শ্যেন হাওবো-র কবিতা

শৌভিক দে সরকার

 

বর্তমান প্রজন্মের চিনের গুরুত্বপূর্ণ কবি শ্যেন হাওবো ১৯৭৬ সালে জিয়াংশু প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। বেজিং-এর নরমাল ইউনিভার্সিটির চিনা ভাষা ও সাহিত্যের স্নাতক শ্যেন হাওবোর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘গ্রেট ইভিল ইন দা হার্ট’ ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। বিতর্কিত ‘লোয়ার বডি পোয়েটস’ আন্দোলনের অন্যতম কবি তিনি। ‘বাটারফ্লাই’, ‘ওয়েনলু ভিলেজ ক্রনিকেল’ এবং ‘আই ওয়াজ টোল্ড টু কিপ সাইলেন্স’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

 

শ্যেন হাওবো-র কবিতা

 

হুয়া লিয়েনের রাত

একটা স্তব্ধ রাত
শুধুমাত্র সমুদ্রের হাওয়া।
একটা চওড়া
ফাঁকা হাইওয়ে।
একটা শামুক
আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছে।
একটা বাইক খুব জোরে
চলে গেল পাশ দিয়ে।
তুমি ওর আওয়াজের ভেতর
স্পষ্ট শুনলে
কোন কিছু
গুঁড়িয়ে যাচ্ছে।

 

দাবার ছক

আমি বেজিং-এ ফিরে আসছিলাম
বাইরে তাকাতেই দেখলাম
সাদা একটা পাতলা চাদর
পুরো শহরটাকে ঢেকে ফেলেছে। বরফ।
একটা দাবার ছক
কিন্তু কে আমার সঙ্গে দাবা খেলবে?
কেউ না! শুধু আমি
আর ডুবতে থাকা রক্তাক্ত সূর্য
একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকলাম
বরফের ছকের ওপর দিয়ে।

 

আমার বাবার প্যাঁচ পয়জার

১৯৬৭ সালে
আমার বাবা একটা অদ্ভুত জায়গায়
মিডল স্কুলে পড়ানো শুরু করেছিলেন

প্রতি সপ্তাহে
বাবা বাড়িতে আসতেন এবং
বাড়ি থেকে
খাবার দাবার নিয়ে যেতেন
নুন দেওয়া সব্জি, শুকনো গাজর
অথবা আচার মাখানো শসা

রুমমেটরা যাতে
খাবার চুরি করে খেতে না পারে
সেজন্য বাবা
একটা উপায় বের করেছিলেন
প্রতিবার টিফিনবাক্স খোলার সময়
বাবা খাবারের ওপর
কয়েকদলা থুতু মাখিয়ে রাখতেন।

 

প্রজাতন্ত্রের রাত

রাতগুলো ইতিহাসের থেকে অনেক বেশি হিংস্র
জিভের একটা টোকায় অন্ধকার জায়গাগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়
পাহাড়ের চূড়াও খুব একটা দূরে না
কিন্তু মনে হয় ওরা আদৌ ওখানে নেই!
এই দ্বীপের সবথেকে উঁচু বাড়িটা—
একশো এক তলার কাচের দেওয়াল থেকে দেখলে মনে হয়
তাইপেই আসলে একটা হালকা, ঝলমলে পালক
অথবা একটা মুক্তোর পলকা খোলস
একটা সমান, আলো জ্বলা ব্যালকনি!
মহাসাগরের ওপর ভেসে বেড়ানো
ঐ মৃদু একফালি আলোটারও
একটা বিশাল, কান্না উপচে পড়া নাম রয়েছে
–প্রজাতন্ত্রী চিন।

 

সেনাবাহিনীর প্যারেড

দেশনেতা তাঁর নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন
তাঁর আগে যারা এসেছিলেন তাদের মতই
সেনারা পা ঠুকে ঠুকে নিখুঁত ভাবে
প্যারেড করছে স্কোয়ার জুড়ে
মহিলা সেনাদের বুক
এক সঙ্গে উঠছে আর নামছে
বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ছন্দে
বোমারু বিমান আর ট্যাঙ্কগুলোকে
মাছি আর বাঘ মনে হচ্ছে
আর যারা, ঠিক গতকালও জীবনের যাঁতাকলে
কুকুর আর শুয়োরের মত পিষে মরছিল
তাদের হঠাৎ দেশপ্রেম জেগে উঠেছে
টিভির সামনে দাঁড়িয়ে সবার চোখ ছলছল করছে
এক মুহূর্তের নোটিশ পেলেই সবাই
পতাকা হাতে নিয়ে শপথ নিতে দৌড়বে।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 1906 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...