পার্লামেন্টারি রাজনীতি, বামপন্থা ও আমরা

অনিকেত দাস

 

সদ্যোসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের কমবেশি মাসখানেক আগে সারা ভারত জুড়ে বুদ্ধিজীবীদের সক্রিয়তা চোখে পড়েছে। শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, শিল্পী, অভিনেতা-আদি সব গোত্রের বড়, ছোট বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দিয়ে দেশের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই মর্মে যে তাঁরা যেন বিজেপিকে আসন্ন নির্বাচনে ভোট না দেন। কারণ বিজেপি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে দুপায়ে মাড়িয়েছে, উগ্র হিন্দুত্বের জিগির তুলে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে, সর্বোপরি দেশের সম্পদকে সাম্রাজ্যবাদী ও কর্পোরেট পুঁজির হাতে তুলে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সঙ্কটাপন্ন করে তুলেছে। কথাগুলির সত্যতা নিয়ে কোনও সন্দেহ অন্তত আমার মনে নেই।

এ-বিষয়েও কোনও সন্দেহ নেই যে চরম দক্ষিণপন্থার বিপদ আমাদের প্রত্যেককেই গ্রাস করতে পারে এবং তাই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও প্রয়োজন। কিন্তু এই আবেদন জানানোর পরে নির্বাচনী ফলাফল আমাদের জানাচ্ছে যে সাধারণ মানুষ কিন্তু দক্ষিণপন্থার প্রচারে ব্যাপক ভাবে সাড়া দিয়েছে এবং দিচ্ছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে— কেন?

একটা সহজ উত্তর হল, যে বুদ্ধিজীবীরা এই আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের ব্যবধান দুস্তর। দেশের খেটে-খাওয়া কৃষিজীবী, শ্রমিক, নানাবিধ অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত অল্পবিদ্য নাগরিকদের কাছে, এমনকি সংগঠিত ক্ষেত্রের অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল শ্রমিকদের কাছেও এই বুদ্ধিজীবীদের নাম হিব্রু বা ল্যাটিনের মতই। কাজেই তাঁরা কী বললেন না বললেন তাতে এই জনগণের কিস্যু যায় আসে না।

আরেকটা কথাও বলছেন কেউ কেউ—  যে ভোটপ্রক্রিয়াটিতেই ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। অতএব এই ফল জনগণের ইচ্ছের সঠিক প্রতিফলন নয়। ভোটে কিছু কারচুপি হয়েই থাকতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে যাদের একটুও ্যোগ আছে তিনিই বুঝবেন যে এই যুক্তিটি সাধারণভাবে সঠিক নয়।

তাহলে ওই সঠিক, সত্যি কথাগুলি, যাদের সঙ্গে এই জনগণের জীবনের যোগ আছেই, তা এঁদের কাছে পৌঁছবে কেমন করে? ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরালে দেখব যে যুগে যুগে এই সত্যিগুলি জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, এই সত্যিগুলি প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করেছেন একদল মানুষ যাঁদের বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী বলতে পারি। আর একটা সময়ের পর থেকে এদের সামনের সারিতে থেকেছেন কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী একটি গোষ্ঠী। এঁদের ব্যতিক্রমহীন বৈশিষ্ট হল এঁরা সাধারণ জনসাধারণের কাছে শাসকদের সত্যি ছেহারাটা নগ্নভাবে তুলে ধরেছেন।

এই প্রেক্ষিতে দক্ষিণপন্থী বিজেপির বিপরীতে যে দলগুলি দাঁড়িয়েছে তাদের বৈশিষ্ট কী? তাদের নেতা ও সাধারণ সদস্যদের কী ব্যক্তিগত স্তরে বিজেপির নেতা বা কর্মীদের থেকে খুব আলাদা করা যায়— ব্যক্তিগত সততা, ঘোষিত নীতির প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি মাপকাঠিতে? না যায় না আর সেজন্যই এত সহজে তারা এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন। স্বভাবতই সাধারণ মানুষের কাছে এদের জন্য কণামাত্র শ্রদ্ধাবোধ বেঁচে নেই। তাহলে একটি দলের বদলে অন্য দলকে তারা ভোট দেন কেন? হয় সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি বা প্রচারের ছটায় বিভ্রান্ত হয়ে, নাহলে ক্ষমতাসীন দলটির প্রতি তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।

 

এইটুকু পড়ে একটা প্রশ্ন কী উঠে আসে না— যে স্বাধীনতার পর এতগুলি বছর কাটিয়ে দেওয়ার পরও যে-ব্যবস্থার প্রসাদে আমাদের দেশ ক্রমাগত পিছনের দিকে এগিয়ে চলেছে, সেই ব্যবস্থাটাকেই প্রশ্ন করা প্রয়োজন আজ? অধ্যাপক সব্যসাচী ভট্টাচার্যের লেখায় জানা যায় যে পরাধীন ভারতের নির্বাচনেও টাকার খেলা চলত এবং সেই খেলার সামনে মহাত্মা থেকে নেহেরু, সব্বাই ছিলেন নীরব দর্শক। সেই বিষবৃক্ষ আজ ফুলে ফলে অঙ্কুরিত হয়ে মহীরুহে পরিণত।

আমাদের তথাকথিত বৃহত্তম গণতন্ত্রের নামে এমন কথা বলায় অনেকেই রুষ্ট হতে পারেন, কিন্তু আমার প্রশ্ন একটিও কি এমন পার্লামেন্টারি দল দেখাতে পারেন যারা কোনও না কোনওভাবে সংগঠিত দুর্নীতির অংশ নয়? এমনকি কম্যুনিস্ট নামধারী পার্টিগুলিও ব্যতিক্রম নয়। তারাও এই ব্যবস্থার মধ্যেই এই ব্যবস্থার নিয়ম মেনে একটু জায়গা করে নিতে ব্যস্ত। এই লক্ষ্যপূরণের জন্য ভোট জিততে দুর্নীতি করতেও পিছুপা নন তারা।

অনেকেই এই বিষয়ের জন্য বিষয়ীগত (subjective) কারণকে দায়ী করবেন, বলবেন রাজনীতিকরা যদি অসৎ হন তার জন্য ব্যবস্থাকে দায়ী করা কি সমীচিন? আর বলবেন এই অবক্ষয় সাম্প্রতিক, আগে, অর্থাৎ স্বাধীনতার আগে ও পরে এমন দশা ছিল না। হেসে তাদের বলবার, না এ-কথা সত্যি নয়। আমার বক্তব্যের সমর্থনে দুজনকে সাক্ষী মানব, যাঁরা কেউ অর্বাচীন নন।

উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এই সময় বিশেষ কেউ জানবেন এমন ভাবা বাতুলতা। তাই জানাতে হচ্ছে যে এই ব্যক্তি সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক প্রধান নেতা ছিলেন, বারো বছর আন্দামানের সেলুলার জেলের নরকযন্ত্রণা ভোগ করে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকতা ও লেখালিখিতে মন দেন। তাঁর ‘নির্বাসিতের আত্মকথা’ বাংলা সাহিত্যের একটি চিরায়ত ক্লাসিক। উপেন্দ্রনাথ বুর্জোয়া ডেমোক্রেসির স্বরূপ বুঝেছিলেন, বলশেভিক বিপ্লবের মাত্র পাঁচ বছর বাদে, ১৯২২ সালে ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় অনন্তানন্দ নামে তিনি লিখছেন, “… ইউরোপে যে Democracy খাড়া হয়েছে তার সঙ্গে Demos-এর বড় একটা খোঁজ খপর নেই। পার্লামেন্টের ফাঁদ পেতে সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা ধরবার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যাদের ভোট দেবার ক্ষমতা নেই তাদেরও যে দুর্দ্দশা, যাদের ভোট দেবার ক্ষমতা আছে, তাদেরও প্রায় তাই। ইংলন্ড, ফ্রান্স, আমেরিকা, সর্বত্রই ঐ এক কথা। ব্যবসা বাণিজ্য বা কলকারখানা করে যারা হাতে বেশ দু’পয়সা জমিয়েছে, আইন-কানুন গড়বার ক্ষমতাও তাদের হাতে গিয়ে পড়েছে। শাসনযন্ত্র তারাই চালায়, সন্ধিবিগ্রহ তারাই করে, আন্তর্জ্জাতিক সভাসমিতি দেকে তারাই মোড়লী করে। যাদের পয়সা নেই তাদেরও কেতাবী স্বাধীনতা থাকতে পারে; কিন্তু সে স্বাধীনতায় পেট ভরে না; দুঃখ ঘোচে না।” এই উদ্ধৃতি থেকে একটা কথা স্পষ্ট যে বুর্জোয়া পার্লামেন্ট যে আপামর জনগণের আলাদিনের প্রদীপ নয়, এটি যে ইওরোপেও কতিপয় ধনবানের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার উপায়মাত্র, তা দেশের সশস্ত্র বিপ্লবীদের অন্তত একাংশের কাছে ১৯২২ সালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু দেশের জাতীয় আন্দোলনের রাশ যে রাজনীতিকদের হাতে তাঁরা তখন কী ভাবছিলেন? “আমাদের দেশের রাজনীতিজ্ঞ পুরুষেরা এখনও পার্লামেন্টের স্বপ্ন দেখছেন তা জানি; কিন্তু তার কারণ শুধু এই যে তাঁরা ইংরেজের ইতিহাস পড়ে রাজনীতি শিখেছেন আর ইংরেজের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে পার্লামেন্টের ইতিহাস একেবারে জড়ান। তাদের ধারণা হচ্ছে এই যে ইংরেজ যখন পার্লামেন্ট পেয়ে স্বাধীন হয়ে উঠেছে, তখন আমরাও ঐ রকম একটা কিছু পেলেই বেশ গুছিয়ে উঠব।” পরাধীন চিন্তার মোহে এই রাজনীতিকরা ভুলে গিয়েছিলেন যে এমনকি ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট যেটুকু অধিকার নাগরিকদের দিয়েছিল তাও অর্জিত হয়েছিল পার্লামেন্টের বাইরে শতকের পর শতক ধরে রক্তক্ষয়ী, সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। যারা জাতীয় রাজনীতির হর্তাকর্তা তাদের শ্রেণিচরিত্র কী? “ইংরেজের আমলে দেশে যে ধনী শ্রেণী (Bourgeois) গড়ে উঠেছে কংগ্রেস তাদেরই সৃষ্টি। যাঁরা ইংরেজের রাজত্বে ধনবান হয়ে উঠেছেন, ইংরেজের সঙ্গে সমান অধিকার পাবার কল্পনা আর ইচ্ছা তাঁদেরই মনে উঠেছে। জমিদারই বল, আর উকিল ব্যারিস্টারই বল, আর বোম্বায়ের কলওয়ালাই বল সবই ইংরেজ রাজত্বের সৃষ্টি। ইংরেজের ক্ষুরে এঁদের মাথা মুড়ান। সুতরাং ইংলন্ডের শাসক সম্প্রদায়ের আশা, আকাঙ্খা, আদর্শ যে রকম, এঁদেরও অনেকটা তাই। এঁরা মুখে যে স্বাধীনতার জয়গান করেন সেটার সোজা বাংলা মানে হচ্ছে এই যে ইংরেজের বদলে এঁরা এদেশের লোকের উপর প্রভুত্ব করবার অধিকার চান।” [অনন্তানন্দের পত্র। বঙ্গবাণী। ভাদ্র-মাঘ ১৩২৯। পৃ.৪৮৯-৪৯২। মানবমন পত্রিকার এপ্রিল, ২০১৮ সংখ্যা থেকে উদ্ধৃত] মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

রবীন্দ্রনাথ আরও শাণিত ভাষায় বলেছেন, “যাঁদের আমরা ভদ্রলোক বলে থাকি তাঁরা স্থির করেছিলেন যে, রাজপুরুষে ও ভদ্রলোকে মিলে ভারতের রাজগদি ভাগাভাগি করে নেওয়াই পলিটিকস। সেই পলিটিকসে যুদ্ধবিগ্রহ সন্ধিশান্তি উভয় ব্যাপারই বক্তৃতামঞ্চে ও খবরেরকাগজে, তার অস্ত্র বিশুদ্ধ ইংরাজি ভাষা— কখনো অনুনয়ের করুণ কাকলি, কখনো বা কৃত্রিম কোপের উত্তপ্ত উদ্দীপনা আর, দেশে যখন এই প্রগলভ বাগবাত্যা বায়ুমন্ডলের উর্ধস্তরেবিচিত্র বাষ্পলীলা-রচনায় নিযুক্ত তখন দেশের যারা মাটির মানুষ তারা সনাতন নিয়মে জন্মাচ্ছে মরছে, চাষ করছে, কাপড় বুনছে, নিজের রক্তে-মাংসে সর্বপ্রকার শ্বাপদ-মানুষের আহার যোগাচ্ছে, …। দেশের সেই পলিটিশান আর দেশের সর্বসাধারণ, উভয়ের মধ্যে অসীম দূরত্ব।” [‘রায়তের কথা’, কালান্তর, আষাঢ়,১৩৩৩]

তাহলে এ-কথা বোঝা গেল যে স্বাধীনতার পূর্বলগ্ন থেকেই বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পার্লামেন্টারি রাজনীতির স্বরূপ, যে তা কেবলমাত্র খণ্ডিত গণতন্ত্র, অর্থবানের গণতন্ত্র দিতে সক্ষম— স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

 

কম্যুনিস্ট পার্টি সমাজের বিভিন্নস্তরের খেটে-খাওয়া মানুষকে এক সময় সংগঠিত করেছে, তাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে— এ-কথা সত্য। কিন্তু এও সত্য যে একটা সময়ের পর থেকে তারা সমস্ত সাংগঠনিক প্রচেষ্টাকেই ব্যালট বাক্সমুখী করে তুলেছে। তার ফলে তারা জনগণের মধ্যে পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা সম্বন্ধে মোহ বিস্তার করার দোষে দোষী। আজকের নির্বাচন পরবর্তী বিতর্কের দিকে যদি চোখ রাখেন তাহলেই বুঝবেন একদল জনসাধারণকে দুষছেন, অপর দল কোথায় কত ভোট কীভাবে ভাগ হয়েছে তার চুলচেরা বিচারে মত্ত।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন তৃতীয় ধারার কম্যুনিস্ট গোষ্ঠীগুলির কথা তুলে। তারা আজ এতই বহুধাবিভক্ত যে তাদের পক্ষে জনগণের উপর কোনও প্রভাব বিস্তার করা অসম্ভব। তাছাড়া বারবার তারা এমনই বাম বিচ্যুতির শিকার হয়ে পড়েছেন যে জনগণ খুব শীঘ্র আর তাদের উপর ভরসা করবেন বলে মনে হয় না। আর এরাও তো কেউ পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার অন্তঃসারশূন্যতা জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন বলে নজরে পড়ে না। বরং বহু প্রাচীন বিপ্লবী শার্দূল এমতাবস্থায় কাকে কেন ভোট দেওয়া উচিত সেই ব্যাখ্যায় ব্যস্ত।

 

তাই এ-কথা মেনে নেওয়াই ভালো যে আমরা এক অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে চলেছি। তবু যেহেতু আমার-আপনার ইচ্ছেনিরপেক্ষভাবেই শ্রেণিসংগ্রাম জারি আছে, যেহেতু বর্তমান সমাজে বিভিন্ন কম্যুনিস্ট গোষ্ঠী ও ব্যক্তি ছোট ছোট গণ্ডিতে হলেও খেটে-খাওয়া মানুষের সংগ্রামের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাই সেটাই একমাত্র ভরসার কথা। আমাদের অপেক্ষা থাকবে এঁরা একসঙ্গে এসে পার্লামেন্টের বাইরে ভারতের জনগণের লড়াইয়ের অগ্রবাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন। সমান্তরালে এই কথাও মেনে নিতে হবে যে সাইনবোর্ডে কম্যুনিস্ট পার্টি লেখা দলগুলি, যারা আজও পার্লামেন্টারি ছকের বাইরে ভাবতে অক্ষম, তারা শাসকশ্রেণির পদসেবাই করবে। আমাদের মুক্তি পার্লামেন্টারি রাজনীতির আঙিনায় নয়, তার বাইরে, বৃহত্তর সমাজের পরিসরে।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...