মোদি-শাহকে ঝাঁকি দিয়ে ঝাড়খণ্ডবাসী দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল অবশিষ্ট ভারতের

প্রশান্ত ভট্টাচার্য

 

ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী জনজাতির মানুষেরা এবার বিজেপিকে খারিজ করেছে। বলা যায় শোচনীয়ভাবে হেরেছে বিজেপি। মোদি-শাহদের ঝার হয়েছে সারা ঝাড়খণ্ডেই। তবে সবচেয়ে করুণ ফল তফশিলি উপজাতি এলাকাগুলোতে। তফশিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ২৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। অথচ গত নির্বাচনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৮টার মধ্যে ১১টি আসন তুলে নিয়েছিল পদ্ম শিবির। তবে সেবার তাদের জোটসঙ্গী ছিল অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পার্টির (আজসু পার্টি)। এবার তাদের সঙ্গে জোট না হওয়া সত্ত্বেও দলের ক্ষতির সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা।

এই ফলে একটা জিনিস পরিষ্কার একা পাঙ্গা লড়ার ক্ষমতা এখনও বিজেপির হয়নি। আবার ম্যাড়া কোঁদে খুঁটির জোরে, এটাও ঠিক না। অন্তত ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনের ফলে সেটা বলা সমীচীন নয়। এর অন্যতম কারণ, এটা একটা ছোট স্টেট। বিধানসভায় আসন সংখ্যা মাত্র ৮১। কিন্তু ছোট যে অনেক সময় বড়র দাবি দাবিয়ে চলে, তার প্রমাণ দিল ঝাড়খণ্ড। একইসঙ্গে এই ফল থেকে একটা ইঙ্গিত ফের মিলল, ৫৬ ইঞ্চি বুকের ছাতির নরেন্দ্র দামোদরদাসভাই মোদির যতই ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকুক না কেন, রাজ্যের ভোটে জেতার ব্যাপারে তাঁর ইমেজের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা বিধানসভা ভোটে খারাপ ফলের পর ঝাড়খণ্ডেও হার বিজেপিকে বুঝিয়ে দিল স্রেফ মোদি-শাহর ড্রামাবাজিতে ভোট জেতা হবে না, চাই মাটির ছেলে, আঞ্চলিক নেতা। রাজ্য নেতার ইমেজ যে ফ্যাক্টর, তা হাতেগরমে প্রমাণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস জামশেদপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে হেরেছেন বিদ্রোহী বিজেপি নেতা সরযু রায়ের কাছে।

কয়েক মাস আগে পাশের রাজ্যে ছত্তিশগড়েও মোদি বাহিনি কংগ্রেসের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছে। মোদি সরকারের জল-জঙ্গল-খনি ভাবনা এতই জনবিরোধী, আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত এতই ন্যক্কারজনক, তা যতই স্পষ্ট হচ্ছে ততই রাষ্ট্র বনাম ভূমিপুত্রদের সঙ্ঘাত তীব্র হচ্ছে। প্রথমে বলে নিই ভারত নামক রাষ্ট্রটিতে যেসব রাজ্য আজ সম্পদ-শিল্প-বাণিজ্যে ফাটিয়ে দিয়েছে ভাব, যেখানকার অধিবাসীরা ধনদৌলতে একটা কেউকেটা ভাব নিয়ে চলে, সেইসব রাজ্যগুলো এলেমদার হয়েছে মূলত যে ৪টি প্রদেশকে লুন্ঠন করে, তার অন্যতম ঝাড়খণ্ড। সেই লুণ্ঠিত ভূখণ্ড আজ বিজেপির সাফল্যের মূল চাবিটি উলটো দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। দোবরু পান্না বীরবর্দী, কুন্তা, ভানুমতী, বানোয়ারিলাল, গিরিধারীরা যেন বলছেন, তোমার ৩৭০ বাতিল আমার নয়। তোমার রামমন্দির আমার মারাঙবুরু নয়। তোমার সিএএ আমার ধর্ম নয়। গোটা ঝাড়খণ্ড যেন বলছে, আমার গর্ভের ধাতু, কয়লা, অভ্র লুট করাই তোমার ধর্ম ভারত রাষ্ট্র, আমি তা আর লুট হতে দেব না। যে ভূমির সন্তান এখনও বোথুয়া শাকের ঝোল দিয়ে ঘাটো খায়, জোটে না ভাত, তারা বিজেপির হিন্দুত্বের স্লোগানে ভোলেনি। গত লোকসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চলের মানুষ বিজেপিকে হতাশ করেননি৷ কারণ, তখনও ভূমিপুত্রদের রাজনীতিতে আস্থা তাঁরা পুরোপুরি পাচ্ছিলেন না। অথচ একটার পর একটা প্রকল্প, খাদ্য-সুরক্ষা, একশো দিনের কাজ, ইত্যাদি সামাজিক প্রকল্পকে আধারের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে বিজেপি। এর সঙ্গে গরিব মানুষের ওপর নেমে এসেছে নানা অত্যাচার। লোকে অনাহারে মারা যাচ্ছেন আর আধারে ঢাকা হচ্ছে নাগরিক জীবনকে। তাই আজ পর্যুদস্ত বিজেপি।

ঝাড়খণ্ডের বিজেপি নেতারা নিশ্চিত ছিলেন, ফল তাঁদের পক্ষে যাচ্ছে। কেননা, টাকার থলি তাঁদের কাছে। ভোট তাঁরা টাকা ছড়িয়ে কিনে ফেলেছেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিজেপির কার্যকর্তারা। কেউ কেউ দেমাকের সঙ্গে বলছিলেন, ভোটে জিততে টাকা মুখ্য, বাকি সব গৌণ। বিজেপির নিচের স্তরের কর্মীদের মধ্যেও এই প্রত্যয় দৃঢ় হয়েছিল। রঘুবর দাসের নেতৃত্বে তাঁরা ফের ক্ষমতায় আনছেন, এমন একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁরা পাঁয়তারা কষছিলেন। এর সঙ্গে ছিল, যদি দু-একটা সংখ্যা কম পড়ে যায়, তাহলে টাকার জোরে নির্দল খরিদ করে নেবেন বা অন্য দল ভাঙিয়ে নেবেন। অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে বিজেপির নেতারা জেজিএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোটকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ধমকি দিচ্ছিলেন, ‘ওইসব গঠবন্ধন, মহাজোট  সব উড়ে যাবে। দু-চারটে যা কম পড়বে তা, কিনে নেব।’

এই কেনাবেচাটা ভারতীয় রাজনীতির অঙ্গ হয়ে উঠেছে। শব্দবন্ধ তৈরি হয়েছে হর্স ট্রেডিং। সবাই জানে, আর বলে ছাগল কুকুরের মতো জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা হয়। ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি চলে। ২০০০ সাল, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের সময় থেকেই দেখা গেছে প্রাকৃতিক সম্পদের রাজধানী এই রাজ্যটির রাজনৈতিক দলগুলো ও তার নেতারা বিপজ্জনক ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। শিবু সোরেন থেকে মধু কোড়া দুর্নীতির দায়ে জেল খেটেছেন। এই আদিবাসী নেতাদের একটা বড় ত্রুটির দিক এঁরা অল্পেই বিক্রি হয়ে যান। বর্ণহিন্দুদের সবচেয়ে সংগঠিত দল হিসেবে বিজেপি এটা জানে বলেই রাঁচির মসনদ দখলের ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ছিল। আর আমরা তো জানি, বিধায়ক বা সাংসদ কেনাবেচার প্রথম পাটোয়ারি ভারতের জাতীয় কংগ্রেস হলেও গত দু দশক ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আর শাহ-মোদি জুড়িতে তো বিজেপি এখন ফার্স্ট বয়। তবে ফার্স্ট বয়কে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন ‘মরাঠি স্ট্রংম্যান’ শরদ পাওয়ার। এই কেনাবেচার কারবার করতে গিয়ে গুজরাতের পাকা বেনিয়া মোদি-শাহরা মহারাষ্ট্রে কত চেষ্টা করলেন, রাজ্যপালকে নামিয়ে দিলেন, তারপরও শিক্ষা হয়নি। ওঁরা ধরেই নিয়েছিলেন আজসু-কে কিনে নেবে, আর সরকার হয়ে যাবে। কিন্তু ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বে মহাজোট যে এই সাফল্য পাবে, তা কল্পনা করতে পারেননি।

তবে ভোটের ফলের নিরিখে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির ভোট কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে। ২০১৪ সালে বিজেপি ৩১.২৬% ভোট পেয়েছিল। আসন ছিল ৩৭টি। কিন্তু এ বার তাদের প্রাপ্ত ভোট ৩৩.৩৭% শতাংশের বেশি। কিন্তু প্রাপ্ত আসন কমে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। যদিও এই ভোট বাড়ার পিছনের কারণ, এবার তারা একা লড়েছে ও ৮টি বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সেই নিরিখে বলা যায়, প্রাপ্ত ভোট খুব বেড়েছে এমন বলাটা সমীচীন নয়। তবে ২০১৪’র তুলনায় কমেছে এমনটাও নয়। মোট ভোট পাওয়ার নিরিখে বিজেপি যেখানে ৫০ লাখ ২২ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়েছে সেখানে জেএমএমের নেতৃত্বে ইউপিএ জোট পেয়েছে ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭২ ভোট। অর্থাৎ প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ইউপিএর থেকে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮টি ভোট কম পেয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অনেকেই বলছেন, এটা তো মাত্র ৩ লাখের চেয়ে কম ভোটে ফয়সালা হয়ে গেল। এটা মাইনর ডিফারেন্স! আমিও তাঁদের সঙ্গে একমত। কেননা, গণতন্ত্রে এই খেলাটা আছেই। সব দেশেই আছে। এই যে মোদি-শাহরা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করল, জম্মু-কাশ্মিরে জনজীবন অন্ধকার করে, এমনকী একটা রাজ্যকে গায়েব করে দিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে— সবই তো সংখ্যার জোরে। এই যে মোদি-শাহর সরকার রাতারাতি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন করে ফেলল, তাও সংখ্যার জোরে। ভোটের নিরিখে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটারেরও সমর্থন পায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডবাসীর যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সে খবর ছিল। বিশেষ করে প্যারাটিচার ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আন্দোলন নিয়ে রঘুবর সরকারের ভূমিকায় মানুষ ক্ষেপে ছিলেন। এমনকী, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর পাশাপাশি বেশ কিছু গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে, যা সাধারণ মানুষ, জনজাতির লোকেরা ভালোভাবে নেননি।

এর ওপর আরএসএসের উপজাতি সম্পর্কে যে ভাবনাচিন্তা ঝাড়খণ্ডকে তার পরীক্ষাগার হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এবং, রঘুবর দাসের বিজেপি সরকার অ্যান্টি-ধর্মান্তর আইন করেছে গত আগস্ট মাসে। যে আইনের বলে ধর্মান্তরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ৩ বছর জেল ও ৫০,০০০ টাকা জরিমানা। এটা উপজাতিরা মেনে নিতে পারেনি। কেননা, ঝাড়খণ্ডে এখনও ২৭ শতাংশ উপজাতি এবং ৪ দশমিক ৩ শতাংশ খ্রিস্টান। তবু বিজেপি নেতাদের ভরসা ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাজের তথাকথিত জোয়ারে এই জনরোষকে চাপা দেওয়া যাবে। তাঁরা ভেবেছিলেন স্থায়ী সরকারের পক্ষে মানুষের আকাঙ্ক্ষা আর অ-জনজাতি ভোটের ওপর ভর করেই তাঁরা রঘুবর-বিরোধী ক্ষোভ কাটিয়ে ভোট বৈতরণী পার হয়ে যাবেন। তাই নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ লাগাতার নির্বাচনী জনসভা করে নিজেদের সরকারের কীর্তিগাথা ছড়িয়ে গিয়েছেন। দেখিয়েছেন, ৭০ বছরে কংগ্রেস যা করতে পারেনি, ৫ বছরে মোদি তা করে ফেলেছেন। ভারত যেন এতদিনে প্রকৃত স্বাধীন হয়েছে। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা বিলোপ, রামমন্দির নির্মাণের সুপ্রিম কোর্টের ফরমান, সিএএ, এনআরসি করার মধ্য দিয়ে মোদির নেতৃত্বে এক নতুন ভারতের উন্মেষ হয়েছে।

এর বিপ্রতীপে কংগ্রেস ও জেএমএম স্থানীয় ইস্যুর ওপর জোর দেয়। তবে আমার বিবেচনায় মনে হয়, এগুলোও এই নির্বাচনের ফলে খুব একটা প্রতিফলিত হয়নি। জেএমএমের নেতৃত্বে নতুন সরকার তাঁদের জন্য রামরাজ্য গড়ে দেবে— এমন আকাশকুসুম প্রত্যাশাও তাঁদের নেই। এমনকী, রাজনীতির পরিসরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে, সাধারণ মানুষের ওপর পীড়ন কমবে, এমন স্বপ্নও তাঁরা দেখছেন না। মনে রাখবেন, ভারতের যে ভূখণ্ডের অধিবাসীদের ৩৭% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, ৩৫% লোক খেতমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, যেখানে এখনও শুধু পেটেভাতের চুক্তিতে মানুষ ‘ভাতুয়া’ নামক অন্নদাসত্ব খাটে, যেখানে এখনও আদিবাসী শিশুরা ভাদ্র-আশ্বিনেই ভাতের জন্য কাঁদে, কেটে নেওয়া ভুট্টার গাছ খিদে নিবৃত্তির জন্য আখের মতো করে চিবিয়ে খান, তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে স্বচ্ছতা চাইবেন কোন বুদ্ধিতে!

তবে এই আদিবাসী, জনজাতির মানুষগুলো বুঝেছেন দীর্ঘদিন ধরে ভারত নামক রাষ্ট্রটি তাঁদের জল-জঙ্গল-খনির অধিকার লুট করে নিচ্ছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে সেই হুলের পর থেকে প্রজাতান্ত্রিক ভারত হওয়া পর্যন্ত এই ভূখণ্ডে বহিরাগতর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ গুণ। পাশাপাশি ভূমিসন্তানরা ঘরছাড়া হয়েছে বিরাট সংখ্যায়। ভিটেমাটি ছেড়ে লাখো লাখো মানুষ অসম-উত্তরবঙ্গের চা-বাগানে বা অন্য কোথাও মজুর হিসেবে বসত গড়তে বাধ্য হয়েছেন। ১৯৫০ সালেও যেখানে ঝাড়খণ্ডে লোকসংখ্যায় আদিবাসীরা ছিলেন ৩৬%। সেটা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ২৭%-এ। এমনকী, প্রজাতান্ত্রিক ভারতে তফসিলভুক্ত হওয়ার সুযোগও তাঁদের জোটেনি। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে বিজেপি এখানে প্রথম অ-আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রী বসায়। সাঁওতাল পরগনা টেনান্সি অ্যাক্ট ও ছোটনাগপুর টেনান্সি অ্যাক্ট আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার যে সীমিত সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিল, বিজেপি সরকার সেগুলোকেও বিলোপ করতে চায়। এর ভিতরেও আদিবাসীদের যেটুকু জমি অবশিষ্ট আছে, সর্বগ্রাসী কর্পোরেট সেক্টরের নজরও  সেটুকুর ওপর। রঘুবর দাসের সরকারের আমলে এই হাঙররা আরও ক্ষমতাশালী হয়েছে। এর ওপর আছে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের নামে হুমকি। পাঠক মনে রাখবেন কোনটা হুমকি আর কোনটা প্রেম, সেটা বোঝার জন্য কোনও স্কুল-কলেজের পাঠ দরকার হয় না। হুমকির ভাষা বোঝার জন্য অক্ষরপরিচয় লাগে না। দুর্ভাগ্যের বার্তা পড়ার জন্য সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। তাই সিএএ, এনআরসি, ৩৭০, রাম জন্মভূমি, তিন তালাক, বিক্রমের মুখ থুবড়ে পড়া— কোনও কিছুই তেমন করে দাগ কাটেনি ওঁদের প্রাত্যহিকতায়। বরং সাধারণ বোধবুদ্ধিতে ও অভিজ্ঞতায় তাঁরা এটা বুঝেছেন যে, ৭০ বছর ধরে চলে আসা বহুত্ববোধটাকে কারা যেন বিপজ্জনকভাবে আঘাত করছে। চেনা পরিসরে বড় ধরনের একটা গোলমাল পাকিয়ে দিতে চাইছে।

বিজেপির এই রাজনীতি আজ যেভাবে রাজ্যে রাজ্যে মানুষ পথে নেমে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে, তাতে ভারতের সাধারণ জনতার সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীরা ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন। আমাদের কাজ এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2458 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...