গল্পের
ছবি আঁকে সারারাত

হিরণ্য জ্যোৎস্নায়

 

অস্মিতা রায়

ভালুক

মাঝে মাঝে মনে হয়
পাহাড়ের একেবারে কোণার দিকে চলে যাই।
ওপরের দিকে গেলে শালুক তুলতে
আসা বাচ্চা মেয়েটিকে দেখতে পাব না।
অথবা সকলে ওপরের দিকে খুঁজতে গেলে
কোণার দিক থেকে আমি তুলে নেব মহুয়া।

বিবর্ণ এই লালমাটিতে মহুয়ার রং বিষণ্ণ।
ঘষটে ঘষটে সে গলা দিয়ে নামে আর
ব্রহ্মাণ্ড তোলপাড় করে সাদা-কালো সব রং উঠে আসে।

এইখানে একটু দাঁড়ান,
শীতের রাগিণী গায়ে নিয়ে অপেক্ষা করুন।
যে মেয়েটি মহুয়া নিয়ে পাহাড়ের কোণা থেকে
ওপরের দিকে উঠে গেল,
তার হাতে কোনও পুতুল ছিল না।

সে, ইদানীং ভালুক হতে চায়।

 

কস্তুরী সেন

ছুটি

বসন্ত বোঝার কোনও রাস্তা নেই।
বহুদিন পরে লেখা
এরকম দুএকটা চিঠিটিঠি ছাড়া।

রোজকার কথা নয়,
খাওয়া ঘুম গেলাসের জল।
ভাস্কর পড়তে পড়তে উঠে যাওয়া নয়
দুপুরের ছুটিছাটা,
ফিরে এসে ‘মৌরি খাবে?’ বলে কোনও
মুঠো খুলে দেওয়াও তো নয়
বহুদিন পরে লেখা এমন চিঠিতে
ম্যাকলাস্কিগঞ্জের প্ল্যান, হতে হতে
উদগত সত্যি কথা গিলে নিচ্ছে যারা
কিছু থেমে মৃদুতর স্বরে,
এইবার বাংরিপোসিই হোক
দিন কম লাগে, কাছাকাছি কলকাতা থেকে…
ধৌলি, রাঁচি, ডালটনগঞ্জ
টুকিটাকি ভাঙাশব্দ
ঘুরপাক খাওয়া অতিপরিচিত হাতের লেখায়

বসন্ত বোঝার কোনও রাস্তা নেই
বহুদিন পরে, শুধু লেখা ছাড়া—
দারুণ জ্যোৎস্না বাংলো
অথবা ভোরের ট্রেন
দূরতর জঙ্গলের থেকে শুধু
ভেসে আসা শালের বাতাস

 

জয়ন্ত দেবব্রত চৌধুরী

অলৌকিক এক দিনে

তেমন তেমন ভোরে চৌকো উঠোনে গিয়ে দাঁড়ালে খোলা মাথার ওপর টুপটাপ পড়তে থাকে অগুনতি কবিতার ফোঁটা, ভেজা মাটি থেকে ক্রমশ কাব্যগন্ধ ওঠে। গতরাতের অক্ষম কবিতারা শিথিল বোঁটা খসে ঝরে পড়ে চুপচাপ, স্থানীয় ঘাস ক্ষণস্থায়ী সুগন্ধিত হয়। তেমন তেমন দুপুরে অবধূতসম ধীবরের দিগন্তে ছড়ানো জালে ধরা পড়ে রুপোলী আঁশে মোড়া সদ্যমৃত কিছু চকচকে গান, তপ্ত বাতাস থেকে যাদের রেশ মুছে যায়নি পুরোপুরি। নিথর দু’ চোখে তখনও লেগে রয়েছে দূরাগত কোনও সুরের স্বরলিপি। তেমন তেমন বিকেলে শহরের পথে ব্যস্ত বাস থেকে দেখা প্রতিবন্ধী বালকের শরীর থেকে উঁকি দেয় স্বভাবভীরু ছোটগল্পের কচি ডগা, সহানুভূতির রোদজল পেলে সে দ্রুত বেড়েই চলে আয়তনে। পড়ন্ত সূর্যের ছায়ায় শীর্ণ শিশুটিকে ভবিষ্যতের কোনও ঝাঁকড়া উপন্যাস বলে ভুল হয়ে যায়। তেমন তেমন সন্ধ্যায় দীর্ঘক্লান্ত দোকানি ঘুররাস্তায় বনের ডালিম গাছটার সামনে গেলেই মন্ত্রবৃক্ষ মাথা নোয়ায়, দু’ ভাগ হয়ে আড়াআড়ি পথ ছেড়ে দেয় সসম্ভ্রমে। বুকের ভেতর থেকে টগবগ সাদা ঘোড়ায় চেপে এক লহমায় বেরিয়ে আসে রূপান্তরিত রাজকুমার। তেমন তেমন রাতে নক্ষত্রসওয়ার বৃদ্ধ বিধাতার চোখেও অনর্গল অশ্রু গড়ায়, মৃতবৎস মহাকালের জমানো কৃতকর্মের বোঝা ভারি লাগে। একপৃথিবী মায়ার টানে সেই জলবিন্দু মাটির দিকে নামতে থাকে ক্রমাগত, অনেক আলো দূরে যেখানে আঙিনামাঝে ব্রাহ্মমুহূর্তে প্রতীক্ষা করছে তারই কোনও অকারণসৃষ্ট অধিকারী।

 

জয়শীলা গুহবাগচী

দেশজ ১৪

সম্ভাব্যের দিকে একটু একটু করে পা রাখছে আজন্ম
আর রঙ ধরে যাচ্ছে সত্যের
সত্যকে জন্মাতে দেখি বারবার
দেখি শেষ প্রত্যাশার গায়ে
স্বপ্নের মতো ঝুলে থাকতে
তোমার ছড়ানো চেতনার মাঝে
দেশ ধর্ম আঁকা হলে
পাঠ্য পুস্তকের মোড়কে তুমি ঘুমন্ত
তোমার অবস্থানও
এসব সত্যের হৃৎপিণ্ড বরাবর
একটি তর্জনী
একটি সম্ভাব্য
একটি সন্দেহ
একটি প্রশ্ন
চিরকালীন চিরসত্য হয়ে
নিজেকে শান দেয়,
ফলন্ত ছুরিরা
ঈশ্বরের অন্ত্রের দিকে
ঝিকমিক করে…

 

জয়াশিস ঘোষ

বন্ধ কারখানার জলসা

সেই কবেকার ফেলে আসা গান
সেলাই করছে মা রোদে বসে পুরনো রেডিওয়
একের পর এক নক্সা ফুটিয়ে তুলছে
নিপুণ হাতে। আমরা পাত পেড়ে বসে আছি
পুরোটা বোনা হলে

সমস্ত খয়েরী পাতা সবুজ হয়ে যাবে
বাবা রবিবারে মাংস রাঁধবেন….

যে কোনও মন্দির জানে দেওয়ালের ক্ষত
মানতের ঢিল ভাঙা হলে উচ্চারিত হয়
কাল পড়ন্ত বিকেলে মা জাহাজ ভেঙে ফেলেছে
পাঁচ পয়সা দিয়ে তৈরি জাহাজ

যার গায়ে আটকে আছে অশ্বত্থের কচি পাতা
বাবার চশমার ঘোলা কাঁচ, সংসারের নোনাটুকু…

ঢালাই কারখানার পেছনের ঝোপে শঙ্খ লেগেছিল
তীব্র আশ্লেষে দুধ বেরিয়ে আসে জ্যোৎস্নার ধারা
ক্ষীর হয়ে যায় জং ধরা ওয়েল্ডিং মেশিন
ছেলেটির খোঁচা খোঁচা দাড়ি। তেল দেয়নি কোনওদিন
যেমন পার্টির কিছু ছেলের চাকরি হয় না
কাটারির কোপ খেয়ে অস্ত যায়

বাগদির মেয়েটা আত্মহত্যা করতে গিয়ে
ফিরে আসে বারবার
স্নান সেরে প্রদীপ জ্বালে তুলসীতলায়…

 

ঝুমা গঙ্গোপাধ্যায়

অজানা কিছু

বিশ্বাস ভেঙে পড়ে
চুয়ে পড়ে রক্ত, কাদা, ক্লেদ

সময়ের পাড়ে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলি
মাটিতে মিশে থাকা হাহাকার টেনে তুলি

রমণের সময় দীর্ঘ হলে কি
প্রেম রমণীয় হয়

অজানা প্রশ্নের মজ্জায় মেখে থাকে
অন্ধকার

সে উত্তর না পাওয়া প্রশ্নের শিশ্নে
অজানা শিল্পশহর গড়ে ওঠে,

বেদ আর বোধের মাঝে খেলা করে
অজানা সঙ্কেত
অদেখা জাফরানি টান…

 

তথাগত দত্ত

টিকটিকি

পাহাড়ের উপরে বসে ভায়োলিন বাজাতে বাজাতে রাজা
ইতিহাসে লীন হয়ে গেলেন
তারপর কেটে গেছে কয়েকশো বছর
তবু আমি সেই অতীতের সুর আর
রঙের ভিতর থেকে
তুলে এনেছি সম্মোহন মন্ত্র
আর সেই মন্ত্র দিয়েই তৈরি হয়েছে একটি গ্রাম
চাঁদের আলোর ভিতর একদিকে
ধানখেতকে রেখে অন্যদিকে একটি মাটির ঘর…
এখানেও হিমের মগ্নতা জমে আমার
চোখের পাতায় পাতায়
এই গ্রাম কখনও নদী দেখেনি বলে
আমি শিখতে চেয়েছি নারীর কালো চুল থেকে
কীভাবে জন্ম নেয় মেঘ…
আর তখনই ভায়োলিনের সেই আদিম সুর
আমাকে টেনে আনে বেহালায়
আমার আর কিছু করতে ইচ্ছে করে না
শুধু রাস্তার ধারে বসে ভাবতে থাকি সেই গ্রামের কথা
মাটির ঘরের কথা… দেয়ালে টাঙানো
শ্রীকৃষ্ণের ছবি
আমি সেই ছবির পাশে টাঙিয়ে দেই
গুগল ক্যালেন্ডার
মৃদু বাতাসে দুলতে থাকে…
মাঝে মাঝে মনে হয় আমি পৃথিবীতে এসেছি
শুধু ছুটি কাটাব বলে
জাস্ট হলিডে
আর তখনই গুগল ক্যালেন্ডারের পিছন থেকে
একটি টিকটিকি ডেকে ওঠে
ঠিক… ঠিক… ঠিক

 

তন্ময় ভট্টাচার্য

বিস্ময়

তোমার প্রেমিক বলে দাবি করতে এল যে তরুণ
তার কাণ্ডে হাত রেখে বলেছি তাহলে তাই হোক
এই পথ গুরু নয়, পাশাপাশি ধরে না দুজন
আসলে ছিলাম কিছু কারণ-গুছিয়ে-নেওয়া লোক

সেই পর্ব মিটে গেছে, কাজের কথায় এলে তাই
তোমাকে চিনি না শুনে এত তৃপ্তি তরুণের গায়
কাঠপিঁপড়ে ও ময়াল উঠেছে টেরটি নাহি পায়
আকাশ আড়াল করে বলে দুঃখ এখনও মজুত

এই দুঃখ সুখী নয়… সুখী নয়, বলেছে নিজেই
তার হয়ে লেখা ছাড়া তোমাকে দেওয়ার কিছু নেই

তোমাকে দেওয়ার ছিল এত নম্র এতখানি ফুল
যাদের বাতিল করে দিতে পারে আজকের দিন
এখনও হরিণীটিকে ছিঁড়ে খেলে বাঘেরা, হরিণ
নিজেই এগিয়ে এসে বলে বেঁচে থাকা কী কঠিন

তোমাকে বলার ছিল পররাজ্যে যেও না আঙুল
ওখানে তরুণ যারা এত ধান্দা শিখেছে কোথায়
আবরণ খুলে যদি পৃথিবী কবরে মিশে যায়
যে-ভাষা বুঝিনি তার ফলকও কি সুরেলা শোনায়

তরুণ তোমাকে দেবে কথা-বলা আমারই পুতুল—
যা-কিছু লিখিনি আর লিখেও বুঝিনি যত ভুল

 

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম

তোমাকে জানা

তোমায় সহজাত জেনে যুগের কোনও হিংস্র চাহনি আজ
কুয়াশা জলের মতো সূর্যালোকে মিলিয়ে যায়;
তবুও গভীরে থাকে যে ছায়ারূপ, দীর্ঘ রাত্তিরের ক্রন্দন,
যেন সে যুগের বেশি, শতাব্দীর চিরপ্রাচীন আঁধার জানা
প্রায়শ ঢেউ তোলে, অভ্যস্ত অস্থিরতাকে জাগিয়ে তোলে
দিনের ভগ্নাংশ ধূসরতার দিকে কার্যত বিরহের গান ধরে
তোমায় সহজাত জানার ভেতর কত জটিল এই খেলা…

 

প্রগতি বৈরাগী

স্বগত

অন্ধকার বসে আছে তারকাটা স্তব্ধ উঠোনে
এলেবেলে সংসার আকথা কুকথা গায়
ঠনঠন বেজে যায় প্রায় খালি অন্নের ড্রাম

দুমাসের মজুরি না এলে মধুর পৃথিবীখানি নিকৃষ্ট তৃতীয়ে নেমে আসে

মাধব হে, এ মিনতি রেখো
বাঁশিটিকে বাঁধা দাও গঞ্জের রুপোর দোকানে

কিনে এনো মোটা চাল, তেল নুন,
টেঁকসই জাড়ের পোশাক

আর হয়তো কিছুদিন।
যেভাবে সেভাবে থেকে যাব

খসে যাচ্ছে চলাচল
শূন্য মনে হয়

শার্টের পকেটে রাখা তরুছায়াতল
ছুঁয়ে দিলে মৃদু হাসি, ডাকের বিদ্যুৎ

এইসব দেখাশোনা শান্ত হয়ে যায়
বিবাহের রাতে,
লোডশেডিং-এর মতো বিষণ্ণ লাগে

 

বহতা অংশুমালী

“এক বেশ্যা অনায়াসে ভিতর মন্দিরে ঢুকে যায়”?

সে তুমি কেমন চাও আড়চোখে দেখে বুঝে গেছি
এও তো বেসাতি, আমি ভিতরমন্দির থেকে ঠিক
তেমনই বেশ্যা খুঁজে তোমাকে দিয়েছি
সে এক চন্দ্রমুখী, দুর্গন্ধ গলির গতরে,
পুজোপাঠ করে।
গোপনে ছাড়িয়ে মদ, তারও চেয়ে চূড়ান্ত বিষ
পাঠায় অন্দরে।

আমি তো বলেছি সেটি ফেরত দেব না।
সে যা ছিল, আর নেই, হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে নিয়ে গেছে
ওভাবেই নেওয়া যায়, দস্যুতায়, চামড়ার—
থলিতে আমার প্রেম, আমার তরল
লম্বা চুমুকে খেয়ে বালির ভিতর ঢুকে গেছে।
তোমার কি ঘোড়া নেই?
তুমি কি নিতান্ত সেই
গ্রামীণ হাটের মতো বিকিকিনি করিতে
এসেছ?
সে তুমি কেমন চাও?
তেলেজলে চুপচুপে মালিনীর মেয়ে?
অথবা যোজনগন্ধা মেছো কোনও নারী?
ঝুলি ঝেড়ে দিয়ে দিতে পারি
অনায়াসে ঢোকে যারা অবহিত পথ ধরে
শ্রমণের ভিতরমন্দিরে
শুধু বিধিসম্মত সতর্কীকরণে
লিখে রাখে প্রবেশের দ্বারে
‘কাল রাতে ফেরত এসো না’

 

লুফাইয়্যা শাম্মী

শরীর

চারদিকে দৃশ্য গড়িয়ে পড়ার শব্দ। পিনপতনে লুকিয়ে যায় একটি বেহায়া শরীর। যেন বা উদ্দাম প্রাণচঞ্চল থেকে নিস্তেজ প্রাণহীন মাটি— যে যার মতো কেটেকুটে নিচ্ছে। তার বুকের উপর বসে থাকে এক শুকনো নদী। সমস্ত সবুজ নদীর চরে আঁচল ধরে বসে আছে।

পিঁপড়ারও নিঃশব্দে হাঁটার রেওয়াজ নেই, অথচ নিরবতায় ‘শরীর’ ফেটে যাচ্ছে। সোঁদাগন্ধে চাক ভেঙে উড়ে যাচ্ছে মৌমাছির দল, ফিরে আসবে ভেজা কাকতাড়ুয়া চাহিদার ভেতর থেকে।

এ কষামাংসের মাপজোকের দিনে, শরীর ঢুকল বাঁধভাঙা ভারী স্তন নিয়ে। কিছু হিরা-পান্না স্তনের উপর বসা দেখেও পুরুষ তাকে কালো রক্তে স্নান করাল।

এ কানকথা ছড়িয়ে গেল পরমায়ে— পুড়ে গেল অতীতের খুঁটি, যেখানে রোজ ঝগড়ার আসর বসত; ছিল শালিকের দল। কুচকুচে জলে মেশেনি রক্তের ঢল!

আর কেবলই একটি আত্মা ছবি হতে চায়। ঝুলে যেতে চায় শ্মশানের কোল থেকে, আমাদের মতো!

 

শাশ্বতী স্যান্যাল

দেবতার জন্ম

পাথরপুজোর দিন দুধ কম পড়েছিল। গ্রামীণ নারীরা স্তনে বয়ে এনেছিল গঙ্গাজলি গান। অন্ধকারে এতদিন তারা ব্যক্তিগত ঈশ্বর দেখেছে। তৃতীয়-নয়ন থেকে দেখেছে কীভাবে ঝরে পড়ে অবিশ্বাস আর দৈববাণী…

আজ ঋতুপ্রণামের পর প্রত্যেকের হাতে হাতে উঠে আসবে কেতকীপুরাণ

শালজঙ্গলের গান মুখে মুখে ফেরি হয় না আর। যেসব মেয়েরা মুগ্ধতার নির্জন অসুখ নিয়ে পোকামাকড়ের মতো ঘাসের সবুজে ফিরে গেল, আরণ্যক তাদেরও জীবনে মহীরুহের শরীর থেকে নেমে এসেছিল বিষধর সাপ…

অববাহিকার থেকে অনেকটা দূরে চুপিসারে কলার ভেলায় ভেসে যাচ্ছে সেইসব সাপেকাটা মেয়ে…

স্রোতের ভিতরে শুয়ে তাদের কি আজও মনে পড়ে— বিশ্বাসের শান্ত বোধিগাছ? সামাজিক হতে হতে অথচ সে গাছ কবে ডুবে গেছে ভূমিগর্ভে, খনিজ লবণে…

নারী নেই, ঘুঙুরের বোল একা শুয়ে আছে ইন্দ্রের সভায়

 

শিমুল জাবালি

গোড়াপির হেঁশেল — ত্রিশ

ত্রিদণ্ড উচ্ছ্বাস করে গভীর রাতের অন্ধ
চুল খিলখিলিয়ে হাসে। ওরে হাসন,
তোর তৈরি সামান্য তলোয়ার এখন
আমার পিঠে ঢুকাই, আনন্দ করি। হৈ
হুলুস্থুল করে পায়ে মোমের আগুন
ছোঁয়াইয়া ইস্রাপিলের ঘরে পৌঁছে যাই।
মদ্যপান করে লুটিয়ে থাকি কোলে।
সমস্ত বিষাদ ছেড়ে শৃঙ্খলিত স্বর্গের
দেখা পাই। জুয়াড় আঙুলের যন্ত্রণা
থেকে মানুষ মুক্তি চাইবে, কিন্তু আঙুল
ভাগ হয়ে উড়ে যাবে সন্ধ্যায়। যখন
দৃষ্টিযোগে ভ্রান্ত করি সংস্রব, যার বায়ুতে
কষ্ট আছে, কষ্টের ভেতর আরেকটা,
যন্ত্রণা আছে, তখন তার অন্তঃস্থ ভেদ
করে থেঁতলে দেই আগুনের পরগাছা।
ইচ্ছাচ্যুত ভাবে প্রাণে প্রাণে যে
শঙ্খশীৎকার তৈরি হয়, তাই কি
বাৎসল্য প্রেম? গোড়াপি, তুমি গঞ্জে
যাও, রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে নিও রাস্তার
বিষাদ। আকাশ ছেদ করে দৃষ্টি দিও
সূর্যের দিকে, চোখ কচলানো শেষ হলে
খুঁজে নিও রক্তমাংসের আমাকে।
রক্তদানে তুমিও চটপট।

 

সঙ্ঘমিত্রা হালদার

সুপবন

কিছু না করেই নিভে আসছে ক্লান্তির দিন
ক্ষণিকের সুপবন বাইরে কোথাও
ঋণ বলতে এই
মাথা টিপে দিচ্ছে তার আশা

হয়ত তুমি আসছ
আসছ কত মেঘরোদজল পার করে
আসতে আসতে হয়ত কোথাও থেমে আছ

আসতে আসতেই হয়ত কেউ পর করেছে তোমাকে

 

সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিমান

অথচ আমার কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই
পৃথিবীতে রেখে যাব বলে
আমি তাই বপন করিনি কোনও বীজ।
তা বলে কি একা একা চলে যাব নাকি?
পৃথিবী আমার কথা করেছে খারিজ
মাটি খুঁড়ে রেখে যাব
ধুলো বালি মৃদু স্নান আয়ুপথ রেখা
পৃথিবী আমার কাছে
নব নব রূপে রোজ
অভিমান শেখা!

 

সোমনাথ ঘোষ

বেড়াল

শিরদাঁড়া ছেড়ে তোমার পায়ে এসে সুড়সুড়ি দিচ্ছে নিজস্বতা
তুমি ভাবছ প্রেম, ভাবছ ওড়ার ভঙ্গিমা।
একটা ঘোলাটে শীতকালের কাছে আদর করে ফেলে যাচ্ছ রুমাল
কল্পতরু অন্ধকারের ভেতর উড়িয়ে দিচ্ছে পোষা পায়রা।
যদিও ব্যক্তিগত অবগাহনের প্রশ্নে তুমি নরম ব্লেড।

আর আমি ভাবছি
সমস্ত সন্দেহের ভেতর একদিন বেজে উঠবে সেতার, মহুয়া!

 

সোহম দাস

তেকাঠি সিরিজ

(ত্রিভুজাকৃতি নয়। স্বপ্নাতুর আয়তক্ষেত্র যেখানে স্বপ্নের লিঙ্গ পুরুষ না, স্ত্রী। অতএব গেম অন।)

পেনাল্টিবক্স

প্রতিটা মুহূর্তে ছড়িয়ে আছে চূড়ান্ত অবিশ্বাস
এখনও কেন জামা পরিষ্কার তোমার?
এখনও কেন দগ্ধ হওনি তুমি?
এসময় স্ক্যানারের তীব্রতা বাড়ে—
জীবন মানে যারা জেনেছে শুধু হিসেবরক্ষা
তারাই নিশ্চিত সাফল্যের আগে পালিয়ে যেতে চায়!

সেন্টারসার্কল

এসময়টা আকাশকে বড় বেশি উঁচুতে মনে হয়
আয়নায় বারবার নিজেকে দেখা
নিউ ইয়ার রেজোলিউশন
অধঃক্ষেপশীলতা যেখানে নিয়তি,
সেখানে তাকে আটকাবে কোন লেনিনগ্রাদ?
প্রতিটা আরম্ভ মানেই তো মৃত্যুর কাছাকাছি আসা!

উইং

আমাদের রোটেশনাল অ্যাক্সিস
এখনও কাছাকাছি আসে কক্ষপথের,
তখনই আমরা ডানায় ভর দিই
ইউরেনাসের মতো।
এসব জেনেও
পোয়াতি হলে
পাশ ফিরে শুতে বলে ডাক্তার।

কর্নার

এ শহরে এখনও পলাশ ফুল ফোটে
হে দেশজ প্রেমিকমন,
তুমি পারলে কোনও কুৎসিত মেয়েকে পাঠিও
যার সাথে প্রেম নয়,
খেলা করা যাবে, লুকোচুরি, রোজ!

থ্রো-লাইন

এখানে সভ্যতা নেই
না-মানুষী-ভূমি
তবু এখানেও ক্ষণিকের বিরতি,
কারণ এ সীমানায় সেনা নয়,
সারস প্রহরা বসায়!

 

সোহেল ইসলাম

আমরা যুদ্ধে চলেছি

সাদা পায়রায় খাঁচা ভর্তি
দেশভর্তি গোলা বারুদ
আমরা যুদ্ধে চলেছি
গান লিখছেন গীতিকার, ভায়োলিন বাজাচ্ছে
যুদ্ধের সুর
ফিরে এসে আমরাও মেলাব গলা
দেয়ালে টাঙিয়ে রাখব— যুদ্ধজয়ের গ্রুপছবি

ফুলে ঢেকে যাবে তোমার মুখ, আমার মুখ

আমরা খেয়াল করিনি,
বন্দুকের নল তাক করে দেশের খুলি,
আমরা খেয়াল করিনি বারুদের ঢের
ক্ষমতার লোভ
শিশুর কান্না
মায়েদের হাহাকার

দাউ দাউ আগুন জ্বলছে
হাঁড়ি-কড়াইও হাতের কাছাকাছি
দুটো ফুটিয়ে নেবার মতো চাল নেই
আমাদের ঘরে

আমরা যুদ্ধে চলেছি

 

হাসনাত শোয়েব

হে আহারপ্রিয় মাছ

হে আহারপ্রিয় মাছ নৌ-ভ্রমণের পূর্বে
মিথ্যে বোলো না। যেহেতু সমুদ্র অর্কেস্ট্রা
ঘিরে গড়ে উঠেছে বালিকাদের মৌতাত।
ব্যাঘ্রশাবকের দাঁত ব্যথার কতটুকুই বা
তারা বুঝতে পারে। জানোই তো,
অশোকগাছের নিচে শান্ত বালিকারা
আমাদের মা।

পাতার আড়ালে লুকিয়ে রাখে মনোরম হাঁসের মাংস—

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1755 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

7 Comments

  1. ছুটি

    বসন্ত বোঝার কোনও রাস্তা নেই।
    বহুদিন পরে লেখা
    এরকম দুএকটা চিঠিটিঠি ছাড়া।

  2. সকলের কবিতা মনে ধরে রাখার মত,খুব ভালো লাগছে একসঙ্গে এতগুলো নতুনের লেখা পড়তে????

  3. ঢিল মেরে ভেঙে দেওয়া হাসির মৌচাক
    জোটাই তোমাকে এই শনশন রোদের সিঁথিতে
    সমস্ত সকাল ভেঙে রোদ্দুর পড়েছে আর

  4. অরিত্র সান্যাল, কস্তুরি সেন, অস্মিতা রায় জয়াশিস ঘোষ আর তথাগত দত্তের লেখা খুব ভালো লাগল।

  5. তথাগত কবিতাটি পড়লাম। বেশ ভালো লাগলো। আরো লিখুন। শুভেচ্ছা।

আপনার মতামত...