প্রেম, কলকাতা, ডিসটোপিয়া

সৌমিত দেব

 

একটা ডিসটোপিয়ান ভবিষ্যতের গল্প। সেথায় ভালোবাসাবাসি নিষিদ্ধ৷ প্রেম বেআইনি। বিয়ে করবার একমাত্র লক্ষ্য প্রজনন। কারণ রাষ্ট্রের স্বার্থে ক্রমাগত নতুন সৈন্য, শ্রমিক, মজুর বেজায় প্রয়োজনীয়। হয় তুমি রাষ্ট্রের অনুগত। নয় তুমি রাষ্ট্রের শত্রু। রাষ্ট্র চালায় দা ‘পার্টি’। ‘পার্টি’ যদি তোমায় শত্রু বলে মনে করে তাহলে সে এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে করে গোটা দুনিয়া ভুলেই যাবে ‘তুমি’ বলে কেউ কখনও কোথাও একটা ছিলো। পার্টির ‘টেলিস্ক্রিন’ যন্ত্র আঁচ করে নেবে তোমার মনটাকেও। চব্বিশ ঘন্টা সে চোখ মেলে চেয়ে আছে তোমার দিকে। তবু এমন সময়েই দেখা হলো, উইস্টন স্মিথ আর জুলিয়ার। তবু কর্মক্ষেত্রের নজর এড়িয়ে, একে ওপরের নজরে আসা গড়ালো নিষিদ্ধ, বেআইনি একটা দিকে, নোংরা, গরীব, সস্তা শহরতলির, একটা ঘরে। ঘরটার জানলা দিয়ে দেখা যায় অসুস্থ, কষ্টজীর্ণ, বস্তি। কয়েকদিন আগে বস্তিটার আশেপাশেই আরেকটা বোমা ফেলেছে স্টেট নিজেই। তারপর প্রচার করেছে ওটা শক্রপক্ষের কাজ। নেহাৎ ‘বিগব্রাদার’ সর্বক্ষণ সবটা দেখছেন, না হলে হতে পারতো আরও বড় বিপদ। সেই ঘরটার জানলায় দাঁড়ালে সে সব ছবি স্পষ্ট দেখা যায়। আর শুধু সেই ঘরটুকুতেই, স্মিথ আর জুলিয়া সামান্য কিছু মুহূর্তের জন্যে এড়াতে পারে নজরদারি, ভয়। হোক না মুহূর্তের জন্যে, তবু কাছে তো পাওয়া যায় একটা মন, একটা শরীর। নিষিদ্ধ? বেআইনি? না, তোয়াক্কা করলে বিকেল অভ্যাস হয় না….

 

চিঠিপত্তর

ধরে নেওয়া যাক টি’বোর্ডের সামনে থেকে এক লহমায় পাওয়া গেল গাড়ি। এইবার গল্পটা শেষ হবে।

গল্পের শুরুটা একটা বিস্তর হট্টগোলের রাস্তায়। মেট্রো থেকে বেরুতেই হল্লাগাড়ি, হইহই, কই কই কই কই, এক নিঃশ্বাসে, বাবু সাইডে৷ এ ধারে চিনা পাড়া, ওধারে অফিস। মাঝখান দিয়ে কলকাতা বয়ে চলেছে৷ একটু অসাবধানতা, ব্যাস। মুটের ধাক্কা, হাতে টানা রিক্সার বিরক্তি, গাড়ির হর্ন। কী নেই সেখানে! হারমোনিয়াম থেকে শুরু করে ঝাড়বাতি৷ যার যেটা দরকার, সব মজুত৷ কী লাগবে বলেই দেখুন না৷ কী বললেন? কী লাগবে? ম্যাজিক? তা বেশ তো, সোজা গিয়ে বাঁদিকে ঘুরে, তার পরের মোড়েই ম্যাজিকের দোকান৷ এবারে দরদাম করে তুলে নেওয়া একখানা ম্যাজিক চশমা। গোল ফ্রেমের। ব্যাস, এই তো! কে বলে মানাচ্ছে না? বললেই হলো! মাঝেমাঝে আয়নায় দেখে নেওয়া কেমন লাগছে! চারপাশেই তো ফিট করা ছোট ছোট আয়না। এইবার গল্পটা বদলে যাবে…

একটা পাহাড়ি শহর৷ না না চেনা জায়গা নয়, এ জায়গার আপনি নামই শোনেননি, যাওয়া তো দূরের কথা। তা সেখানেই একদিন বিকেল বিকেল বেড়াতে বেড়িয়ে মেয়েটার সঙ্গে দেখা হলো প্রথম। পাহাড়ের কোলে যেখানে বেঞ্চ মতো করে দেওয়া আছে, সেখানে বসে ছবি আঁকছে। ল্যান্ডস্কেপ। পাশে সাইকেলখানা গাছে হেলান দিয়ে রাখা। হঠাৎই কিছু মনে পড়লো মেয়েটার, আঁকার খাতা পেন্সিল ফেলে রেখেই তাড়াতাড়ি উঠে গেল সাইকেলটার কাছে। তারপর ছুট৷ পাহাড়ি পথ দিয়ে এঁকেবেঁকে৷ তার চুল উড়ছে হাওয়ায়। তাড়াহুড়োয় কাজলখানা দেখে নেওয়া হয়নি। সে মরুক গে যাক। আগে পৌঁছোতে হবে। লোকজন সব সরে সরে রাস্তা দিচ্ছে। মেয়ে থামবে না। থামলে চলবে না। আজ পড়তে পর্যন্ত যায়নি, শুধু এইটুকুর জন্যে। ওই তো ছেলেটা! সে গেছিলো পড়তে৷ বন্ধুদের সঙ্গে বেরুচ্ছে। যাক মেয়েটা পৌঁছে গ্যাছে সময়ে। না না ছেলেটার সঙ্গে কথা বলবে না, ওই এক ঝলক দেখবে। শুধু ওইটুকুই। শুধু ওইটুকুর জন্যেই এত্তটা! ছেলেটা, দেখে মেয়েটাকে। কিন্তু ছেলেটা দেখতে পায় শুধু মেয়েটাকেই। মোটের ওপর দেখতে একটা মেয়ে, অবিব্যস্ত চুল, হাঁপাচ্ছে, মেয়েটা তাকে পছন্দ করে, ছেলেটা জানে। কিন্তু বললাম যে ওই, ওই পর্যন্তই। ছেলেটা দেখতে পায় না, মেয়েটার হাতে লেগে আছে রং। মেয়েটার পরিশ্রম এই ঝলকের জন্যে। মেয়েটার এত ব্যস্ততার মধ্যেও, বাড়িতে মিথ্যে বলে আসা। ছেলেটা জানতেই পারে না, মেয়েটা ছবি আঁকার খাতাটা ফেলে এসেছে।

‘কান থেকে ওটা খোলো’— ম্যাজিক শেষ৷ আরেকটু হলে চাপা পড়ছিল। যাকগে, ওই তো এসে গেছে! বহুকাল আগে একবার, তার জামায় চশমা মোছায়, একটা শহুরে মেয়ে বলেছিল— “যে কেউ ভাববে আমরা প্রেম করছি।” ম্যাজিকের লোভ বড় লোভ৷ আজকেও ওই জামাতেই মোছা হল চশমা৷ সেখানা উঠল চোখে। কাজ দিয়েছে! না সেই পাহাড়ি শহর নেই, সেই সাইকেলটা নেই, ছেলেটাও নেই, কিন্তু মেয়েটা আছে৷ যতই শহর বাসা বাঁধুক তার চারপাশে, পাহাড়ে যে যাবেই বছরে দু’চারবার। কেউ ভাবে বেড়ানো, কেউ ভাবে হুজ্জুত, কেউ স্ট্রেস বাস্টার। মেয়েটাও বিশ্বাস করে রাখে, যখন যেটা বিশ্বাস কর‍তে সুবিধে৷ কিন্তু আসল কারণ কেউ জানে না৷ ওই পাহাড়ি বেঞ্চের কোলে, এখনও পড়ে আছে মেয়েটার আঁকার খাতাটা। একই ভাবে৷ এক জায়গায়৷ মেয়েটা সেখানে গিয়ে খাতাটা কোলে নিয়ে বসে৷ বসে চেয়ে থাকে সামনে। আর ভাবে, কেউ যেন এসে না বলে ছবি আঁকার গল্প তাকে বলা হয়নি কেন? ভাবে কারও জন্যে আঁকতে ইচ্ছে করবেই নিশ্চয়ই আরেকবার, তখন কী হবে? কারও জন্যে যদি আবার বাড়িতে মিথ্যা বলে বেরিয়ে পড়তে হয়? না না, এসবে তার বড় ভয়৷ একবার সাধ করে মেঘ এঁকেছিল, বন্যায় তার ছোট্ট ঘরখানা সেই যে অগোছালো হয়েছে… না না আর না। মেয়েটাকে আবার ফিরতেও হবে। বহুবার ভেবেছে খাতাখানা এইবার ছিঁড়ে ফেলে আসবে। কিন্তু আজকাল আর ফিরতেও তেমন কষ্ট হয় না। থাক, খাতাখানা খাতার মতই থাক আধখানা ছবি নিয়ে। মাঝে মাঝে তো ফিরে আসবেই৷ ফিরে আসতেই হয়।

এই গল্পটা জানে শুধু মাত্র একটা বাউন্ডুলে। সে ওই পাহাড়ি পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। তার না আছে চাল না আছে চুলো, মেয়েটাকে দেখলে পালায়। ডাকলেও যায় না! পাছে বিরক্ত করে ফেলে! এদিকে সারাদিন বসে থাকে খাতাটার কাছে। সারাদিন, সারারাত বসে ছবিগুলো আগলায়। মাথার ঠিক না থাকলে যা হয় আর কী। বাউন্ডুলেটার বৃষ্টি সহ্য হয় না৷ বৃষ্টি হলে আঁকাগুলো ধুয়ে যাবে না?

টি’বোর্ডের সামনে থেকে এক লহমায় পাওয়া গেল গাড়ি। এবার গল্পটা শেষ হবে একটা ছবি দিয়ে।

একটা বৃষ্টির ছবি। বাউন্ডুলের একমাত্র প্রিয় বৃষ্টি।

 

…তবু তারা ধরা পড়ে গেল একদিন। যেমন ধরা পড়ে গেছিলো সেই চালচুলোহীন ভবঘুরে। সেই অন্ধ মেয়েটার কাছে। অন্ধ মেয়েটা রাস্তার ধারে ফুল বিক্রি করত। মেয়েটাকে দেখবার পর থেকেই ভবঘুরে বুঝতে পারে এতদিনে সে খুঁজে পেয়েছে তার আস্তানা৷ এদিকে অন্ধ মেয়েটা ভবঘুরেকে ঠাওরেছে মস্ত বড়লোক। ভবঘুরে ভুলটা ভাঙেনি। ভালোবাসা আর যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলেছে একমনে। অন্ধ মেয়েটার দরকারে, অদরকারে যতটা পেরেছে, যেভাবে পেরেছে সে হাজির। সে মজদুর হওয়া থেকে শুরু করে বক্সিং রিং-এ এলোপাথাড়ি। কখনও আবার আলাপ হয়েছে এক উদ্ভট মাতালের সঙ্গে যে কেবলমাত্র মদ খেলেই তবে চিনতে পারত ভবঘুরেকে। এমন সব বিচিত্র ঘটনায় ফেঁসে যেতে যেতেই ভবঘুরে গ্রেপ্তার হয়ে যায়। রাস্তার একটা কোণে, ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তার ‘প্রেমিকার’ সঙ্গে দেখাটুকু পর্যন্ত হয় না। বহুদিন পর ছাড়া পেয়ে ফিরে আসে ভবঘুরে। জানে মেয়েটি চোখে দেখতে পায় এখন। ভবঘুরে তার শতচ্ছিন্ন তাপ্পি মারা, ধুলো মাখা জামাটা পরে, দূর থেকেই দেখছিল মেয়েটাকে। এমন সময় মেয়েটাও দেখতে পায় তাকে, এগিয়ে এসে ফুল দিতে চায়, ভবঘুরে নেয় না লজ্জায়। তবু ভবঘুরে ধরা পড়ে যায়…

 

অভিমান

বছর ষাট পঁয়ষট্টি বা তার বেশি বয়স হবে। বাংরবার কাচাবার ফলে জামাটার রং ধুয়ে ধুয়ে বেশ মানিয়ে গেছে ভদ্রলোকের চেহারার সঙ্গে। জীর্ণ। তাও পাট করা। চোখে চশমা। উচ্চতা মাঝারির দিকে। উড়ালপুল যে সিগন্যালে শেষ হচ্ছে ঠিক সেই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ভদ্রলোক। হাতে গুটিকয়েক ছোটো খেলনা খরগোশ। ছোটো ছোটো লাল টিপ দিয়ে চোখ হয়েছে। দাম কুড়ি টাকা। আমার বন্ধু কিনল একজোড়া খরগোশ। ভদ্রলোক হেসে, নববর্ষ জানিয়ে একটু পিছিয়ে গেলেন। আমার বন্ধু রিয়ারভিউ মিররে দেখতে পেল, ভদ্রলোক কাঁদছেন। খোলা রাস্তায়, যতটা পারা, চোখের জল মুছে নিচ্ছেন। আমার দুই বন্ধু ডাকল ভদ্রলোককে আবার। বাকি সবকটা খরগোশ কিনে নিল। ভদ্রলোক কী বলবেন না বুঝতে পেরে চোখের জল লুকোলেন না আর। হাসিও না।

‘ভালো থেকো মা’

সিগন্যাল ছেড়ে দিল। আমাদের গাড়ি বেরিয়ে গেল। আমায় দেওয়া হল একটা খরগোশ। ছোট্টো মত। লাল টিপ দিয়ে বানানো হয়েছে চোখ। উড়ালপুল যে সিগন্যালে শেষ হচ্ছে ঠিক সেই জায়গাটায় পাওয়া যায়। একদিন যেও পারলে। দেখবে আমাদের না হলেও উড়ালপুলের একটা শেষ আছে ঠিকই।

সেখানে খরগোশ পাওয়া যায়।

 

…ধরা পড়বার পর স্মিথ আর জুলিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রুম ১০১-এ। শ্রেষ্ঠতম শাস্তির ঘর। তুমি যাতে সবচাইতে বেশি ভয় পাও, সেইটের সামনেই ছেড়ে দেওয়া হবে তোমায়। তবে মুক্তি পাওয়ার একটা উপায় আছে ঠিকই। তোমার বলতে হবে এমন একটা মানুষের নাম যাকে তুমি ফেলতে চাও সেই একই শাস্তির সামনে। তবে সেই মানুষটা হতে হবে তোমার প্রিয়তম মানুষ। স্মিথ, জুলিয়ার নাম বলেছিল। বহুদিন পর দেখাও হয়েছিল তাদের। জুলিয়া জানিয়েছিল সেও স্মিথের নামই করেছিল রুম ১০১-এ। পার্কের বেঞ্চে পাশাপাশি বসা, ভেঙেচুরে যাওয়া দুটো মানুষ। আবার ধরা পড়ে যায় যখন….

 

ইগো

পুরনো রাংতার অহংকারে, জমে থাকা আলো বিলিয়ে দেয়। সন্ধ্যা হলে আলোর রং হলদে৷ সেই হলদে আলোর তলায় দাঁড়িয়ে থাকে পাগলি। দু’হাত ছড়িয়ে৷ কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলে ওর নাকি আজ বিয়ে, এখন গায়ে হলুদ হচ্ছে। সে সব পেরিয়ে ট্যাক্সি এগিয়ে চলে, সংসারের স্বপ্নে। একটা ফ্ল্যাট হবে। উড়ালপুল যে সিগন্যালে শেষ হচ্ছে ঠিক সেই জায়গায় পাওয়া যায় গুটিকয়েক ছোট খেলনা খরগোশ। ছোট ছোট লাল টিপের চোখ।  সেই খরগোশ নিয়ে এসে ঘর সাজানো হবে। সঙ্গে সেই কুকুরছানাটা, আর কাঠের তৈরি গয়নার বাক্সখানা। আমার সকালে ওঠার ধাত নেই৷ আমি রাতে লিখি, সেই যে লিখলাম সেদিন, পড়াইনি বোধহয়, না? সকালে উঠেই আগে কাজল পরার অভ্যাস। আমার পিঠের তলায় প্রায়শই খোঁচা মারে নাকছাবি। গুছিয়ে না রাখা দাম্পত্য যেমন হয় আরকি। তাও হঠাৎ করে এসে বললে, রাজকন্যে। মেনে নিলাম। তারপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালে সাতমহলা প্রাসাদ। ছ’ মহলে ছয় ঋতুর আশ্রয়। সাত নম্বরটায়… ছবি আঁকবার খাতাটা দেওয়া হল না। পাঞ্জাবিটাও। এই যে ব্যক্তিগত সমুদ্র, নদী, সবুজ কবিতা, পিছুটানের নোঙর, পাড়া সব বেড়িয়ে দেখালে, অথচ এই গোটা সময়টায় একবারও হাত ছাড়লে না, রাস্তার ধারে। জানো আমি এককালে বিশ্বাস করতাম গাছেরা কথা বলতে পারে। চোখে ধুলোর গর্ব নিয়ে আমিও বেরিয়ে পড়েছিলাম এককালে। কুয়াশা, মন্থর হয়ে এসেছিল… এসেছিল বৃষ্টি, ট্যাক্সি পাচ্ছিলাম না আমরা, মনে আছে? আসলে গাড়ির শব্দে শুনতে পাওনি, তাই এইবেলা বলে দিই, শোনো, যা যা যাও, যা যা চেয়েছিলে কখনও কোথাও কারও কাছে, সেই সব তোমার হবে। যে ভাবে নদীরা ফেরে কবিতার কাছে, তেমনই তারাও ফিরবে, তোমার বাসাতেই। সেই সব হোক তোমার। আমার হোক শুধু সেই রেড রোডের ধারে বিকেলের মতো দেখতে একটা ট্যাক্সি, পুরোনো রাংতার অহঙ্কারে জমে থাকা আলো বিলিয়ে দেয়। সে আলোয় তোমায় দেখা যেত। সে আলোয় তোমায় দেখা যায়।

 

…পার্কের বেঞ্চে পাশাপাশি বসা, ভেঙেচুরে যাওয়া দুটো মানুষ। আবার ধরা পড়ে যায় যখন অন্ধ মেয়েটা এসে ধরেছিল ভবঘুরের হাত। চমকে উঠেছিলো। ভবঘুরে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তাহলে এখন তুমি দেখতে পাও?” মেয়েটি ভবঘুরের হাতখানা ধরে, চোখটা বন্ধ করে বলেছিল— “হ্যাঁ এখন আমি আবার দেখতে পাচ্ছি…

 

আদর

সবটাই টানের কেরামতি। আমি ছাদে উঠে স্বপ্ন ধরি একদিন মাঞ্জায় হাত কাটবে আমারও। আচ্ছা, একটু কষ্টও কি তোমার হচ্ছে না? ওই দৌড়চ্ছে দিনভর ঢেউয়ের মতো মাথা উঁচু করে। লাফিয়ে উঠে ধরছে সুতো, আছড়ে পড়ছে আপ্রাণ, কষ্ট পেও না, সাঁতার সবার দ্বারা হয় না। রোদ সয়ে যাওয়া চোখে মোক্ষম প্যাঁচ। আরেকবার কারখানা থেকে ভেসে আসবে গান, নাচ এরা গয়নার কারিগরি৷ এদের নাকছাবির হাত অসামান্য। সন্ধ্যা হয়ে এল প্রায়, রাস্তাঘাট ফাঁকা। মোড়ে মোড়ে গান, শুধু বিশ্বকর্মার হাতে ঝোলানো ঘুড়িটার ওড়া হয়নি। মনে রাখবে, তোমার ঠান্ডা জল খাওয়া বারণ।

 

…স্মিথ আর জুলিয়ার গল্পটা, জর্জ ওরওয়েলের উপন্যাস ১৯৮৪। আর দ্বিতীয়টা চ্যাপলিনের ছবি। ‘সিটি লাইটস’।

লেখাটা প্রেম সংক্রান্ত। লেখাটা একেবারেই অন্যরকমভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিল…

 

চিঠিপত্তর

প্রিয়,

তোর সঙ্গে আমার থেকে যাওয়ার কথা ছিল। আমার সঙ্গে তোর। আজকাল কানের দুল ধরেছিস যে, বেশ লাগছে। ওটা ছাড়িস না।।

ইতি,

“ফালতু লোক”

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1378 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...