এ এক নতুন ভারত, এখানে ভয়ের শাসন জারি

সত্যব্রত ঘোষ

 

I’m scared of being scared
I want to find myself facing my fears
Diving head first into danger
But don’t want to hesitate knowing,
fear itself might hold me back.

–David Taylor

সেই সন্ধ্যাতেই কথাটা প্রথম মনে হয়েছিল। যখন চারদিক থেকে দৌড়ে এসে এটিএম বুথের সামনে লাইন দেওয়া মানুষগুলির আশঙ্কিত মুখে শুনেছিলাম পুরনো ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট আর চলবে না। বাড়িতে ফিরে টেলিভিশনে দেখছি আত্মবিশ্বাসী রবিশঙ্কর প্রসাদ আর অরুণ জেটলি বলছেন, কালো টাকার বিরুদ্ধে একটি কড়া সরকারি পদক্ষেপ হিসেবেই সরকার হঠাৎ নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনীতি নিয়ে নানারকম আজব দাবিও তাঁরা করছিলেন ক্যামেরার সামনে। কিন্তু আমার কান সেদিকে ছিল না। ভাবছিলাম, ভোটের বাইরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেশের সরকারের বাস্তবিক কোনও সম্পর্ক আছে কি? সরকার কি আমার আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

ধর্ম এবং জাতপাতের বিভিন্ন অঙ্ক কষে ভোট আদায় করবার পর শাসনক্ষমতায় এসে নতুন সরকার প্রথমেই সাধারণত যা করে থাকে, তা হল পছন্দসই এক মন্ত্রণাসভা নির্মাণ। পদাসীন প্রশাসকদের বদলির নোটিস ধরিয়ে এমন কিছু মানুষদের সে নিজের কাছাকাছি নিয়ে আসে, যারা ক্ষমতাধারী শাসকের ইচ্ছাকে শিরোধার্য করবার জন্য দেশের সংবিধান এবং আইনাবলিকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নিজেদের স্বপক্ষে ব্যবহারে সমর্থ। এই কাঠামোটি পোক্ত না হওয়া অবধি জনগণের প্রতি শাসকগোষ্ঠী বিনয়ের পরাকাষ্ঠা হয়ে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়ে যান। কিন্তু প্রশাসনের মূল ঘুঁটিগুলি মনোমত মানুষদের দখলে আসবার পরেই সরকার এবং জনগণের দূরত্ব রচনা শুরু হয়।

সাধারণ মানুষ যখন তাঁদের আশা-আকাঙ্খা পূরণের সম্ভাবনায় বুক বাঁধেন, শাসকরা তখন রাজনৈতিক ফায়দা আর লোকসানের অঙ্ক কষে নীতিপালনের সদিচ্ছাকে সংযত রাখে। প্রজাদের প্রতি শাসক কৃপা করতে পারেন বটে, কিন্তু অধিকাংশ সময়েই দলগত এবং ব্যক্তিস্বার্থে বৃহত্তর প্রজাসমূহের তথা দেশের মঙ্গলচিন্তা তাঁর মনে বিশেষ রেখাপাত করে না। অভিযোগের ডাঁই জমছে দেখলেই একপ্রস্থ প্রচার ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয়। পরিস্থিতি একান্তই বেসামাল হয়ে উঠলে অবিন্যস্ত সমাজদেহটিকে আরও একটু বিভাজিত করে শাসকের টলমল সিংহাসন কিছুটা সময়ের জন্য জমাট রাখবার ব্যবস্থা হয়।

শাসকদের এহেন আচরণ সম্পর্কে জনগণ কমবেশি ওয়াকিবহাল। তাই শাসক বা সরকার— কাউকেই বিশেষ তোয়াক্কা করেন না তাঁরা। শাসককুলও ভালো জানে সে কথা। তারা বা তাদের প্রতিনিধিরা পিছনে ফিরে আড়াল হলেই মানুষ তাদের গালাগালি দিতে শুরু করেন। তাহলে শাসক এই বিক্ষুব্ধ মানুষগুলিকে বাধ্য প্রজায় পরিণত করবেন কী করে? ২০১৬ সালে ৮ই নভেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর ছিল মোদি সরকারের সেই পরীক্ষা পর্ব।

নোটবন্দির বিরুদ্ধে সমালোচনা যতই সোচ্চার হোক না কেন, এই পরীক্ষাপর্বের পর বিজেপি এবং আরএসএস মোটামুটি আশ্বস্ত হয় যে প্রশাসনযন্ত্রকে নিজেদের পথে চালিত করলে আকাঙ্খিত ফললাভ সম্ভব।

এরপর আমরা দেখি ঘরেতে কালো টাকা আসবার পরিবর্তে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। একদিকে নতুন ছাপা নোটগুলির সীমিত বন্টন, অন্যদিকে ডিজিটাল পেমেন্টের নিত্য নতুন গজিয়ে ওঠা কোম্পানির রমরমা। খুচরো ব্যবসায়ীদের আরও বিপদে ফেলে দেয় যখন সরকার জিএসটি ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়। এই সঙ্কটকালে এলোমেলো কথার ভিড়ে যে প্রশ্নটি বারবার আমাকে বিব্রত করে, তা হল: যে পদানুসীন ব্যাক্তিবর্গ, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিসমূহ পরিবর্ধন বা পরিমার্জন অথবা ব্যাখা করে প্রশাসনকে সচল রাখেন, তাঁদের বিশ্বস্ততা সরকারি আইনের প্রতি ন্যস্ত, নাকি সরকারের দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের? প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক, নোটবন্দি পর্বের মাস দুই আগে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬-য় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর পদ থেকে অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন ইস্তফা দেন। তারপরে মোদির ‘পছন্দসই’ অর্থনীতিবিদ উর্জিত প্যাটেল দুই বছর দুই মাস থেকে গভর্নর পদ থেকে সরে যান। অর্থাৎ, ২০১৬-র সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮-র সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে মোদি-জেটলিদের যে নির্দেশাবলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দপ্তরে আসে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি নীতির পরিপন্থী হবার কারণেই পেশাদার দুই অর্থনীতিবিদ প্রতিবাদ জানিয়েই ইস্তফা দেন। কিন্তু তা সঙ্কেত হিসেবে গ্রহণ না করে বিজেপি সরকার প্রথম পর্যায়ে যে স্বেচ্ছাচার চালিয়ে যায়, তাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি তো ধ্বসে পড়বেই।

গত সত্তর বছরে স্বাধীন ভারতের নাগরিকদের নৈতিক চরিত্র ক্রমশ তলানিতে এসে পৌঁছেছিল। মোদি সরকারের বদান্যতায় অর্থনৈতিক সঙ্কটে ব্যতিব্যস্ত মানুষগুলি পারস্পরিক সৌহার্দ এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে ভুলে টিকে থাকবার এক নিঃসঙ্গ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হল।

But fear of the inexplicable has not alone impoverished
the existence of the individual; the relationship between
one human being and another has also been cramped by it,
as though it had been lifted out of the riverbed of
endless possibilities and set down in a fallow spot on the
bank, to which nothing happens.

–Rainer Maria Rilke

ভয়টা তখন ছিল ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে ঘিরে। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনের আগে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর গাড়িগুলিতে তথাকথিত ‘জঙ্গি আক্রমণ’ ঘটবার পর ভয় এখন সর্বব্যাপী। মোদির বিরুদ্ধে অন্য রাজনৈতিক দলগুলি যখন জোট বেঁধে দেশের শাসনভার ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি তুলছে, তখনই রাষ্ট্রপ্রেম এবং রাষ্ট্রবিরোধিতার স্থূল ফারাকগুলি দিয়ে গত পাঁচ বছরের ব্যর্থ শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে অভিযোগগুলিকে নস্যাৎ করে দেওয়া হল। সারা দেশে ‘গোহত্যা’-কে কেন্দ্র করে অসহিষ্ণু হিন্দু সম্প্রদায় যে গণপ্রহারের ধারাবাহিকতার জন্ম দিয়েছিল, মানুষ সেই আতঙ্ককে ভুলে মোদি সরকারকেই আবার শাসনের সুযোগ দিল। না, বলা ভালো বিরোধী শক্তিগুলিকে রাষ্ট্রবিরোধিতার ভয় দেখিয়ে ছত্রাকার করে দিয়ে বিজেপি এবং আরএসএস বিভাজনের রাজনীতির সুবাদে দ্বিতীয়বার শাসনক্ষমতা ছিনিয়ে নিল।

মোদি ২.০ যে ভারতীয় জীবনকে ভয়ের নাগপাশ থেকে রক্ষা করতে পারবে না, তা গত মে মাস থেকেই বোঝা গেছিল। তবে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারপত্রে ছাপা কাজের তালিকায় একটা একটা করে টিক মারবার জন্য এত দ্রুত যে সে সক্রিয় হবে তা সম্ভবত আন্দাজ করা যায়নি। শাসনের চার মাস যেতে না যেতেই ভারতে এত কিছু ঘটতে শুরু করল যা গত চল্লিশ বছরে ঘটেনি। এবং ঘটনাগুলির প্রকোপ এতটাই যা নাগরিক স্বাধীনতার ধারণাকে দলে পিষে দেয়। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময়েও যে দমচাপা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তা মানুষকে এমনভাবে অসহায় বানাতে পারেনি। এখন তা সম্ভব হল এই কারণেই যে সোচ্চার এক উগ্রবাদী রাজনীতির মাধ্যমে শুধু মুসলমানদের থেকে হিন্দুদেরই নয়, এক নাগরিকের সঙ্গে আরেক নাগরিকের বিভেদ উসকে দেওয়া হল।

নোটবন্দির সিদ্ধান্তটির মতোই আর একবার অন্ধকার রাতে কাশ্মিরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পাশাপাশি একটি রাজ্যকে দুটি রাষ্ট্রপতি শাসিত অঞ্চলে ভাগের ঘোষণা করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই। গোপনীয়তার কারণ হিসেবে জানানো হল রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পাকিস্তানের যোগাযোগ আছে। তাদের মাধ্যমে পাকিস্তান যাতে ঘূণাক্ষরে টের না পায়, তার জন্য এমন আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা। কিন্তু এর ফলে ঘরছাড়া কাশ্মিরী পণ্ডিতদের শ্রীনগরে ফেরানোর কাজটা খাতায় কলমে কতটুকু সহজ হল, তার হিসেব হয়তো নাগপুরের সঙ্ঘচালকরা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এমন চরম সিদ্ধান্তটি নেওয়ার ফলে দেশের মুসলমানদের যে অমোঘ বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হল তা হিন্দুসমাজে অসুরক্ষিত হয়ে যাওয়ার ভাবনাকে জোরদার করে। এবং তারপরে প্রধানমন্ত্রীর ঘনঘন বিদেশ যাত্রা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উদ্গার ধর্মনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। যে ভারতে আমরা এতকাল বসবাস করে এসেছি, সেই দেশ কারও জন্যই আর নিরাপদ নয়। অনেকেই নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতার সেই স্তবকটিকে আপন করে নেন, যেখানে তিনি বলছেন ‘এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’।

হিন্দুরাষ্ট্র নামক বিষবৃক্ষটির বীজে জল দেওয়ার মতো করে আমরা অযোধ্যার রামমন্দির নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর তৎপরতা দেখেছি। কিন্তু অবাক হয়ে দেখবার ছিল শিবসেনার আচরণ। মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রীর আসনটি দখল করবার জন্যে বিজেপির দীর্ঘদিনের সহযোগী এই উগ্র হিন্দু দলটি শারদ পাওয়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপিকেই মহারাষ্ট্রে অপাঙক্তেয় করে দিল। রাম মন্দিরে করসেবার জন্য যাদের রক্ত জল করে দেওয়া চিৎকার এতকাল দেশের পশ্চিম, মধ্য এবং উত্তর ভারতের আকাশ বিদীর্ণ করে এসেছে, রাম মন্দির নির্মাণের এই ‘শুভক্ষণে’ তারা এখন স্তব্ধ। বলা বাহুল্য, বিজেপি-র প্রতিশোধপরায়ণতা এবার দাঁত-নখ বার করেছে।

অসমে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রায় চার বছর ধরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের কাজ চলবার পর যে উনিশ লক্ষ মানুষকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়া হল, তাঁদের প্রায় ষাট শতাংশ হিন্দু। এই তথ্য আবিষ্কারের পর দেশের নাগরিক আইন সংশোধনের জন্য বিজেপি উঠেপড়ে লাগে। এই বিল স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে একটি জলবিভাজিকা। কারণ এই প্রথমবার ভারতের নাগরিকত্বের নির্ধারণে ধর্মকে ফ্যাক্টর করা হয়। এই বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের ভারতভুক্তির কথা বলা হল, শুধুমাত্র মুসলিমদের বাদ রাখা হল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে লোকসভায় আইন সংশোধনের বিলটি পাশও হয় যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে রাজ্যসভায় যখন বিলটি অনুমোদনের জন্য পৌঁছায়, তখন আমরা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে দেখি, যে বিরোধীপক্ষ বলতে যা কিছু এতকাল সজীব ছিল, তা সম্পূর্ণভাবেই ছত্রাকার হয়ে গেছে। সার্বিক এক সামাজিক বিভাজনের শিকার সাধারণ ভারতীয়দের যারা প্রতিনিধিস্বরূপ, তাঁদের এই দ্বিধান্বিত রূপ নতুন এক সন্ত্রাসের জন্ম দেয়।

বর্ষশেষে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শেষতম ও সম্ভবত ভয়ঙ্করতম রূপ আমরা দেখলাম উত্তরপ্রদেশে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল সারা দেশ, শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশে সরকার আন্দোলনরত নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়। ট্রিগার-হ্যাপি রাষ্ট্রের পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে নিহতের সংখ্যা ২৬, আহত ও গ্রেফতার সহস্রাধিক। রাষ্ট্রীয় হিংসার কোনও প্রতিকার নেই, তবে প্রতিশোধ বুঝে নিতে হবে যদি দেওয়ালে পিঠ থেকে যাওয়া জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস করে। কারণ একতরফা হিংসার অধিকার শুধুমাত্র রাষ্ট্রের।

প্রকৃতপক্ষে, এই সন্ত্রাস থেকেই নতুন ভারতের জন্ম হতে দেখছি। যে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিতেই বারবার আঘাত হেনে চলে। মিথ্যার প্রচারে এখানে এখন এমন জোয়ার লেগেছে, যে দারিদ্র, অবহেলা এবং নিপীড়নের যন্ত্রণায় মানুষের দীর্ঘশ্বাসটুকুও আর নজরে আনছে না শাসকদল। ২০১৯-এর শেষে পৌঁছে হঠাৎ আমরা অনুভব করছি, দেশে কোনও মানুষ নেই, সকলেই হিন্দু মুসলিম শিখ খ্রিস্টান ইত্যাদি ধর্মপরিচয়ে ভাগ হয়ে গেছেন। দেশের সমস্যার মূল শিকড় ‘Have’ ও ‘Have nots’-দের দ্বন্দ্বে এই কথা ভুলিয়ে দিতে পেরেছে ‘গণতান্ত্রিক’ সরকার, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ভয় এটাই।

 

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2050 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...