চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

মুর্শিদ

 

মেঘ নেমে পড়ল আবার।
সুন্দর ও ভয় পাশাপাশি –
আমাদের সম্পর্কমতন!
বিলাসিতা মেখে ঘুম পেলে,
তুমি ঝুঁটি ধরে টান মেরে খালপাড়ে আন!
বুঝি, শুয়োর ও মানুষ খাচ্ছে একপাতে।
খুঁজি, জবুথবু মুখ আর অপার নির্ধন!
আমার অপরূপ ময়লা হয়ে যায়।
আমার রহস্য নষ্ট হয়ে যায়।
মেঘ নামছে, সঙ্গে ময়ূর!
আমার শরীরে আজ তোমারই সহস্র চোখ,
বসে গেছে…
দেখি, যেমন দেখাও

 

সবরকমের লেখা থেমেছে এবার!
রাগ। দুর্দশা। আক্রোশ। কন্যাদের কথা।
বলতে বলতে, অক্ষরজ্ঞানও লোপ পেল।
গন্ধ পাচ্ছি ,
তুমি দরজা খুললে।
উপুড়, পিঠের মধ্যে কিছু চুমু, কিছু আলোচালে,
শ্রী বানালে।
মা সরস্বতী নেমেছেন!
আজ আমার  হাতেখড়ি।
কাল তুমি বই কিনে দেবে

 

তোমার নখ বেয়ে একটা স্ত্রী-পিঁপড়ে চললেও চোখ লালচে হয় আমার।
তুমি তখন সারিপুত্রের কথা বল।
পূর্ণতা শূন্যতার ম্যাজিক।
বল,শান্ত হয়ে থাকুন!
তারপর তোমার ফেলে-আসা প্রহর। তোমার ছেড়ে-যাওয়া জলবাতাস।
ওরা উঠেপড়ে লাগে আমাকে নিয়ে।
হিংস্র চারপাশে আলো ভরতে শেখায়!
কান করি না।
বরং,এই পথ বরাবর তুমি হেঁটে গেছ বলে, চমৎকার
কাঁটা দিচ্ছে গায়ে।
কী চাও, তুমি চাইছ কী শুনি,
ভরসকালের এই খাঁ-খাঁ মন লাগিয়ে,
তোলা উনুনে,
পায়েস রাঁধতে বসব তোমার জন্য?

 

8

মুখোমুখি বসে আছি।
কাপের কফিতে সর পড়ে গেছে কতক্ষণ হল!
আমাদের প্রেম ও ডেটিং তারও অনেকক্ষণ আগে পুড়ে গেছে। বনের আগুনে।
দাউদাউ মন জ্বলছে।
বাজার, ফুর্তি জ্বলছে।
নশ্বরতা, কান-এঁটো-করা হাসি হেসে নিচ্ছে।
কামনা-বাসনা উড়ছে ছাই হয়ে
মুক্তিসমীপে।
তুমি আসোইনি।
এইসব কথা স্রেফ চুরি-করা-বিদ্যা আমার,
তোমার চেম্বার থেকে।
আমি, মুখোমুখি বসেছি নিজের আর
মরে যাচ্ছি!
উঁহু, শেষের মুহূর্ত কিছু নেই…
বলেছিলে

 

আমি টের পাই।
আমি ঠিক টের পাই।
তোমার আঙুল, আমার আঙুলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
কিন্তু, এবার তো চলে যেতে হবে!
তাই আকাশের গায়ে
জানলা দরজা ফুটিয়েছি

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1866 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...