ছবি দেখা— কিছু এলোমেলো ভাবনা

বিষাণ বসু

 

ছবি কী? ছবি কেন? না হয় কেউ একখানা এঁকেই বসল, আমাকে দেখতে যেতে হবে কেন? লাখ লাখ কি কোটি কোটি টাকার দিয়ে বাজারে বিক্রি হয় যে ছবি, সে কি আর্ট, নাকি স্রেফ ব্যবসা? যা-ই বলুন, ওসব ছবিটবি বড়লোকদের বিলাসিতা। আমজনতার সঙ্গে এর যোগ কোথায়?

এ হল একধরনের যুক্তিক্রম। তাঁদের, যাঁরা ছবি দেখেন না, দেখতে চানও না, এমনকি, এই না দেখতে চাওয়ার পক্ষে বিবিধ যুক্তি ফেঁদে বসেন।

এর বিপরীতে আছেন আরেকপক্ষ, যাঁরা ছবি দেখার ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দিতে পারেন না। কিন্তু, এঁদের ছবি দেখাটেখা পশ্চিম উজিয়ে দেশে ল্যান্ড করতে পারে না। এনারা ছবি বলতে জানেন দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল্যাঞ্জেলো— পরবর্তী সময়ে ভ্যান গগ, পল গগ্যাঁ, সেজান— ভ্যান গগের জীবন নিয়ে জানেন অনেকটা, তাঁর সাধনার ফসল ছবি নিয়ে কিছু কম— আর নাম শুনেছেন পিকাসো এবং সালভাদর দালি-র। এঁদের যুক্তি মোটামুটি—

দেখতে হলে পিকাসো-সেজান-ভ্যান গগ দেখব— আসল দেখার সুযোগ না থাকলে বইয়ে বা ইন্টারনেটে— খামোখা দেশি শিল্পীদের ছবি নিয়ে মাথা ঘামানোর আছেটা কী? আমরা তো টিভিতে মেসি-রোনাল্ডোর খেলা দেখি— সেই সময়ে মাঠে গিয়ে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর ম্যাচ দেখতে গিয়ে ফুটবলপ্রেম জাহির করি না?

না, এঁদেরকে বিদ্রূপ করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই লেখা নয়। বিশেষত, এঁদের কথা পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কথার পেছনে কিছু যুক্তি আছে— প্রতিযুক্তিও নিশ্চয়ই রয়েছে, কিন্তু, অধিকাংশ মানুষই নিজেদের যুক্তিকে শ্রেষ্ঠ ধরে নিজেকে যুক্তিবাদী ভাবতে ভালোবাসেন। কাজেই, না, এই লেখাতেও যুক্তি খণ্ডন বা নস্যাৎ করে নিজের চিন্তাপদ্ধতিকেই শ্রেষ্ঠ প্রমাণের কোনও তাগিদ নেই।

এই সুযোগে কিছু ডিসক্লেইমারও জুড়ে দিলাম:

১. শিরোনামের এলোমেলো শব্দটি এই লেখার পক্ষে একেবারে যথার্থ বিশেষণ। ছবি নিয়ে, বিশেষত আধুনিক ভারতীয় ছবি নিয়ে কিছু ভাবনা এলোমেলোভাবে সাজিয়েই এই লেখা।

২. যেহেতু এলোমেলো, অনেক প্রসঙ্গই এসেছে এবং মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সময়ের ছবি নিয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ আলোচনার চেষ্টা এখানে করা হয়নি। অনেকগুলো সূত্রের উত্থাপন করা গেল, সুযোগ এলে পরবর্তীতে বিশদ আলোচনায় যাওয়া যেতে পারে।

৩. লেখাখানা বেজায় লম্বা। এখনই বলে রাখলাম। পরে দোষ দেবেন না।

শুরুতেই শুধু বলার, বিদেশি ছবির সঙ্গে আমাদের ছবির তুলনায় ফুটবলের অনুষঙ্গ না আনাই ভালো। যদি আনতেই হয়, তাহলে বলার, যেদিন থেকে আমরা মাঠে যাওয়া ফুটবলপাগল থেকে টিভিতে খেলা দেখা ফুটবলবোদ্ধায় পরিণত হলাম, বাংলার ফুটবল সেইদিনই শেষযাত্রার জন্যে আটঘাট বেঁধে রেডি হয়ে গিয়েছিল। তবে, এই কথা কিছুটা সেন্টিমেন্টাল হাহুতাশ। কেননা, এই বাজারের শাসনে, মালের কোয়ালিটি খারাপ হলে সেই প্রোডাক্ট বাজারে টিকে থাকতে পারবে না। কাজেই, আমার এই অতীতচারণা মধ্যবয়সের অসুখ বলে ধরে নিন, সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। তবু, এই কথা অস্বীকার করা যায় না, চিত্রশিল্পের প্রতি এই সাধারণ আগ্রহের অভাব কিন্তু প্রতিভাবান উঠতি শিল্পীদের হতাশ করে তুলছে। অসম্ভব প্রতিভার স্বাক্ষর সত্ত্বেও তরুণ শিল্পীদের বড় অংশ বিশুদ্ধ শিল্পচর্চার চাইতে কমার্শিয়াল আর্টকে বেছে নিচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে, অন্তত এই রাজ্যের চিত্রশিল্পের ক্ষেত্রে, দেশের ক্ষেত্রেও বটে, আগামী দিনগুলোতে খুব একটা উজ্জ্বল কিছু আশা করা যাচ্ছে না।

সে আলোচনা না হয় পরে করা যাবে। কিন্তু, আমার প্রশ্ন অন্য। সত্যিই কি দেশের নিম্নমানের ফুটবল বনাম বিদেশি ফুটবলের উৎকর্ষের তুলনাটা চিত্রজগতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

মানে, পশ্চিমী দেশের শিল্পধারার সঙ্গে দেশের চিত্রধারার কি কোনও ফারাকই নেই? দুপক্ষই, বেসিকালি, কি একই খেলা খেলে চলেছেন? আর সেই খেলায়, অনিবার্যভাবেই, পশ্চিমের উৎকর্ষ অনস্বীকার্য? আমরা, আমাদের শিল্পীরা শুধুই অক্ষম ফলোয়ার মাত্র?

দেখুন, এদেশে চিত্রকলার ঐতিহ্যটি কিছু কমদিনের নয়। প্লাস, হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের দেশে অন্য দেশের মানুষের যাতায়াত লেগে আছে। কেউ এসেছেন ব্যবসা করতে, কেউ চটজলদি সম্পদ জোগাড় করতে, কেউ দেশ দখল করতে, কেউ জ্ঞানের অন্বেষণে। কেউ কেউ ফিরে গিয়েছেন, অধিকাংশই মিলেমিশে গিয়েছেন আমাদের এই আশ্চর্য দেশে, মিশে রয়েছেন আমাদের এই আশ্চর্য সংস্কৃতিতে। ভীমভেটকার আদিম গুহাচিত্রের কথা তুলছি না, এমনকি ছেড়ে দিচ্ছি অজন্তার চিত্রনৈপুণ্যের প্রসঙ্গও। আরেকটু পরের দিকের কথাই না হয় ধরা যাক, যাতে ইউরোপীয় চিত্রকরদের একই টাইমফ্রেমে আনা যেতে পারে।

ধরুন, মুঘল আমল এবং মিনিয়েচার ছবির কথা। রাজপুত মিনিয়েচার বা পাহাড়ি মিনিয়েচার। যে মিনিয়েচার দেখে প্রভাবিত হয়েছিলেন স্বয়ং রেমব্রাঁ? মিনিয়েচার ঘরানায় আঁকা রেমব্রাঁ-র একগুচ্ছ ছবির প্রদর্শনী তো কয়েক বছর আগেই হয়ে গিয়েছে খাস বিলেতে, যেখানে ছিল তাঁর আঁকা জাহাঙ্গীর বা শাহজাহানের পোর্ট্রেটও, এমনকি কথোপকথনরত শাহজাহান ও দারাশিকোর ছবি। না, রেমব্রাঁ ভারতে এসে পোর্ট্রেটের প্রথা মেনে শাহজাহান-জাহাঙ্গীরের সামনে বসে, তাঁদের দেখেটেখে এই ছবি আঁকেননি। এইগুলো প্রতিলিপিমূলক কাজ, মিনিয়েচার স্টাইলে। কাজেই, ছবির ঐতিহ্য একেবারে ওদেশ থেকে এদেশে আমদানি হয়েছে, এমন তো নয়। শিল্পের জগতে এমন আন্তর্জাতিক বেড়াজাল আগেও ছিল না, এখনও নেই। রেমব্রাঁ নিয়েছেন মিনিয়েচার থেকে— ভ্যান গগ জাপানি কাঠখোদাই দেখে সৃষ্টি করেছেন বৃষ্টিস্নাত ব্রিজের ছবি।

জাহাঙ্গীরের প্রতিকৃতি — রেমব্রাঁ

বেশ, সে না হয় হল। না হয় মেনেই নেওয়া গেল, ভারতীয় শিল্প, চিনের শিল্প, জাপানের শিল্প, এককথায় পুব দুনিয়ার শিল্প ও ইউরোপের শিল্প একই সঙ্গে বিকশিত হয়েছে— সময়ে সময়ে একের প্রভাব পড়েছে অন্যের উপরে— কিন্তু, বিকশিত হয়েছে নিজের নিজের মতো করেই। অতএব, এর মধ্যে যেকোনও একটি ধারার শিল্পচর্চার চশমা পরে অন্যদেশের শিল্পচর্চার মান যাচাই অনুচিত। কিন্তু, সেই একই কথা আধুনিক ছবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি?

এদেশে আধুনিক ছবির ধারাটা শুরু হয় মোটামুটি গত শতকের শুরুর দিকে। ঔপনিবেশিক শাসনের চোটে দেশজ শিল্প, দুই অর্থেই, ধ্বংস হয়েছিল। তার পরে আইকন বলতে রাজা রবি বর্মা— এবং সেই ধাঁচটিই জারি ছিল। অর্থাৎ, পাশ্চাত্য পদ্ধতিতে দেশীয় কন্টেন্ট। নিছক চিত্রাঙ্কন দক্ষতায় রাজা রবি বর্মা পশ্চিমের যেকোনও মাস্টারের চেয়ে কম নন। কিন্তু, তাঁর ছবিকে ঠিক আধুনিক বলা মুশকিল।

শকুন্তলা — রাজা রবি বর্মা

এদেশের ছবিতে আধুনিকতার সূত্রপাত দেশের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা দিয়ে। হ্যাভেলসাহেবের অনুপ্রেরণায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে শুরু হওয়া বেঙ্গল স্কুল। জাতীয়তাবাদের প্রভাব এক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। শাজাহানের মৃত্যু বা ভারতমাতা— দেশের লুপ্ত শিল্পধারা, দেশিয় ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের সচেতন প্রয়াস লক্ষ্যণীয়। এর মধ্যে শাজাহানের মৃত্যু ছবিতে মিনিয়েচার আর্টের নিবিড় সূক্ষ্ম কাজ, দেশের অতীত গৌরবের স্মৃতি, বৃদ্ধ সম্রাট শাহজাহান ও পায়ের কাছে তাঁর আদরের মেয়ে, শেষ মুহূর্তে তাজমহলের দিকে তাকিয়ে থাকা— রঙের ব্যবহার কি কম্পোজিশন, সব মিলিয়ে, এদেশের চিত্রকলার ইতিহাস লিখতে গেলে অবন ঠাকুরের এই ছবির উল্লেখ অনিবার্য।

শাজাহানের মৃত্যু — অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বেঙ্গল স্কুলের পাশাপাশি গগনেন্দ্রনাথ আঁকতে শুরু করেন একেবারে টাটকা ইউরোপীয় আর্ট মুভমেন্ট কিউবিজম ঘেঁষা ছবি। কিছু পরেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের ছবিতে আসবে এক্সপ্রেশনিজমের ছোঁয়াচ। কিন্তু, গগনেন্দ্রনাথ বা রবীন্দ্রনাথের ছবি, সংশয়াতীতভাবে আধুনিক হলেও, এবং সেই আধুনিকতা পশ্চিমী আধুনিকতার সমতুল হলেও, ভারতীয় চিত্রধারার বিকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রভাব, সমকালে, খুব বেশি নয়।

ঠিক এরপরেই, শান্তিনিকেতনে শুরু হবে বাংলা তথা ভারতীয় চিত্রধারার এক সুবর্ণযুগ। আচার্য নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বা বিনোদবিহারীর হাত ধরে, দেশীয় শিল্পভাবনা, লোকশিল্প, চিন-জাপানের শিল্পভাবনা তথা শিল্পপদ্ধতি— সব মিলিয়ে মিশিয়ে তৈরি হয়ে ওঠে এক শিল্পধারা, যাকে নিখাদ ভারতীয় শিল্প, বা বৃহত্তর অর্থে প্রাচ্য শিল্প বললেও বাড়াবাড়ি হয় না।

সতী — নন্দলাল বসু

হ্যাঁ, অবনীন্দ্রনাথের সময়ে বা কিছু আগে পরে ছিলেন হেমেন মজুমদার, অতুল বসু প্রমুখ— যাঁরা অসামান্য দক্ষ ও কুশলী শিল্পী— ইউরোপীয় ঘরানায় শিক্ষিত ও সেই ঘরানার অনুসারী— অবনীন্দ্রনাথ ভারতীয়ত্ব পুনরুদ্ধারের নামে হিন্দুত্ববাদী শিল্পচর্চার প্রসার ঘটাচ্ছেন, এমন অভিযোগ তাঁরা করেছিলেন। কিন্তু, শান্তিনিকেতনের শিল্পধারা নিয়ে এমন অভিযোগ তোলা মুশকিল।

আরেকদিকে, আদ্যন্ত পশ্চিমী ভাবনায় জারিত এক সদ্যতরুণী এসে বদলে দিলেন ভারতীয় শিল্পভাবনাকেই। তিনি অমৃতা শেরগিল। মা ইউরোপীয়, অমৃতার জন্ম ইউরোপে, এদেশে ছেলেবেলার কিছু দিন অতিবাহিত করা, আবার ইউরোপে ফেরা— মেয়েটি শেষমেশ দেশে ফিরে এলেন, স্রেফ ছবি আঁকবেন বলে, কেননা এদেশে না থাকলে তিনি নাকি ছবিই আঁকতে পারবেন না।

পাহাড়ের দৃশ্য — অমৃতা শেরগিল

একথা একটুও অতিকথন হবে না যদি বলি, অমৃতা শেরগিল ছাড়া ভারতীয় আধুনিক চিত্রের নির্মাণ ঠিক এমনভাবে এত দ্রুততার সঙ্গে হতে পারত না। হ্যাঁ, অমৃতা নিঃসন্দেহে পাশ্চাত্য অনুসারী। কিন্তু, তাঁর ছবি পশ্চিমের ছবি নয়— নিখাদ ভারতীয়। মাত্র আঠাশ বছর বেঁচেছিলেন তিনি। সময়-সুযোগ পেলে কখনও তাঁর জীবনী পড়ে দেখবেন— সে এক আশ্চর্য জীবন। কিন্তু, মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক।

চল্লিশের দশকে ইউরোপে বিশ্বযুদ্ধ, এদেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত বিকাশ, মন্বন্তর, দাঙ্গা, হানাহানি, শেষমেশ খণ্ডিত স্বাধীনতা প্রাপ্তি। সামান্য কয়েকটি বছরের মধ্যে এমন সামাজিক রদবদল দেশের ইতিহাসে বিরল। এদেশে উপরে শাসকের মুখ, ধর্ম, চামড়ার রং বদলালেও চিরন্তন সমাজজীবনের মূল সুর কোথাও একটা চলতেই থাকত। বদল এলেও, সে ধীর ও গ্র‍্যাজুয়াল। ইংরেজ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রভৃতি সিদ্ধান্তে আচমকা বদল এসেছিল অবশ্যই— কিন্তু, এইবার একটা ঝাঁকুনি এল বড়সড়, আচমকা।

এই বদলে যাওয়া সমাজজীবনকে ধরার জন্যে শিল্পভাবনা ও টেকনিকের বদলও অনিবার্য হয়ে উঠল। শুরুটা ক্যালকাটা পেইন্টার্স গ্রুপের হাত ধরে, কিন্তু বড় বদলের কৃতিত্ব দিতে হলে, সেটা বম্বে প্রগ্রেসিভ গ্রুপ— যাঁদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্রান্সিস নিউটন সুজা, সঙ্গে মকবুল ফিদা হুসেন। আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলার যাঁরা স্তম্ভস্বরূপ— তায়েব মেহতা, গাইতোন্ডে, সৈয়দ রাজা, আকবর পদমসি, রামকুমার প্রমুখ— এনারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও সময়ে এই গ্রুপের অংশ ছিলেন। এবং, সামগ্রিকভাবেই, এই গ্রুপের চিত্রভাবনার উপর অমৃতা শেরগিলের প্রভাব খুব স্পষ্ট।

ক্রুসিফিক্সন — ফ্রান্সিস নিউটন সুজা

অতএব, দেশীয় ঐতিহ্যের তথা দেশজ শিল্পের পুনরুদ্ধার এবং ইউরোপীয় দৃষ্টি নিয়ে দেশের জীবনকে আত্মস্থ করার প্রয়াস ও তদনুসারী চিত্রনির্মাণ— এই দুই আপাতবিরোধী পথে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার হাঁটা শুরু। সমকালীন ভারতীয় সমাজের পালাবদল এবং বিভিন্ন ঘটনার অভিঘাত নিয়েই তার বিকাশ। আধুনিক ভারতীয় ছবির উপরে ইউরোপীয় চিত্রভাবনা তথা ইউরোপীয় শিল্প-আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে নিঃসন্দেহে— কিন্তু, এ যে ভারতীয় ছবি, ভারতের মাটি তথা ভারতীয় ভাবনায় জারিত, একথা অনস্বীকার্য। স্রেফ ইউরোপীয় চিত্রের চোখে এই ছবি দেখতে গেলে ভুল করা হবে। রজার ফেডেরার বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো— দুজনেই খেলোয়াড়— কিন্তু, মিল শেষ ওইখানেই— দুজনের মধ্যে তুলনাটা হাস্যকর হয়ে যায়। দুজনের মধ্যে কার কাজটা বেশি কঠিন, বা কার অ্যাচিভমেন্ট বেশি— এই তুলনাও অবান্তর। মাতিস, নাকি হুসেন— শিল্পী হিসেবে কে বেশি উঁচুদরের, তুলনাটা অনুচিত।

হ্যাঁ, চারপাশের হইহট্টগোলের মধ্যে একান্তে বসে এঁকে চলেছিলেন যামিনী রায়। সে এক আশ্চর্য সাধনা। ইউরোপীয় ধারায় পোর্ট্রেট অঙ্কন থেকে শুরু করে ইমপ্রেশনিস্ট ধারায় ল্যান্ডস্কেপ-সিটিস্কেপ— তার থেকে বেরিয়ে এসে দেশের পটশিল্পকে আধুনিক আঙ্গিকে পেশ— এদেশের চিত্রশিল্পের ইতিহাস গুছিয়ে লিখতে হলে, যামিনী রায় একা-ই একটি সম্পূর্ণ চ্যাপ্টার।

কৃষ্ণ যশোদা — যামিনী রায়

এভাবে বারবার ভারতীয়, দেশজ ইত্যকার শব্দপ্রয়োগ, সম্ভবত, কনফিউজিং হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপারটা ঠিক কী। আমি বাঙালি, উনি পাঞ্জাবি, তিনি তামিল— কমন স্পেসটা অনুভব করার জায়গা কোথায়? পরাধীন দেশে সেই আইডেন্টিটি অনুভবের তাগিদ যতখানি থাকে, স্বাধীন দেশে প্রাদেশিক আইডেন্টিটির চাপে জাতীয় আইডেন্টিটি অনুভবের সুযোগ তেমন করে থাকে কি? দেশের আত্মা অনুভব করতে হলে, সেই অনুসন্ধানের শুরুটা কোথা থেকে হবে? দেশজ লোকশিল্প, যার মধ্যে লুকিয়ে আছে কয়েকশো বছরের এক জীবনযাত্রা, তথা শিল্পভাবনা? দেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা জীবনদর্শন, যাকে ধর্ম বলে দাগিয়ে দেওয়া হলেও, শেষমেশ যা নিখাদ জীবনদর্শনই?

পরাধীন দেশে জাতীয়তাবাদের প্রভাবে অবন ঠাকুর খুঁড়ে উদ্ধার করলেন দেশের ছবির আত্মাটিকে। কিন্তু, এইসময়ে বসে সে কাজ সেইভাবেই সেই প্রকরণেই সম্ভব কি? দেশ থেকে দূরে গেলে অবশ্য পরিচয়ে প্রদেশ হারিয়ে যায়, দেশটিই মুখ্য হয়ে ওঠে। অতএব, সৈয়দ হায়দার রাজা বা নীরদ মজুমদার— দেশের দর্শন অনুসারী শিল্পসৃষ্টি করতে থাকলেন প্যারিসে পৌঁছে। আবার এদিকে, গভীর বৌদ্ধ দর্শন আত্মস্থ করে, দেশে বসেই, সম্পূর্ণ নতুন ছবি আঁকলেন ভি এস গাইতোন্ডে। আবার, নিজস্ব প্রকরণে লোকশিল্পের আঙ্গিক মিলিয়ে আঁকতে থাকলেন মকবুল ফিদা হুসেন।

লেডি উইথ আ বীণা — মকবুল ফিদা হুসেন

একদম ঘরের পাশের সাম্প্রতিক উদাহরণ দিতে গেলে, যামিনী রায়ের দেখানো পথে হেঁটেই, কালীঘাটের পট-কে আধুনিক শিল্প হিসেবে গড়ে তুললেন লালুপ্রসাদ সাউ। অথবা, দেশের আল্পনাকে নিজের আঙ্গিকে পরিণত করলেন যোগেন চৌধুরী। বছরের পর বছর ধরে অজন্তার গুহাচিত্র নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের শেষে প্রকৃতির ছবিকে সম্পূর্ণ অন্য রূপ দিলেন গণেশ হালুই— যা মূর্ত নাকি বিমূর্ত এককথায় বলা মুশকিল।

না, গণেশ হালুই বা রামকুমার, কারও বিমূর্ত প্রকৃতিদৃশ্যের উৎস সন্ধানে বিদেশযাত্রার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশ, দেশের প্রাচীন দর্শন, সে হিন্দু বা বৌদ্ধ বা জৈন যার কথাই বলুন, ঈশ্বর তথা সত্যের বা মূল অভীষ্টের রূপ বিমূর্তই। বিমূর্ত শিল্পের বিকাশ এদেশে অপ্রত্যাশিত কি?

ছবি — গণেশ হালুই

দেশের মাটি থেকে দেশের ভাবনায় জারিত শিল্পসৃজনের পক্ষে সবচাইতে জোরগলায় বলেছিলেন জগদীশ স্বামীনাথন। স্পষ্টভাষায় বলেছিলেন, সুজা নিউ ইয়র্কের এক্সপ্রেশনিজম নিয়ে দেশের ছবি আঁকছেন, পদমসি বলছেন ফরাসি প্রকরণ আত্মস্থ করার কথা, সতীশ গুজরাল বলছেন মেক্সিকোর শিল্পভাবনাকে মাথায় রেখে কাজ করার কথা— কিন্তু, ভারতের ছবিকে উঠে আসতে হবে দেশের মাটি থেকেই, ছবিকে রসদ সংগ্রহ করতে হবে দেশের সমাজজীবন সমাজদর্শন থেকে, প্রকরণ নিতে হবে লোকশিল্প থেকে। নিজে শুরু করলেন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ছবি আঁকা, সেই পথ ধরে এগিয়ে গেলেন গুলাম মহম্মদ শেখ প্রমুখ। একেবারে লোকশিল্পীদের হাতে আধুনিক রং-ক্যানভাস ধরিয়ে তাঁদের সৃজনকে ফাইন আর্টের পরিসর তথা বাজারে স্থান দেওয়ার বড় কাজটিও স্বামীনাথনের।

লিলি বাই মাই উইন্ডো — জগদীশ স্বামীনাথন

নাঃ, কথা বলতে বলতে অনেকদূর চলে আসা হল। মোদ্দা কথা, এসবের কোনও কিছুই আপনার না জানলেও চলে। এমনকি, ছবিও না দেখলে চলে যায়, যেমন চলে যায় গান না শুনলেও বা কবিতা না পড়লেও। কিন্তু, সেক্ষেত্রে, পৃথিবীর মহৎ কিছু অনুভব, আশ্চর্য কিছু এক্সপিরিয়েন্স, আপনার নাগালের বাইরে রয়ে যায়।

দেখুনই না ছবি। একবার দেখার অভ্যেস করুন। এতক্ষণ ধরে যে কথাটা বলার চেষ্টা করলাম, আমাদের দেশের ছবির ধারা, আঙ্গিক, দর্শন— সবই পশ্চিমী চিত্রধারা থেকে আলাদা, অনেকখানিই আলাদা। মার্ক রথকো এবং ভি এস গাইতোন্ডে, বিশ্বাস করুন, দুজনেই খুব বড় মাপের শিল্পী। একজনকে মহিমান্বিত করতে আরেকজনকে ছোট করা নিষ্প্রয়োজন এবং দুজনের মধ্যে তুলনাও হয় না।

জানি মডার্ন আর্ট নিয়ে আপনার বিস্তর অভিযোগ। যেমন—

প্রথমত, এ ছবি দুর্বোধ্য। বিশ্বাস করুন, আধুনিক ছবি, তথা মডার্ন আর্ট, কিন্তু দুর্বোধ্য নয়। আগের সময়ের ছবি, যেমন ধরুন আপনি যাঁদের কথা বলেন সবসময়ই, সেই দ্য ভিঞ্চি বা মাইকেল্যাঞ্জেলোর ছবি বুঝতে হলে, ধরুন লাস্ট সাপার ছবির রহস্য উদঘাটন করতে হলে, আপনাকে জেনে নিতে হবে খ্রিস্টের জীবনের কাহিনী। মডার্ন আর্ট সেই অর্থে ব্যাগেজ-ফ্রি। মানে, ভ্যান গগের স্টারি নাইটস-এর ভিতরে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তি অনুভব করার জন্যে ছবিটাই যথেষ্ট— বাকি গল্প জানার প্রয়োজন নেই। গণেশ পাইনের ছবির আততায়ী আপনার আশেপাশেই ওঁত পেতে আছেন, নাকি আপনারই ভেতরে— ব্যাকগ্রাউন্ড রিসার্চ ছাড়াই অনুভবযোগ্য।

সে তো গেল বিষয়ের কথা। ছবির ফর্মের কথাও যদি বলি? সেও তো বোঝা কঠিন কিছু নয়। দেখুন, ছবির মধ্যে একটা ইল্যুশন তো আছেই। ত্রিমাত্রিক একটা দুনিয়াকে সমতলের দ্বিমাত্রিকতায় প্রকাশ। অতএব, গভীরতা বোঝাতে আলোছায়ার খেলা, কাছে-দূরে বোঝাতে ছোটবড় করে পার্সপেক্টিভের কারিকুরি। বাই দ্য ওয়ে, বলে রাখি, এইখানেও কিন্তু ভারতীয় ছবির সঙ্গে পশ্চিমী ছবির ফারাক রয়েছে। আমাদের চড়া রোদ্দুর-আলোর দেশের রং বনাম ওদের মেঘলা দিনের রঙের ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী আলাদা। আজকের কথা নয়, একেবারে সেই অজন্তার সময়েই শিল্পীরা এই নিয়ে সচেতন ছিলেন। গুহার কোন জায়গায় ঠিক কতখানি সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে, সব ভেবেচিন্তে হয়েছিল রঙের ব্যবহার। কিন্তু, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

কেমন হয়, যদি এই ইল্যুশনকে অতিক্রম করা যায়? একটা উদাহরণ দিই? ধরুন, একটি ঘনকাকৃতি বস্তু টেবিলে রাখা আছে। আপনি সামনের তলটি দেখতে পাচ্ছেন। পাশের আর উপরের তলের কিছুটা। মোট ছটি তলের বাকিগুলো আপনার দেখা হচ্ছে না। এইবার যদি চারপাশে ঘুরে দেখতে পারেন, তাহলে বাকি তলগুলো দেখা যায়।

এইবার ধরুন, এই ঘনকটি বেসিকালি একটা কাগজের বাক্স। বাক্সটা ভাঁজ খুলে ফ্ল্যাট করে আপনার সামনে মেঝেতে বিছিয়ে দেওয়া আছে। সহজেই সবকটি তল আপনার দৃষ্টিগোচর। ছবিতে যদি এইরকম করা যায়? কিউবিজমের ভাবনার শুরু এইখান থেকেই।

আর বিমূর্ত ছবি? আগেই বলেছি, অন্তত আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে বা দর্শনে বিমূর্তের ভাবনা কিছু দুর্লভ নয়। ছবি বিমূর্ত হলে আপত্তির কারণ কী? ধরুন, আপনারই কোনও খুব প্রিয় জায়গা, চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা কল্পনা করুন, পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট। কী দেখতে পেলেন? জায়গাটার ফটোগ্রাফিক ডিটেইলস? নাকি টুকরো টুকরো খণ্ডদৃশ্য এসে বারবার ভেঙে দিচ্ছে সেই মূল দৃশ্যকে? বিভূতিভূষণের গঙ্গাধরের বিপদ গল্পটা পড়েছেন? যেখানে শেষ দৃশ্যে ভূত প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার মনুষ্যাকৃতি ধরে রাখতে পারছে না? কেবলই টুকরো হয়ে, গুঁড়ো হয়ে ভেঙে মিলিয়ে যাচ্ছে? আপনার অনুধ্যানের দৃশ্যটি তেমন করেই ভেঙে যাচ্ছে না? আপনার ভাবনার প্রতি সৎ থাকতে চাইলে, এবং অবশ্যই শিল্পীর মেধা ও দক্ষতা আয়ত্তে থাকলে, আপনি কোন ছবিটা আঁকবেন? স্মৃতির অ্যালবাম থেকে আনা ফটোগ্রাফ, নাকি সেই ভেঙে মিলিয়ে যাওয়া বিমূর্ত মুহূর্ত? শিল্পী তো নিজেকে রাখঢাকহীন খুলে দিয়েছেন সামনের ক্যানভাসে। আপনি?

হ্যাঁ, নিজেকে এই রাখঢাকহীন খুলে দিতে পারাটাও, বা পারাটাই শিল্পীর দক্ষতা। শুধু ওই গাছটাকে সত্যিকারের গাছ মনে হচ্ছে কিনা, মানুষটাকে একেবারে সামনে বসে আছে এতটাই জীবন্ত মনে হচ্ছে কিনা— এই দিয়ে শিল্পীর দক্ষতার বিচার হয় না।

দ্বিতীয়ত, এ ছবি দেখে চোখের আরাম নেই। না, নেইই তো। ছবি তো বিনোদন বা ঘরসাজানোর হোম-ডেকর নয়। আশেপাশের জীবনের জটিলতা বা তার কদর্যতা ভুলিয়ে অতীতের অপ্সরীদের আবেদনময়ী দৃশ্যাবলি ফুটিয়ে তোলার দায় কবে থেকে শিল্পের উপর বর্তাল!!!

তাহলে, তিন নম্বর পয়েন্ট আপনার। শেষে কি মেনে নিতে হবে, এইসব ভুলভাল আঁকিবুঁকি গ্রেট আর্ট? দেখুন, আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে অতীত-শিক্ষা-প্রচলিত সামাজিক আচরণ সবকিছুর প্রভাব বড় গভীর। এই ব্যাগেজ আমাদের এতটাই গভীরে, যে এই ব্যাগেজটাকেই আমরা আমি বলে ভাবতে শুরু করি। কেমন হয়, যদি ফিরে যাওয়া যায় একেবারে শৈশবে আর আমাদের প্রাপ্তবয়স্ক দেখাটাকে প্রকাশ করতে পারি শিশুর ভাষায়? ফর্ম আর রঙের হাজারো পরীক্ষার শেষে পিকাসো ফিরেছিলেন রেখায়, স্রেফ একটি রেখা দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করার সাধনায়। তাঁর ভাষায়, তিনি শৈশব থেকে প্রায় মহৎ শিল্পীদের মতন আঁকার দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছিলেন— বাকি জীবন ধরে তিনি সাধনা করে গিয়েছেন শিশুর মতো আঁকতে পারার পর্যায়ে পৌঁছাতে। এই একই শিশুসুলভ সারল্যের গভীরতায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন পল ক্লী-ও। বাকিসব কিছু বর্জন করে শুধু একটি রঙের পাশে আর দুটি রঙের আয়তক্ষেত্র চাপিয়ে মনোজগতের কোন গভীরে পৌঁছাতে চাইলেন মার্ক রথকো, অভিমন্যুর মতো, যেখানে ঢোকার রাস্তা আবিষ্কার করে ফেরার পথটুকু আর খুঁজে পেলেন না? বিমূর্ত থেকে আরও বিমূর্ত হয়ে শেষমেশ কাগজে কালির জ্যামিতিক আঁচড়টুকু দিয়েই নিজের ভাবনা প্রকাশ করে চলেছেন গণেশ হালুই? রঙিন ছবি, জলরং বা তেলরঙে অসামান্য দক্ষতার পরেও স্রেফ সাদা কাগজে কালি বা প্যাস্টেল দিয়ে এক জটিল ও ত্যারছা চোখের মনোজগত নির্মাণ করে চলেন যোগেন চৌধুরী?

ছবি — যোগেন চৌধুরী

আপনি বলবেন, নাঃ, যা-ই বলুন, এইসবই স্রেফ বাজারের খেলা। মার্কেটিং হাইপ। একবার নাম করে গেলে, সেই শিল্পীর ভুলভাল আঁচড়ও লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হয়— কিন্তু, নতুন ছেলেমেয়েদের যত্ন নিয়ে করা অসামান্য কাজ কেউ নেড়েও দেখে না। কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। কেননা, আপনি যেটাকে ভুলভাল আঁচড় ভাবছেন, সেইগুলো ঠিক ভুলভাল নয়। অনেক চিন্তা, অনেক ভাবনা, অনেক সাধনার শেষে পরিণত শিল্পীর আঁচড় একটি সচেতন প্রয়াস। বিশ্বাস করুন, শিল্পীরা খুব খুঁতখুঁতে— এমনকি, বেশ কিছু আপনার আমার চোখে ভালো কাজও তাঁরা বাতিল করেন, স্রেফ তাঁরা ঠিক যেমন করে ভেবেছেন, তেমন করে প্রকাশ করতে পারেননি, এই হতাশায়। ব্যতিক্রম হয়ত আছেন, কিন্তু তাঁরা ব্যতিক্রম-ই। কাজেই, জীবদ্দশায় শিল্পী যে ছবির নীচে স্বাক্ষর করে প্রকাশ্যে আনেন, সেই কাজটি, আর কিছু না হোক, শিল্পীর চোখে কোনও না কোনওভাবে সফল।

আর, শেষের এই অভিযোগ যদি সত্যিসত্যিই মনের থেকে করে থাকেন— অভিযোগটার একটা অংশ তো সত্যি বটেই— নতুন প্রতিভা দাম পান না— তাহলে তার দায়িত্ব কি আপনারও নয়? বাজার না হয় পড়ে থাক প্রতিষ্ঠিত তথা নামীদামীদের নিয়ে— আপনি আর আমি তো নিশ্চয়ই পারি নতুনদের ছবি দেখতে, তাঁদের পিঠে হাতটুকু রেখে উৎসাহ দিতে। পারি না কি??

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1688 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

3 Comments

  1. খুবই তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। কিন্তু এতো খেটে কাদের ছবি বোঝাবেন? যারা না দেখেই, ‘ছবির কিছু বুঝিনা’ বলে চল যায়? আর্টগ্যালারির পাশ দিয়ে গেলেও গ্যালারিতে ঢুকে দেখার বিন্দুমাত্র যাদের আগ্রহ নেই, তাদের? সাধারণ তো ছেড়েই দিলাম, বহু নামকরা কবি সাহিত্যিক, গায়ক, নাট্যকার, অভিনেতা, পরিচালকদেরও দেখি একই রকম আগ্রহহীন। ছোটো খাটো শিল্পীদের নয়, নামকরা শিল্পীদের প্রদর্শনীও এরা দেখতে আসে না। একমাত্র ফিতে কাটতে আনলে আলাদা কথা। আমি বিস্তর লিখেছি আগে। তবে আপনার দৃষ্টির ব্যপকথা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করছে। চালুক এভাবে।

  2. খুবই তথ্যপূর্ণ ও সরস লেখা।ছত্রে ছত্রে বিষানিয় বৈদগ্ধ ।তবে ছবিগুলোর নিচে,শিল্পী ও ছবির নামের সাথে,মাধ্যমিক লিখে দিলে বোধহয় আরও ভাল হতো।

আপনার মতামত...