মৃত পাখিদের গান — ৭ম পর্ব

অবিন সেন

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

বারো

মৃত ছেলে দুটিকে এখনও সনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ রেকর্ডে ছেলে দুটির কোনও ছবিও নেই। তারা পুরানো পাপী নয়, হয়ত নতুন এসেছে এই লাইনে। ছেলে দুটির ছবি পুলিশের বিভিন্ন খবরিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

খবরের কাগজের ভিতরের দিকের একটা পাতায় অর্কর ছবি ছাপা হয়েছে সেই সঙ্গে দারণ প্রশংসা। সকালে উঠেই খবরের কাগজে নিজের ছবি দেখে অর্কর দিল খুশ হয়ে গিয়েছে। ফলে খুব ফুরফুরে মেজাজে সে অফিসে এসেছে। কিন্তু নিজের চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতেই তন্ময় সামন্তের সঙ্গে তার দেখা। অর্ক একটু ভ্রু কোঁচকায়, ইশারায় সামন্তকে ভিতরে বসতে বলে সে টয়লেটে চলে যায়। সামন্তকে দেখলে আজকাল অর্কর মেজাজে বিলা হয়ে যাচ্ছে। হয়ত ভিতরে ভিতরে সে ওই মার্ডার কেসটায় নিজেকে জড়াতে চাইছে না। বাথরুমের আয়নায় নিজের মুখটা দেখল অর্ক। মুখের পেশীতে কি বয়সের ছাপ পড়ে গিয়েছে? সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। দেখল চোখের নিচে যে কালির ছোপ কিছুদিন ধরে ঘন হয়ে বসেছিল সে ছাপ যেন কিছুটা হালকা হয়েছে গত দু-চার দিন ভালো ঘুমের ফলে। অম্বরের ওষুধটা ভালো কাজ করছে। দু-তিন দিন বেশ চনমনে লাগছে তার। এই দু-তিন দিনে তার সঙ্গে আর রুচিরার কোনও কথা হয়নি। অর্ক কি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল! রুচিরাও তাকে ফোন করতে পারত! কিংবা অর্কর যোগ্যতা সম্পর্কে হয়ত সন্দিহান হয়ে পড়েছে সে। বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল এখনো রেখা দাশের কোনও খবর সে দিতে পারল না রুচিরাকে। এই সব চিন্তার ভিতরে সামন্তর প্রতি তার বিরক্তি যেন তরল হয়ে আসে ক্রমশ।

বাথরুম থেকে বেরিয়েই সে নিজের চেম্বারে গেল না। একবার জয়েন্ট সিপি-র ঘর থেকে ঘুরে এল। তদন্তের ব্যাপারে আপডেট দিল।

নিজের ঘরে ফিরে এসে দেখে সামন্ত কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছে। অর্ককে ঢুকতে দেখে সে ফোন রেখে দেয়।

সামন্ত উঠে দাঁড়ায়। আজ সে ইউনিফর্মে আছে। সহাস্য মুখে বলল,

–কনগ্রাচুলেশন স্যার।

অর্ক প্রত্যুত্তরে একটু মাথা ঝাঁকায়। চেয়ারে বসতে বসতে প্রশ্ন করে,

–তা সামন্ত, আজ একেবারে সকাল সকাল?

সামন্ত তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় হেসে নেয় একটু। হাসিটা মুখে রেখেই সে বলে,

–একটা খবর আছে স্যার।
–কী খবর?
–রেখা দাশের সন্ধান মনে হয় পাওয়া গিয়েছে।
–ইজ ইট?

অর্ক যেন এক্সাইটেড ফিল করে।

সামন্তর মধ্যে কোনও ত্বরা নেই। সে ধীরে সুস্থে বলে,

–আমরা বিভিন্ন থানায় রেখা দাশের ছবি পাঠিয়েছিলাম। গতকাল সন্ধ্যায় গোলাবাড়ি থানা থেকে ইনফরমেশন এসেছে, একটা মহিলার বডি উদ্ধার হয়েছে গঙ্গার পাড় থেকে, যার সঙ্গে রেখা দাশের ছবির মিল আছে। বডিটা কেউ আইডেন্টিফাই করেনি। আমাদের আইডেন্টিফাই করতে বলেছে।

ডেড বডির কথা শুনে অর্ক যেন একটু মিইয়ে গেল। বলল,

–কবে বডি উদ্ধার হয়েছে?
–দিন সাতেক আগে। রেখা দাশের নিখোঁজ হবার দুদিন পরে। স্যার যাবেন? রেখা দাশের ফ্যামিলি তো কিছু নেই। ছোট থেকে হোমে বড় হয়েছে। আমরা ওর এনজিও-র কাউকে ডেকে নিতে পারি, বডি আইডেন্টিফাই করার জন্য।

অর্ক’র মুখ দিয়ে একটা নিশ্বাস পড়ল। বলল,

–হুম। ওদেরই ডাকতে হবে। আমরা তো আর তাকে দেখিনি! আমি দেখছি। আপনি গোলাবাড়ি থানার সঙ্গে কথা বলে অফিসিয়াল অ্যারেঞ্জমেন্ট করুন।

সে একটু থামল। কিছু যেন ভাবল নিজের মনে তারপরে বলল,

–আর কিছু প্রোগ্রেস?

সামন্ত তাকে রেখা দাশের বাড়ি, রাহুল বৈদ্যর বাড়িতে বিশাখা দত্তর ঘর সার্চ করার কথা বলল। প্রবাল হয়ত কিছু ক্লু পেয়েছে এমন সম্ভাবনার কথা জানাল। সব শুনে অর্ক তাকে ঘণ্টা খানেক পরে অ্যারেঞ্জমেন্ট সেরে ফিরে আসতে বলে।

সামন্ত বেরিয়ে গেলে অর্ক একটু ভাবতে বসল। রুচিরাকে সে কীভাবে খবরটা জানাবে? এরকম তার কখনও হয় না। একজনকে ফোন করবে কি করবে না এই নিয়ে সে ভাবতে বসছে। সে এমন আনস্মার্ট হয়ে যাচ্ছে কেন কে জানে! সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। ভাবনার নাম করে এমনি যেন সে চুপ করে বসে থাকে। অনেকক্ষণ পরে সে ফোনটা তুলে নেয়।

ওদিকে ফোনটা রিং হতে থাকে। ফুল রিং হয়ে হয়ে ফোনটা কেটে যায়। কেউ রিসিভ করে না।

অর্ক আবার ভাবল, রুচিরা কি তার ফোন ধরবে না! সে আবার যেন ভাবতে বসে। সে কি আবার ফোন করবে? তার ভাবনা শেষ হবার আগেই ফোনটা বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে রুচিরার নাম। তার মুখ এক অদ্ভুত হাসিতে ভরে ওঠে।

রুচিরা ফোনের ওপার থেকে বার দুই ‘সরি’ বলে। ফোন তুলতে না পারার জন্য।

অর্ক নিজের মনের কাছে লজ্জা পায়। আর সে কিনা ভেবেছে রুচিরা তার ফোন ধরছে না!

অর্ক বলে,

–আজ কি কাজের চাপ খুব? ঘণ্টা দু-ঘণ্টা পরে একটু ফ্রি হওয়া যাবে?

রুচিরা ফোনের ওপারে কয়েক মুহূর্ত যেন ভাবল। বলল,

–কেন বলুন তো ?

অর্ক ইতস্তত করছিল। কীভাবে কথাটা বলবে ভেবে পায় না। সে কারণে যেন একটু রহস্য রেখে বলে,

–বলুন না সময় হবে?

রুচিরা আবার যেন ভাবল কিছু। বলল,

–তা হতে পারে। কিন্তু কী ব্যাপার একটু বলুন না!

তার গলায় যেন একটু উদ্বেগ।

–আপনি কি বাড়িতেই আছেন?
–হ্যাঁ। আসলে ‘আবাদ’ অফিসটা আমাদের বাড়িতেই।
–ঠিক আছে, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। প্লিজ এখানে চলে আসুন তা হলে।
–না, প্লিজ গাড়ি পাঠাতে হবে না। আমি চলে আসছি আপনার অফিসে।

অর্ক গলায় জোর খাটিয়ে বলল,

–না, আমি গাড়িই পাঠাব। আপনি না করতে পারবেন না।

কথাটা বলেই সে হেসে ওঠে।

রুচিরা আর ‘না’ করে না। ফোন রেখে দেয় সে।

প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পরে রুচিরা পৌছায়। তখন সামন্ত বসে ছিল অর্কর চেম্বারে। রুচিরা ঢুকতে অর্ক তাকে যাবার বন্দোবস্ত করতে বলল। সামন্ত বেরিয়ে গেল।

রুচিরা একটা শাদার উপরে সালোয়ার কামিজ পরে এসেছে। অর্ক যেন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

রুচিরা তার মুগ্ধ দৃষ্টির সামনে একটু অস্বস্তি বোধ করে কি? মনে হয় করে না। রুচিরা তার চোখে চোখ রাখে। তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে থাকতে যেন দুজনেরই ভালো লাগে।

তারপরে রুচিরা তার চোখ অর্কর মুগ্ধ চোখের থেকে সরিয়ে নিয়ে বলে,

–কনগ্রাচুলেশন। আজকের কাগজে আপনার ছবি দেখলাম। অস্ত্র উদ্ধার করলেন। এবার রেখাকে খুঁজে বার করে দিন না।

তার ঠোটের কোনে একটা অমলিন হাসি লেগে থাকে।

অর্ক কীভাবে বলবে বুঝে উঠতে পারে না। তার চোখে মুখে একটা অস্বস্তি খেলা করে। একটু ইতস্তত করে বলে,

–রেখা দাশকে বোধ হয় পাওয়া গিয়েছে।

রুচিরার মুখে আরও একটু হাসি ফুটে ওঠে। বলে,

–পাওয়া গেছে? কোথায়?

অর্ক একটু কেসে যেন তার গলা পরিষ্কার করে নেয়। বলে,

–রুচিরা!

তার নামটা বলে সে একটু থামে। এই প্রথম সে রুচিরার নাম ধরে স্পষ্ট করে ডাকল।

–রুচিরা, কীভাবে বলব বুঝে উঠতে পারছি না। গোলাবাড়ি থানার পুলিশ একটা ডেড বডি পেয়েছে, কয়েকদিন আগে, গঙ্গার ধারে। তার মুখের সঙ্গে যেন রেখা দাশের মুখের মিল আছে।

অর্ক থেমে যায়। রুচিরা যেন আঁতকে ওঠে। বলে,

–কী বলছেন স্যার!

তার গলায় আবার ‘স্যার’ কথাটা ফিরে আসে। সে মুখ নিচু করে কিছুক্ষণ বসে থাকে। অর্কও কোনও কথা বলে না।

বেশ কিছুক্ষণ করে অর্ক নীরবতা ভাঙে। একটু ইতস্তত করে, তারপরে বলে,

–আপনাকে একটু যেতে হবে, বডিটা সনাক্ত করতে হবে, যদি সেটা রেখা দাশের বডি হয়! আবার নাও হতে পারে। বহুবার এরকম ভুল হয়েছে।
–প্লিজ স্যার। মিথ্যা আশ্বস্ত করবেন না।

রুচিরা যেন তার গলার ভিতরে এক দলা ক্ষোভ দুঃখ চেপে রাখার চেষ্টা করছিল। সে কাঁদুনে মেয়ে নয়। যথেষ্ট কঠিন তার প্রকৃতি। তবু যেন বুকের ভিতরে একটা কান্না সে টের পাচ্ছিল। রেখা শুধু তাদের দলের এক সদস্যা ছিল না। তার থেকেও বেশি কিছু ছিল। রুচিরার খুব ক্লোজ ছিল সে। রুচিরা মুখ নিচু করে বসে ভিতরের কান্নাটাকে আপ্রাণ চেপে রাখার চেষ্টা করছিল।

অর্ক তাকে সেই সময়টা দিল। সে চুপ করে তার দিকে চেয়ে বসে থাকল। তাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেবার কোনও চেষ্টা সে করল না। তার নিজেরও খুব খারাপ লাগছিল। কেন সেটা যেন সে ঠিক বুঝতে পারছিল না। রেখা তো তার কেউ না। আর মানুষের মৃত্যু তো সে প্রথম দেখছে না। গতকালই দুটো তরতাজা যুবক মারা গেল। তবে, রুচিরার খারাপ লেগেছে বলেই কি তার খারাপ লাগছে? সে ঠিক বুঝতে পারছে না।

কিছুক্ষণ নিজের সঙ্গে লড়াই করে, রুচিরা হঠাৎ বলল,

–আমি যাব না।
–প্লিজ, রুচিরা না করবেন না। আমরা তো কেউ তাকে চিনি না। আপনি চেনেন। আমি সবসময় আপনার সঙ্গে থাকব। আপনার কোনও সমস্যা হবে না।

অর্ক তাকে ভরসা দেবার চেষ্টা করে। অনুরোধ করে বারবার। কয়েকবার নিমরাজি হয়ে শেষে যেন বাধ্য হয়েই রাজি হয়ে যায় রুচিরা।

পুরো রাস্তায় গাড়িতে একটিও কথা বলেনি রুচিরা। চুপ করে জানালার দিকে তাকিয়ে রাস্তা দেখতে দেখতে সে গিয়েছে। অর্ক তার মুখ দেখতে পায়নি। সেও চুপ করে বসেছিল। মোবাইল ঘাঁটছিল।

সামন্ত আর দুজন কনস্টেবল অন্য গাড়িতে ছিল।

ভিড়ঠাসা সরু রাস্তা ঠেলে তাদের পৌঁছাতে বেশ সময় লাগল। তারা থানায় গেল না সরাসরি মর্গে পৌঁছল। সে এক নরক। ওড়নাটা মুখে চেপে রুচিরা অর্কর পাশে পাশে চলছিল। গন্ধে তার যেন পেটের ভিতর থেকে বমি উঠে আসছিল।

লোহার ভারি ট্রেতে মৃতদেহটা এক ঝলক দেখেই রুচিরা নাক মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে দৌড়ল। তার পিছনে পিছনে অর্ক। বাইরে বেরিয়ে নোংরা নর্দমার পাশে বসে পড়ে রুচিরা। তার পেটের ভিতরটা, সারা শরীরটা গুলিয়ে ওঠে। অক অক করে সে বমি করে।

অর্কও চারপাশের পরিবেশ ভুলে তার পাশে বসে পড়েছে। একটা হাতে দিয়ে তার কাঁধটা ধরে রেখেছে, একান্ত মমতায়।

অর্ক তার বডি-গার্ডকে ইশারা করে জলের বোতল আনার জন্য। জলের বোতল এলে অর্ক নিজের হাতে আঁজলা ভরে জল নিয়ে রুচিরার মুখ মুছিয়ে দেয়। রুচিরা কয়েক ঢোক জল গলায় ঢালে। সে যেন একটু ধাতস্থ হয়। অর্ক তার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসায়। ড্রাইভারকে এসি অন করতে বলে সে ফিরে আসে। সামন্তকে সে ডিটেলে খোঁজ খবর নিতে বলে থানায় গিয়ে। রেখা দাশের বডি কীভাবে কোথায় পাওয়া গেল, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সমস্ত কিছু।

অর্কর খারাপই লাগছিল যেন। কিন্তু এ ছাড়া আর কীই বা করার ছিল?

গাড়িতে এসে নিজের ভিতরের কান্নাকে আর ধরে রাখতে পারেনি রুচিরা। অর্ক গাড়িতে ফিরে এসে দেখল রুচিরার চোখ ভেজা। মুখ ভার।

অর্ক ইশারা করে কিছু একটা বলল গাড়ির ড্রাইভারকে। গঙ্গার ধারে একটা জায়গায় এসে দাড়ি থামলে রুচিরা অবাক হয়ে যায়। জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে সে অর্কর দিকে তাকায়।

অর্ক বলে,

–নামুন প্লিজ। ওই দেখুন কেমন গঙ্গার পারে বিকেল নামছে।

রুচিরা কী যেন ভেবে আর আপত্তি করে না। তারা গঙ্গার পারে একটি গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। গঙ্গায় তখন জোয়ার এসেছে। ঘোলা অঢেল জলের উপরে বিকেলের আলো এক অপরূপ খেলায় মেতে উঠেছে। ঢের বেহিসেবি হাওয়ায় রুচিরার চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। তারা বাঁধনহারা উড়ে উড়ে এসে তার চোখ মুখ ভাসিয়ে দিচ্ছিল। অর্ক মুগ্ধ হয়ে হাওয়ার সেই বেহিসেবি খেলা দেখে দেখে যেন হিংসায় জ্বলে যাচ্ছিল।

রুচিরা তার মুগ্ধ দৃষ্টির উপরে দৃষ্টি রাখে। সে এখন অনেকটা সহজ হয়ে এসেছে। বলে,

–কী দেখছেন বলুন তো?

তার গলার স্বর মৃদু আর লাজুক শোনায় যেন। হাত দিয়ে চোখের উপর থেকে চুল সরায়।

অর্ক কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো যেন বলে বসে,

–আপনাকে!

রুচিরা আস্তে আস্তে তার মুগ্ধ দৃষ্টির সামনে থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে গঙ্গার দিকে তাকায়। বলে,

–দেখুন ওই দূরের নৌকাটা!

এমনটা যেন কথার কথা। এমনটা যেন বলতে হয়।

অর্কর সে সবে মন নেই। খেয়াল নেই। সে যেন আজ ভীষণ সাহসী আর বেহিসেবি হয়ে উঠেছে। খুব কাব্য করে কিছু বলতে ইচ্ছা করছে তার। কিন্তু কিছুই মনে আসছে না তার। ভীষণ রাগ হয়ে যায় তার নিজের উপরে। এমন এক আশ্চর্য মুহূর্তে তার সমস্ত কথা হারিয়ে গিয়েছে।

রুচিরা মুখ ঘুরিয়ে তার মুখের দিকে তাকায়। বলে,

–কই কিছু বলছেন না যে? কিছু বলবেন বলেই তো এসেছেন? তাই না?

রুচিরার চোখে যেন বিশ্ববিজয়ী হাসি।

অর্কর কখনও নিজেকে এমন বুদ্ধু আর ভেবলু মনে হয়নি। এমন ডাকসাইটে আইপিএস অফিসার কোনও কথা খুঁজে পাচ্ছে না। শেষে অনেক কষ্টে বলে,

–বিকেলটা খুব সুন্দর না!

রুচিরা যেন অর্কর এই অবস্থাটা বুঝতে পারছে। সে যেন মজা পাচ্ছে সেই নিয়ে। সেই সঙ্গে নিজের মনোভাবেই সে নিজে অবাক হয়ে যাচ্ছে। ভাবছে জীবন আর মৃত্যুর দূরত্ব কত সামান্য। একটু আগেই এক মৃত্যুর বেদনায় তার বুক ভারি হয়ে গিয়েছিল, আবার এখন এক আশ্চর্য জীবনবোধে তার ভিতরটা পালকের মতো হালকা হয়ে গিয়েছে। সে নিজের ভিতরে এখন একটি দোটানা অনুভব করে। সেটাকে কাটাতেই যেন তাড়াতাড়ি বলে,

–হ্যাঁ! সুন্দর। এবার চলুন। আবার পরে কথা হবে।

অর্ক যেন নিজের মনের ভিতর থেকে তার কথাটা রিপিট করে,

–কথা হবে?

রুচিরা ফিস ফিস করে বলে,

–হ্যাঁ! হবে।

 

(ক্রমশ)

 

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...