আতঙ্কবাদী ‘হিন্দুরাষ্ট্র’কে বাধা দিচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিস্পর্ধা

প্রবুদ্ধ ঘোষ

 



লেখক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের রিসার্চ ফেলো। দাবাড়ু, প্রশিক্ষক এবং বেঙ্গল চেস অ্যাসোসিয়েশনের মিডিয়া-কোঅর্ডিনেটর।

 

 

 

 

ছাত্রদের নির্দিষ্ট শ্রেণি হয় না, কারণ তারা সমাজের উৎপাদন-পদ্ধতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। তাদের যা থাকে, তা সংবেদনশীলতা এবং আবেগ। ছাত্ররা মানবশরীরে প্রবাহিত রক্তের মতো। রক্ত যেমন সংবাহিত হয়ে দেহের কোষে কোষে পৌঁছে যায়, দেহের প্রত্যেক অংশ ও অঙ্গকে ক্রিয়াশীল রাখতে উষ্ণ রক্ত শিরায়-ধমনীতে প্রবাহিত হয়, ছাত্ররাও সমাজে সেই ভূমিকা পালন করে।

হঠাৎ আঘাতে শরীরের কোনও ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত হলে কী হয়, জানা আছে নিশ্চই? কিছুক্ষণের মধ্যে অণুচক্রিকা ক্ষতস্থানে ছুটে এসে জমাট বাঁধতে থাকে, রক্তপাত বন্ধ করে। শ্বেত রক্তকণিকা সংক্রমণ ইত্যাদি থেকে ক্ষতস্থানের জমাটরক্তকে রক্ষা করে নিরাময়ে সাহায্য করে। সেই ক্ষতস্থানকে মেরামত করতে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত কোলাজেন তৈরি করে, নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে। গ্র্যান্যুলেশন টিস্যু তৈরি হয়ে আহত টিস্যুর জায়গা নেয়। সেই টিস্যু ক্রমশ শক্তিশালী হয়, নতুন চামড়ার আভাস দেখা দেয়। ছাত্ররা রাষ্ট্রের হাতে মার খেলে, রাষ্ট্রের বোবা-কালা সৈনিকদের হিংসার শিকার হলে, এভাবেই ছাত্রসমাজ সেই ক্ষতস্থান পূরণ করে।

 

***

মওত্‌ অন্ত্‌ হ্যায় নেহি তো মওত্‌ সে ভি কিঁঊ ড্যরে
ইয়ে যাকে আসমানোঁ সে দাহাড় দো…
জিস কবি কি কল্পনা মেঁ জিন্দ্‌গি হো প্রেম গীত
উস্‌ কবি কো আজ তুম নকাড় দো
ভিগ্‌তি নসোঁ মেঁ আজ, ফুল্‌তি রগোঁ মেঁ আজ
আগ্‌ কি লপট্‌ কা তুম বধাড় দো

ভারতবর্ষের রাজনীতি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যখন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের রক্তপাতের শোকে দেশের গ্রাম-নগরের বহু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মিছিল করছে। জামিয়া মিলিয়া বা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের রক্তঝরার ছবিতে ব্যথা পেয়ে অন্য রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা শাসকের সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেছে। ‘এলিট-নন্‌এলিট’, ‘মেধাবী-সাধারণ’– শাসনকাঠামোর তৈরি করে দেওয়া ছাত্রভেদী বাইনারিগুলো কাজ করছে না! কারণ, প্রত্যেক বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রী তাদের সহনাগরিকদের আতঙ্ক ও প্রতিস্পর্ধার দ্বন্দ্বমূলক বয়ানে বুঝে যাচ্ছে যে, এই লড়াইটা দীর্ঘস্থায়ী। এই লড়াই শুধুমাত্র নিজেদের ক্যাম্পাসের অর্থনৈতিক দাবির লড়াই নয়, নিজেদের পরিধির দাবিদাওয়া আদায়ের লড়াই নয়। এই লড়াই অস্তিত্বের। ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার প্রতিটি ভারতবাসীর অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। ক্ষমতাশালী শাসকের মতাদর্শ এবং আধিপত্যের বীজ দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে সার-জল পেতে পেতে এখন বিষবৃক্ষের রূপ পেয়েছে। সংবিধানের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিভিন্ন রঙের শাসকের অধীনে ক্ষুণ্ণ হতে হতে এই শাসকের আমলে তলানিতে এসে ঠেকেছে; আর, ন্যূন্যতম অধিকারও গেরুয়া শাসকেরা কাউকে দেবে না। নেশন-স্টেটের আদলে হিন্দু-রাষ্ট্র গড়ে তুলতে গেলে সমস্ত বিরোধাভাস এবং বহুত্বকে মুছে বা একমুখীন (শাসকের মতাদর্শাভিমুখী) করে গড়ে নিতে হয় শাসককে– সন্ত্রাসবাদী আরএসএসের মতাদর্শবাহক বিজেপি ঠিক সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করতে চাইছে। স্বাধীনচেতা, ভাবতে শেখা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধটা সেখানেই। আর, ছাত্রছাত্রীরাও খুব ভাল করে বুঝে যাচ্ছে যে, এই লড়াই ইস্যুভিত্তিক নয় কিংবা শুধুমাত্র কলেজের ইউনিয়ন দখলের নয়। রাষ্ট্রবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের লড়াই, রাষ্ট্রের সর্বগ্রাসী দখলদারির বিরুদ্ধে নিজের ও সহনাগরিকদের অস্তিত্বের স্বাধীনতার যুদ্ধ। এখানে ছাত্রছাত্রীরা বোধহয় তাই নিজেদের পৃথক করে দেখছে না। এই যে সংহতি তৈরি হয়েছে, শাসকের দুশ্চিন্তার কারণ এটাই। আর, শাসকের বেশ কিছু ‘টার্গেট’ থাকে। ‘ব্যাটল্‌ অব আলজিয়ার্স’ ছবিতে কিছুতেই দ্রোহী আলজিরিয়ানদের গণআন্দোলন এবং শহুরে গেরিলা আক্রমণ প্রতিহত করতে না পেরে ফ্রান্সের স্বনামধন্য যুদ্ধবিশারদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে এসে যুদ্ধনীতি ঠিক করে, আন্দোলনের মাথাদের মেরে ফেলা এবং বিদ্রোহের চেতনা-উৎসগুলোকে চুপ করিয়ে দেওয়া। নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতিতেও এর বাত্যয় হচ্ছে না; যে শিক্ষাকেন্দ্রগুলো সবচেয়ে প্রতিবাদী, তাদের ছলে-বলে কৌশলে চুপ করিয়ে দেওয়া, রক্তাক্ত করা। জেএনইউ দেশদ্রোহী, জেএনইউ নেশা-যৌনতার অবাধভূমি, জেএনইউ ভারতীয় জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন, জেএনইউতে হাতে গোনা কিছু ছাত্রছাত্রী সরকারের বিরোধিতা করে কিন্তু বাকিরা শান্তিপ্রিয়, বাধ্য– এরকম বিভিন্ন বয়ান শাসকের পক্ষ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল জনমানসে। কিন্তু, এই বয়ান আর বিশ্বাসযোগ্য নয়, শাসকের এই প্রচারের সারবত্তাহীনতা পরিষ্কার। বরং নাগরিকত্ব বিল ও বিভেদের নামে যে যুদ্ধ ভারত সরকার ঘোষণা করেছে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে, সেই যুদ্ধে নাগরিকদের প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে ছাত্ররাই; অতিসম্প্রতি ফি বাড়ানোর বিরোধিতা থেকে নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা থেকে দেশ বাঁচানোর লড়াই– ছাত্রছাত্রীদের এই ‘জার্নি’ রাষ্ট্রনেতাদের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অস্বস্তির হাঁসফাঁস আবহ থেকে ছাড়া পেতে শাসকের কাছে যে অস্ত্র পড়ে থাকে, তা হচ্ছে সরাসরি দমনপীড়ন। আইডিওলজিক্যাল স্টেট অ্যাপারেটাসগুলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ না-করা গেলে, রিপ্রেসিভ স্টেট অপারেটাসের নির্মম প্রয়োগ ছাড়া কীই বা করতে পারে শাসক? জামিয়া মিলিয়ায় বা আলিগড়ে কিংবা মুখোশে মুখ ঢেকে জেএনইউ-র হস্টেলে হস্টেলে ঢুকে রাষ্ট্রবিরোধী দেশপ্রেমিক ছাত্রছাত্রীদের ওপর যারা আঘাত করেছে, তারা আসলে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি; আর, এই আক্রমণ রাষ্ট্র করেছে। তাই, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আতঙ্কবাদী সদস্যদের চিহ্নিত করা গেলেও, কোনও শাস্তি হয় না; সেই জন্যেই দিল্লি পুলিশ নিজেদের আতঙ্কবাদী অবস্থান স্পষ্ট করছে; আর, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের আতঙ্কবাদী ভূমিকায় সমর্থন যোগাচ্ছে। সিএএ-এনপিআর বিরোধী যুদ্ধে জেএনইউ-যাদবপুরের ছাত্র আর মালদহের প্রত্যন্ত গ্রামের চাষির তফাৎ নেই, কর্নাটকের কারখানার শ্রমিক আর উত্তরপ্রদেশের কলেজছাত্রীর তফাৎ নেই। এই যোগসূত্র আরও দৃঢ় হচ্ছে, আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠছে শাসকের সন্ত্রাসবাদ।

 

***

খুলি হো সড়্‌কে, তাম্বু, থানে চাহে মিল ভিল হো ইয়া পাস মেহ্‌কামা
জিস্‌মে বাঁচনা হো, বাঁচলে, বাঁচ মেরি জান তেরি ক্যাহ্‌কে লুঙ্গা
যা তু চাদারিয়া নাত্তি সাগর বিচ বাজারিয়াঁ, পাতাল মেঁ ঘুস্‌ যা
জিস্‌মে ঘুসনা হো, ঘুস্‌ লে, ঘুস্‌ মেরি জান তেরি ক্যাহ্‌কে লুঙ্গা

‘আমার কোনও ভয় নেই তো?’ বলা দুধে-ভাতে থাকা মানুষেরাও পথে নামছে। যে অধ্যাপক আমায় বলছিলেন যে, ২০১৪ সালে ‘হোক কলরব’-এর সময়ে শেষ এরকম এত মানুষের সঙ্গে ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে পথ হেঁটেছিলেন, তিনিও এনআরসি-সিএএর বিরুদ্ধে ও জেএনইউ-তে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, নামছেন। আর, তিনি হয়তো বুঝতেও পারছেন যে, মিছিলে পথ হাঁটা আর বারবার সন্ত্রাসবাদী বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্বরে গলা মেলানো ঘন ঘন করতে হবে তাঁকেও। জেএনইউতে এবিভিপি ও হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে আহত ২০ জনের মধ্যে রয়েছে আমার দুই ছাত্রছাত্রী। যাদবপুরের তুলনামূলক সাহিত্যবিভাগে পড়ার পরে তারা জেএনইউ গেছে পড়তে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে আমাদের তুলনামূলক বিভাগে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছে যে ছাত্র, বিজেপি-বিরোধী মিছিলে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের মার খেয়েছে সেও, গুরুতর চোট পেয়েছে হাতে। পরিচিত-অপরিচিত ছাত্রছাত্রীদের মার খাওয়ার খবরে কেঁপে ওঠে সংবেদনশীল মানুষ; কারণ, প্রভূত সম্ভাবনাময় ছাত্রছাত্রীদের অত্যাচার করার রাষ্ট্রীয় উদ্দেশ্য বোঝা যায়। আর, জামিয়া মিলিয়া বা জেএনইউ– ছাত্রছাত্রীদের হস্টেলে ঢুকে রাষ্ট্রীয় গুণ্ডাদের অত্যাচারের ছবি, বেছে বেছে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের মারার ছবি ও রক্তাক্ত ছাত্রছাত্রী-অধ্যাপকদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশের সবখানে বেরোয় মিছিল, যার নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীরাই। শীতরাতের ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে অসংখ্য মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নামে ছাত্রছাত্রীরা; ফলে, জেএনইউ একা হয় না। হিন্দু রাষ্ট্রবাদীদের আনা রড, লাঠি, অ্যাসিডে আহত-রক্তাক্ত ছাত্রছাত্রীদের শোকে জ্বলে উঠছে দেশজোড়া ছাত্রছাত্রীদের ক্রোধ, শীতরাতের আগুন– এ দৃশ্য শাসনকাঠামোর কাছে ভয়ের। যেহেতু ছাত্রছাত্রীদের কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণি হয় না, যেহেতু তাদের ভবিষ্যৎ তথা ‘কেরিয়ার’ রয়েছে, তাই পুলিশ-গুণ্ডা-রাষ্ট্রের অত্যাচারে কয়েকজন প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীর মাথা ফাটলে, পা ভাঙলে বা কয়েকজনের নামে পুলিশের খাতায় এফআইআর দায়ের হলেই বাকি প্রতিবাদীরা চুপ করে যাবে– রাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা এবারও ব্যর্থ হল। বরং, যে মানুষগুলো দ্বিধাজড়তা কাটিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে যোগ দিতে পারছিলেন না, এই ঘটনাসমূহের পরে শাসকের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তাঁরাও যোগ দিলেন আন্দোলনে। লির্লজ্জ রাষ্ট্রনেতাদের মিথ্যাচারে এবং অন্য দক্ষিণপন্থী দলগুলো ও কিছু বামপন্থী দলের দোনামনায় যাঁরা আন্দোলনের তত্ত্ব ও তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন, শাসকবিরোধী দৃঢ় অবস্থানে সংশয়ান্বিত ছিলেন তাঁরাও অনেকেই ঝেড়ে ফেলেছেন সংশয়। রাষ্ট্র বারবার যদি ছাত্রছাত্রীদের ওপরে আঘাত করতে থাকে, বিরোধী মতামতকে খুন করতে চায়, কতদিন শুধু একতরফা মার খেয়ে যাওয়া যায়? ক্রোধ বাড়বেই, ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হবেই, জনগণের প্রতিবাদের আগুন প্রতিরোধের ও প্রতিশোধের হয়ে উঠতেই পারে– রাষ্ট্র তা ভয় পায়।

এই লেখার পরিসরে খুব বেশি আলোচনার অবকাশ হয়তো নেই, কিন্তু কয়েকটি কথা জরুরি। আমাদের লেখায় ‘সাবজেক্টিভ’ অবস্থান জরুরি; অবজেক্টিভ অবস্থানের দোহাই পেড়ে সমূহ শক্তিশালী রাষ্ট্র বনাম ‘আজাদি’কামী জনণের যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকা অনুচিত। ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পড়াশোনার স্থান, সেখানে কেন রাজনীতি থাকবে?’ বা, ‘ছাত্রদের রাজনীতি করা উচিত নয়’– ইত্যাদি বুলি আওড়ান যাঁরা, তাঁরাও নিশ্চয় টের পাচ্ছেন বর্তমান ভারতরাষ্ট্রের বিপদ; রাজনীতি এখন আর পছন্দ/’চয়েস’ নয়, বরং তা কর্তব্য। নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক ইত্যাদি শব্দের আড়ালে লুকিয়ে এবং প্রকাশ্যে বুর্জোয়াবেনিয়া-ব্রাহ্মণ্যবাদী-পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় রাজনীতির যে দাপাদাপি, তার বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক পক্ষ নেওয়া প্রয়োজন; রাষ্ট্রের মতাদর্শের বিরুদ্ধে নিপীড়িতের মতাদর্শের অনুশীলন প্রয়োজন– ছাত্ররাই বা সে অনুশীলনে কেন পিছিয়ে থাকবে? আতঙ্কবাদী বিজেপি সিএএ লাগু করে যে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনের খেলা খেলতে চেয়েছিল, তা সফল হয়নি; ছাত্ররা এবং শোষিত মানুষই রাষ্ট্রের সেই ছক বানচাল করেছেন। প্রতিমুহূর্তে ছাত্রছাত্রীদের কাছে ও ব্যাপক মানুষের কাছে হারতে হারতে আরএসএস-বিজেপি আঁকড়ে ধরছে সিএএ-এনআরসি সহ অন্যান্য দেশবিরোধী বিল এবং হিংস্র হচ্ছে আরও; তাই সময়ের দাবিতেই এই ব্যাপক গণআন্দোলন রূপ পাবে গণঅভ্যুত্থানে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী জনচেতনা মিশে যাক শ্রমিক-কৃষক-ছাত্রের জোটের সঙ্গে, কারণ এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের, এই লড়াই হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্ন বনাম ভারতবর্ষের অস্তিত্বের।

About চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম 2039 Articles
ইন্টারনেটের নতুন কাগজ

Be the first to comment

আপনার মতামত...