চোর

অঞ্জলি দাশ

 

উলটোপালটা হাওয়ায় জামরুলের সরু ডালটা এপাশ ওপাশ করছে। সঙ্গে ছোট জামরুলের থোকাটাও দোল খাচ্ছে। দেখতে ভালই লাগছে। কিন্তু দুর্গাটুনটুনিটাকে আজ দেখতে পাচ্ছে না। প্রায় দশ বারো মিনিট ধরে দৃশ্যটা চোখে আটকে নিয়ে শুয়ে আছে তরী।

যমুনা গরম জল আনতে গেছে। হলুদ রঙের কফিমগে ধোঁয়া ওঠা জল এনে পাশের টেবিলে তরীর হাতের নাগালে রাখবে, প্যাকেট থেকে একটা টিব্যাগ বার করে ওর মধ্যে ডুবিয়ে দেবে, একটা চামচ রাখবে ভেতরে। ঘড়ি দেখে ঠিক পাঁচ মিনিট পর তরী নিজেই চামচটা দিয়ে নাড়বে, তারপর টিব্যাগটা তুলে যমুনার হাতে দেবে। যমুনা এক দৃষ্টে তাকিয়ে দেখবে ওর এই নিত্যকর্মটুকু। কাজটা যমুনাই করে দিতে পারে, করে দিতে চায়। কিন্তু তরী কিছুতেই সেটা করতে দেবে না। এরপর পিঠের বালিশটা খাড়া করে দিয়ে তরীকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দেবে যমুনা। তরী চায়ে চুমুক দেবে।

এটা ওর দ্বিতীয়বার চা খাওয়া। প্রথমবার সাড়ে সাতটায় সকালের চা-টা কল্প আর ও একসঙ্গে খায়। চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ে কল্প। আটটা নাগাদ স্নানে যায়। ব্রেকফাস্ট করে হাতে গড়া রুটি সব্জি। ন’টা নাগাদ রেডি হয়ে এ ঘরে আসে।

–এই যে রুমাল, ওয়ালেট, গাড়ির চাবি। ঠিক আছে তো?

তরী মৃদু হাসে। তরীকে আদর করে কল্প, তারপর বেরিয়ে যায়।

সোয়া নটায় ব্রেকফাস্ট করে তরী। মাঝে মাঝে রুটি তরকারি, তবে অধিকাংশ দিন দুটো টোস্ট আর এক বাটি সুপ— গাজর আপেল টোমাটো মিষ্টি কুমড়ো বিন… ঘরে যেদিন যা সবজি থাকে, যমুনাদি আরও কী কী দেয় কে জানে, স্যুপটা দেখতে খুব সুন্দর হয়। খেতেও মন্দ নয়, কিন্তু একঘেয়ে লাগে। দশটায় পল্লবী আসে। ফিজিওথেরাপিস্ট। আধ ঘন্টা। চলে  গেলে এই দ্বিতীয়বারের চা-টা খায় তরী।

–যমুনাদি আজ দুর্গাটুনটুনিটাকে দেখেছ তুমি? একবারও আসেনি তাই না?
–কেমন করে বলি বলো দিকি। আমি কি তোমার মতো জানালায় চোখ রেখে বসে থাকি?

–বসে বলছ কেন, বলো শুয়ে থাকি। করুণ হাসল তরী।

যমুনা একটু অপ্রস্তুত মুখে বলল, কিবা করবে, ভগবানের মার।

ওর কথাকে উপেক্ষা করে তরী আবার জানালায় চোখ রাখল। মনে মনে বলল, এটাও ঠিক বললে না। বলো, ডাক্তারের মার। যাদের আমরা ভগবান ভাবি।

তখন পাঁচ মাস চলছে। শরীরের ভেতর অন্য একটা প্রাণ মাঝে মাঝেই তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। ডাক্তারের প্রত্যেকটা নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করে দুজনেই। অফিস থেকে ফিরে চা খেয়েই তরীকে নিয়ে হাঁটতে বেরোয় কল্প। একদিন সন্ধেয় একটা বেপরোয়া মোটর সাইকেল আচমকা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল তরীকে। হাসপাতালে ক্রিটিকাল অপারেশানের পর ওদের পাঁচমাসের স্বপ্ন তো মুছে গেলই, ভুল চিকিৎসার শিকার হল তরী। কোমর থেকে নিচের অংশ অসাড় হয়ে গেল।

–আজ এমন হাওয়া দিচ্ছে কেন গো যমুনাদি?
–ওই সকালে খানিক মেঘ জমেছিল, ভগবান বৃষ্টি দেবে না বলে হাওয়া দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে মেঘখানাকে।
–ভগবানের কাণ্ডকারখানা তুমি খুব ভালো জানো দেখছি।
–এখন চান করবে?
–একটু পরে। খবরের কাগজটা একটু দাও না।

খবরের কাগজ দিয়ে আবার রান্নাঘরে ঢোকে যমুনা। দুবেলার রান্না করে রাখতে হয়। ঘড়ি ধরে সাড়ে বারোটা থেকে একটার মধ্যে তরীকে দুপুরের খাবার দেয় যমুনা। কল্পর নির্দেশ। ফোন করে খোঁজ নেয়। যমুনা ভাবে এমন ভালোবাসার স্বামী সে ইহজীবনে আর দেখেনি। পাঁচটায় দীপা আসে। সাড়ে পাঁচটায় চা করে দিয়ে যমুনার ছুটি।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর প্রথম সপ্তাহ একজন নার্স ছিল। হাসপাতাল থেকেই সঙ্গে এসেছিল। তারপর একজন রাতের আয়া রাখা হয়েছিল। সারাদিনের জন্যে যমুনা তো ছিলই। বহুদিনের পুরোনো লোক, সন্তানস্নেহে তরীর সব কাজ করত। অফিস থেকে সোজা বাড়ি আসত কল্প। তরীর খারাপ লাগত এই ভেবে যে অফিসের চাপ, কাজকর্ম উপেক্ষা করে শুধু ওর কারণে রোজ রোজ তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরতে হচ্ছে কল্পকে। মাস দেড়েক এমনি চলার পর একদিন তরী বলল— অফিসে এত কাজের চাপ, তোমাকে রোজ রোজ এমন তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে ফিরতে হবে না। তোমার এই সাহচর্যটুকু বাড়তি চাপ হয়ে যায় আমার জন্যে। যমুনাদি তো আছেই। সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আয়াও এসে যায়। তাছাড়া এখন তো আগের চেয়ে ভালো আছি আমি। বন্ধুবান্ধব ত্যাগ কোরো না। তুমি ভালো না থাকলে আমি ভালো হয়ে উঠব কী করে?

আয়া ছিল বটে কিন্তু তার ব্যবহার তরীর মতো একজন স্পর্শকাতর রোগীর পক্ষে পীড়াদায়ক ছিল। মাস দেড়েক পরই তাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হল। দীপার খোঁজ এনেছিল যমুনাই। রাতে এখন দীপা থাকে। ভোর সাড়ে ছটায় যমুনা আসার পর ও বাড়ি চলে যায়। গত চারমাস ধরে এই নিয়ম। দীপাকে ঠিক নার্স কিংবা আয়া কোনওটাই বলা যায় না। প্রপার নার্সিং ট্রেনিং নেই, আবার ওকে দিয়ে ঠিক আয়ার কাজও করাতে মন চায় না। কিন্তু নিরুপায় হয়েই করাতে হয়। দীপা নিজেই বলেছে, বৌদি তুমি সঙ্কোচ কোরো না। আমার নিজের দিদির যদি এই অবস্থা হত আমাকে তো করতে হত। আমি সেভাবেই দেখি ব্যাপারটাকে।

মেয়েটা মাধ্যমিক পাশ। শ্যামলা সুশ্রী চেহারা। তিরিশের আশেপাশে বয়েস। বিবাহিতা। বাচ্চা হয়নি বলে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় ভাঙতে বসেছে। দুজনে আলাদা থাকে। অথচ বোঝা যায় স্বামীকে এখনও ভালোবাসে।

খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল তরী। তখনও জামরুলের ডাল নিয়ে খেলছে হাওয়া। এই জামরুলগুচ্ছ ওর চোখের সামনে ফুল থেকে ফলে রূপ নিয়েছে। সবে যখন ফুল ধরল, দুর্গাটুনটুনিটা সরু পায়ে ডাল আঁকড়ে বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে সারাক্ষণ আলতো ঠোকর দিত ফুলে। তরী লক্ষ করে দেখত, না ফুল ঝরে যাচ্ছে না। ফুলের সঙ্গে পাখিটার অদ্ভুত বোঝাপড়া।

শহরের মাঝখানে জানালাটার ফ্রেমে এই দৃশ্যটুকু বেমানান। চারপাশে বড় বড় হাইরাইজ। আকাশই দেখা যায় না তো ফলন্ত গাছ! তরীদের বিল্ডিংটা সাততলা, তারই মেজেনাইন ফ্লোরে ওদের টু-বেডরুম ফ্ল্যাট। পাশেই বহু পুরোনো শ্যাওলা ধরা একতলা বাড়িটির দাক্ষিণ্যে এই জামরুলের ডালটা ওর জানালায় উঁকি মারে।

–এবার চলো। ওই দ্যাখো এগারোটা বাজে। আজ চুলটা শ্যাম্পু করে দেব।

যমুনা আবার এসে দাঁড়িয়েছে। এবার দুটো হাতে ভর দিয়ে কোমরের নিচ দিয়ে ঝুলে থাকা পাথর টেনে বিছানার প্রান্তে নিয়ে এল তরী। যমুনা অতি যত্নে ওকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দিল। নিজের প্রত্যেকটা দৈনন্দিন কাজের আগে মনখারাপের ভারে গোটা শরীরটাকেই তরীর মনে হয় একটা জগদ্দল পাথর। যা অন্যেরা বহন করে বেড়াচ্ছে।

 

বেলা পড়ে এসেছে। অল্প রোদ আছে এখনও। এক টুকরো রোদ তেরচা হয়ে জানালা দিয়ে এসে দেয়ালে গিয়ে পড়েছে। জামরুলের ছায়া দুলছে দেয়ালে। সেই ছায়ার মধ্যেই তরী দেখতে পেল পাখিটাকে, সরু পায়ে ডাল আঁকড়ে দোল খাচ্ছে অল্প হাওয়ায়। তাড়াতাড়ি জানালার দিকে ফিরল। না তো, দুর্গাটুনটুনি না। এ অন্য পাখি। সবজে রঙের। চেঁচিয়ে ডাকল তরী, যমুনাদি একবার দৌড়ে এসো এখানে।

–কী হয়েছে? দৌড়েই এসেছে যমুনা। পিছনে দীপাও।

–দেখো তো জামরুলের ডালে ওটা কী পাখি?
–এই কথা, দেখছ না সবজে রঙের, ও তো টিয়া।
–না গো। ওটা বসন্তবৌরি। শুধরে দিল দীপা।
–তুমি অনেক পাখি চেনো তাই না?
–কিছু কিছু চিনি। আমাদের বাড়িতে আগে অনেক পাখি ছিল। খাঁচায়। আমার দাদা পুষত।

দীপা আজ অনেকগুলো গন্ধরাজ ফুল এনেছে তরীর জন্যে। একটা ফুলদানিতে সাজিয়ে বিছানার পাশের টেবিলে রেখেছে। ঘরটা সুগন্ধে ভরে আছে। ও মাঝে মাঝেই ফুল নিয়ে আসে। বলে তো অন্য লোকের গাছ থেকে চেয়ে আনে। দীপা সারাক্ষণ তরীকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে। প্রায়ই বলে, বৌদি, পল্লবী তোমাকে যেসব এক্সারসাইজ আর ম্যাসাজ করায় আমাকে একটু বলে দাও, আমিই সেগুলো করিয়ে দেব তোমাকে। তরী হাসে, তুমি তো অনেক করো। ওই ভার আর নিতে হবে না। তাছাড়া পল্লবী প্রফেশনালি ট্রেইন্ড। তরী বুঝতে পারে দীপা আরও বেশি অপরিহার্য করে তুলতে চায় নিজেকে। এটা একধরনের ইনসিকিউরিটি থেকেই করে। কেননা ওকে যে কাজের জন্যে নিয়োগ করা হয়েছে সেই ট্রেনিংও ওর নেই। শুধু আন্তরিকতা দিয়েই সুন্দরভাবে সব কিছু সামলে নেয়।

কল্পও খানিকটা নিশ্চিন্ত। এখন একটু দেরি করে অফিস থেকে ফেরে। কোনও কোনওদিন অফিস থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আড্ডা মেরে আসে।

দীপা আসার পর থেকে নিজের একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে তরী। কখনও নিজে বই পত্রপত্রিকা পড়ে, কখনও দীপার নানারকম গল্প শোনে। বাইরে থেকে সংগ্রহ করে আনা বিচিত্র গল্প শোনায় দীপা। বলে ওর নিজের জীবনের গল্প। স্বামীর কথা, নিজের দাম্পত্যকে ঘিরে ওর ভালো লাগা মন্দ লাগা আক্ষেপ সবকিছু অকপটে বলে তরীর কাছে।

–আমার যেদিন খুব ইচ্ছে করত শরীরের ভেতর ছটফটানি টের পেতাম, তখন হয়তো সে ‘ঘুম পাচ্ছে’ বলে উলটো দিকে মুখ ফিরিয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। আর তার যখনই ইচ্ছে জাগত আমার কোনও অজুহাত, এমনকি শরীর খারাপও মানত না। তুমিই বলো দুজনের মন একজায়গায় না মিললে কি আর আনন্দ হয়, না কি তাতে নতুন প্রাণ জন্ম নেয়।

তরী বোঝে এটা নিছক আবেগের কথা হলেও, মা হতে না পারার ব্যর্থতার কষ্ট থেকে ওর এই আক্ষেপ।

–তোমরা কখনও ডাক্তারের কাছে যাওনি?
–আমি যেতে চাইলেই তো হল না, সে কিছুতেই যাবে না। অথচ সারাক্ষণ আমার দিকেই আঙুল তুলে খোঁচা দেবে। জানতেই তো পারলাম না কার দোষে আমার কোল খালি।

ওর কথা শুনতে শুনতে নিজের দীর্ঘশ্বাস গোপন করে তরী। ও নিজে তো এখন জীবনবৃক্ষ থেকে আধখানা ভেঙে পড়া ডাল। এখনও যার কিছু পাতা সবুজ, বাকিটা নিষ্প্রাণ। সেখানে আর সালোকসংশ্লেষ হয় না। হয় না কোষবিভাজনও। কল্প জানে ওষুধ আর ফিজিওথেরাপি ওর শরীরের নিঃসাড় অংশে আবার প্রাণস্পন্দন জাগাতে সক্ষম হলেও, আর কোনওদিন ওর শরীরে অঙ্কুরিত হবে না কোনও নতুন প্রাণ। কল্পর দেওয়া স্বপ্নবীজ আর গ্রহণ করবে না ওর শরীর। তরী নিজে সবটুকু জানে না বলে এখনও আশায় আছে আবার ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। পল্লবীও ওকে কয়েকদিন ধরে বলার চেষ্টা করছে অনেক ইম্প্রুভ করেছে তরী।

প্রথম দিকে একটু আড়ষ্ট থাকত দীপা। এই প্রথম ওর এ কাজ করতে নামা। তরীই ওকে সহজ করে নিয়েছে। এখন ও খুব স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে তরীর সব কাজ করেও সময় পেলে ঘরদোর গুছিয়ে দেয়। আগে ও নিজের রাতের খাবার সঙ্গে নিয়ে আসত। তরীকে সাড়ে আটটার মধ্যে খাইয়ে দিয়ে নিজে খেয়ে নিত। যমুনা রান্না করে সব গুছিয়ে রেখে যায়, কল্প নিজের খাবারটা মাইক্রোওয়েভে একটু গরম করে খেয়ে নিত আগে। তরীর কথায় এখন অন্য ব্যবস্থা হয়েছে। দীপা আর খাবার নিয়ে আসে না। এখানেই খায়। তরীর অনুরোধে দীপাই কল্পর খাবার গরম করে টেবিলে সাজিয়ে দেয়। এখানে শুয়ে শুয়ে ডাইনিং স্পেসটা দেখা যায়, তরী দেখে দীপা খুব যত্ন করে খেতে দেয় কল্পকে। ব্যবস্থাটা তরীর মনমতো হয়েছে। বড় অযত্ন হচ্ছিল কল্পর।

 

দুপুর থেকে মেঘলা করে আছে, মাঝে মাঝে মেঘ ডাকছে। মেঘ দেখেই অন্যদিনের চেয়ে আগে চলে এসেছে দীপা। তরী ঘুমোচ্ছে। ও আজ এনেছে দোলনচাঁপা। ওদের নিজেদের বাড়ির। ফুলগুলো রাখতে গিয়ে দেখল ফুলদানিটার পাশে তরীর কানের দুল পড়ে আছে। সরিয়ে রাখতে গিয়েও হাত গুটিয়ে নিল। আস্তে করে ডাকল, বৌদি। চোখ মেলে তাকাল তরী।

–ইস সন্ধে হয়ে গেছে?
–না না সন্ধে হয়নি, মেঘ করেছে।
–অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছি। রাতে আর ঘুম আসতে চাইবে না। কটা বাজে?
–সাড়ে চারটে বাজে। আমিই একটু আগে এসে গেছি।

দীপা তরীকে তুলে বসিয়ে দিল। ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাইরে। তরীর চুল আঁচড়ে দিতে দিতে বলল, বৌদি একটা কথা বলব? জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছে তরী।

–বলো।
–দামী জিনিস যেখানে সেখানে ফেলে রেখো না।

তরী তাকাল দীপার দিকে। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ওর কানের দুল দুটো দেখাল দীপা। সোনার পাপড়িতে তিনটে ছোট ডায়মন্ড বসানো। প্রথম অ্যানিভারসারিতে দিয়েছিল কল্প।

–শুতে গিয়ে কানে লাগছিল তাই খুলে রেখেছিলাম।
–অভাবী মানুষের সামনে কখনও লোভের জিনিস রাখতে নেই। তাদের স্বভাব খারাপ হয়ে যায়।
–দূর ওইটুকু তো জিনিস। ওতে আর কার এতটাই লোভ হবে যে নিজের স্বভাব খারাপ করে ফেলবে?
–সে তুমি বুঝবে না। তোমার আছে বলে ফেলে ছড়িয়ে রাখো। ওটা গেলে তোমার হয়তো বড় ক্ষতি হবে না। কিন্তু যে নেবে তার অনেকখানি লাভ হবে।
–ছাড়ো তো। এখানে তুমি আর যমুনাদি ছাড়া কে আর আসে।
–তা আসে না, তোমাকে সতর্ক করলাম।

অফিস থেকে আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরেছে কল্প। সঙ্গে ফাইলপত্তর। বোঝা যাচ্ছে আজও অফিসের কাজ করবে বাড়িতে। তরীর অ্যাকসিডেন্টের পর অনেক ছুটি নিয়েছে, অফিসের কাজে প্রচুর ঢিলেমি দিয়েছে। সহানুভূতির কারণে অফিস সেটা মেনে নিয়েছে তখন। কল্প এবার চেষ্টা করছে পুষিয়ে দেওয়ার। দরজার কাছ থেকে তরীকে একবার দেখে নিয়ে ওপাশের ঘরে চলে গেল ফাইল আর ল্যাপটপ রাখতে। চেঞ্জ করে বেরিয়ে এসে কল্প দীপাকে বলল, এক কাপ কফি খাওয়াতে পারবে ?

দীপা কোনও কাজেই আপত্তি করে না। বরং কিছু করতে বললে খুশি হয়।

–বৌদি তুমি খাবে?
–দাও। আজ তাহলে একটু দেরি করে ডিনার করব।

বাইরে বৃষ্টি বেড়েছে। বৃষ্টির এই শব্দটা আগে তরীর ভেতর একধরণের ঢেউ তুলত, সেই ঢেউ তার নিজস্ব দ্রুতিতে কল্পর তীরে গিয়ে আছড়ে পড়ত। ছুটির দিনের অঝোর দুপুরে প্রায়ান্ধকার ঘরে বাইরের ধারাবর্ষণের সঙ্গে ওদের ভালোবাসার মৃদু গুঞ্জন মিলেমিশে দুজনকে নেশাগ্রস্ত করে রাখত। এক একদিন উঠে দেখত সময় ওদের অজান্তেই  বিকেলকে ডিঙিয়ে সন্ধেয় পৌঁছে গেছে। আকাশে মেঘভাঙা চাঁদ। যমুনাদি মোড়া পেতে বারান্দায় বসে আছে গালে হাত দিয়ে, বাড়ি যায়নি। বলত, স্বামীস্ত্রী একসঙ্গে শুয়েছিলে তাই আর ডাকতে যাইনি। এবার চা করে দিয়ে আমি বাড়ি যাব।

এখন এই দীর্ঘ প্রায় উদ্ভিজ্জ জীবনযাপনের ক্লান্তিকর কালাতিপাত তরীর মধ্যে এক ধরনের হতাশার জন্ম দিচ্ছে।  বৃষ্টি এসে ঐকতান সৃষ্টি করলেও দুজনের মধ্যে সেই ঢেউয়ের খেলাটা আর হয় না। তরীর জীবন থেকে যেন সমস্ত জলকলরোল থেমে গেছে। তখন দৃষ্টি বিনিময়েও বিদ্যুৎ বয়ে যেত শরীরে। এখন যে বালিশে মাথা রেখে ও শুয়ে থাকে সেখানে কি একটুও লেগে নেই সেইসব দিনের গুঞ্জন, আদরের অর্থহীন শব্দগুচ্ছ ? হাত বোলায় তরী, উষ্ণতা খোঁজে।

কফি খেতে খেতে তরীর বিছানার পাশে বসেই ল্যাপটপে কাজ করছে কল্প। কল্পর মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তরী। তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভেতরে তেষ্টা জাগছে। ওকে ছুঁতে ইচ্ছে করছে। হাত বাড়িয়ে কফি কাপটা টেবিলে রেখে দেয়। ইচ্ছে করছে না খেতে। অনেক কষ্টে নিজেকে টেনে কল্পর স্পর্শের নৈকট্যে নিয়ে যায়। আঙুল দিয়ে ওর পিঠের ওপর আলতো আঁকিবুকি কাটে। কল্প একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তরীর মুখের দিকে দেখে নিয়ে আবার কাজে মন দেয়, কিছু লাগবে?

হতাশ লাগে তরীর। শুধু প্রয়োজনের কথাটাই আজকাল ভাবে কল্প। প্রয়োজন ছাপিয়ে যা, তার কথা মনে আসে না। ও কি ক্লান্ত তরীর ব্যাপারে? সামান্য বিরক্তিও কি লেগে থাকে ওর কর্তব্যপালনে? খোঁজে তরী। খোঁজে, কিন্তু হাত সরিয়ে নেয় না। স্পর্শের উত্তাপ নিতে থাকে। ওর আঙুল কথা বলে চলে। একটু পরে নিরুচ্চার প্রত্যুত্তর মেলে। কল্পর হাতের কাজ থামে। উজ্জ্বল আলো নিবে যায়। টেবিলে পড়ে থাকে নির্বিকার কফিকাপ। অন্ধকারকে প্রশ্রয় দিয়ে পর্দার ফাঁক গলে আসা সরু সুতোর মতো আলোর রেখা মাঝে মাঝে দেওয়াল ছুঁয়ে যায়। বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তার আলোর ঝলকানিতে মুখ দেখে দুজনে।

মুগ ডালের খিচুড়ি রান্না করছে দীপা। সুন্দর গন্ধ আসছে। ঝমঝমে বৃষ্টি দেখে তরীই বলেছে। খিচুড়ি খেতে ভালোবাসে কল্প। ঘরের পর্দা নিখুঁতভাবে টানা, ওকে জড়িয়ে শুয়ে আছে কল্প, ওর বুকের ভেতর মুখ গুঁজে খুঁজে পেতে চাইছে সেই সোনালি হাঁসকে, যার ডানায় ভর দিয়ে অনেক দূর ভেসে যাওয়া যায়। মুঠো ভর্তি আনন্দ তুলে নেয় তরীর বুক থেকে। সমর্পিত শিল্পীর নিষ্ঠায় সাত তার ছুঁয়ে ছুঁয়ে সুর জাগিয়ে তুলতে চাইছে। জাগছে তরী। বাধা দিচ্ছে না। দরজা খোলা, তবু। ওরও ঘোর লেগেছে। তরী বুঝতে পারছে ওর ভেতর শেকড় ছড়াতে চাইছে এক উজ্জিবীত বৃক্ষ। নরম মাটি খুঁজছে, মাটি খুঁজছে… তারপর পাথরে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যাচ্ছে… হতাশ… বিষণ্ণ…। একসময় তরী টের পায়, বন্ধন শিথিল হল।

পর্দার নিচে দীপার থমকে থাকা পা দুটো দেখতে পেয়েছে তরী। কিছু জিজ্ঞেস করবে বলেই হয়তো এসেছিল। ঘর অন্ধকার, পর্দা টানা দেখে সরে গেল। একটু পরে কল্পই উঠে গিয়ে আলো জ্বালল। তারপর সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে বাইরে গেল। একটু পরে দীপা ঘরে এল।

–বৌদি, এখন খাবে?
–তোমার দাদা কখন খাবে জিজ্ঞেস করো।
–দাদা তো গেলাস নিয়ে বসেছে।
–কোথায় সে?
–ও ঘরে।

এমনিতে নিয়মিত ড্রিঙ্ক করে না কল্প। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কখনও সখনও। বাড়িতেও বন্ধুরা কেউ এলে তবেই। তরীর অনুমতি নিয়ে।

–আচ্ছা ঠিক আছে, আমার খাবার দাও। ওষুধগুলো খেতে হবে।

তরীর খেতে ইচ্ছে করছে না একদম। কিন্তু সেটা বললে ব্যাপারটা অন্যরকম হয়ে যাবে। সব কিছু সহজ রাখার চেষ্টা করছে। এমনিতে সারাক্ষণ একটা অপরাধবোধ কুরেকুরে খায় ওকে। নিজেকে অকেজো বাতিল আসবাবের মতো মনে হয়। কল্প কতদিন পারবে একে বহন করতে?

 

গত চারপাঁচদিন ধরেই রাত জেগে অফিসের কাজ করছে কল্প। মাঝরাতে ঘুমের ভেতরই তরী বুঝতে পারে কল্প এসে ওর পাশটিতে শুল। মানুষের শরীর এক আশ্চর্য যন্ত্র। অভ্যেসের একটু এদিক ওদিক হলেই টের পায়। সেই অভ্যেসেই পাশটা খালি খালি লাগছিল বলে ঘুমটা ভেঙে গেল। যতটা সম্ভব হাতটা বাড়িয়ে বিছানা হাতড়ে দেখল সত্যিই পাশে নেই কল্প। তাহলে কি এখনও কাজ করছে? হয়তো ওঘরেই ঘুমিয়ে পড়েছে। আগেও একদিন এমন হয়েছিল। সেদিন ও ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল বলে রাতে টের পায়নি।

বালিশের পাশে রাখা মোবাইলটা নিয়ে দেখলো সাড়ে তিনটে বাজে। তরী মোবাইলটা কাছে রাখে রাতে উঠতে হলে দীপাকে ডাকার জন্যে। রাতে দীপা বসার ঘরের ডিভানে ঘুমোয়। দীপার ঘুম খুব পাতলা। একটা কলেই জেগে যায়।

বাথরুমে যেতে হবে। অন্ধকারেই দীপার নম্বর ডায়াল করল। একবার, দুবার, তিনবার…। সাড়া নেই। ভাবল বাইরে ঝমঝমে বৃষ্টি, গাঢ় ঘুমোচ্ছে। তরীকে তো জাগিয়ে দিয়েছে পাশের বালিশের শূন্যতা। কিন্তু ঘুমের আবেশ ছাপিয়ে অন্য কোথাও জাগরণের স্পন্দন অনুভব করছে তরী। কেন যেন অস্থির লাগছে। সাড়া না পেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে এবার দীপার নাম ধরে ডাকল। একবার… দুবার… তৃতীয়বারে প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ঘরে এল দীপা। ও কি জেগে ছিল? অন্য কোথাও?

–কী হয়েছে বৌদি?
–বাথরুমে যাব। তোমার দাদা বোধহয় আজও ওঘরে আলো জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।

নিঃশব্দে দীপা আলো জ্বালল।

 

তিনদিন টানা বৃষ্টির পর আজ একটু রোদ উঠেছে। জানালার গ্রিলে এখনও জলের ফোঁটা লেগে আছে। একটা শালিখ ঠোঁট দিয়ে দিয়ে জলের ফোঁটাগুলোতে আলতো ঠোকর দিচ্ছে। জল খাওয়ার চেষ্টা করছে।

–যমুনাদি, একটা ছোট বাটি করে একটু জল দিয়ে যাও তো।
–কী করবে?
–তুমি দাও না।

বাটিতে জল নিয়ে এসেছে যমুনা। তরী শরীরটাকে যথাসম্ভব বাঁকিয়ে নিয়ে আস্তে করে বাটিটা জানালার ওপর রাখতেই শালিখটা উড়ে চলে গেল। শরীর বাঁকাতে গিয়ে মনে হল হঠাৎ কোমরের নিচের অংশ ঝনঝন করে উঠল। যমুনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ওর কর্মকাণ্ড।

–দাঁড়িয়ে থেকো না। তুমি চলে যাও। দেখো শালিখটা আবার আসবে। ওর তেষ্টা পেয়েছে।

শরীরটাকে আবার তার নিজের অবস্থানে আনার পর লক্ষ করল, শালিখ নয়, এবার দুর্গাটুনটুনিটা এসে বাটির জলে মাথা ডুবিয়ে নিয়ে মাথাটা ঝাঁকাচ্ছে। দু’তিনবার এরকম করার পর ঘরের ভেতর ঢুকে এল। ফুলদানিতে রাখা দীপার গতকালের আনা কদমফুলে দু’বার ঠোকর মারল। তারপর ঘরের ভেতরই খানিকক্ষন ওড়াউড়ি করে তরীর পায়ের কাছে এসে বসল। প্রবল কৌতুকে পাখিটাকে লক্ষ করছিল তরী। পাখিটা আচমকা নিজের বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে তরীর পায়ের বুড়ো আঙুলে আলতো ঠোকর দিতেই ওর সারা শরীরে তীব্র বিদ্যুৎ বয়ে গেল। প্রথমে চোখ বুজে ফেলল তরী। তারপর মনে হল শরীরের বিচ্ছিন্ন দুটো অংশ বহুদিন পর পরস্পরকে চিনতে পারল যেন। বুক কাঁপছে। আস্তে করে পায়ের পাতা দুটোকে নিজের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করল তরী। প্রথমবার হল না। তিনবারের চেষ্টায় খানিকটা সফল হল। ইঞ্চিদুয়েক। উত্তেজনায় চিৎকার করে উঠল, যমুনাদি শিগগির দেখে যাও। যমুনা প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল।

–দ্যাখো দ্যাখো, আমি পারছি। বলে নিজের পায়ের দিকে দেখাল। দেখেই যমুনা আচমকা কেঁদে ফেলল।

–ও মা… আমি ভাবছিলাম পাখি… পাখি দেখতে ডাকছ।
–পাখিই তো যমুনাদি। পাখিটাই তো আমাকে জানাল আমি পারি, আমি পঙ্গু হয়ে যাইনি।

এবার তরীও কেঁদে ফেলল।

 

গত একমাস ধরে পল্লবী প্রতিদিন এক্সারসাইজের পর তরীকে খানিকটা হাঁটানোর চেষ্টা করছে। নাড়তে পারছে, কিন্তু পা দুটো যেন আর শরীরকে বহন করতে চাইছে না। তাছাড়া পল্লবী খানিকটা রুটিন ডিউটি করে, সফল হয় না। তরীকে হাঁটানোর জন্যে আসল প্রাণপাত করে দীপা। যেমন করে বাচ্চাকে হাঁটতে শেখায় সেইভাবে। এখন পাঁচটার আগেই চলে আসে। অফিস থেকে ফিরে কল্প একবার করে জিজ্ঞেস করে, কি আজ হাঁটি হাঁটি পা পা হয়েছে?

প্রথম প্রথম মজা লাগত তরীর, এখন শুনলেই রাগ হয়। ঠাট্টার মতো লাগে। দীপা নিজের পায়ের পাতার ওপর তরীর পা দুটোকে নিয়ে ঘরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত হেঁটে যায় তরীর পুরো শরীরটা আক্ষরিক অর্থে বহন করে করে। তরী ওকে আঁকড়ে ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে ওর সঙ্গে তাল রাখতে। কিছুটা সফল হয়। একসময় দুজনেই ক্লান্ত হয়ে থামে। প্রতিদিন দীপা দৃঢ়তার সঙ্গে বলে, দেখো কাল ঠিক পারবে। তরীকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়াটা যেন ওর নিজের লড়াই। নিজের দায়। প্রতিদিন চারটে বাজতে না বাজতেই প্রবল উৎসাহ নিয়ে দীপার অপেক্ষায় থাকে তরী।

ক’দিন পর রোজকার মতো দীপার অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে বারবার ঘড়ি দেখছে তরী। পাঁচটা, সাড়ে পাঁচটা, ছ’টা… দীপার দেখা নেই। যমুনা বাড়ি যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হয়ে বসে থাকে। ও না এলে তরীকে একা ফেলে যেতেও পারে না। তরী ফোন করল দীপাকে। সুইচ অফ। কাজে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম দীপা এল না।

–কী হল বলো তো যমুনাদি। ও তো কখনও কামাই করে না। জ্বরটর হয়নি তো?
–বুঝতে পারছি না। ক’দিন ধরে বলছিল শরীরটা ভালো নেই। কিছু খেতে ইচ্ছে করে না। কাল সন্ধেবেলায় চা খাওয়ার পর বাথরুমে গিয়ে বমি করছিল।
–বমি করছিল? আমাকে তো বলল না কিছু।
–আমি বরং রাতে থেকে যাই। তুমি একটা ফোন করে দাও আমার মেয়েকে।
–না না তার দরকার নেই। একটু অপেক্ষা করো তোমার দাদা এলে তারপর চলে যেও।

পরদিনও এল না দীপা। যথারীতি ফোনের সুইচ অফ। তৃতীয়দিন যমুনা ওর বাড়িতে গিয়ে তালাবান্ধ দেখে এল। অবাক লাগছে তরীর। দীপা যে এমন করতে পারে ওর স্বপ্নের অতীত। বিরক্ত যমুনাও। কল্প অফিস থেকে ফেরার পর তরী বলল, দীপা আসছে না আজ তিনদিন তুমি খেয়াল করোনি?

–আরে তাই তো। কাল একবার মনে হয়েছিল। ভেবেছিলাম তোমাকে বলে গেছে।
–কিচ্ছু বলে যায়নি। ফোনের সুইচ অফ। হঠাৎ কী হল!
–শরীর টরীর খারাপ হতে পারে।
–তাহলে বাড়িতে তো থাকবে। আজ যমুনাদি খোঁজ করতে গিয়েছিল, তালাবন্ধ দেখে এসেছে। যমুনাদিকে নাকি বলেছিল কদিন ধরে শরীর ভালো না। সেদিন নাকি বমি করছিল।

হঠাৎ চমকে ওর মুখের দিকে তাকাল কল্প। পরক্ষণে চোখ সরিয়ে নিল। চোখ সরিয়ে নিল, কিন্তু সারারাত ওর ওই চমকানো দৃষ্টি আটকে রইল তরীর নির্ঘুম চোখে।

সকাল থেকে যমুনা আপনমনে বকে চলেছে, কাজ করবি না সেটা বলে গেলে কি আমরা তোকে বেঁধে রাখতাম? আরে বাবা তুই তো কিছু চুরি করিসনি যে না বলে পালিয়ে যেতে হবে?

শুনতে শুনতে অদ্ভুত একটা ডিপ্রেশান ঘিরে ধরছে তরীকে। হতেও তো পারে কিছু চুরি করেই পালিয়ে গেছে দীপা, যা তরীর আর কোনও কাজে লাগবে না…

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1912 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...