কাশ্মিরের ভারতভুক্তির ইতিহাস

সৌভিক ঘোষাল

 

দেশ থেকে ব্রিটিশদের চলে যাওয়াটা যখন নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়াল আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক, বহু রক্তাক্ত হিংসা দাঙ্গার পর্ব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল দেশভাগ হচ্ছেই। অবিভক্ত ভারত— ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় যে সমস্যাটি দেখা গেল সেটি হল দেশীয় রাজ্যগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা নিয়ে। প্রসঙ্গত বলা দরকার ব্রিটিশ শাসিত ভারতে দু’ধরনের অঞ্চল ছিল। এক ধরনের অঞ্চল ছিল, যেগুলি সরাসরি ব্রিটিশ সরকার নিজেরাই শাসন করত। দ্বিতীয় আরেক ধরনের অংশ ছিল যেগুলিকে বলা হত দেশীয় রাজ্য। সামন্ত রাজা বা জমিদাররা এই দেশীয় রাজ্যগুলি ব্রিটিশের অনুগত থেকে শাসন করত। এই রকম দেশীয় রাজ্যর সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক, সঠিক সংখ্যাটি কত তাই নিয়ে বিতর্ক আছে। এই পাঁচ শতাধিক দেশীয় রাজ্যের মধ্যে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ছিল আয়তনে খুবই ছোট। কয়েকটি ছিল মাঝারি আয়তনের। আবার কয়েকটি বড় বড় দেশীয় রাজ্য ছিল, যেগুলির আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল ইউরোপের কোনও দেশের প্রায় সমান; যেমন হায়দ্রাবাদ, যেমন কাশ্মির ইত্যাদি। ভারত এবং পাকিস্তান— দুটো আলাদা দেশে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে যাবার পরে দেশীয় রাজ্যগুলির কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিল। ব্রিটিশ ঘোষণা করল দেশীয় রাজ্যগুলি নিজেরা স্বাধীন থাকতে পারে, আবার ভারতে বা পাকিস্তানে যেখানে তাদের ইচ্ছা সেখানে যোগ দিতে পারে। নানা কারণেই বিশেষ করে ছোট ছোট দেশীয় রাজ্যগুলির পক্ষে স্বাধীন থাকা কার্যত অসম্ভব ছিল। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের রাষ্ট্রনায়করা চাইলেন দেশীয় রাজ্যগুলি যতটা সম্ভব নিজের দিকে টেনে আনতে। বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্য অবস্থানগতভাবে ছিল ভারতের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভারতে যোগ দিতে রাজি হল। প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত এবং পাকিস্তান দু’দেশের ভাবি রাষ্ট্রনায়করাই নিজেদের দিকে পেতে চেয়েছিলেন। ভারতের দিক থেকে এই দেশীয় রাজ্যগুলিকে নিজেদের দিকে টেনে আনার ব্যাপারে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। প্যাটেল এই কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে ছিলেন ধীমান আমলা ভি পি মেননের উপর। মেননের নির্ভরযোগ্য বইটি থেকেই দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ইতিহাসের নানা তথ্য আমরা পেয়ে থাকি। দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি প্রস্তাব হাজির করা হয়। সেই প্রস্তাবে বলা হয় দেশীয় রাজ্যগুলি যদি ভারতের কাছে তাদের প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ এবং বিদেশনীতি এই তিনটি বিষয় ছেড়ে দেয়, তাহলে বাকি বিষয়গুলো দেশীয় রাজন্যদের হাতে ছেড়ে রেখে তাদের শাসন করতে দিতে ভারতের কোনও আপত্তি নেই। অধিকাংশ দেশীয় রাজা এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।

কিন্তু এর মধ্যে আরেকটি জটিলতা দেখা যায়। সেই সময় ভারতের জনগণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত। তারা ব্রিটিশ ভারত থেকে যেমন মুক্তি চাইছে, তেমনি প্রবেশ করতে চাইছে এক আধুনিক রাষ্ট্রে। দেশীয় সামন্ত রাজাদের শাসনের নিগড় থেকে বেরিয়ে এক গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। এই আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা দেশীয় রাজন্যদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। এই জনপ্রিয়তাকে কংগ্রেস ভালোভাবেই কাজে লাগায় এবং শুধুমাত্র রাজন্য ভাতা পাবার শর্তে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। কয়েকটি দেশীয় রাজ্য খুব সহজে ভারতে যোগ দিতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে একটি ছিল ভূপাল, একটি ছিল ত্রিবাঙ্কুর এবং একটি ছিল যোধপুর। অবশ্য ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্টের আগেই এই তিনটি দেশীয় রাজ্যও ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

 

যে তিনটি দেশীয় রাজ্য ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়েও ভারত বা পাকিস্তান কোথাওই অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তার মধ্যে ছিল জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ এবং কাশ্মির। এর প্রত্যেকটি নিয়েই অল্পবিস্তর জটিলতা দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে কাশ্মিরের বিষয়টি।

জুনাগড় এবং হায়দ্রাবাদ যেন ঠিক কাশ্মিরের এক উল্টো পিঠে ছিল। জুনাগড় এবং হায়দ্রাবাদ এই দুটো রাজ্যের বেশিরভাগ নাগরিক ছিলেন হিন্দু, কিন্তু তাদের শাসকেরা ছিলেন মুসলমান। আর এর উল্টো দিকে কাশ্মিরের বেশিরভাগ জনগণ ছিলেন মুসলিম, কিন্তু সেখানকার রাজা ছিলেন হিন্দু হরি সিং। জুনাগড় এবং হায়দ্রাবাদ স্বাধীনতার পরে প্রথম দিকে ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের থেকেই দূরে থাকতে চেয়েছিল। জুনাগড়ে শেষপর্যন্ত ১৯৪৮-এর ২০ ফেব্রুয়ারি এক গণভোট হয় এবং ৯১ শতাংশ ভোটদাতা ভারতভুক্তির পক্ষে মত দেওয়ার পর সেটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

হায়দ্রাবাদের ভারতভুক্ত না হওয়ার বিষয়টা কংগ্রেসের যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ ছিল। তার একটি বিশেষ কারণ অতি অবশ্যই হায়দ্রাবাদের ভৌগোলিক অবস্থান। তখনকার দিনের হায়দ্রাবাদ নামক দেশীয় রাজ্যটি তেলেগু, কন্নড় এবং মারাঠি এই তিন ভাষাভাষী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এটি ভারতবর্ষের ঠিক মধ্যভাগে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের মধ্যে এটি প্রাচীর হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। হায়দ্রাবাদ ভারতভুক্ত না হলে ভারতের উত্তরাংশ এবং দক্ষিণাংশের মধ্যে স্বাভাবিক সংযোগ ব্যাহত হত মারাত্মকভাবে। সর্দার প্যাটেল থেকে শুরু করে কংগ্রেসের কোনও নেতৃত্ব এইটা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। হায়দ্রাবাদে তখন তিনটি পক্ষ ছিল খুব শক্তিশালী— কংগ্রেস সমর্থিত হায়দ্রাবাদ রাজ্য কংগ্রেস, নিজামের পক্ষ সমর্থনকারী ইত্তিহাদ উল মুসিলমীন এবং ভাগচাষি, ক্ষেতমজদুর ও গরীব চাষিদের মধ্যে বড় জোতদারদের জমি খাস করে বিলিবন্টনকারী কমিউনিস্টরা। দশ লক্ষ সদস্য সমন্বিত ইত্তিহাদ উল মুসিলমীনের সশস্ত্র বাহিনীর নাম ছিল রাজাকার এবং তাদের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। এদের কট্টর মুসলিম নেতা মহম্মদ আলি জিন্নার অনুগত কাসিম রাজভীর সিদ্ধান্তেই নিজাম মূলত পরিচালিত হতেন। হায়দ্রাবাদে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার শুরু হলে তারা দলে দলে পাশের মাদ্রাজ প্রদেশে চলে আসতে থাকেন ও সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী উদ্বাস্তু সমস্যার কথা জানিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি লেখেন। কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হবার পর জিন্নার মৃত্যুর দুদিনের মাথায় ভারত হায়দ্রাবাদে সেনা পাঠায় ১৯৪৮-এর ১৩ সেপ্টেম্বর এবং চারদিনের মধ্যেই হায়দ্রাবাদ ভারতের করায়ত্ত হয়।

 

দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হবার ক্ষেত্রে সবথেকে জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়াটি দেখা গিয়েছিল কাশ্মিরের ক্ষেত্রে। ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট ভারত যখন স্বাধীন হচ্ছে সেই সময় কাশ্মির একটি স্বাধীন অঞ্চল। মহারাজা হরি সিং সেখানকার শাসক। ভারত এবং পাকিস্তান এই দুই নতুন দেশের সঙ্গেই কাশ্মিরের সীমান্ত আছে এবং মহারাজা হরি সিং এই দুই দেশের কোনওটিতেই যোগ দিতে রাজি ছিলেন না, স্বাধীন শাসক হিসেবে থেকে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাশ্মির ভারতের অন্তর্ভুক্ত হল সেটা ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বুঝে নেওয়া খুব জরুরি। জম্মু কাশ্মির বলে যে রাজ্যেকে আমরা জানতাম উনিশ শতকের আগে সেটা কোন ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শাসন অঞ্চল ছিল না। উনিশ শতকে এসে জম্মু, কাশ্মির ও লাদাখ জুড়ে সেই রাজনৈতিক সংহতি এই অঞ্চলে নিয়ে আসেন জম্মু রাজপুতদের একটি বংশধারা। এরা উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে লাদাখ দখল করেন এবং চল্লিশের দশকে ব্রিটিশদের কাছ থেকে কাশ্মির উপত্যকা লাভ করেন। উনিশ শতকের শেষ দিকে এরা গিলকিটে ঢুকে পড়েন। এইভাবে আফগানিস্তান, চীনের শিনজিয়াং আর তিব্বতের সীমান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয় জম্মু-কাশ্মিরের সীমান্ত। আফগানদের একটা ছোট্ট এলাকা তাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে দূরে রাখে। এই সুনির্দিষ্ট অবস্থানের জন্য এই রাজ্যটি একটা বিরাট রণনৈতিক গুরুত্ব পেয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টের পর এই গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ তখন দুটি নতুন ডোমিনিয়ন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গেও কাশ্মিরের সীমান্ত গড়ে ওঠে। মুসলিম প্রধান এই জনসমষ্টিকে শাসন করছেন একজন হিন্দু রাজা, এই ব্যাপারটির সঙ্গে এই ভৌগোলিক রণনৈতিক ব্যাপারটি যুক্ত হয়ে কাশ্মিরের বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

 

মহারাজা হরি সিং সিংহাসনে বসে ছিলেন ১৯২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মুম্বাইয়ের রেসের মাঠে এবং তার নিজের রাজ্যের বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ বিশাল জঙ্গলগুলোতে শিকার করে তার বেশিরভাগ সময় কাটত। এই সময় কাশ্মির উপত্যাকায় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শেখ আবদুল্লা। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে পাশ করেন। তিনি কোনও সরকারি চাকরি পাননি, একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করতেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তার বাগ্মিতার জন্য তিনি তাঁর এলাকায় খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সেই সময় কাশ্মিরের মুসলিমরা সরকারি চাকরি সহ নানা ক্ষেত্রে যে বঞ্চনার শিকার হতেন, তাই নিয়ে তাদের ক্ষোভ বিক্ষোভ ভাষা পায় শেখ আবদুল্লার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ১৯৩১ সালে একটি মুসলিম প্রতিনিধি দলের সদস্য নির্বাচিত হন শেখ আবদুল্লা। এই দলটি আশা করেছিল মহারাজা হরি সিং-এর কাছে তারা তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। কিন্তু মহারাজের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তাদের দলের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং তাতে ১৫২১ জন মারা যান। এই ঘটনার ফলে উপত্যকায় শুরু হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এর ঠিক পরের বছর ১৯৩২ সালে মহারাজা হরি সিং-এর প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতাকে রূপ দেবার জন্য তৈরি হয় নিখিল জম্মু কাশ্মির মুসলিম অধিবেশন। এর দুই প্রধান নেতা ছিলেন শেখ আব্দুল্লাহ আর বিশিষ্ট আইনজীবী গুলাম আব্বাস। ১৯৩৮ সালে এই সংগঠনের নতুন নাম হয় ন্যাশনাল কনফারেন্স। শুধু নামকরণে যে বদল হয়েছিল তা নয়, আসলে এই সংগঠনটি চাইছিল শুধু মুসলিম আইডেন্টিটির বাইরে বেরিয়ে এসে একটি অসাম্প্রদায়িক ধরনের সংগঠন হয়ে উঠতে। হিন্দু এবং শিখদেরও সামন্ত রাজার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে সংগঠিত করতে। এই সময় শেখ আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং গভীর বন্ধুত্ব হয় জহরলাল নেহেরুর। দুজনেই হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি এবং সমাজতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের বন্ধুত্ব নিবিড় হয়েছিল। এই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে ন্যাশনাল কনফারেন্স আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অবশ্যই এই ঘনিষ্ঠতা ন্যাশনাল কনফারেন্সের বেশ কিছু মানুষজন মেনে নিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্বাসই এইটা মানতে পারেননি। তিনি এবং তার অনুগামীরা ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে কাশ্মিরী মুসলমানদের নিয়ে আলাদা নতুন দল করতে চাইলেন আর শেখ আবদুল্লা ন্যাশনাল কনফারেন্স হিন্দু মুসলিম এবং শিখ ধর্মের মানুষের একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে এগিয়ে চলতে চাইল। ভূমি সংস্কারের মত প্রগতিশীল বিষয় হল তাদের অন্যতম অ্যাজেন্ডা।

শেখ আবদুল্লা

শেখ আবদুল্লা ও ন্যাশানাল কনফারেন্স রাজা হরি সিং-এর শাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মির উপত্যকায় খুব জনপ্রিয় কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। শেখ আবদুল্লাকে বেশ কয়েকবার জেল খাটতে হয়। শেখ আবদুল্লার নেতৃত্বে ন্যাশানাল কনফারেন্স হরি সিং প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট দাবিতে জানায় যে, রাজা যেন কাশ্মিরের জনগণের হাতে সমস্ত ক্ষমতা তুলে দেন। এই কথা বলার পর শেখ আবদুল্লাকে আবার জেলে বন্দি করা হয় এবং এর ফলে উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যায়। দাঙ্গাহাঙ্গামায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কাশ্মিরে সামরিক আইন ঘোষণা করেন রাজা হরি সিং। রাজদ্রোহের অপরাধে আবদুল্লাকে তিন বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জহরলাল নেহেরু শেখ আবদুল্লার পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাশ্মিরে আসতে চান, কিন্তু মহারাজা হরি সিং-এর লোকেরা কাশ্মিরের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে তাঁকে সীমান্তেই আটকে দেয়।

নেহেরু ও শেখ আবদুল্লা

 

এই সময় এটা স্পষ্ট হয়ে যায় ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মহারাজা হরি সিং এবং তার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্র কাক সিদ্ধান্ত নেন তারা ভারত পাকিস্তান কোনও ডোমিনিয়নের সঙ্গেই যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে থাকবেন। ১৯৪৬ সালের ১৫ জুলাই মহারাজা হরি সিং ঘোষণা করেন তারা তাদের নিজেদের গন্তব্য নিজেরাই ঠিক করে নেবেন। যারা এ রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নন, এমন কারও কাছ থেকেই কোনও নির্দেশ তারা নেবেন না। মহারাজা হরি সিং কংগ্রেসকে একেবারেই পছন্দ করতেন না এবং সেজন্যই ভারতের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা তিনি তখন ভাবেননি। অন্যদিকে পাকিস্তানে যোগ দিলে তার হিন্দু রাজবংশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে এই আশঙ্কাও তার ছিল। সেজন্য পাকিস্তানেও তিনি যোগ দিতে চাননি। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে নতুন বড়লাট হয়ে আসেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন, যিনি ছিলেন মহারাজা হরি সিং-এর অনেক দিনের পুরনো বন্ধু। মাউন্টব্যাটেন কাশ্মিরে যান এবং তার কাশ্মির ভ্রমণের সময় তিনি মহারাজা হরি সিং এবং প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্র কাককে খুব সুনির্দিষ্টভাবে বলেন কাশ্মির ভারত বা পাকিস্তান যেটাতে খুশি যোগ দিক, কিন্তু কোথাও যেন অবশ্যই যোগ দেয়। হরি সিং-এর প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্র কাক অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারা স্বাধীন থাকতে চান। এরপর মহাত্মা গান্ধি কাশ্মিরে যান এবং হরি সিং-এর সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তিন দিন সেখানে থাকেন। হরি সিং-এর অনুরোধে এই তিনদিন তিনি কোনও জনসভায় ভাষণ দেননি। তবে শ্রমিক আর ছাত্র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেন। তারা শেখ আবদুল্লার কারামুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্র কাককে বরখাস্ত করার দাবি জানালেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট জম্মু কাশ্মির ভারত পাকিস্তান কোনওটিতেই যোগ দেয়নি। হরি সিং চাইলেন ভারত পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই একটা স্থিতাবস্থা চুক্তি করতে। সেই চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের এপার ওপারে মানুষজন মালপত্র অবাধে চলাচল করতে পারবে। পাকিস্তান সে চুক্তি সই করল, কিন্তু ভারত অবস্থা আরও কিছুটা বুঝে নিতে চেয়ে সেই চুক্তিতে তখন সই করেনি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পশ্চিম পাঞ্জাবের শিয়ালকোট আর জম্মুর মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। কাশ্মির রাজ্যের জন্য মালপত্র নিয়ে আসা গাড়িগুলি সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের দিকে আটকে দেওয়া হল। কাশ্মির ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ক্রমশ কমতে থাকল। হরি সিং রামচন্দ্র কাককে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাব হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারক মেহের চাঁদ মহাজনের সঙ্গে কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের, বিশেষ করে নেহরু এবং বল্লভভাই প্যাটেলের সম্পর্ক ছিল খুব ভালো। এটা কাশ্মিরের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ করার একটা রাস্তা তৈরি করে।

শেখ আবদুল্লা ও বক্সী গুলাম মহম্মদের সঙ্গে সর্দার প্যাটেল

 

১৯৪৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নেহরু প্যাটেলকে কাশ্মির রাজ্যের বিপজ্জনক, উত্তরোত্তর খারাপ হতে থাকা অবস্থা নিয়ে একটা লম্বা চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন পাকিস্তান কাশ্মিরে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে দেবার জন্য তৈরি হচ্ছে। মহারাজা হরি সিং ও তার প্রশাসন কখনওই নিজেরা নিজেদের শক্তি দিয়ে এই বিপদের মোকাবিলা করতে পারবেন না। নেহরু মনে করেন হরি সিং-এর উচিত ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে হাত মেলানো এবং শেখ আবদুল্লার সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানের আগ্রাসনের বিরোধিতা করা। এরপর শেখ আবদুল্লাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর পরের সপ্তাহে হজরতবাল মসজিদ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় শেখ আবদুল্লা দাবি করেন কাশ্মিরের জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক। গণতান্ত্রিক কাশ্মিরের জনপ্রতিনিধিরাই এরপর সিদ্ধান্ত নেবেন কাশ্মির রাজ্য ভারত না পাকিস্তান কার সঙ্গে যোগ দেবে। তিনি আরও বলেন কাশ্মিরের জনগণের এই সরকার কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের সরকার হবে না। তা হবে শিখ, হিন্দু আর মুসলমানদের এক যৌথ সরকার এবং সেখানে এক সম্প্রীতির পরিবেশ থাকবে, যে সম্প্রীতির জন্যই ন্যাশনাল কনফারেন্স দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। এর বিপরীতে জম্মুতে সেইসময় এক ভয়ঙ্কর মুসলিম গণহত্যার ঘটনা ঘটে, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

কাশ্মিরের অবিসংবাদী নেতা শেখ আবদুল্লা, একটি জনসভায়

মহারাজা হরি সিং তখন অবধি নিজের স্বাধীনতার স্বপ্নে মশগুল ছিলেন। ১৯৪৭-এর ১২ই অক্টোবর জম্মু-কাশ্মিরের উপ-প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে আসেন এবং বলেন আমরা ভারত আর পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই। এই বিষয় নিয়ে নানারকম গুজব শোনা যাচ্ছে বটে, কিন্তু ভারত পাকিস্তান কোনও দেশেই যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। একমাত্র একটা ক্ষেত্রেই আমাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে। যদি কোনও একটা পক্ষ আমাদের ওপর বলপ্রয়োগ করে। তিনি জানান মহারাজা হরি সিং বলেছেন, তার ইচ্ছা হল কাশ্মির হোক প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড; এমন এক রাজ্য যা একেবারে নিরপেক্ষ।

 

যদি কোনও একটা পক্ষ আমাদের ওপর বলপ্রয়োগ করে তবেই একমাত্র পরিস্থিতি বদলাবে— এই কথা বলার দু সপ্তাহের মধ্যে কয়েক হাজার লোকের এক সশস্ত্র বাহিনী উত্তর দিক থেকে কাশ্মির রাজ্যকে আক্রমণ করে। যে সীমান্ত রেখা উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত রাজ্যসমূহকে কাশ্মির থেকে আলাদা করেছে ২২শে অক্টোবর তা পার হয়ে হানাদারেরা দ্রুত গতিতে শ্রীনগরের দিকে এগিয়ে চলে। এদের বেশিরভাগই ছিল পাঠান। তখন তারা পাকিস্তানের এক অঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা। তারা কেন এসেছিল আর কারা তাদের সাহায্য করেছিল এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন পাকিস্তান ওই উপজাতীয় লোকদের সীমান্তের ওপার থেকে এপারে পাঠিয়ে দিয়েছিল। পাকিস্তানই তাদের বন্দুক আর রসদ জুগিয়ে ছিল। পাকিস্তান অবশ্য এ ব্যাপারে তাদের কোনওরকম সংস্রবের কথা অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল এটা পাঠান মুসলিমদের এক স্বতঃস্ফুর্ত অভিযান। হিন্দু রাজা এবং হিন্দু প্রশাসনের অধীনে মুসলিমদের নিধন ও অত্যাচার সইতে না পেরে তারা ওদের সাহায্যার্থে ছুটে এসেছিল। জম্মুতে ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যা নিয়ে স্বধর্মীদের প্রবল ক্ষোভ ছিলই। সেইসঙ্গে পুঞ্চ জেলা, যেটি শ্রীনগরের পশ্চিমে অবস্থিত ছিল, সেখানেও কিছু অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। পুঞ্চ শাসন করত ডোগরা রাজবংশের একটি শাখা গোষ্ঠী। ১৯৩৬ সালে পুঞ্চ সরাসরি শ্রীনগরের অধীনে চলে আসে। এর ফলে তারা আঘাত পায়। তার ওপর তাদের উপর নতুন নতুন কর বসানো হল। প্রতিটি ছাগল ভেড়া গবাদিপশু জঙ্গলে প্রবেশ করলেই তার জন্য আলাদা করে কর দিতে হত। যে রাখালরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা প্রায় সকলেই ছিল মুসলমান। পুঞ্চের মানুষদের ক্ষোভ মহারাজা হরি সিং-এর দিকে অনেকদিন থেকেই উদ্যত ছিল। সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকেই এখানকার অনেক লোক পাকিস্তানের নানান অপ্রাতিষ্ঠানিক সূত্র থেকে পাওয়া রাইফেল দিয়ে নিজেদের সজ্জিত করে ফেলে। তারা পাকিস্তানের অন্তর্গত মুড়ি শহরে একটা ঘর তৈরি করে। অস্ত্র-গোলাবারুদ এইখানেই মজুত হত, তারপর সীমান্তের ওপারে কাশ্মিরে চালান হয়ে যেত। ১৯৪৭-এর সেপ্টেম্বর থেকে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের গুরুতর সংঘর্ষের খবর আসতে থাকে।

 

পাঠান হানাদাররা ১৯৪৭-এর ২২ অক্টোবর সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ার পর দক্ষিণ দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে আসে। কাশ্মিরে ঢুকে পড়ার পর উপজাতীয়রা ঝিলাম উপত্যাকা ধরে নেমে এসে প্রথমে থামে মুজাফফরাবাদ শহরে। এটি ছিল সীমান্ত থেকে মাত্র সাত মাইল দূরে। গঙ্গার ধারে অবস্থিত জম্মু-কাশ্মির গোলন্দাজ বাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ান সেখানে হাজির হয় কিন্তু তারা নিজেরাই বিভক্ত হয়ে যায়। তাদের অর্ধেক, যারা মুসলমান ছিল, তারা মহারাজা সম্পর্কে তাদের মোহমুক্তি ব্যক্ত করে এবং এর ফলে এই সেনাঘাঁটির পতন হয়। তবে কয়েক জন সৈন্য পালিয়ে গিয়ে শ্রীনগরে ফোন করে গোটা ঘটনা জানিয়ে দিতে পারে। সেই খবর পেয়ে কাশ্মিরের সেনাবাহিনীর নিবার্হী কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার রাজিন্দার সিং উরি শহরের দিকে সৈন্য নিয়ে এগিয়ে যান। শ্রীনগর আর মুজাফফরাবাদের মাঝামাঝি ছিল এর অবস্থান। পাঠান হানাদাররা উরি দখল করে। উরি পেরিয়ে তারা রওনা হয় মাহুতার দিকে। এই মাহুতাতেই ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। সেখানে পৌঁছে সরবরাহ ব্যবস্থার সুইচগুলো তারা বন্ধ করে দেয় এবং গোটা শ্রীনগর অন্ধকারে ডুবে যায়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করে নেয়ার পর খোলা রাস্তা ধরে তারা এগোতে থাকে শ্রীনগরের দিকে। প্রথমে পরে বারমুলা শহর। এখানে এসে তারা ব্যাপক লুটপাট করে। বেশ কিছু লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়। হিন্দুদের দোকানপাট পুড়িয়ে দেয় হানাদার পাঠানরা।

 

পাঠান হানাদাররা যখন বারমুলার দিকে এগিয়ে চলেছে তখন ২৪ অক্টোবর মহারাজা হরি সিং ভারত সরকারের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়ে একটি জরুরি বার্তা পাঠান। পরদিন সকালে নয়াদিল্লিতে ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা কমিটির অধিবেশন বসে। ঠিক হয় ভি পি মেনন গিয়ে সরেজমিনে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আসবেন। ওই দিনই মেনন চলে যান শ্রীনগর। বিমানবন্দরের চারপাশের কবরখানা সদৃশ্য স্তব্ধতা তাকে পীড়িত করে। তিনি মহারাজের সঙ্গে দেখা করে তাকে জম্মুতে নিরাপদ স্থানে চলে যাবার পরামর্শ দেন। ২৬ তারিখ সকালে মেনন দিল্লিতে ফিরে আসেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী। আবার প্রতিরক্ষা কমিটির অধিবেশন বসে। সেখানে নেহরু ছাড়াও মাউন্টব্যাটেন, প্যাটেল এবং শেখ আবদুল্লা উপস্থিত ছিলেন। কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী এবং শেখ আবদুল্লা দুজনেই বিশেষ জোর দিয়ে বলেন ভারত যেন অবিলম্বে সেনা পাঠিয়ে হানাদারদের হটিয়ে দেয়। এই সময় মাউন্টব্যাটেন পরামর্শ দেন সেনা পাঠানোর কথা দেওয়ার আগে ভারতের উচিত হরি সিং-এর ভারতভুক্তির ব্যাপারটা সুনিশ্চিত করে নেওয়া। মেনন এবার চলে যান জম্মুতে, যেখানে মহারাজা হরি সিং আশ্রয় নিয়েছিলেন। হরি সিং ভারতে যোগ দিতে রাজি হয়ে গেলেন। তার সই করা অঙ্গীকরণ দলিল সঙ্গে নিয়ে মেনন দিল্লি ফিরে এলেন।

 

১০

২৭ তারিখ ভোরবেলা থেকে প্রচুর সৈন্যসামন্ত, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একের পর এক সামরিক এমনকি অসামরিক বিমান দিল্লি থেকে শ্রীনগরের দিকে উড়ে গেল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে হানাদারদের লড়াই শুরু হল এবং শ্রীনগরকে হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা করার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও এগিয়ে যেতে সমর্থ হল। কদিন পরে যুদ্ধবিরতি হয় এবং কাশ্মির ভারতের অঙ্গীভূত হয়।

(আগামী পর্বে থাকছে ভারতভুক্ত কাশ্মিরের ইতিহাস)

 

তথ্যসূত্র –

  1. Menon, V.P – The story of the integration of the Indian States
  2. Christopher Snedden – Kashmir: The Unwritten History
  3. India after Gandhi – Ramchandra Guha
  4. A.G. Noorani – The Kashmir Dispute 1947-2012

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1808 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

1 Comment

আপনার মতামত...