শ্যামাপ্রসাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির নির্মাণ

সৌমিত্র দস্তিদার

 

পূর্ব প্রসঙ্গ: সামন্তবাদের এক অকৃত্রিম প্রতিভূ ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ

গল্পটা শুনেছিলাম অনেক দিন আগে। গল্প নয়, সত্যি ঘটনা। শুনতে গল্পের মতো। তখন কলকাতা অগ্নিগর্ভ। নকশালবাড়ির রাজনীতি উদ্দীপ্ত করেছে অসংখ্য কিশোর তরুণদের। সেই সময়ের কথা। প্রেসিডেন্সির এক তরুণ বিপ্লবী ছাত্র নেতা সহপাঠিনীর বাড়িতে গেছেন। সম্ভবত তার জন্মদিনের পার্টিতে। মেয়েটির বাবা প্রাক্তন আমলা। পোষাকে কেতাদুরস্ত সাহেব। তরুণ ছাত্রনেতার আধময়লা পাজামা পাঞ্জাবি গায়ে দেওয়া ছাপোষা চেহারা দেখে, আড়ালে ডেকে ছেলেটিকে বললেন— “তোমার কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই যে এখানে এই ঝলমলে পার্টিতে এভাবে নোংরা পোষাকে চলে এসেছ! তোমার না থাকতে পারে, আমাদের পরিবারের একটা স্ট্যাটাস আছে।” ছাত্রনেতাটি চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল। যতই হোক বন্ধুর বাবা। তাই চুপ করে সব শুনে যাচ্ছিল। কিন্তু ভদ্রলোক যখন বলে উঠলেন— “এরকম একটা অনুষ্ঠানে এভাবে সবার সামনে তোমার নিজেকে বেমানান, অশ্লীল মনে হচ্ছে না?” তখন ছেলেটি আর থাকতে না পেরে আস্তে অথচ স্পষ্ট গলায় কেটে কেটে বলে উঠল— “আমি বেমানান পোষাকে এসেছি বলে আপনার মনে হচ্ছে। তখন থেকে স্ট্যাটাস-ট্যাটাস অনেক কিছু বলে যাচ্ছেন। অথচ এই যে আপনি মেয়ের জন্মদিনে এত এলাহি আয়োজন করেছেন, আপনার বড়লোক বন্ধুবান্ধব ভালো ভালো খাবার পুরো খেতে না পেয়ে রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলছেন আর সেখান থেকে কুকুর ও পথশিশুরা কাড়াকাড়ি করে তা তুলে নিয়ে খাচ্ছে তা আপনার মতো ভদ্দরলোকদের চোখে পড়ছে না? বলতে পারেন এর চেয়ে অশ্লীল আর কি হতে পারে!” বলাবাহুল্য এরপরে সেই সহপাঠিনীর বাবা আর কথা বাড়াবার সাহস পাননি। বিষয়টি সেদিন আর না এগোলেও গল্পটা একই থেকে গেছে দশকের পর দশক ধরে। চূড়ান্ত বৈষম্য কী ধরনের অশ্লীল হতে পারে তা আগে একবার বলেছিলাম। ১৯৪৩ সালের অবিভক্ত বাংলার ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষের সময় সামান্য একটু ফ্যানের জন্য লাখো মানুষ হত্যে দিচ্ছেন কলকাতায়। মারা যাচ্ছেন হাজারে হাজারে একটু খাবার না পেয়ে। ঠিক তখন, ঠিক তখনই হুগলির জিরাটে, বহু বিজ্ঞাপিত ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রাসাদ নির্মাণ শুধু অশ্লীল নয় অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। একধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনও বটে।

মানসিকতা দিয়ে একজন নেতাকে চেনা যায়। ঠিক যেমন শ্যামাপ্রসাদের শ্রেণিচরিত্রও আপাত ছোট ছোট নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন আদ্যন্ত সামন্ত মানসিকতার প্রতিনিধি ও ধনী বুর্জোয়াদের সেবাদাস। হিন্দু মহাসভার পিছনে বিপুল লগ্নি করেছিল তৎকালীন বিড়লা-টাটা ও অন্যান্য ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। এই লগ্নি করার উদ্দেশ্য ছিল জনমনে সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দেওয়া। সুখপাঠ্য ভারতের ইতিহাসে আমরা আশৈশব পড়ে গেলাম যে মহম্মদ আলি জিন্নাহ ও মুসলিম লিগ ভারতভাগের জন্য দায়ী। অথচ ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবের ঢের আগে বিড়লা ও শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক গুরু সাভারকর দেশভাগের দাবি তুলেছিলেন। সাভারকর ভাগের কথা স্পষ্ট না করলেও দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনিই। তার অনুপ্রেরণাতেই পরবর্তী সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে ভারত ভাগ না হলেও বাংলা ভাগ করতেই হবে।

এখন নতুন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন করার পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টি তাঁকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ বলে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে যে তাঁর যাবতীয় কুকীর্তি চাপা পড়ে যায়। মুশকিল হচ্ছে ইতিহাস বড় নির্মম। তাকে কোনও মহাশক্তিধরও ইচ্ছেমতো চালিত করতে পারে না। ৪৩ সালের মন্বন্তরের সময় দৃষ্টিকটুভাবে জিরাটে প্রাসাদ নির্মাণ এতটাই অসংবেদী মনের পরিচয় ছিল যে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদ ক্ষুব্ধ হয়ে তা নিয়ে পাতার পর পাতা লিখেছেন তখনকার কমিউনিস্ট পার্টির ইংরেজি পত্রিকা পিপলস ওয়ারে। জিরাট, যেখানে আমাদের এই বিজেপি আইকন দুর্ভিক্ষের বাজারে পেল্লায় প্রাসাদ হাঁকিয়েছিলেন তার কাছাকাছি এমন একজনকেও চিত্তপ্রসাদ খুঁজে পাননি যিনি ওই ‘মহান’ পুরুষের সুখ্যাতি করছেন। বরং তাঁর দেখনদারি, বড়লোকি চালচলন, দাম্ভিক স্বভাব ও স্বজনপোষণের কারণে এলাকার প্রত্যেকটি লোক শ্যামাপ্রসাদ সম্পর্কে তিতিবিরক্ত হয়ে ছিলেন। চিত্তপ্রসাদের বিখ্যাত বই ‘ক্ষুধার্ত বাংলা’-য় বিস্তারিত বলা হয়েছে কীভাবে মানুষের অভাব যন্ত্রণাকে পুঁজি করে শ্যামাপ্রসাদ ও সে সময়ের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির কারবারিরা সাম্প্রদায়িকতার বীজ রোপণ করেছিল গ্রামে গ্রামে। বস্তুত তখনকার বিভাজনের রাজনীতির বীজই মহীরুহ হয়ে একদিন বাংলা ভাগ করেছিল। আর আজও সেই বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তৃত করে পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলা দরকার যে, হিন্দু মহাসভা, জনসঙ্ঘ ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, সেদিন ও আজ মিলিয়ে যে বিপুল সঙ্ঘ পরিবার তার রাজনৈতিক লক্ষ্য কিন্তু অতীত ও বর্তমানে এক— তা হল হিন্দু ভারত নির্মাণ। ওই হিন্দু ভারতে মুসলিম দলিত আদিবাসী খ্রিস্টান শিখ বৌদ্ধ কারও কোনও জায়গা নেই। এ হচ্ছে এক কাল্পনিক আর্য ভারতের নির্মাণ। পুরাকালের রাজাদের অশ্বমেধ ঘোড়া যেভাবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করত ঠিক সেইভাবেই একমাত্রিক আধিপত্যবাদী সংস্কৃতির জয় ঘোষণা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির রণনীতি। কয়েকদিন আগেই দেখলাম আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন যে, ভারত হিন্দুরাষ্ট্রই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিচারধারা ও মোহন ভাগবতের চিন্তাভাবনা এক ও অভিন্ন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে ও আজও ভারত ইতিহাসের যে ঘটনাবহুল পরিক্রমা তা খণ্ডিত চোখে দেখলে হবে না। দেশভাগের পিছনে, ভারত উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের পিছনে সুস্পষ্টভাবেই মনুবাদী বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হাত আছে তা নিয়ে বিতর্কের জায়গা নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনীতি, বাংলা বিভাজন, গান্ধি হত্যা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, গুজরাত গণহত্যা, আজকের সঙ্ঘপরিবারের উত্থান, এ রাজ্যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ক্রমবিকাশ, কাশ্মিরের ৩৭০ ধারা বিলোপ, এনআরসি রাজনীতি— কোনও কিছুই আলাদা নয়। এ এক বিকল্প ইতিহাসের দ্বান্দ্বিক নির্মাণ।

আজকের সঙ্ঘপরিবার একদিকে গান্ধি নেহরু সুভাষচন্দ্র বসুর পুনর্মূল্যায়ন করার নামে তাদের যাবতীয় ইতিবাচক ভূমিকাকে নস্যাৎ করে জনমনে তাদের খাটো করতে ব্যস্ত, অন্যদিকে ভারতবাসীর মননে আইকন হিসেবে চরম প্রতিক্রিয়াশীল প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় সতত সক্রিয়। আমাদের অনেক প্রগতিশীল লোকজনও ইতিহাসের দ্বান্দ্বিক বিচার না করে এক একটা ইস্যু সামনে এলে তখন তা নিয়ে সাময়িক হৈচৈ করে চুপ করে যান। অথচ এ এক দক্ষিণপন্থী রাজনীতির চতুর কৌশল যার ধারাবাহিক প্রতিরোধে দরকার তাত্ত্বিক লড়াই তা অনেকেই বুঝতে চান না।

শ্যামাপ্রসাদ থেকে আজকের মোদি অমিত শাহের রাজনৈতিক ধরন যদি খুঁটিয়ে দেখেন তাহলে অদ্ভুত সাদৃশ্য টের পাবেন। এমনকি প্রচারের ধরনও মোটের ওপর এক। চিত্তপ্রসাদ মন্বন্তরের মেদিনীপুর নিয়ে লিখতে বসে এমন কয়েকটি কথা লিখেছেন যা সময়টময় না বলে দিলে আপনি এখনও সেই সময়ের ঘটনার মিল পাবেন। চিত্তপ্রসাদ ঘুরতে ঘুরতে একটি অফিসে এলেন। যেটা কিছুদিন আগে ছিল কংগ্রেসের দখলে। রাতারাতি তা সাইনবোর্ড বদলে হিন্দু মহাসভার দপ্তর হয়ে গেছে। মেদিনীপুর শহরে সমস্ত ত্রাণ সমিতি মোটের ওপর একজোট হয়ে বঙ্গীয় ত্রাণ সমিতি নামে এক স্বেচ্ছাসবী সংগঠন গড়ে তার মধ্যে দিয়েই যাবতীয় রিলিফের কাজ চালাচ্ছিলেন। যার যেটুকু সামর্থ্য সে তা দিয়ে সমিতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কিন্তু কোনও এক রহস্যজনক কারণে ত্রাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে চাল সংগ্রহ করে সমিতিকে না দিয়ে তা পুরোটাই পাঠিয়ে দিলেন হিন্দু মহাসভার সদস্য এক ব্যবসায়ীকে। তমলুকেও সর্বদলীয় ত্রাণ সমিতিকে উপেক্ষা করে শ্যামাপ্রসাদ সাহায্য পাঠালেন নিজের অনুগত আর্য সমাজ নিয়ন্ত্রিত মহেন্দ্র সঙ্ঘের কাছে।

ইউনিয়ন বোর্ড শ্যামাপ্রসাদের হাতে ১৫টি থান কাপড় দিয়ে অনুরোধ করেছিল তা গ্রামের সবচেয়ে দুঃস্থ ৮৩টি পরিবারের মধ্যে বিলিবণ্টন করে দেওয়ার জন্য। বাংলার ব্যাঘ্রশাবক তার পুরোটাই আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের উপহার হিসেবে দান করে দেন।

একবার তাঁর গ্রামের না খেতে পাওয়া গরিব কৃষকেরা দল বেঁধে শ্যামাপ্রসাদের কাছে এসে হত্যে দিলেন— হুজুর বাঁচান। ছেলেমেয়ে পরিবার নিয়ে মরতে বসেছি। অনেকটা সিনেমার খলনায়কদের মতো শ্যামাপ্রসাদ জবাব দিয়েছিলেন, বিনা মজুরিতে আমার জমি চাষ করে দে। তখন ভাবব তোদের কথা। সেদিন বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল গ্রামীণ সর্বহারার একটা বড় অংশ।

গ্রামীণ অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি গ্রামীণ হাটকে ধ্বংস করে ওই একই জায়গায় আর একটি হাট বসিয়ে শ্যামাপ্রসাদ তাঁর অনুগামীদের, হিন্দু মহাসভার নেতা কর্মীদের কীভাবে মুনাফার বিকল্প কালোবাজারির পথ দেখিয়েছিলেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া আছে ‘ক্ষুধার্ত বাংলা’ বইটির পাতায় পাতায়।

বাংলার ইতিহাসে ব্রিটিশের দান চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দৌলতে যে নব্য জমিদার বা সামন্ততন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল সারা বাংলায়, তাদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চবর্গের হিন্দু। এই জমিদারির প্রজাদের বড় অংশই আবার নিম্নবর্গের হিন্দু ও মুসলমান। এই সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্যই ফাটল সৃষ্টি করেছিল হিন্দু উচ্চবর্গ ও মুসলিম প্রজাদের মধ্যে। যা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেহারা নিতে থাকে ১৯৩৭ সালের পর থেকে। মনে রাখতে হবে যে মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনের তখনও তিন বছর বাকি।

সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের পিছনে যে অর্থনীতি ও সামন্তশোষণ তা আধুনিক ইতিহাস মেনে নিয়েছে। নানা বাহানায় হাজার রকমের নজরানা আদায় থেকে এমন কোনও দুষ্কর্ম ছিল না, যা সেকালে জমিদারেরা করতেন না। একটা সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকদের এক বড় অংশ বাধ্য হয়েই মুসলিম লিগের রাজনীতিতে আকৃষ্ট হয়েছিল। আদতে ভূস্বামী না হয়েও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন উচ্চবর্গীয় জমিদারতন্ত্রের উপযুক্ত প্রতিনিধি। মননে ও যাপনে। পাশাপাশি, শ্রেণিঘৃণা থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন চরম মুসলিমবিদ্বেষী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুসলিম ঘৃণা কেমন যেন মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল। একে ব্যাধি বা অসুখ যাই বলি না কেন, তা নতুন করে তার উত্তরসূরিদের দৌলতে প্রবল ক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কূনাট্য একদম দেশভাগের আগের ছবি ফিরিয়ে আনছে। শুধু মঞ্চ নাটকের কুশীলবদের নামগুলো বদলে গেছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদের জায়গা নিয়েছেন মোহন ভাগবত, কৈলাশ বিজয়বর্গী, অমিত শাহ। টাইম মেশিনে আমরা বরং ঘুরে আসি ১৯৪৬-৪৭-এর অখণ্ড বাংলায়। ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি ঘোষণা করলেন ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে তারা ভারত ছেড়ে চলে যাবেন। ক্ষমতা কাকে দেওয়া হবে তা নির্দিষ্টভাবে বললেন না এটলি। বরং একটু ধোঁয়াশা রেখে জানালেন যে ক্ষমতা কোনও কেন্দ্রীয় বা প্রাদেশিক সরকারের হাতে দেওয়া হবে। অথবা তৃতীয় কোনও উপায়ও খোঁজা হবে। এই অস্পষ্ট সিদ্ধান্ত সব রাজনীতির লোকজনের মধ্যে একই সঙ্গে হতাশা ও লোভ জাগিয়ে তুলে কালনেমির লঙ্কা ভাগের লড়াইয়ে পরস্পর গোষ্ঠী, সম্প্রদায়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল। এই লঙ্কাভাগে শ্যামাপ্রসাদ ও হিন্দু মহাসভার ভূমিকা কী ছিল? তা ক্রমশ প্রকাশ্য।

 

চলবে

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1802 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...