বেসাতি

দেবদ্যুতি রায়

 

এখান থেকে মৌসুমী আক্তারের খাবারের দোকানটা বেশ ভালো করেই দেখা যায়। এখান থেকে মানে এই বর্ডার এলাকার একমাত্র দর্শনীয় বস্তু সাদা রঙের টয়লেট টাইলসে তৈরি বিশালাকার ‘শূন্য’টার ধুলোমলিন বেদি থেকে। এই শূন্য অর্থাৎ জিরোটা বানানো হয়েছে এখান থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শূন্য কিলোমিটার দূরত্ব বোঝাতে। লম্বাটে আকারের ইংরেজি ধাঁচের জিরো আর নিচের বেদির মাঝখানে চৌকো ফলকে কোনওকালে জ্বলজ্বল করত এটার উদ্বোধনকারী তৎকালীন জেলা প্রশাসক আর অনুদানদাতাদের নাম— এখন ধুলো ময়লা আর সংস্কারের অভাবে তার সেই জ্বলজ্বলে ভাবটা নেই, নামগুলো অবশ্য এখনও পড়া যায় ভালোভাবেই। তো এহেন শূন্যাকৃতি স্থাপত্যের বেদি থেকে মৌসুমী আক্তারের দোকানটা খুব চমৎকার দেখা যায়— শুধু দোকান নয়, দোকানে ঢোকার মুখে যে চেয়ার-টেবিলটায় বসে মৌসুমী আক্তার দোকানের তদারকি আর টাকাপয়সার হিসাব রাখে, সেই টেবিলটা দেখার জন্যও এটা আশেপাশের সবচাইতে মোক্ষম জায়গা। সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাই এই বেদিতে পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে কিংবা উদাসভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এ তল্লাটের প্রচুর বেকার ছেলেপেলেদের।

মৌসুমী আক্তারের দোকান খোলে কাঁটায় কাঁটায় সকাল দশটায় আর বন্ধ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়। কখনও সখনও বিশেষ কাজে যে দেরি হয় না তা নয়, এই যেমন বর্ডারে কোনও সরকারি অনুষ্ঠান থাকলে তার দোকানেই খাবারের অর্ডার আসে, তখন তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটু সকাল সকাল আসতে হয় বা দেরিতে বন্ধ করতে হয় দোকানটা। তো মৌসুমী আক্তারের দোকান চলাকালে শুধু বেকার তরুণরাই নয়, ছোটখাটো চাকরি করা স্থানীয় তরুণ-যুবকরাও যে মাঝেমধ্যে অফিসের পর বর্ডার ঘুরে যাবার নাম করে ঢুঁ মারে না তা নয়। আর এসব ছেলেপেলের একটু বা বেশি বয়স্ক বাপ-চাচাদেরও যে মাঝেমধ্যে এখানে আসতে ইচ্ছে করে না তা নয় কিন্তু তারা নেহাত ছেলে-ভাতিজাদের সামনে পড়ার লজ্জায় সে কাজ করে না।

ফুল পাতা আর পাখির নকশা করা মেহগনি কাঠের ঝকঝকে টেবিলটার সঙ্গে জেলার অটবির শোরুম থেকে কেনা কালো আরামদায়ক চেয়ারটায় বসে কাজ করার সময় মৌসুমীর নজর এড়ায় না কিছু। টালি খাতাটায় হিসাব তোলার সময় কিংবা অতিথিদের সঙ্গে হেসে হেসে কুশল বিনিময় করার সময় কিংবা দোকানলাগোয়া রান্নাঘরে এখানকার একমাত্র রাঁধুনি ও পরিবেশনকারী আছিয়ার কাজ তদারকি করার সময় দোকানের বাইরের রাস্তায় পাথর বহনকারী ইন্ডিয়ান ট্রাকগুলোর চালক আর হেলপার, পথচারী, সামনে খোলা ঘরটায় অলস বসে থাকা বিডিআর সদস্য আর বেদির ওপর বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা নানান চেহারার মানুষগুলোর আঠালো তেলতেলে চোখগুলো ঠিকই টের পায় মৌসুমী আক্তার। টের পায় অতিথিদের মধ্যে কারও কারও কৌতূহলী দৃষ্টির বাড়তি আগ্রহও। মৃদু হেসে নিজের ফ্রন্ট লেয়ার কাট চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করার ফাঁকে মৌসুমী এই সব দৃষ্টি এড়িয়ে চলে ঠিকঠাক।

মৌসুমী আক্তারের নাম যে মৌসুমী আক্তার নয় বরং এসমোতারা বা ইসমত আরা বা ছোট করে ‘এসমো’ এ কথাটা সে নিজে যতটা না ভুলতে চায় তার চেয়ে বেশি করে ভুলতে চায় এই দোকানের দিকে তাকিয়ে থাকা অজস্র চোখের মানুষগুলোর মধ্যে যারা এ ঘটনা জানে তারা। বাঁশের চাটাইয়ের নকশাদার বেড়ায় ঘেরা দোকানটার সামনের দিকে জ্বলজ্বলে অক্ষরে লেখা ‘মৌসুমী’জ কিচেন’ নামটার মতোই তারাও মনেপ্রাণে মৌসুমী নামটাকে আঁকড়ে ধরতে চায়। এই দোকানের কালো দামি চেয়ারটায় বসা ফ্রন্ট লেয়ার কাট চুলের, দুধে আলতা মেশানো গায়ের রঙের ক্ষীণাঙ্গী লাস্যময়ী তরুণীর নাম এসমোতারা, ইসমত আরা কিংবা এসমো মানায় না কিছুতেই; বরং এই অপরূপার নাম হিসেবে মৌসুমী আক্তারই উপযুক্ত। দেশের অপূর্ব সুন্দরী চিত্রনায়িকা যখন প্রথম সিনেমায় কাজ করতে আসেন, তার সেই সময়কার চেহারার সঙ্গে আমাদের গল্পের মৌসুমী আক্তারের অনেক মিল আছে বৈকি।

মৌসুমী’জ কিচেনে পাওয়া যায় প্রায় সব সময়ের খাবার। সকাল থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত পরোটা আর রুটি থাকে, সঙ্গে সবজি, ডাল, ডিমভাজি— যার যেমন পছন্দ। বারোটার পর থেকে চারটা পর্যন্ত মুরগি, সবজি আর ডাল দিয়ে ভাত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চা আর কফি থাকবেই। বিকেলের এক ঘণ্টায় শুধুই চা আর কফি, সঙ্গে কেউ চাইলে প্যাটিস। সারাদিন মানুষজন ভারত-বাংলাদেশ যাওয়া আসা করে, তাছাড়া সীমান্ত দেখতে প্রতিদিন কিছু না কিছু মানুষ আসবেই। মৌসুমী আক্তারের দোকানের প্রধান ‘কাস্টমার’ তারাই। সীমান্ত এলাকার দিনমজুর, অন্যান্য দোকানদার আর ইজিবাইক বা ভ্যানচালকদের বড় একটা দেখা যায় না এখানে। কারণ আর কিছুই না, মৌসুমী আক্তার যে তাদের পছন্দ করে না— আছিয়া আর ইসমাইল এ কথা সাড়ম্বরে প্রচার করে বেড়ায়। পাশের গ্রামের এগারো বারো বছরের ইসমাইল আছিয়ার সাহায্যকারী। টুকটাক বাজার সদাই, কাটাকুটা আর পাশের ইমিগ্রেশন অফিসের বাইরের টিউবওয়েল থেকে রান্নার পানি বয়ে আনা ওর কাজ।

সেদিন মৌসুমী’জ কিচেনের সামনে দেখা যায় উজানপাড়ার লুৎফরকে, আবারও। ছোটখাটো রোগাপাতলা চেহারার লুৎফর কদিন ধরেই মৌসুমী আক্তারের দোকানে আসছে। সেদিনও লুৎফর দোকানের সামনে নিজের বহু পুরনো জায়গায় জায়গায় জং ধরা ‘ফনিক্স’ সাইকেলটা থেকে নেমে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত হয়ে নেয় যে ভেতরে কেউ নেই। তারপর ভেতরে ঢুকে পলিথিনে মোড়ানো ভাঁজ করা কাগজের প্যাকেটটা মৌসুমী আক্তারের কারুকাজ করা মেহগনি কাঠের টেবিলটার ওপরে রাখে। মৌসুমী আক্তার তার বারগেন্ডি রঙের ফ্রন্ট লেয়ার কাট চুলে অপূর্ব সুন্দর একটা ঝাঁকুনি তুলে উদাস ভঙ্গিতে চকিতেই একটু চারদিকে জরিপ করে নেয়। না, সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়ছে না। কাগজের প্যাকেটটা নিজের হাতব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে সামনে দাঁড়ানো লুৎফরকে বলে—

–কাগজগুলা আমি দ্যাখব লুৎফর ভাই। আর সব ঠিক থাকলে সামনের সোমবার আবার যাব। আপনি কাইলকা একটু আইসেন আবার।

মৌসুমী আক্তার যে এমন প্রায় `ভদ্র’ ভাষায় কথা বলে তা জানে আশেপাশের সবাই, মানে যারা তাকে চেনে। এসমোতারা এই ভাষায় কথা বলতে জানত না। তবে ঠিক এই মুহূর্তে লুৎফর মোটেও মৌসুমী আক্তার কিংবা এসমোতারার ভাষা নিয়ে ভাবিত নয়, বরং দোকান মালিকের শেষ কথাটায় তার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে ওঠে। লুৎফরকে লোকে যতই সাদাসিধা আর বোকা বলুক, কালকে আসতে বলার অর্থ যে এখন চলে যেতে বলা এটা সে ঠিকই বোঝে। ওর মন হাহাকার করে ওঠে, আজ এখানে বসে এক গ্লাস চা খেয়ে যেতে বড্ড ইচ্ছে হয়েছিল ওর! কিন্তু লুৎফর জানে মৌসুমী আক্তারের কথার ওপর কোনও কথা চলে না, অন্তত এ সময়ে তো নয়ই। তাই সে কথার উত্তরে একবার মাথা নেড়ে বাইরে এসে সে সাইকেলের প্যাডেলে পা রাখে।

লুৎফর কেন এমন বাধ্যগত ভাব নিয়ে মৌসুমী’জ কিচেন থেকে বের হয় আর কেনই বা আজকাল তাকে এ দোকানে আসতে দেখা যায় তা জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে বছর কুড়ি আগে। সেই সময়কার ইতিহাস জানতে হবে যখন এসমোতারা কিংবা ইসমত আরা কিংবা ছোট করে বললে এসমো আজকের মৌসুমী আক্তার হয়ে ওঠেনি।

আনুমানিক কুড়ি বছর আগে এসমোতারা পড়ত ক্লাস সেভেনে, সেটা ছিয়ানব্বই না নিরানব্বই সাল তা এখন আর মনে নেই ওর, মনে নেই ওকে যারা চেনে তাদের কারও। শুধু মনে আছে দুধে আলতা রঙের ছিপছিপে শরীরখানির ওপর একটু লম্বাটে ছাঁটের মুখটা দেখতে ভীষণ মনোহর ছিল। এসমোতারার মতোই সুন্দর দেখতে ছিল তার মা মঞ্জিলা। কিন্তু তবু যে তার বাপ রিকশাচালক এনসান আলী তাদের মা মেয়েকে দেখতে পারত না তা ঐটুকু বয়সেও বেশ বুঝতে পারত সে। কথায় কথায় বাপের হাতে মায়ের মার খাওয়াটা ছিল ডালভাত। যেকোনও কারণে মঞ্জিলার ওপর এনসানের মার শুরু হত আর প্রত্যেকদিন তা গিয়ে শেষ হত মরা ছেলের জন্য দোষারোপে।

–মাগি, মোর ব্যাটাটাক বাঁচে থুবার পাইস নাই তুই। তুই কী চাইস আর? ব্যাটাখাগি মাগি—

মারতে মারতে নিস্তেজ হয়ে আসা বাপের মুখের এই কুৎসিত কথাগুলো শুনতে শুনতে এসমোতারার মনে পড়ত, আঁতুরেই মারা যাওয়া পনেরো দিন বয়সের ওর ভাইটার জন্য এখনও তার মা লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে। এ কথা ঐ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা লোকটা একবারের জন্যও টের পায় না। এসমোতারার তখন মায়ের জন্য খুব কান্না পেত, ইচ্ছে হত চিৎকার করে লোক জড়ো করে ঐ ভয়ঙ্কর লোকটাকে মার খাইয়ে নেয়। যেন নিজের মারের কথা মনে পড়লে আর এমন করে বউয়ের গায়ে হাত তুলতে না পারে। কিন্তু চাইলেও তা করতে পারত না এসমোতারা, এই কাজ করে দুদিন নিজের পিঠ লাল করে তোলা মারের কথা মনে পড়লে সে চুপ মেরে যেত। এসমোতারার বুড়ি দাদি ওইরকম সময়গুলোতে অপরিসর শোবার ঘরের ভেতর এসমোতারাকে বুকে জড়িয়ে চুপ করে থাকত। আর মাঝেমাঝে বলত—

–এনসানটা মানুষ নোয়ায় রে বু। এনসানটা মানুষ নোয়ায়।

ছেলের এই আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস বা শক্তি কোনওটাই ছিল না তখন বুড়ির। অশীতিপর ন্যুব্জ শরীর নিয়ে সে তখন কোনওমতে খেয়েপরে বেঁচে থাকে। ছেলেকে কিছু বলে নিজের একমাত্র আশ্রয়টা হারানোর সাহস ছিল না তার। এমনিতেই এনসান কথায় কথায় খোঁটা দিত যে অন্য আরও তিনটা ছেলে থাকার পরও বুড়ি তার ঘরে বসে বসে খাচ্ছে স্বার্থপরের মতো! বুক ফেটে কান্না এলেও সেই ছেলের ভাত ছাড়া বুড়ির আর বেঁচে থাকার উপায়ও ছিল না। কারণ এনসান কটু কথা বললেও ভাতটা অন্তত দেয়, অন্যরা কটু কথা যেমন বলে না, মায়ের জন্য একমুঠো চালও গলে না তাদের।

সেদিন শেষ বিকেলে রিকশা চালিয়ে ফিরে কী একটা নিয়ে খুব চিল্লাচ্ছিল এনসান। মঞ্জিলা রান্নাঘরের রান্না রেখে এসে কী বলতেই এনসান দ্বিগুণ চিল্লিয়ে উঠে হাতের কাছে দা পেয়ে কোপ বসিয়ে দিয়েছিল ঘাড়ের নিচে, শরীরটা সঙ্গে সঙ্গে প্রায় দুভাগ হয়ে গিয়েছিল ওর। এসমোতারা সেদিন বারান্দায় বই নিয়ে বসেছিল। পুরোটা ঘটনা চোখের সামনে দেখেছিল সে। মায়ের ছাইরঙা শাড়ি গলগল করে বেরোনো লাল রক্তে কালচে হয়ে উঠেছিল। মঞ্জিলার আর্তনাদে শাশুড়ি বুড়ি ঘর থেকে বেরিয়েই চিৎকার করে উঠেছিল। আর এসমোতারা হয়ে গিয়েছিল একেবারে নিশ্চুপ। বুড়ির চিৎকার আর মঞ্জিলার আর্তনাদে পাড়ার মানুষ জড়ো হয়েছিল উঠোনে। এনসান হয়ত এতটা আশা করেনি, হতভম্ব হয়ে সে দা ফেলে বসে পড়েছিল উঠোনেই। রাতে পুলিশ এসে এনসানকে নিয়ে গিয়েছিল কোথায়, সবাই বলেছিল থানায়। এসমোতারাদের উজানপাড়া থেকে থানা খুব বেশি দূরে ছিল না।

এসমোতারা সেই যে চুপ হয়ে গিয়েছিল, কারও সঙ্গে কথা বলেনি আর একটাও। পাড়ার মহিলা-পুরুষ, ওর পড়ার আর খেলার সঙ্গীরা সবাই ওকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিল। কিন্তু এসমোতারার পৃথিবীটা একদিনের ভেতর কেমন ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। বুড়ি দাদির আহাজারিও ওর সহ্য হচ্ছিল না সেদিন। পরদিন খুব ভোরে এসমোতারা রওনা দিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডের দিকে; বাসস্ট্যান্ড ওর চেনা, নানাবাড়িতে বাসে করেই যেতে হয় ওখান থেকে। বুড়ি দাদি তখন আহাজারির শেষে বেহুঁশ হয়ে ঘুমোচ্ছে। ও স্কুলে যে উপবৃত্তির টাকা পেত, সেগুলো মা জমা নিয়ে কোথায় রাখত এসমোতারা জানত। এলোমেলো আলনার পেছনে বেড়ার গায়ে গুঁজে রাখা কালো পলিথিনটা থেকে টাকা নিতে গিয়ে এসমোতারা দেখে তার ভেতরে অনেকগুলো টাকাই মা জমিয়েছে। হয়ত হাঁস-মুরগির ডিম কি চালের লাউটা, কুমড়োটা বেচা টাকাগুলোও ওখানে রেখেছে মা। এসমোতারা সেখান থেকে একশো টাকার ছয়টা নোট নিয়ে পলিথিনটা দাদির পেছনে রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। সত্যি কথা বলতে কী, বুড়ির জন্য ওর একটু খারাপও লাগছিল কিন্তু সে ও বাড়িতে থাকার কথা আর স্বপ্নেও ভাবেনি সেদিন। কেন যে কে জানে। হয়ত মা-বিহীন বাড়িতে থাকাটা তার কাছে অসম্ভব মনে হয়েছিল কিংবা অন্যকিছু। বুড়ি দাদি একেবারে যেন অসহায় হয়ে না পড়ে, সেজন্যই টাকাগুলো পাশে রেখে এসেছিল ও। সেই ভোরে কলমডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে এসমোতারা পেয়ে গিয়েছিল একটা ঢাকাগামী বাস, তাতেই উঠে বসেছিল। সেই লোকাল বাস প্রায় সারাদিন পরে ওকে নামিয়ে দিয়েছিল গাবতলিতে।

অচেনা শহরে বাস থেকে নেমে এসমোতারা কিছুক্ষণ ভেবেছিল কোথায় যাবে, সে শহরে তার কেউ ছিল না, কারও ঠিকানাও জানা ছিল না তার। তারপর আশেপাশের মানুষের তার ওপর কৌতূহল দেখে হাঁটা শুরু করেছিল একদিকে। এসমোতারার পেটে তখন অনেক খিদে, হাতের কাছে পেলে গোটা পৃথিবীসুদ্ধ গিলে খেতে পারে। বাসভাড়া দিয়েও বেশ কিছু টাকা বেঁচে গিয়েছিল ওর, একটা খাবারের দোকানে ঢুকে খেতেও পারত কিছু। কিন্তু কী মনে করে এসমোতারা সেদিন কোনও হোটেলে ঢোকে না। সন্ধ্যা তখন প্রায় হয়ে এসেছে, অনেক হেঁটে সে থেমেছিল একটা পার্কমতো জায়গায়, একা, এক কাপড়ে। সেই সন্ধ্যায়, এসমোতারা এখনও তাকে ফেরেশতাই মনে করে, রিকশা নিয়ে বাজার ফেরত ভদ্রমহিলা ওকে সেখানে একা ওইরকম অবস্থায় বসে থাকতে দেখে অনেক প্রশ্ন করেছিল রিকশা থামিয়ে। এসমোতারা শুধু তার নাম বলেছিল— মৌসুমী আক্তার। সে নাম ঐ মুহূর্তেই মনে এসছিল তার। আর কোনও প্রশ্নের উত্তর দেয়নি সে। ঠিক মৌসুমী আক্তার নামটাই কেন যে মাথায় এসেছিল আজ এতদিন পর ও ঠিকঠাক বলতে পারবে না। মাঝেমাঝে সে ভাবে— খুনি বাপের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা সেই নামটা ও আর বয়ে বেড়াতে চায়নি। মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে মৌসুমী নামটাই ওর মনে পড়েছিল প্রথমে। আর তাছাড়া শমসের স্যারদের বাড়িতে ও প্রতি শুক্রবারে সিনেমা দেখতে যেত, নায়িকা মৌসুমীকে খুব ভালো লাগত ওর।

ভদ্রমহিলা জানতে চেয়েছিলেন সে তার সঙ্গে যেতে রাজি আছে কি না। এসমোতারা একবারেই মাথা নেড়ে সম্মতি দিয়েছিল। তারপর ভদ্রমহিলা ওকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজের বাসায়। শান্তিনগর এলাকার সেই বাসায় এসমোতারা থেকেছে অনেক বছর। সেই ভদ্রমহিলা, লতা আন্টি ওকে অনেক আদর করতেন, তিনি এবং তার স্বামী দুজনেই ছিলেন সরকারি বড় কর্মকর্তা। ‍এক রাতে আন্টির স্বামী ওসমান সাহেব ওকে খারাপ প্রস্তাব দিলে পরদিন আন্টিকে না বলেই মৌসুমী আক্তার সেই বাসা ‍থেকে চলে যায়। ততদিনে বেশ কয়েকজন বুয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে, ওদেরই একজন সুমি আপুর বস্তিবাসায় গিয়ে ওঠে ও। এরপর এবাড়ি ওবাড়ি করে কতগুলো বছর। গত বছর আবার উজানপাড়ায় ফিরে আসার আগে মৌসুমী আক্তার অনেক বাড়িতে কাজ করেছে, বড় বড় সব মানুষের বাসায়। ওর দুধে আলতা রঙ, সুন্দর লম্বাটে মুখ কখনও কখনও হরিণের মাংসের মতো লোভনীয় হয়ে উঠেছে কারও কারও কাছে। কখনও কখনও সেই লোভের থাবা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছে মৌসুমী আক্তার, কখনও আবার ভীত চিত্রা হরিণের মতোই জড়িয়ে গেছে শিকারির জালে। তারপর সব ছেড়েছুড়ে এই কয়েক বছরের জমানো টাকাপয়সা নিয়ে মৌসুমী আক্তার গ্রামে ফিরে এসেছে গত বছর।

মৌসুমী আক্তার নিজের গ্রামে ফিরে আসার পর আমাদের এই গল্পের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হয়। উজানপাড়ায় পা রেখেই সে জেনে গিয়েছিল তাদের বাড়িটা আর তাদের নেই। মায়ের হত্যাকাণ্ডে একমাত্র দণ্ডিত তার বাপ এনসানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল, জেল খাটতে খাটতেই এনসান মরে গেছে এক সময়। দাদি বুড়িও নাকি মরে গেছে সে চলে যাবার দু-চার বছরের মধ্যেই। তারপর এই ভিটা দখল করে নিয়েছে এ পাড়ারই জুয়েলরা। জুয়েলদের কাগজপত্র কিছুই নেই, শুধু গায়ের জোরেই কাজটা করেছে তারা যেহেতু অন্য আর কোনও ওয়ারিশ ছিল না আশেপাশে। নিজের ভিটায় অন্যের ফসলের মাচান দেখে সেদিন আত্মা জ্বলে গিয়েছিল মৌসুমী আক্তারের। এই ভিটার ওপর তাদের বাড়ি ছিল, শোবার ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর। বারান্দায় মা ওকে পড়াতে বসাত, উঠানে বসিয়ে মাথায় তেল দিয়ে দিত, ভাত খাইয়ে দিত। এই ভিটা নিয়ে মৌসুমী অর্থাৎ এসমোতারার অনেক স্মৃতি! সেই ভিটা এখন আর তার নেই!

নিজের ভেতরে পুড়তে পুড়তে সেই মুহূর্তে মৌসুমী আক্তার ছোট্ট এসমোতারাকে ছুঁতে ব্যাকুল ছিল, মায়ের হারানো ঘ্রাণ ‍খুঁজতে চেয়েছিল তার সমস্তটা দিয়ে অথচ সময় তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল এক অপ্রীতিকর বাস্তবতার সামনে। সেদিনই সে মনে মনে শপথ করেছিল, এ জমি তার আবার চাইই চাই। এ ভিটা ছাড়া মায়ের গায়ের ঘ্রাণ আর কোনওদিন খুঁজে পাবে না সে। একবার মনে হয়েওছিল জুয়েলদের খুন করে ফেলে। কিন্তু রাজধানী শহরে এত বছর থেকে থেকে সে ততদিনে বুঝে গেছে যে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। মৌসুমী আক্তার তাই ধৈর্য ধরে। উজানপাড়ার পশ্চিমের শেষ মাথায় মধুদের বাড়ি, মধু আর সে ছোটবেলায় একই ক্লাসে পড়ত। আজকাল মধুর খুনখুনে বুড়ো মা ছাড়া সে বাড়িতে কেউ থাকে না, সবাই চাকরিবাকরি করতে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে, মধুর একমাত্র বোনটারও বিয়ে হয়ে গেছে দূরের গ্রামে। মধুদের বাড়িতে একটা ঘর ভাড়া নেয় সে। পরের মাসে সীমান্তের সামনেই মৌসুমী’জ কিচেন খোলে মোটা টাকা সিকিউরিটি দিয়ে। মৌসুমী আক্তার টাকাপয়সা জমিয়েছিল ভালোই, খাওয়া-পরায় খরচ হত না বলে তার বেতনের টাকাগুলো প্রায় সবই জমেছিল। দোকান চালানো আর মধুদের বাড়িতে থাকার ফাঁকে ফাঁকে মৌসুমী সব খবর পেয়ে যাচ্ছিল একের পর এক।

বহু বছর পর নিজের গ্রামে ফিরে সে নিজেকে মৌসুমী আক্তার হিসেবেই পরিচয় দিয়েছিল। আর গ্রামবাসীও কী কারণে তার সেই নামই মেনে নিয়েছিল। কেউ আর তাকে এসমোতারা হিসেবে ডাকেনি, অন্তত ওর সামনে তো নয়। তারপরও মৌসুমী আক্তারের ফিরে আসার গল্প ছড়াতে থাকে নিজের গ্রাম ছেড়ে অন্যান্য জায়গায়ও। এহেন উজানপাড়ায় কোনও এককালের এসমোতারা বা হালের মৌসুমী আক্তার বহু বছর পরে ফিরে এসেছে, দখল হয়ে যাওয়া ভিটার কোনওরকম ফেরত পাবার আশা ছেড়ে দিয়ে ভাড়ার ঘর নিয়েছে একটা আবার একেবারে খাস সীমান্তে এক খাবারের দোকান দিয়ে ফেলেছে এই মুখরোচক সংবাদ গ্রামের ছেলেবুড়োর মুখরোচক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে আর মৌসুমী’জ কিচেনের সামনে ও ভেতরে বাড়তে থাকে ভিড়। আশেপাশের অনেক বৌ-ঝিও তাকে আড়ালে আবডালে ‘ঢাকাইয়া মাগি’, ‘সাত ঘাটের পানি খাওয়া বেইশ্যা’ বলতে বাদ রাখে না। কিন্তু তাতে মৌসুমীর যায় আসে না কিছুই।

লুৎফরের একটা ক্ষেতি জমি মৌসুমী আক্তারদের সাবেক বাড়িটার লাগোয়া। বউয়ের টিউমার অপারেশনের জন্য টাকাপয়সা লাগবে বলে জমিটা বিক্রি করতে হবে ওর। জমির খদ্দের হিসেবে মৌসুমীকেই ধরে পড়ে সে। লুৎফরের বুড়ি মাই ওকে বলেছিল জমিটা মৌসুমী আক্তারের কাছে বেচতে। বুড়ির মতে নিজের পুরনো বাড়ির পাশে জায়গা পেলে সে কিনতে রাজি হতে পারে। আর তাছাড়া মৌসুমী আক্তারের কাছে জমির দাম ভালো পাওয়া যাবে, ব্যবসাপাতি করে সে কামাই ভালোই করছে, সামান্য কিছু টাকার জন্য নিশ্চয়ই ‘কাইমাই’ করবে না।

লুৎফরের প্রস্তাবটা মৌসুমী আক্তার শুনেছিল আছিয়ার মুখে, লুৎফর গিয়ে ধরেছিল ওকে। এমন একটা প্রস্তাবের অপেক্ষাতেই ছিল মৌসুমী। প্রস্তাবটা লুফে নিয়ে তারপর অর্ধেক টাকাপয়সা বুঝিয়ে দিয়ে রেজিস্ট্রিও করতে গিয়েছিল। কিন্তু এই মফস্বলে কারও কোনও কথাই গোপন থাকে না। ওরা রেজিস্ট্রি অফিসে পৌঁছানোর আগেই জুয়েলরা হাজির হয়ে গিয়েছিল অভিযোগ জানাতে। অভিযোগের ভিত্তিতে সাব রেজিস্ট্রার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছিল খতিয়ানটা সত্যিই জাল। লুৎফর বেচারা পরে কেঁদেকেটে হাতেপায়ে ধরে শেষ, কাগজ যে জাল তাই নাকি সে জানত না। তার বাপের কাছে এই কাগজটাই অনেক বছর ধরে আছে। মৌসুমী আক্তার বিশ্বাস করেছিল ওর কথাটা। আসল কাগজ তুলে আনার ব্যবস্থা ও করেছিল নিজে দৌড়াদৌড়ি করে। কিন্তু তারপরই জানতে পারে জুয়েলরা শাসিয়েছে লুৎফরকে— জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে গেলে খুনোখুনি হয়ে যাবে। লুৎফরের জমি কেনার ব্যাপারে জুয়েলদের ভয়টা বুঝতে পারে মৌসুমী আক্তার, ওদের জমিটা কিনলে পুরনো বাড়িটা অনেকটাই নাগালে চলে আসবে ওর। মানে তার পর ওর নজর তাদের সাবেক বাড়ির দিকে পড়তে পারে।

মৌসুমীর হাসি আসে, ঠিক এই কারণেই জমিটা কিনতে চায় সে। ইতোমধ্যেই ও খোঁজ নিয়েছে জুয়েলদের খুঁটির জোর কোথায়, থানাপাড়ার জয়নাল, কোনও পার্টি না করলেও সব লিডাররা তাকে ভয় পায়। এই এলাকার একটা গাছের পাতাও নড়ে না। তোমার ভাই আমার ভাই জয়নাল ভাই জয়নাল ভাই অবস্থা এখানে। সেই জয়নালের সঙ্গে জুয়েল আজকাল খু্ব খাতিরদারি করে। জয়নালের দাপটেই সে শাসিয়েছে লুৎফরকে। তাছাড়া মৌসুমী আক্তারের রূপ আর দাপট জুয়েলকে ভেতরে ভেতরে পোড়ায় কি না জানে না কেউ।

লুৎফরের এনে দেয়া নতুন কাগজটা সেই রাতেই সে পরিতোষবাবুকে দিয়ে পরীক্ষা করায়। পরিতোষবাবু এসব জমিজমার কাগজ ও কারবার বোঝেন ভালো। আর তাছাড়া তিনি মানুষটা নির্ভেজাল, কারও সাতে পাঁচে থাকেন না। তিনি যে কাগজ দেখে দিয়েছেন এ কথা অন্তত তিনি আর কাউকে বলতে যাবেন না— জানে মৌসুমী। পরিতোষবাবু বলেছেন কাগজ একদম ঠিক আছে, সিল ছাপ্পড়সমেত। পরিতোষবাবু কাগজ ঠিক বললেও মৌসুমী আক্তার জানে, সোমবারে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে আবারও জুয়েলরা বাধা দেবেই। আর এই খেলায় জুয়েলকে সহজে হারানোর জাদুটা মৌসুমী আক্তারের জানা। জয়নাল!

তার পরের দিন সারাদিনের বেচাবিক্রির হিসেবনিকেশ চুকিয়ে বাড়ি ফেরার পর জয়নালের নম্বরে ফোন করে মৌসুমী আক্তার। নম্বরটা ইয়াছিনকে দিয়ে কয়েকদিন আগেই যোগাড় করেছে। ফোনের ওপাশ থেকে ‘কে’ প্রশ্নটা শুনেই সে বলে—

আমি মৌসুমী, জয়নাল ভাই— আপনি একটু বাসায় আইসতে পাইরবেন আজ রাতে? খুব দরকার ছিল।

ওহ্ মৌসুমী? তুমি ফোন দিছ? কী দরকার সেটা এখন কওয়া যাবে না?— ফোনে এই কথাগুলো ভেসে এলেও মৌসুমী আক্তার জানে ওপাশের মানুষটার মাংসে থলথল করা মুখটা একটা নিশঃব্দ হাসিতে ভরে উঠেছে। সে আরও একটু বিগলিত হেসে জানায় যে কথাটা ফোনে বলা যায় না, জয়নালকে একবার আসতেই হবে এ বাড়িতে।

সেদিন ফোনটা রাখার সময় মৌসুমী আক্তারের হাসি আসে আবারও, অবজ্ঞার হাসি— জয়নালের আসতে অনিচ্ছার দুর্বল অভিনয়ের প্রতি অবজ্ঞা। সে এখন ঠিক জানে, কোন দেবতা কোন ফুলে তুষ্ট। জীবন তাকে এ জিনিসটা খুব ভালোভাবে শিখিয়ে দিয়েছে। তাই আজ জয়নালকে তার এ আমন্ত্রণ। মধুর বুড়ি মা এটা জানলে কী ভাববে সে ভয় মৌসুমী আজ পায় না। তার বদলে তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুন্দর একটা শান্ত আর মায়ায় ভরা মুখ— তার মা, মঞ্জিলার।

সেই রাতে, ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে যখন জয়নাল তার মাংসল শরীরের নিচে মথিত করতে থাকে মৌসুমী আক্তারের সুন্দর, দুধে আলতা রঙের শরীরটা, তখন মৌসুমী আক্তার জানে তার করণীয়। হাঁপাতে হাঁপাতে জয়নাল যখন কাম চরিতার্থ করার তৃপ্তিতে প্রায় আত্মহারা, মৌসুমী আক্তার আস্তে করে শরীর সরিয়ে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে— জয়নাল ভাই, লুৎফরের জমিটা যে আমার লাইগবে।

জয়নাল তখন উন্মত্ত, মৌসুমী আক্তারের এমন করে সরে যাওয়াটা হজম করে উঠতে পারে না। বলে—

ওটা নিয়া চিন্তা কইরো না তুমি। পায়া যাইবা।

পাব? আচ্ছা। আর আমাদের ভিটাটা— একটু থেমে আবার যোগ করে মৌসুমী আক্তার, নিজের শৈশবের ভিটে আবার ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে সে জয়নালের সঙ্গে বেসাতি করে— জুয়েলরা যেটা নিছে, সেটাও আমি ফেরত চাই।

উন্মত্ত জয়নাল মৌসুমী আক্তারের মৎস্যকন্যা শরীরের নেশায় তখন চুর—

তোমার ভিটা? অহ্। ওইটাও ফেরত পাইবা মৌসুমী নাইকা!

জয়নালের ‘নায়িকা’ সম্বোধনে মৌসুমী হা হা করে হাসে। আজকের বেসাতিতে সে জিতে গেছে, সে খুব ভালো করে জানে, জানে না জয়নাল। জুয়েলরা যার খুঁটির জোরে ওর ভিটা দখল করেছিল সেই জয়নাল আজ ওরই তুরুপের তাস! ওর জমি ফিরে পাবার জন্য একটা উপায় মাত্র। হেরে যাওয়া জয়নালের প্রতিশ্রুতিতে এইসব সামান্য শরীরী অপবিত্রতা ছেড়ে সে যেন আবার ফিরে পায় তার নিষ্পাপ শৈশব। তার বন্ধ চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ভীষণ আদুরে দৃশ্যপট। তাদের উঠোনের একপাশে শোবার ঘরটার কোণে মায়ের সঙ্গে লুকোচুরির ছলে লুকিয়ে পড়েছে ছোট্টবেলার সে আর অনেকক্ষণ থেকে খুঁজে না পেয়ে মা পাগলের মতো ডেকে চলেছে— এসমো, এসমো, এসমো……

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1912 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...