মেরুদণ্ড বিকিয়ে ফ্রিডম অফ প্রেস উচ্চারণ করি কোন সাহসে

গৌতম সরকার

 

আপনার পত্রিকা কোন দলের?

শুনলে খুব রাগ হত প্রথম প্রথম। এ আবার কেমনতরো প্রশ্ন? পত্রিকার আবার দল কী? টানা ১৬ বছর টেলিভিশন সাংবাদিকতা জীবনে চ্যানেলগুলি নিয়ে আর প্রশ্ন নয় সরাসরি অভিযোগ শুনেছি। আপনারা তো অমুক দলের। কিংবা কোনও একটি দলের কর্মীরা তো বটেই, নেতারাও বলতেন, তোমাদের বলে কী হবে? তোমরা তো ওই দলের পক্ষেই প্রচার করবে। কী বিরক্তিকর কথা! এসব কথা এখন জলভাত। খোলামখুল্লা আলোচনা হয় হাটের মধ্যে। সুযোগ বুঝে কেউ কখনও দু-চার কথা শুনিয়েও দেয়। বলে, পা না চাটলে তো আপনাদের রোজগার হবে না। কেউ কেউ এমন করে, যাকে হেনস্তাই বলা যায়। কিন্তু এখন আর রাগ হয় না, অবাকও হই না।

শুধু মনে হয়, আমাদের তাহলে কোন বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই, গ্রহণযোগ্যতা তা দূরের কথা। আমাদের কেউ নিরপেক্ষ ভাবে না। বরং কারও না কারও দালাল ভাবে। তিন দশকেরও বেশি পেশাগত জীবন শেষে সাংবাদিকতা থেকে হয়ে গেলাম দালাল। এখন বুঝি, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী আমরাই। গত ২২ অক্টোবর সকালে খবরের কাগজ খুলে চমকেও গেছিলাম, কিছুটা যেন গর্বও হয়েছিল। জেনেছিলাম, সরকারি নীতির প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত সংবাদপত্র তার আগের দিন প্রকাশিত হয়েছে প্রথম পাতায় কোন খবর ছাড়াই। পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্রগুলোও প্রতিবাদের মাঠে বিবাদ ভুলে এক হয়েছিল। বুকের ভিতর থেকে দুটি শব্দ আপনা থেকেই বেরিয়ে এসেছিল। দম আছে। দম না থাকলে এমন প্রতিবাদ করা সম্ভব নয়।

আমাদের সে দম নেই। সাহস নেই। এককাট্টা হওয়ার মনও নেই। অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র দুটি সংবাদপত্রের সঙ্গে সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করেছিল বলে সমস্ত সংবাদপত্র গোষ্ঠী যৌথভাবে প্রতিবাদে এগিয়ে আসার যে নজির তৈরি করল, তা আমাদের কাছে স্বপ্নই। আমাদের দেশে, রাজ্যে অনেক সংবাদমাধ্যম এই মুহূর্তেও সরকারি আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত। অপরাধ? সরকারের, শাসকদলের সমস্ত কথায় সায় না দেওয়া। সমালোচনা পরের কথা, সাংবাদিকতার ধর্ম মেনে কোনও যদি কেউ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ছাপে, তাহলে পরের দিনই সেই সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়ার গুচ্ছ গুচ্ছ উদাহরণ চোখের সামনে দেখেছি। সোজা কথায় সত্যি কথা বলতে পারবে না সংবাদমাধ্যম। সত্যিটা লিখতে পারবেন না সাংবাদিক।

কর্তাভজা হলেই সরকারি দক্ষিণা পাবে সংবাদমাধ্যম। সব সময়ই কিন্তু সেই আনুকূল্যের নাম বিজ্ঞাপন নয়। সংবাদ সংস্থার কর্তাদের সহজ শর্তে ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়া, কোনও সরকারি কমিটিতে পদ দিয়ে বাড়তি রোজগারের সুযোগ করে দেওয়া, এমনকি দালালিটা ঠিকভাবে করতে হলে বিধায়ক, সাংসদ হওয়ার টিকিটটাও জুটে যায় কারও কারও। অতি ঘনিষ্ঠতা থাকলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কখনও কখনও বেসরকারিভাবে সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগ মিলে যাওয়ার নজিরও একেবারে কম নয়। বিজ্ঞাপন বন্ধ হলে সাংবাদিকদের ঘাড়েই দায়িত্ব বর্তায় সংশ্লিষ্ট সরকারের শীর্ষ পদাধিকারীদের হাতে-পায়ে ধরে আনুকূল্য ফিরিয়ে আনা। সেক্ষেত্রে সেই সাংবাদিকের আর সেই সরকারের ভালোমন্দ হাত খুলে লেখার দম থাকে না।

সংবাদমাধ্যমের মালিকরাও আজকাল তাই চায়। তিন দশকেরও কিছু সময় আগে সাংবাদিকতা শুরু করার সময় সম্পাদকরা বলে দিতেন, যা দেখবে, তাই লিখবে। যা বুঝবে, সেটাই রিপোর্ট করবে। এখন সম্পাদকদেরও সেই কথা বলার সাহস নেই। অর্থনৈতিক ঝিমুনি নামে একটি শব্দবন্ধের আমদানি হয়েছে, যার জেরে বেসরকারি বিজ্ঞাপন এখন আর আগের মতো মেলে না। গাড়ির উৎপাদনই কমিয়ে দিতে হচ্ছে, সেই কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিতে যাবে কেন? একসময় রিয়েল এস্টেট ছিল সংবাদমাধ্যমের ঘরের লক্ষ্মী। রোজ লক্ষ লক্ষ টাকার বিজ্ঞাপন। তার উপর জুটেছিল বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার দাক্ষিণ্য। কেউ যাতে সংস্থাগুলির অনৈতিক কাজকর্ম সম্পর্কে একটি শব্দও না লেখে, সেজন্য বিজ্ঞাপনে ভরিয়ে দেওয়ার খেলা চলেছে সেসময়। এই সংস্থাগুলিও সংবাদপত্র, টেলিভিশন খুলে মিডিয়ার ব্যবসাটাকেই অনৈতিক করে তুলল।

যে একবার অনৈতিক হয়, তার মেরুদণ্ড তো আর সোজা হতে পারে না। কেন্নোর মতো জীবন হয় সাংবাদিকের। যা দেখবে, তাই লিখবে— এই সত্যনিষ্ঠতার পাঠের বদলে এখনকার সম্পাদকরা হুলিয়া জারি করেন, অমুক দল বা সরকারের বিরুদ্ধে একটি খবরও যেন প্রকাশ না হয়। শুধু সম্পাদক কেন, বেতনভুক বার্তা সম্পাদক, চিফ রিপোর্টার, চিফ অফ নিউজ ব্যুরো অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার সময় পইপই করে বলে দেন, দেখিস বাপু, কাগজের বা চ্যানেলের লাইনের বাইরে কিছু রিপোর্ট করিস না যেন। তোরও চাকরি যাবে। আমারটা নিয়েও টানাটানি পড়বে। তাছাড়া সরকারি বিজ্ঞাপন না পেলে তোর-আমার মাইনে হবে না। মালিক কাগজ বা চ্যানেলটা তুলেও দিতে পারে।

এই প্রবণতা কিন্তু খুব বেশিদিনের নয়। রাজনীতিতে মূল্যবোধের অবক্ষয় শুরু হওয়ার পর থেকে সেই হাওয়ার আঁচ লাগে সংবাদ মাধ্যমের গায়ে। শুরু হয় আপনি বাঁচলে বাপের নাম, নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। কোনও কাগজ বা চ্যানেল সরকারি বিজ্ঞাপন পেল কী পেল না, তাতে কী আসে যায়? নিজেরটা পেলেই হল। ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, নিদেনপক্ষে সমালোচনাও তাই নৈব নৈব চ। সংবাদমাধ্যম তাই হিজ বা হার মাস্টার্স ভয়েজ। সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দগুলি সাংবাদিকতার অভিধান থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে। যদি বা কোনও গোষ্ঠী এককভাবে সাংবাদিকতার ধর্ম পালনের চেষ্টা করে, তাহলেও তাকে বশে আনার হাজার বন্দোবস্ত প্রস্তুত। আয়করের হয়রানি, অর্থনৈতিক তদন্ত সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া, নিদেন পক্ষে পুলিশ দিয়ে ঝামেলায় ফেলে দেওয়া, চাই কী গ্রেপ্তার করে কদিন জেলের ভাত খাওয়ানো ইত্যাদি নানা পন্থা মজুত। আসলে মেরুদণ্ডহীন করে তুলতে হলে যা যা করণীয়, তার সবই এখন রাজনীতির হাতিয়ার। প্রতিহিংসা এখন রাজনীতির বিপক্ষকে সবক শেখানোর জন্য শুধু নয়, সংবাদমাধ্যমকে বশে রাখার উপায়। এসব জেনে, বুঝে আমরা নীরব ছিলাম। আমরা সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করিনি। না সরকারের বিরুদ্ধে, না সংবাদমাধ্যমের মালিক গোষ্ঠীর প্রতিবাদে। নিজের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য না হোক, খেয়ে পরে চলার, পারলে দু পয়সা উপরি রোজগারের পৃষ্ঠপোষক ঠিক রাখতে আমরাও মালিকের হাতে পুতুলনাচের পুতুলের মতো খেলে চলেছি। মেরুদণ্ড বিকিয়ে দেওয়ার পর আমাদের কি আর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে আক্ষেপ করে সাজে? আমরা বিকিয়ে গিয়েছি দেউলিয়া রাজনীতির কাছে।

সমস্যাটি শুধু নির্দিষ্ট কোনও রাজ্যের নয়, গোটা ভারতের। যে যেখানে ক্ষমতায়, সংবাদমাধ্যম সেই সেইখানে কর্তাভজা হয়ে থাকছে। পরিস্থিতিটা একদিনে সাংবাদিকতাকে খাদের কিনারায় দাঁড় করায়নি। এর পিছনে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা আছে। আছে অর্থনীতির বাধ্যবাধকতা। ভারতবর্ষে কেন, পৃথিবীর দেশে দেশে সংবাদমাধ্যমের সূচনা হয়েছিল গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের ঐতিহাসিক প্রয়োজনে। আমাদের দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়ক ভূমিকা পালনের তাগিদ ছিল সংবাদমাধ্যমের। নিজের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকায় সত্যের অনুসন্ধানী হিসেবে ক্রমে তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। পৃথিবীতে তাই সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের চতুর্থ স্থম্ভের মর্যাদা ও স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সময়ে সাংবাদিকতা শুধু প্রফেশন (পেশা) নয়, মিশনও। ভোগবাদ যতই অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে শুরু করল, তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় হতে লাগল রাজনীতি, সমাজ, জীবনাচরণে। সংবাদমাধ্যমও তার প্রভাব এড়াতে পারল না। মিশনের দিশা হারিয়ে খবর হয়ে উঠল কমোডিটি (পণ্য)। বাজারে আর পাঁচটা সামগ্রীর মতো খবরও হয়ে গেল বিক্রিযোগ্য। আর বিক্রিবাট্টার প্রসঙ্গ যেখানে আসবে, অবধারিতভাবে সেখানে এসে হাজির হবে লাভ-ক্ষতির অঙ্ক। সেই অঙ্কে সামাজিক দায়িত্ব, গণতন্ত্রের কর্তব্য, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির কোনও স্থান নেই। গোটা হিসেবটাই চলে টাকার পরিমাণে। জাগতিক লাভই আসল হয়ে দাঁড়াল। ধীরে ধীরে গণতন্ত্রটাও প্রহসনে পরিণত হতে থাকল। কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি বিরোধীদের ডুবে মরতে বলেন, কিংবা সংসদে স্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে বিরোধীদের যুক্তি, আপত্তিকে অগ্রাহ্য করা হয়, তাহলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোটাই ভেঙে পড়ে।

শুধু দেশের ক্ষেত্রে নয়, রাজ্যে রাজ্যে, এমনকি একেবারে পঞ্চায়েত স্তরেও এভাবেই বিরোধীদের তাচ্ছিল্য শুধু নয়, দমন করার প্রয়াস চলে। যে বিরোধীরা এই নিগ্রহের, অমর্যাদার শিকার হয়, তারা যদি কখনও শাসকের চেয়ারে বসার সুযোগ পায়, তাহলে তারাও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সেই একই ব্যবহার করে থাকে। ফলে গণতান্ত্রিক চেতনা বিষয়টিই এখন রাজনীতির অভিধানের বাইরে চলে গিয়েছে। গণতন্ত্রই যেখানে বিপন্ন, সেখানে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে কী করে? গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্তম্ভের হেলে পড়া শুরু হয়েছে অনেক আগেই। চেষ্টা করলেও তাকে ঠেকানোর উপায় নেই। সাংবাদিকতা এখন বিনিয়োগের নিক্তিতে ওজন হয়। কত মাল এল, কত গচ্চা গেল। যা খসাতে হল, তার বিনিময়ে সাংবাদিকতার কোনও কাঞ্চনলাভের যোগ আছে কী? এইরকম নানা পঙ্কিলতায় আবর্তিত হচ্ছে সাংবাদিকতা। ফলে আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে দালালে পরিণত হয়েছি বলে আক্ষেপ ঠুনকো সেন্টিমেন্ট মাত্র। সাংবাদিকতার অপমৃত্যু ঘটে গিয়েছে। তার অন্তর্জলি যাত্রা শুরু হলে সংবাদমাধ্যমই সামগ্রিকভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। সেখানে আমি, তিনি, রামা, শ্যামার দায়বদ্ধতা, সত্যনিষ্ঠা নিছকই মূল্যহীন। ফলে ফ্রিডম অফ প্রেস-এর মতো গালভরা শব্দবন্ধনী উচ্চারণ করা আমাদের আর শোভা পায় না। সংবাদমাধ্যম নিজেই পেশার এই স্বাধীনতাকে নষ্ট করেছে শাসকের যূপকাষ্ঠে সত্যনিষ্ঠাকে বলি দিয়ে।

ঠিক এই মুহূর্তে দেশ বাংলা উত্তাল কাশ্মিরে ৫ বাঙালি শ্রমিকের নৃশংস খুনকে ঘিরে। সংবাদমাধ্যমের রুটিন অনুযায়ী কেউ কেউ ঘটনাটি কভার করতে কাশ্মিরে অকুস্থলের কাছে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। সেখানে পরিচয়পত্র ইত্যাদি দেখিয়েও ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। বরং জুটেছে প্রচ্ছন্ন শাসানি। এক পুলিশকর্তা মন্তব্য করেছেন, নেহাত দিল্লি থেকে এতদূর এসে পড়েছেন, নাহলে….। নাহলে কী, সহজেই অনুমেয়। ডিএসপি পদমর্যাদার এক পুলিশ আধিকারিকের এই ধৃষ্টতা জেনেও কী আশ্চর্য নীরব আমরা। সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ তো দূরের কথা, কোনও সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির নিন্দা করেও একটি শব্দ খরচ করেনি। কাশ্মিরে যে সাংবাদিকরা রোজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের লড়াইয়ের কোনও আখ্যান ছাপার দায় আমাদের নেই। যায় শত্রু পরে পরে। নিজের গায়ে আঁচ না লাগলেই হল। আমরা ভুলে যাই, আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। অবিশ্বাসের বাতাবরণ থেকে আর আমাদের মুক্তির পথ নেই।

বিদেশ থেকে আসা সাংবাদিকরা কিন্তু এর মধ্যেও কিন্তু নানা প্রতিকূলতা সহ্য করে কাশ্মিরে কাজ করে যাচ্ছেন। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় সন্দেহ নেই। কিন্তু তাকে কেন্দ্র করে মানবতার চূড়ান্ত লাঞ্ছনার খবর যেটুকু জানা যাচ্ছে, তা তো এই বিদেশি মিডিয়ার সৌজন্যেই। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাশ্মির সম্পর্কে যে জনমত তৈরি হচ্ছে, তা ওই সাংবাদিকদের কারণে। আচমকা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একদল দক্ষিণপন্থী সাংসদকে নিয়ে এসে বিশ্বে ভারতের জয়ঢাক পেটানোর বন্দোবস্ত করার মধ্যে শাসকদের অস্বস্তিটাও কিন্তু দেশীয় মিডিয়ার চোখ এড়িয়ে গেল। যে চোখ বুঁজে থাকবে বলে ঠিক করেছে, কার সাধ্য তাকে বস্তুনিষ্ঠ করা? অস্ট্রেলিয়ার মতো সাহসী প্রতিবাদ দূরের কথা, ভারতীয় মিডিয়া এখন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা শব্দটিও উচ্চারণ করতে পারে না। ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিণাম এটাই বটে। তাই বলে এই পাপ, এই দায় মিডিয়াও অস্বীকার করতে পারে না।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1860 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...