রুদ্র ও কাঞ্চনজঙ্ঘা

শঙ্করী মণ্ডল

 

রুদ্র ফিরে এসেছে।

বিপ্লবদা আসেনি। কুন্তল আসেনি। ওঁরাও আসছে… আজন্মের সাধ মিটিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার সবটুকু শীত শরীরে মেখে ওঁরাও আসছে..

কয়েকদিন আগে তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কুন্তল ও বিপ্লবদা।

কুন্তল সামিটের শ-তিনেক মিটার আগে এবং বিপ্লবদা সামিটের শ-তিনেক মিটার পরে কুন্তলের কাছাকাছি জায়গায় এসে এলিয়ে পড়ে পাড়ি দিয়েছেন না-ফেরার দেশে। বিপ্লব বৈদ্য, বিপ্লবদা ২০১৪ সালে চিনের দিক থেকে, নর্থ কল দিয়ে এভারেস্ট আরোহণ করেন।

সোনারপুর আরোহী ক্লাবের সদস্য বিপ্লবদা ও রুদ্র (রুদ্রপ্রসাদ হালদার), হৃদয়পুরের বাসিন্দা এবং মাউন্টেন কোয়েস্ট ক্লাবের সদস্য রমেশ রায়, হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের কুন্তল কাঁড়ার এপ্রিল মাসের চার তারিখে রওনা দিয়েছিলেন বাঙালি অভিযাত্রী দল হিসেবে।

চারজন গিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে তিনজন কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরে ১৫ এপ্রিল ২০১৯ বিজয়পতাকা ওড়ালেন। না ফেরার দেশে সব সাধ, নেশা, প্যাশন নিয়ে পৌঁছে গেছে বিপ্লবদা আর কুন্তল। রুপোর মতো ঝকঝকে পাহাড় ওঁদের টানত… সোনা রোদে ঝলসানো শৃঙ্গ ওঁদের দূরে থাকতে দিত না… জ্যোৎস্না-ধোওয়া মদির শৃঙ্গ ওঁদের পাগল করে মারত… ওঁরা ঘর ভুলত… এবার ওঁদের শান্তি… পৌঁছে গেছে কাছে… এক্কেবারে কাছে..

পাহাড়পথের চারবন্ধু একসঙ্গে বেরিয়ে ফিরলেন দুজন। রুদ্র ও রমেশ রায়।

রুদ্রের এই ফিরে আসা সহজ কথা তো নয়। মৃত্যুর মুখে নিজেকে বারবার এগিয়ে গিয়ে সে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল সহযাত্রীদের। কাঞ্চনজঙ্ঘার সাড়ে আট হাজারি শিখরে নিজের অক্সিজেন অন্যকে দিয়ে দিতে পারে কে? তারপর অক্সিজেনবিহীন চলা… এবং কেবল বাঁচানোর চেষ্টা সতীর্থদের… কে পারে? স্যালুট রুদ্র, ছোটদের প্রণাম বলতে নেই নেই, তাই স্যালুট রুদ্র…

ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলাম ওর ফ্রস্টবাইট হওয়া হাত… ডানহাতের অসাড় তর্জনী-মধ্যমা-অনামিকা। এ আর এমন কী! কাঞ্চনজঙ্ঘার জন্যে এটুকু ক্ষত সামান্যই। কিন্ত কখন হল তা? কখন স্নো-ব্লাইন্ডনেস এল রুদ্রের? অমন মিশুকে হাসিখুশি দায়িত্ববান ছেলেটার উপর বিরক্ত হয়ে তার শেরপা তাঁকে ছেড়ে চলে গেল কেন? আর শেরপাবিহীন একা হয়ে গেল রুদ্র সামিটের তিনশখানেক ফুট পর থেকেই। সামিট ক্যাম্প যে তখনও প্রায় হাজারখানেক মিটার নিচে…

শুরুতে চারজনে চলছিলেন একসঙ্গে, আলাদা আলাদা শেরপার সাথে। চলার সময় জল খাওয়া ইত্যাদিতে একটু আগুপিছু হয়ে যাচ্ছিল সবাই। তখন মাঝে অন্য অভিযাত্রীরা ঢুকে যাচ্ছিল কখনও।

একই সঙ্গে চুড়োয় পৌঁছলেন তিনজন আর কয়েক পা গেলেই সামিটের হিসেবের অঙ্কটা এক্কেবারে মিলে যাবে। কিন্তু সে ‘চুলের সাঁকোর বৈতরণী’-র মতো খাড়া পথে তখন তীব্র জনজট। প্রায় ৫০ জন একই সময় শিখর ছোঁয়ার লক্ষ্যে বেরিয়েছে সেদিন। সুদীর্ঘ আইস ওয়ালে টানানো নানান রঙের দড়িগুলোর কোনটা এবছরের বোঝা দায়। ওয়ালের উপরে সঙ্কীর্ণ তুষারভূমি “সূচাগ্র মেদিনী”-র মতো। তারপর আরও সরু ওই ‘চুলের সাঁকো’-র মতো পথ তারপর বাটির মতো জায়গা পেরিয়ে কিছুটা L আকৃতির জায়গা। ওটাই সামিট। সামিট সেরে সরু পথ পেরোতে জাম্প দিয়ে পড়ে যাচ্ছিল সিঙ্গাপুরের মেয়েটা। রুদ্র আর তাঁর শেরপা বাঁচিয়ে দিল তাঁকে, তা যে কেউ সেটা করত, যদি পারত।

কিন্তু তখন অক্সিজেনের অভাবে কেউ যদি ব্যাকুল হয় কে দেবে তাঁকে অক্সিজেন? একটা সিলিন্ডার মানে তাঁদের আট ঘণ্টা বেঁচে থাকা। ডেথ জোন থেকে নেমে যাওয়ার জন্যে ওই আটঘণ্টাটা খুব জরুরি। কিন্তু রুদ্র দিয়ে দিল নিজের অক্সিজেনটা। এরপরও বিরক্ত হবে না তাঁর দায়িত্ব নেওয়া শেরপা? সামিট থেকে নেমে ওঁর অক্সিজেন শেষ। এবার?

এদিকে বিপ্লবদা বিভোক করতে চাইছে তখন… কথাটাতে ছ্যাৎ করে লাগে রুদ্রের… যতই সহজ করে বলুক বিপ্লবদা, কথাটা মারাত্মক। ওখানে ওই প্রায় সাড়ে আট হাজার মিটারের উপরে কোনওরকমে রাত কাটাতে চাইছে বিপ্লবদা। যেখানে জল নেই, খাবার নেই, তাঁবু নেই, অক্সিজেন নেই। তাহলে? বিপ্লবদা তো জানেই তখন ঘুমাতে চাওয়া মানে মৃত্যুকে ডেকে আনা। বিপ্লবদার তার মানে সাহায্য দরকার। মাঝে সামিট ক্যাম্পের তিনঘণ্টা বিরতিটুকু বাদ দিলে ঘণ্টা তিরিশেক হাঁটা হয়ে গেছে ক্যাম্প থ্রি থেকে। ক্লান্ত সবাই। বিপ্লবদার কি কোনও শক্তি জমা নেই আর? তাহলে? রুদ্র বুঝতে পারে সাহায্য দরকার বিপ্লবদার। দরকার উৎসাহ, তাতানো, বোঝানো, অক্সিজেন এবং সঙ্গ। কিন্তু রুদ্রের যে অক্সিজেন শেষ। যদিও তাঁর মনে হচ্ছে তাঁর কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। হিসেবমতো সামিটের জন্যে নির্ধারিত তিনটি সিলিন্ডারের একটা তখনও হাতে থাকার কথা। রুদ্রের আরও একটা অক্সিজেন আছে কিন্তু শেরপা জানায় সেটা রেখে দিয়েছে ৮২০০ মিটারের কাছাকাছি। রুদ্রকে আরও আধ ঘণ্টা হাঁটতে হবে অক্সিজেন পেতে গেলে।

বিপ্লবদাকে নিয়ে তাঁর অতিদক্ষ শেরপা নিশ্চয় পৌঁছতে পারবে নিচে। রুদ্রের শেরপা আশ্বাস দেয়। বিরক্ত হয় ডেথ জোনে দেরি হওয়াতে। রুদ্র তখন বিপ্লবদা ও তাঁদের দুই শেরপাকে বুঝিয়ে এগোনোর পথে পা বাড়ায়। দুশ্চিন্তা নিয়ে দ্রুত নামতে থাকে। তাঁকেও যে অক্সিজেন পেতে হবে। ঘণ্টাখানেক বাদে অক্সিজেন পেয়ে যায় কিন্তু তারপর চলার শুরুতেই দেখে প্রায় ৭০ ডিগ্রি এক দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে কুন্তল। একা, শেরপা পালিয়েছে তাঁকে ছেড়ে। দৃষ্টি তাঁর বোধহীন। অক্সিজেন মাস্ক খোলা, মুখে ঘাম, সানগ্লাস নেই চোখে। রুদ্র ওকে ধাক্কা দেয়। জাগতে হবে, চলতেই হবে ওঁকে। অপারগ রুদ্র মারতে থাকে তাঁকে। বুঝতে পারে কুন্তল, কেন মারছে রুদ্র। রুদ্র তখন বসে পড়া, ঘুমোতে চেয়ে মৃত অভিযাত্রীদের কথা মনে করাতে করাতে টানতে থাকে আর কুন্তল বলেই চলে, “আমাকে একটু ঘুমাতে দে রুদ্র”, বলেই চলে কুন্তল, “আমাকে একটু ঘুমোতে দে রুদ্র, তারপর আমি নেমে যাব। একটু ঘুমোতে দে না রুদ্র।” কিন্তু জায়গাটা ডেথ জোন, যেখানে ঘুম মানে মহাঘুম। ঘুমোতে দেওয়া মানে মরতে দেওয়া। “একটু ঘুমোতে দে রুদ্র”। কুন্তলের শেরপা চলে গেছে ফেলে, এবার রুদ্রের শেরপার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে… সে বলতে থাকে… কুন্তল মরবেই… ওর সঙ্গে থাকলে রুদ্র মরবে… সে যদি রুদ্রকে না ছাড়ে সেও মরবে… তিনজনেরই পথচলা তখন ৩৩ ঘণ্টা পেরিয়েছে… এবং একসময় সে সত্যি সত্যি রুদ্রকে ছেড়ে পালায়। চরম বিরক্তি নিয়েই ছেড়ে যায়। রুদ্র চেষ্টা চালায়। সহযাত্রী টিম মেম্বারকে দেখতে পেয়ে ডাকে… না, সবাই ক্লান্ত, দিনের শেষ প্রায়… দাঁড়ানো মানেই মৃত্যু… জল নেই, খাবার নেই, অক্সিজেন শেষ হতে কতক্ষণ… কুন্তলকে নিয়ে দেড়শ’ মিটারের মত নামতে পারে সে। কিন্তু কুন্তল আর পারছে না। পারছে না কিছুতেই। রুদ্র এবার জুমার দিয়ে ফিক্সরোপে আটকে দেয় কুন্তলকে। ও তাহলে পড়ে যাবে না। কেউ চাইলে ওঁকে খুঁজে নিয়ে সাহায্য করতে পারবে। রুদ্রকে একটু এগিয়ে গিয়ে সাহায্য চাইতে হবে। প্রায় আধঘণ্টা বাদে সাড়ে তিনটে নাগাদ রুদ্র সাহায্যের আবেদন করতে পারে। অ্যানড্রয়েড ফোনে খবর পাঠাতে গেলে হাতমোজা খুলতেই হবে। চশমাটাও খুলতে হল। ৮২০০ মিটারের কাছাকাছিতে গ্লাভস খোলা মানেই আঙুলগুলো যে বাদ যেতে পারে তা কি জানত না সে? জানত না চশমা খুললে অন্ধ হয়ে যাবে সে। একলা একলা পথ চলতে হচ্ছে। এরপর ফ্রস্টবাইট, আর অন্ধত্ব… স্বেচ্ছায় মরণের পথে হাঁটা আর কতটুকু বাকি রইল?

আবার নামতে থাকে ও। চোখটাতে তখনও দেখতে পাচ্ছিল। একলা চলছিল সে। সামনে পিছনে কেউ নেই। আকাশে বুদ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ উঠে মোহময়ী জোৎস্নায় ভাসতে শুরু করেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা… ঘণ্টা দু-তিন পেরিয়ে গেল… এমন সময়ে দুজন শেরপার দেখা পায় সে। তাঁরা জানায় দুজনের জন্যে রুদ্রের আবেদন অনুসারে রেসকিউ টিম কাজ শুরু করেছে। অসম্ভব আনন্দে এবার নাচতে ইচ্ছে করে তাঁর। বাঁচবে। তাহলে বাঁচবে ওরা। কুন্তলের মাস্ক নেই… রোদচশমা নেই… দৃষ্টিবোধহীন সে কি বাঁচবে? কিন্তু বিপ্লবদা বেঁচে যাবে… আনন্দে সে নাচতে শুরু করে, ডিগবাজি খায়… ব্যাগ খুলে ছুঁড়ে ছুঁড়ে, মোজা, জলের বোতল, মধ্যবিত্তের আঠারো হাজার টাকায় কেনা গ্লাভসটাও।

এবার যে পাশে আসে হঠাৎ তাঁকে রুদ্র আগে পরে কখনও দেখেনি… চেনে না… চেনা তো সর্বাঙ্গ ঢাকা পোশাকে প্রায় কাউকেই যায় না। সে কথা বলে অল্প, কিন্তু ফেরাবেই রুদ্রকে। রুদ্রকে বলে সামিট ক্যাম্পে গিয়ে আনন্দ করতে… ঠেলতে থাকে। কিন্তু রুদ্রের তখন মনে হয় সে কেন যাবে লোকটার সঙ্গে সামিট ক্যাম্পে? সে যে প্রাণ বাঁচাতে বাঁচাতে ফিরছে… এতগুলো লোক যে বাঁচতে পারবে তাঁর জন্যে, সে কারণে সবাই তো তাঁকে বরণ করতে এগিয়ে আসবে নিশ্চয়… কেন যাবে নিজে নিজে? তখন রুদ্র যত লাফায় তত নিজেকে শান্ত হতে বলে… রুদ্র তো জানে এসব মনে হওয়াটাও আসলে অলটিটিউড সিকনেস। সেও মরতে যাচ্ছে। অবশেষে লোকটির শান্ত দৃঢ়তার কাছে হার মেনে ক্যাম্পে পৌঁছয়। বেঁচে যায় রুদ্র। “তুমি রবে নীরবে”-র মতো লোকটি আমাদের স্মৃতিতে থাকবে অনন্ত কৃতঞ্জতার দাবিদার হয়ে।

ক্যাম্পে রমেশদার থাকার কথা… কিন্তু নেই কেন? কেবল রুদ্রের শেরপাই আছে সেখানে। ক্যাম্প থ্রি থেকে মোট ৩৮ ঘণ্টা পর এবার স্বপ্নপূরণের শেষে ঘুমে ঢলে যাওয়ার কথা। কিন্তু রমেশদা কোথায়? টেন্টে টেন্টে হাঁকডাকের পর দুজন শেরপা বললে তারা টেন্টের কাছেই রমেশদাকে দেখেছে… অন্য কোনও টেন্ট শেয়ার করে ঘুমোচ্ছে তবে। আর রুদ্রও তো দেখেছে তাঁকে নামতে আগে আগে। তবে তাই হবে।

এরপর খবর পাওয়া গেল কুন্তল মারা গেছে। বিপ্লবদা বাঁচতে পারে অক্সিজেন পেলে… রুদ্র চিৎকার করে এজেন্সিকে জানল… বেশি টাকা দিতে চাইল… বিপ্লবদাকে আনতে হবে… ওরা পাঁচ-ছয় জনের টিম উঠে গেল উপরে। তারপর দীর্ঘ ক্লান্তির পর ঘুমিয়ে পড়ল রুদ্র। অনেক রাতে দেখল পিছন ফিরে কেউ একজন বসে বসে ঢুকল টেন্টে। বিপ্লবদা? ডাকলো রুদ্র। পিছন ফিরে দেখল সেই লোকটা। কিন্তু সাড়া দিল না। পায়ে দড়ি বেঁধে একজনকে টেনে টেনে ঢোকাচ্ছে টেন্টে। তাহলে কুন্তল! কিন্তু কোমরের হারনেসের কাটপিস রোকটা যে রমেশদার। রমেশদা! রমেশদা কোথায় ছিল? রমেশদা পৌঁছোতে পারেনি সামিট ক্যাম্পে? বিপ্লবদাকে ওরা জীবিত পায়নি। কিন্তু ফেরার পথে রমেশদাকে খুঁজে পেয়েছে সামিট ক্যাম্পের খুব কাছে। সেও বেঁচে নেই? থাক টেন্টে। কিম্তু শোয়ানোর পর রুদ্র দেখল পাটা নড়ছে হাঁটুর কাছটাতে। বেঁচে আছে!! অসম্ভব আনন্দ হল তাঁর… রাত জেগে সেবায় এবং ওষুধ ইনজেকশনে কিছুটা সুস্থ হল রমেশদা। আর পরদিন রুদ্র দেখল সে অন্ধ। সেভাবেই নেমে এল শেরপার সাহায্যে ক্যাম্প টু-তে।

রুদ্ধশ্বাস অপেেক্ষার পর রুদ্র ঘরে ফিরল। অনেক মৃত্যু পেরিয়ে, অনেক মৃত্যুর অলিগলি পেরিয়ে রুদ্র ঘরে ফিরল দেড়মাস পর। বিপ্লবদা, কুন্তল ফিরল না– সে গুরুভার নিয়ে ও ফিরল, সে ভার নিয়েই আমরা ওকে ঘিরে ধরলাম। তারপর ওর অসাড় আঙুলগুলোতে ছুঁয়ে দেখতে চাইলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা জয়। বললে রুদ্র বলবে, জয় নয়, তাকে জয় করা যায় না। ছুঁয়ে এসেছে মাত্র। সে কথা ঠিক।

ও এবারেও বলল, ঘরে ফেরাই শেষ কথা। কাঞ্চনজঙ্ঘা তো রইলই। বিপদ বুঝলে থামতে হবে।

ওর আঙুল ছুঁয়ে মনে হয় কাঞ্চনজঙ্ঘায় পদচিহ্ন রেখে আসা সফল মানুষটার আঙুল নয় এ কেবল… যার কোনও শিখর না ছুঁলেও কিছু যায় আসে না তেমন, কিন্তু বারবার সে ছুঁয়ে ফেলে আর নিজের জীবন বিলিয়ে বিলিয়ে বাঁচানোর মন্ত্র নেয় মৃত্যুপুরীতে, ডেথ জোনে। এ এক মৃত্যুঞ্জয়ীর হাত… অসাড়, কালো, ফোস্কা পড়া হাত…

রুদ্র ফিরে এসেছে!

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1378 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...