এনপিআর, এনআরআইসি, সিএএ— সব একই সুতোয় গাঁথা

ধীমান বসাক

 

এনপিআর-এর জন্য ৮৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। অমিত শাহ বলছেন, এনপিআর-এর সঙ্গে নাকি এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই। তাই? এনপিআর-এর নোটিফিকেশন হয়েছে the Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Cards) Rules, 2003-এর অধীনে। আসুন দেখে নিই আইনটা।

এই আইনের ২(কে) উপধারায় এনআরআইসি-র সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ঠিক তার পরের ২(এল) উপধারায় পপুলেশন রেজিস্টারের সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে এই রেজিস্টারও তৈরি করবেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ সিটিজেন রেজিস্ট্রেশন। যিনি এনআরআইসি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত, তিনিই পপুলেশন রেজিস্টার-এরও দায়িত্বপ্রাপ্ত।

সেন্সাস তৈরির দায়িত্ব কিন্তু আলাদা পদের ওপর। সে পদের নাম রেজিস্ট্রার জেনারেল অ্যান্ড সেন্সাস কমিশনার অফ ইন্ডিয়া।

এরপর আইনটির তিন নম্বর ধারা, যার হেডিং হল ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিটিজেন, তাতে কীভাবে এই এনআরআইসি তৈরি হবে, কে করবে এবং তাতে কী কী থাকবে বলা হচ্ছে।

৩(৩) উপধারায় এই এনআরআইসি-তে যেগুলো আবশ্যিকভাবে থাকবে বলা হয়েছে তাতে শেষ দুটো লক্ষ করার বিষয়। ১১ নং সিরিয়ালে বলা হয়েছে— রেজিস্ট্রেশনের সিরিয়াল নম্বর, ১২নং-এ বলা হয়েছে— ন্যাশনাল আইডেনটিটি নম্বর। এটা আধার বা অমিত শাহের সাম্প্রতিক সময়ে বলা সবকিছু মেশানো কার্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়।

ঠিক তার পরের উপধারা ৩(৪)-এ বলা হচ্ছে পপুলেশন রেজিস্টারের কথা— (4) The Central Government may, by an order issued in this regard, decide a date by which the Population Register shall be prepared by collecting information relating to all persons who are usually residing within the jurisdiction of Local Registrar, অর্থাৎ, লোকাল রেজিস্ট্রারের এলাকার মধ্যে সাধারণভাবে বসবাসকারী সমস্ত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে কোন্ তারিখের মধ্যে পপুলেশন রেজিস্টার তৈরি করা হবে সেই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকার এক আদেশ জারি করে দিনক্ষণ স্থির করতে পারে।

এর পরেই আসছে ৩(৫) উপধারা। বলা হচ্ছে— (5) The Local Register of Indian citizens shall contain details of persons after due verification made from the Population Register, অর্থাৎ, পপুলেশন রেজিস্টারে নাম থাকা ব্যক্তিদের সমস্ত তথ্য যাচাই-এর পর তাদের লোকাল রেজিস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিটিজেন-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পরের ৪ নং ধারার হেডিং হচ্ছে— 4. Preparation of the National Register of Indian Citizens.

৪(১) নং উপধারায় বলা হচ্ছে— The Central Government shall, for the purpose of National Register of Indian Citizens, cause to carry throughout the country a house-to-house enumeration for collection of specified particulars relating to each family and individual, residing in a local area including the Citizenship status, অর্থাৎ এনআরআইসি তৈরির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দেশ জুড়ে সমস্ত এলাকায় বসবাস করা প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি ব্যক্তির নির্দিষ্ট তথ্যগুলো, নাগরিকত্ব পরিচয় সহ, সংগ্রহ করার জন্য বাড়ি-বাড়ি নাম তোলার প্রক্রিয়া চালাবে।

এরপর ৪(৩) উপধারায় বলা হল— (3) For the purposes of preparation and inclusion in the Local Register of Indian Citizens, the particulars collected of every family and individual in the Population Register shall be verified and scrutinized by the Local Registrar, who may be assisted by one or more persons as specified by the Registrar General of Citizen Registration, অর্থাৎ, ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় রেজিস্টার তৈরি এবং সেখানে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য, পপুলেশন রেজিস্টারে প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি ব্যক্তির সংগৃহীত তথ্যগুলো স্থানীয় রেজিস্ট্রার যাচাই এবং স্ক্রুটিনি করবেন, এবং এ কাজে তাকে সহযোগিতা করার জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ সিটিজেন রেজিস্ট্রেশন লোক দেবেন।

এরপর ৪(৪) উপধারায় বলা হল— (4) During the verification process, particulars of such individuals, whose Citizenship is doubtful, shall be entered by the Local Registrar with appropriate remark in the Population Register for further enquiry and in case of doubtful Citizenship, the individual or the family shall be informed in a specified proforma immediately after the verification process is over, অর্থাৎ যাচাই করার সময়, লোকাল রেজিস্ট্রার যে সমস্ত ব্যক্তির নাগরিকত্ব সন্দেহজনক মনে করবেন, আরও অনুসন্ধানের জন্য তাদের তথ্য পপুলেশন রেজিস্টারে যথোচিত মন্তব্য সহ অন্তর্ভুক্ত করবেন। এবং সন্দেহজনক নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা পরিবারটিকে যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ঠিক পরেপরেই নির্দিষ্ট প্রোফর্মা অনুযায়ী অবহিত করতে হবে।

এরপর ৫ নং ধারা, ৬(এ), (বি)-তে পরবর্তী শুনানি, যাচাই, আবেদন, নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ কীভাবে হবে তার বিবরণ রয়েছে।

এরপর ৬(সি)-তে বলা হচ্ছে (c) Subject to the provisions contained in clause (a) of sub-rule (5), the Sub-district or Taluk Registrar shall consider such objections and summarily dispose off the same within a period of ninety days, and thereafter submit the Local Register of Indian Citizens so prepared to the District Registrar of Citizen Registration who shall cause the entries in the Local Register of Indian Citizens, to be transferred to the National Register of Indian Citizens, অর্থাৎ ৫(এ) উপধারার (এ) অংশধারায় উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে, উপজেলা বা তালুক রেজিস্ট্রাররা আপত্তি বা সংশয়গুলো বিচার করবেন এবং নব্বইদিনের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন। এবং তারপর এইভাবে তৈরি হওয়া ভারতীয় নাগরিকের স্থানীয় রেজিস্টার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠাবেন, যিনি এনআরআইসি-তে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

কী দাঁড়াল? এনপিআরে যে তথ্য সংগৃহীত হবে তা থেকেই ঝাড়াই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্থানীয়, তারপর দেশজোড়া নাগরিকপঞ্জি তৈরি হবে।

এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় সরকার এনপিআরের কাজ জনগণনার কর্মীদের করিয়ে এটাকে জনগণনার অংশ হিসাবে এটাকে চালাতে চাইছে।

 

সেন্সাস ও এনপিআর

তাহলে একটু সেন্সাসের সাইটটা দেখা যাক। সেখানে এনপিআর সম্পর্কে কী বলা আছে—

সাইটে ‘জনসাধারণ যেসব প্রশ্ন বারবার জিজ্ঞেস করেন’ এই হেডিং-এ A থেকে N অবধি মোট ১৪টি প্রশ্ন আর কর্তৃপক্ষের উত্তর দেওয়া আছে। তার থেকে কিছু বাছাই করে তুলে দিচ্ছি। লিঙ্কও দেওয়া থাকল।[1]

প্রশ্ন B. What is the National Population Register? What is its use?

–The NPR would be a Register of usual residents of the country. The NPR will be a comprehensive identity database that would help in better targeting of the benefits and services under the Government schemes/programmes, improve planning and help strengthen security of the country. This is being done for the first time in the country.

অর্থাৎ, এনপিআর কী? এটি কী কাজে লাগে?

—এনপিআর হল দেশে সাধারণ বাসিন্দাদের একটা রেজিস্টার (বা পঞ্জি বা তালিকা)। এনপিআর হবে একটা মোটামুটি সর্বব্যাপী পরিচয়ভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার, যা সরকারি স্কিম/কর্মসূচির সুবিধা আর পরিষেবাকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে, পরিকল্পনাকে উন্নত করবে এবং দেশের সুরক্ষাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। দেশে প্রথমবারের জন্য এরকম করা হচ্ছে।

প্রশ্ন C. How will both these exercises be conducted?

–The Census is a statutory exercise conducted under the provisions of the Census Act 1948 and Rules made there under. The NPR is being created under the provisions of the Citizenship Act and Rules.

অর্থাৎ, কীভাবে এই দুটো কাজ করা হবে?

–সেন্সাস বা জনগণনা হল ১৯৪৮-র জনগণনা আইন এবং তার অধীনস্থ রুল অনুযায়ী হওয়া এক বিধিবদ্ধ কার্যক্রম। এনপিআর তৈরি করা হচ্ছে নাগরিকত্ব আইন এবং রুল অনুযায়ী।

এই উত্তর এখানেই শেষ নয়। অনেক বড়। ইংরেজি দিলে অনেক জায়গা নেবে, আমি শুধু বাংলা করেই দিচ্ছি, লিঙ্ক[2] রইল, যাচাই করে নিতে পারেন।

জনগণনার কাজ: জনগণনার কাজে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর সেন্সাস ফর্মে ভরতে হবে। ব্যক্তি সম্পর্কে যে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে গোপন রাখা হবে। সত্যি বলতে এই তথ্য এমনকি আইনআদালতও পাওয়ার যোগ্য নয়। ঘরে ঘরে ঘোরার কাজ শেষ হলে ঐ ফর্মগুলো দেশের ১৫টা শহরের ডাটা প্রসেসিং সেন্টারে পাঠানো হবে। এই তথ্য প্রসেস করা হবে আইসিআর নামের এক আধুনিক প্রযুক্তিতে। ভারতে ২০০১ সালের জনগণনায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি সারা বিশ্বজুড়ে জনগণনায় জায়গা করে নিয়েছে। এতে ফর্মগুলোর স্ক্যান দ্রুত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্ম থেকে তথ্য নিয়ে নেওয়ার কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়। এতে খুব তাড়াতাড়ি বিশাল তথ্য প্রসেস করা সম্ভব হয়েছে আর তার ফলে মানুষ দিয়ে কাজ করানো আর খরচ দুটোই কমানো গেছে।

এনপিআরের কাজ: নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, বাবা-মা-স্বামী-স্ত্রীর নাম ইত্যাদি তথ্য একেকটি এবং প্রতিটি বাড়ি বাড়ি সংগ্রহ করা হবে। আপনার জাতীয়তা যাই হোক না কেন ভারতে বসবাসকারী সব ব্যক্তিই এর আওতায় আসবেন। এই কাজের সময় প্রতিটি বাড়িকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট বা প্রাপ্তি স্লিপ দেওয়া হবে। তারপর তথ্যগুলোকে কম্পিউটারে ঢোকানো হবে রাজ্যের স্থানীয় ভাষা ও ইংরেজিতে। এই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবার পর এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন ফটো, দশ আঙুলের ছাপ, এবং সম্ভব হলে চোখের তারার ছবিও সমস্ত ১৫ বছর বা তার চেয়ে বড় ব্যক্তির জন্য যুক্ত করা হবে। এটা করা হবে প্রতিটি গ্রামে এবং প্রতিটি শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্প করে। প্রত্যেক বাড়িকে ঐ ক্যাম্পে আগে দেওয়া স্লিপটা আনতে হবে। এই ক্যাম্পে আসার সুযোগ যারা হারাবে তারা তহশিল বা শহর স্তরে তৈরি করা স্থায়ী এনপিআর কেন্দ্রগুলোতে আসবার সুযোগ পাবে। পরের ধাপে তথ্যগুলো ছাপানো হবে এবং গ্রাম বা ওয়ার্ডের মুখ্য জায়গাগুলোয় তা টাঙানো হবে সবার দেখার জন্য। এইবার কোনও আপত্তি থাকলে তা নথিভুক্ত করা হবে। এইরকম প্রতিটি আপত্তি স্থানীয় রেভেনিউ দপ্তর অফিসার তদন্ত করবেন এবং লিখিত আকারে নিষ্পত্তি করবেন। কেউ নিষ্পত্তিতে অসন্তুষ্ট হলে অ্যাপিল করতে পারবেন প্রথমে তহশিলদারের কাছে, তারপর জেলা কলেক্টরের কাছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে গ্রামের গ্রামসভায়, শহরের ওয়ার্ড কমিটিতে ঐ তালিকা পেশ করা হবে। এই পর্যায়েও আপত্তি নিষ্পত্তি করা যাবে আগের মতোই। গ্রামসভা, ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপত্তি জানাতে হবে, না জানালে ধরে নেওয়া হবে তালিকাটি যথাযথ। এইভাবে যাচাই হওয়া তালিকাগুলো এবার আধার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে একই নাম একবারের বেশি ঢোকা বাদ দেওয়া এবং UID নম্বর ইস্যু করার জন্য। বায়োমেট্রিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমস্ত ডুপ্লিকেটকে এই স্তরে বাদ দেওয়া হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য UID নম্বরও তৈরি করা হবে। ইউআইডি নম্বর সহ এই পরিশুদ্ধ তথ্যভাণ্ডারকে তখন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল তথা সেন্সাস কমিশনারের অফিসে পাঠানো হবে, এবং এটিই হবে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার, এনপিআর। যেহেতু ইউআইডি সিস্টেম বায়োমেট্রিক তথ্যনির্ভর ডুপ্লিকেশন ছাঁটাই করে থাকে, তাই ১৫ বা তার বেশি বয়স্কদের (যার বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া আছে) প্রত্যেকের জন্যই এই নম্বর দেওয়া হবে। যারা ঐ বয়সের নীচে তাদেরকে (যাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেই) তাদের বাবা-মায়ের ইউআইডি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

প্রশ্ন F. What information will be collected? অর্থাৎ, কী কী তথ্য নেওয়া হবে?

—প্রত্যেক বাড়ির জন্য দুটো করে ফর্ম থাকবে। প্রথমটা হাউসহোল্ড এবং হাউসিং জনগণনা। তাতে ৩৫টা মতো প্রশ্ন থাকবে, বাড়ি কী দিয়ে তৈরি, ঘরগুলোতে কী ব্যবহার করা হয়, পানীয় জল, ল্যাট্রিন আছে কিনা এবং কী ধরনের, বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সম্পত্তি ইত্যাদি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে। দ্বিতীয় ফর্মটা এনপিআর সংক্রান্ত। তাতে থাকবে—

  • ব্যক্তির নাম
  • লিঙ্গ
  • জন্মতারিখ
  • জন্মস্থান
  • বিবাহিত কিনা
  • বাবার নাম
  • মায়ের নাম
  • স্বামী/স্ত্রীর নাম
  • বর্তমান ঠিকানা
  • বর্তমান ঠিকানায় কতদিন আছেন
  • স্থায়ী ঠিকানা
  • পেশা
  • জাতীয়তা, যা ব্যক্তিটি বলবেন
  • শিক্ষাগত মান
  • পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক

প্রশ্ন K. Do I need to show any documents to the enumerator? অর্থাৎ, গণনাকর্মীকে কি কোনও ডকুমেন্ট দেখানোর দরকার আছে?

—গণনাকর্মী আপনি যা বলবেন তাই লিখবে। আপনার কোনও প্রমাণ দেখানোর দরকার নেই। কিন্তু এব্যাপারে সতর্ক থাকুন যে আপনার দেওয়া তথ্য সঠিক এবং প্রামাণ্য। আপনি ফর্মে সইও করছেন। আপনার তথ্য মিথ্যা হলে জনগণনা এবং নাগরিকত্ব আইনে আপনার শাস্তি হতে পারে।

প্রশ্ন 26. Does the Citizenship Act 1955 cover Registration of usual residents or is it restricted to registration of Citizens alone? অর্থাৎ, ১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইনে কি সাধারণ বাসিন্দাদের সবার রেজিস্ট্রেশন হবে, নাকি তা শুধু নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

–The provisions of the Citizenship Act and Citizenship Rules give powers to the Central Government to lay down the procedures. The procedure as laid down envisages the creation of the NPR (a register of usual residents) as the first step towards creation of the NRIC (register of Indian citizens). Thus, the legal provisions of the Act and Rules cover the NPR as much as NRIC.

অর্থাৎ, নাগরিকত্ব আইন এবং তার নিয়মাবলিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কী পদ্ধতিতে করা হবে তা ঠিক করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। যে পদ্ধতি বলা আছে, তাতে সমস্ত বাসিন্দাদের নিয়ে একটি তালিকা অর্থাৎ এনপিআর তৈরির কথা বলা আছে, যা হচ্ছে এনআরআইসি (ভারতের নাগরিকপঞ্জি) তৈরির দিকে প্রথম ধাপ। ফলত, আইন এবং নিয়মাবলিতে যা বলা আছে তা এনআরআইসি এবং এনপিআর দুটোর জন্যই প্রযোজ্য।

তাহলে এখন কী দাঁড়াল? ২০১০-১১র এনপিআর আর এই এনপিআরে তফাত আছে, এখানে তো সরাসরি প্রথম বলা হয়েছে এই এনপিআরকে। আর এই শেষে তো সরাসরিই বলে দেওয়া হল, এনপিআর এনআরআইসি তৈরির দিকে প্রথম ধাপ। এনপিআর এবং জনগণনার কাজ আলাদা বিষয়। এনপিআরে আপত্তি জানানো যাবে ভোটার তালিকার মতোই। আধারের সঙ্গে যাচাই করে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে।

সরকারি ওয়েবসাইটে যা লেখা থাকে, তার বাইরেও অনেক কথা প্রচ্ছন্ন থাকে। আর এটা কোনও আইনের থেকে কোটেশন নয়, কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর। তবুও জেনে নেওয়া দরকার সরকার কী বলছে, কীভাবে করতে চাইছে। করণীয় কী, কোন পথে তা ঠিক করার সময় এসেছে। এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলারও! তার প্রস্তুতি চলছে অনেক জায়গায়!

 

আপাতত যেগুলি পরিষ্কার

একটু দেখে নেওয়া যাক, কী কী বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি:

  1. এনপিআর, এনআরআইসি-র প্রথম ধাপ।
  2. এনআরআইসি আগে বইতে ছিল। এবার সত্যি করে তালিকা বানানো হবে বলে ঘোষণা বা হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
  3. এনপিআরের কিছু কর্মসূচি আগে হলেও, দ্বিতীয় ধাপের বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ, আধার যোগ করা, এসব কাজ হয়নি।
  4. এই এনপিআরে আগে যারা তথ্য দিয়েছেন, তারা জানতেন না যে এই এনপিআর থেকেই দেশজোড়া জাতীয় নাগরিকপঞ্জি, মানে এনআরআইসি হবে। জানতেন কি? কাজেই ঐ তথ্য সংশোধনের দায় তার নেই। এখন ঐ তথ্য সংশোধনে অংশ নেওয়া মানে দাঁড়াবে সচেতনভাবে এনআরআইসি মেনে নেওয়া। সোশাল মিডিয়ায় কিছুটা সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছি, এমন কেউ কেউ আছেন যারা এনপিআরকে মেনে নিচ্ছেন, কিন্তু এনআরআইসি-বিরোধী, এখন তারা সেটা করার পরামর্শ দেবেন কিনা ভেবে দেখুন। আর তথ্য না পাওয়া সত্ত্বেও যদি তার ভিত্তিতে সরকার কাউকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরআইসি বা এমনকি এনপিআর থেকে বাদ দেয় তা বেআইনি হবে। আর এটা রাজনৈতিক লড়াই। এনআরআইসি, এনপিআর মেনে নিলে আপনি অনেকগুলো অন্যায় মেনে নেবেন।
  5. ধর্মের ভিত্তিতে আনা বিজেপির নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মুখেও পূর্বোক্তরা অসহায় হয়ে পড়বেন। কারণ এনআরআইসি-র কাট অফে যারা বাদ পড়তে যাচ্ছেন, বিজেপি বলবে আমরা তো কাউকে বাদ দিচ্ছি না, আমরা ‘নিপীড়িত শরণার্থী’দেরকে যুক্ত করব এই এনআরআইসি-তে। সাম্প্রদায়িক বা মুসলিমবিরোধী বলে এই সিএএকে আটকাতে তখন তারা কার্যত হালে পানি পাবেন না। তখন এ প্রশ্নও উঠবে, তারা কি সত্যিই সিএএ-বিরোধী?
  6. মনে রাখবেন আপনাকে, বা আপনার পাশের বাড়ির লোকটাকে ছাঁটাই করতে, আধার এক জোরালো ভূমিকা রাখবে। আধার কিছু দেয় না। ছাঁটাই করে। নাগরিকপঞ্জিও তাই। এনপিআরে আধার নেওয়া হবে দ্বিতীয় ধাপে।

 

ভারতজোড়া নাগরিকপঞ্জি (এনআরআইসি) কি অসমে হওয়া এনআরসি-র থেকেও ভয়াবহ?

এনপিআর বা জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার তৈরি হবে ভারতে বসবাসকারী সকল বাসিন্দাকে নিয়ে। তার থেকে ঝাড়াইবাছাই করে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা তালিকা তৈরি হবে। এই ঝাড়াইবাছাই-এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এনপিআর থেকেই সংগ্রহ করা হবে। যেমন, পরিবার প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, স্থায়ী ঠিকানা, আধার, দশ আঙুলের ছাপ, ফটো, এবং দরকার হলে চোখের তারার ছবি। এই তথ্যকে আধার নম্বর দিয়ে আপনার সঙ্গে যাচাই করে, তারপর সন্দেহজনকদের বাদ দিয়ে দেশজোড়া নাগরিক তালিকা বানানো হবে। এটুকু আইনেই আছে।

প্রশ্নটা হল এনপিআর নিয়ে আমাদের অবস্থান কী হবে। এনপিআরে অংশ নেওয়ার পক্ষের যুক্তিগুলি হল—

  1. এনপিআর আগেও হয়েছে।
  2. এনপিআরে অনেক তথ্য ঢুকে আছে, সেগুলোয় ভুল থাকলে ঠিক করে নেওয়া উচিত।
  3. এনপিআর একটি বাধ্যতামূলক বিষয়, এটা করতেই হবে, রাজ্য এটাকে আটকাতে পারে না।
  4. এনপিআর এনআরআইসি-র প্রথম ধাপ ঠিক, কিন্তু এনআরআইসি-তে যেহেতু কোনও কাট অফ তারিখ নেই, এটা এনআরসি-র থেকে আলাদা, এবং ক্ষতিকর নয়।

আসুন একেক করে দেখি। এনপিআর আগে হয়েছে প্রথম ধাপ। দশ আঙুলের ছাপ, ফটো, আধার নম্বর নেওয়া, চোখের তারার ফটো নেওয়া এসব আগের এনপিআরে হয়নি। যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা তালিকা বানিয়ে প্রকাশ্যে টাঙানোও হয়নি। আরও বড় কথা, আগে যখন এনপিআর হয়েছে, মানুষ জানত না যে এই তথ্য থেকেই জাতীয় নাগরিক তালিকা তৈরি হবে, তাই মানুষ জনগণনা বা সেন্সাসের অংশ ভেবে ঐ তথ্য দিয়েছে। আর, দ্বিতীয় ধাপ, মানে বায়োমেট্রিক তথ্য না নেওয়ায়, এবং প্রকাশ্যে তালিকা না টাঙানোয়, আগে এনপিআর হয়েছে একথা বলা সত্যের বিকৃতি।

এবার যখন এনপিআর হতে চলেছে, তখন সরকারের ক্রমাগত হুমকি আর দেশজোড়া বিতর্কের জন্য একটা সচেতনতা গড়ে উঠেছে যে এই এনপিআর থেকেই জাতীয় নাগরিক তালিকা বানানো হবে, সেখানে এনপিআরে ভুল আছে, সেগুলো ঠিক করে নেওয়া দরকার, এই অজুহাতে এনপিআরে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দেওয়াটা লোকের মধ্যে ভয়কে কাজে লাগানো। ঐ অসমাপ্ত, খণ্ডিত এনপিআরের ভিত্তিতে, বায়োমেট্রিক তথ্য না নিয়েই, কোনও নাগরিক তালিকা তৈরি করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে।

এনপিআর কি বাধ্যতামূলক? এনপিআর তৈরির একমাত্র উদ্দেশ্য (সরকার যাই মুখে বলুক) এনআরআইসি করা। এনআরআইসি বাধ্যতামূলক নয়, আইনিভাবেই নয়। সরকার এনআরআইসি করতে আইনত বাধ্য নয়। নাগরিকত্ব আইনের ১৪এ ধারায় shall শব্দটি নেই, আছে may, বলা আছে, সরকার মনে করলে এটাকে বাধ্যতামূলক হিসাবে করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জয়রাম রমেশ ও এক আইনজীবীর লেখা[3] এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য। এনআরআইসি করার সিদ্ধান্ত নিলে তবেই আসছে এনপিআর করার কাজ।

এরপরেই আসছে, সেই যুক্তি। যারা এনপিআর এবং এনআরআইসি মেনে নিচ্ছেন, তারা বলছেন, এনআরআইসিতে অসমের এনআরসি-র মতো কেন কাট অফ ডেট নেই। এ সম্পর্কে এটাই বলার, এনআরআইসি-তে সরাসরি কোনও কাট অফ তারিখ না থাকলেও, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে দুটো কাট অফ আছে, ১৯৮৭ আর ২০০৪। এবং সরাসরি সংবিধানেও কাট অফ তারিখ আছে।

সংবিধানের ৫ ও ৬ নং ধারায় যা আছে, তা সহজ করে বললে বলা যায়, অবিভক্ত ভারতে জন্ম নেওয়া মানুষেরা যদি ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০ (সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিন)-এর আগে তৎকালীন পাকিস্তান থেকে তৎকালীন ভারতে এসে থাকেন তাহলে তারা ভারতের নাগরিক হবেন।

ঐ তারিখের পরে কেউ ভারতে এলে কী হবে, সে সম্পর্কে সংবিধানে কিছু নেই।

এবার আসা যাক নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-র তিন নম্বর ধারায়। তাতে ১৯৮৭ সালের আগে বলা ছিল, যিনি ১৯৫০-র ২৬ জানুয়ারির পরে ভারতে জন্মাবেন, তিনিই ভারতীয় নাগরিক।

এর সংশোধন হল কংগ্রেস আমলে, চিদাম্বরম তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অসম চুক্তির প্রভাব টেনে আনা হল সারা ভারতে। বলা হল ঐ শর্ত প্রযোজ্য হবে যারা ১৯৮৭-র পয়লা জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে। পরে যারা জন্মেছেন, তাদের বাবা মায়ের অন্তত একজনকে ঐ জন্মতারিখে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।

এই ধারা বিজেপি অটলবিহারীর আমলে ২০০৩ সালে আবারও সংশোধিত হল। বলা হল, ২০০৩ সালের এই সংশোধনী কার্যকর হওয়ার দিনের পর যারা ভারতে জন্মাবেন, তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক হবেন যদি তার পিতামাতা দুজনেই ভারতীয় নাগরিক হন, বা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না হন। ২০০৩-এ নাগরিকত্ব আইনে সর্বপ্রথম অবৈধ অভিবাসী কথাটা আনা হয়। সেসময় বিজেপির সরকার। তার আগে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু মুসলিম শিখ প্রভৃতিরা আইনের ৫ বা ৬ ধারায় আবেদন করে নাগরিকত্ব পেতে পারতেন। কিন্তু ২০০৩-এর আইনে যারা বৈধ পাসপোর্ট/ভিসা ছাড়া এদেশে এসেছেন, তাদেরকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার রাস্তা বন্ধ করা হয়। শুধু তাই নয়, এরকম পিতা বা মাতার সন্তানের জন্ম যদি ২০০৩ সালের পর ভারতেও হয়, তাকেও নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ২০০৩-র সংশোধনীতে আসে এনপিআর, দেশজোড়া এনআরসি। সেদিন যাদের বাদ দেওয়া হল বিজেপি সরকারের সময়, আজ বিজেপি উদ্বাস্তু দরদ দেখিয়ে তাদের মধ্যে মুসলিমদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ভান করছে, সেখানেও ধর্মীয় নিপীড়ন প্রমাণের ফাঁদ রেখে দিচ্ছে। এর থেকে পরিষ্কার যে বহু আগে থেকেই পরিকল্পনামাফিক এই খেলা চলছে।

কী দাঁড়াল?!

এখন সংবিধানে যে কাট অফ তারিখ আছে, এবং নাগরিকত্ব আইনে যা আছে, তার ভিত্তিতে যদি এনআরআইসি বা জাতীয় নাগরিক তালিকা তৈরি হয়, তাহলে এখনকার বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ যদি ১৯৫০-র ২৬ জানুয়ারির পরে এদেশে এসে থাকেন তিনি ভারতীয় নাগরিক নন। তার সন্তান যদি ১৯৮৭-র পয়লা জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম নেয়, তাহলে সন্তান জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক, কিন্তু তার বাবা বা মা বা দুজনেই নন। যদি সেই সন্তান ১৯৮৭-র পয়লা জুলাইয়ের পর জন্ম নেয়, তাহলে বাবা মায়ের জন্ম এখনকার বাংলাদেশে হলে এবং প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে তারা ভারতে না এসে থাকলে, তাদের সন্তানও ভারতীয় নয়।

তাই যারা বলছেন এনআরআইসিতে কোনও কাট অফ নেই, তাই এটা এবং এটার প্রথম ধাপ এনপিআর-এ কোনও বিপদ নেই, তারা অর্ধসত্য বলছেন। কোনও কাট অফ তারিখ না ঘোষণা করে যদি সারা ভারতে এই কাজ হয়, তাহলে বাস্তবত কাট অফ ডেট দাঁড়াবে ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০, যা হবে অসমের এনআরসি-র থেকেও ভয়ঙ্কর। কারণ অসমে চুক্তি প্রয়োগের জন্য নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন করে কাট-অফ করা হল ২৫ মার্চ, ১৯৭১।

এনআরআইসি-কে মেনে নেওয়া মানেই কাট অফ তারিখের বৈধতা মেনে নেওয়া, আর যেই আপনি বলবেন ১৯৭১ করা হোক্, বা অন্য কোনও তারিখ, বাস্তবত তা অসমের এনআরসি হয়ে দাঁড়াবে।[4]

তাই কাট অফ ঠিক না করে এনআরআইসি তৈরি করা মানে কাট অফ হবে ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি এবং অসমের এনআরসি-র থেকেও তা ভয়ঙ্কর হবে। আর কাট অফই যদি ঠিক করতে হয়, তাহলে এনআরসির সঙ্গে তফাত রইল কোথায়, এনআরসি তো মেনে নেওয়াই হল।[5]

আর যারা এনআরআইসি-তে কাট অফ নেই বলে তার বিরোধিতা করছেন না, তারা বাস্তবত সিএএ-র বিরোধিতাও করতে পারবেন না। তাই না?

 

এনপিআর, এনআরআইসি ও সিএএ এবং আমাদের দায়িত্ব

এনআরসির কাট অফ ডেট ছিল অসমে ২৫ মার্চ, ১৯৭১। এনআরআইসি-র কাট অফ ডেট ঘোষণা হয়নি। কিছু ঘোষণা না করে এনআরআইসি হলে সংবিধানে যে কাট অফ ডেট আছে, ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০, তাই প্রযোজ্য হবে। এনপিআর করাই হচ্ছে একমাত্র এনআরআইসি তৈরি করার জন্য।

এতে এক বিপুল সংখ্যক মানুষ বাদ পড়বেন। অসমে যেমন পড়েছেন ১৯ লাখ, আরও সাড়ে তিন লাখ ডি-ভোটার। অসমে তো দেখাই যাচ্ছে, বাংলায় আরও বেশি করেই যারা বাদ পড়বেন তারা হচ্ছেন হিন্দু দলিত, গরীব এবং বিবাহের ফলে স্থানান্তরিত মহিলারা। ফলে এখন বিজেপি আগে নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী এনেছে। এনে বলছে, এই দেখো আমি তো বাদ যাতে না পড়ে, তার জন্য আইন এনেছি।

সিএএতে বলা হচ্ছে যে প্রতিবেশী বাংলাদেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে সেখানকার অত্যাচারিত সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু বৌদ্ধ শিখ খ্রিশ্চান পার্শি এরা যদি ভারতে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে এসে থাকেন, তাহলে তাদেরকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা হবে না, তারা এদেশে পাঁচ বছর থাকবার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

লক্ষ করে দেখুন দেশগুলোর নাম। এতে শ্রীলঙ্কা বা মায়ানমার নেই। সেখানে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা। সেখানে তামিলরা বা রোহিঙ্গারা অত্যাচারিত হননি? তারা কিন্তু এই আইনের আওতায় আসবেন না। টার্গেট মুসলিমপ্রধান দেশ, এদেশে টার্গেট মুসলমান নাগরিকরা। এই আইন নিশ্চিতভাবেই সাম্প্রদায়িক, সংবিধান-বিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং দেশকে আবারও ভাগ করার উদ্দেশ্যে করা। বিজেপি আরএসএস সেটাই চায়।

এনআরআইসি মেনে নেওয়া মানে এক বিপুলসংখ্যক দেশবাসীকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা। বিজেপি তাতে যে কৈফিয়ত দেবে তা হল সিএএ। বলবে আমি তো এদের নাগরিকত্ব দেওয়ার রাস্তা খুলছি। সেই রাস্তা আসলে সংবিধানের যেটুকু গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র আছে তাকে মুছে দেওয়া।

বিরোধিতার আওয়াজ জোরেসোরে ওঠাটা জরুরি। সে আওয়াজ হতে পারে ২০১৪-র ভোটার তালিকাকে নাগরিক ঘোষণার ভিত্তি ধরা। যাদের ভোটে জিতে তোমরা দেশে সরকার গঠন করেছ, তারা সবাই দেশের নাগরিক। সংবিধানের ৩২৫ ও ৩২৬ ধারা অনুযায়ী এ দাবি তোলাই উচিত।

সেক্ষেত্রে এনআরআইসি তার প্রয়োজনীয়তা হারাবে। এরকম স্লোগানই একমাত্র সিএএ এনআরসি এনআরআইসি এনপিআর-কে ঠেকাতে পারে। নতুন ভারতের রাস্তা দেখাতে পারে।

বাংলায় ধীরে ধীরে এ নিয়ে জনমত গড়ে উঠছে। মতবিরোধ আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির খেলা আছে। হয়তো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও আছে। কিন্তু একথা তো ঠিক, মানে এনআরআইসি-র যারা বিরোধী তারা একথা তো মানবেন, যে বাঙালিকে একটি জাতিসত্তা হিসাবে এতবড় আক্রমণের মোকাবিলা জাতিগতভাবে দেশভাগ বা বাংলাভাগের পর আবারও করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক চলুক খোলাখুলি। কিন্তু ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে এই বিপুল দায়িত্বের কথা অনুগ্রহ করে মাথায় রাখুন।


[1] http://censusindia.gov.in/2011-FAQ/FAQ-Public.html#B

[2]

[3] https://www.thehindu.com/…/the-dubious-…/article30141757.ece

[4] https://www.thehindu.com/…/nationwide-n…/article29620839.ece

[5] https://www.hindustantimes.com/…/story-xC7mUYNqLu9fnChq9TEE…

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2050 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...